পলিসির সামিটে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:১৬ এএম

‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার স্লোগানে ৩১টি নীতিসংবলিত রূপরেখা ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দিনব্যাপী পলিসির সামিটে তা প্রকাশ করা হয়। দলটির নেতারা সমকালকে জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে এই রূপরেখায় সরকার চলবে। নির্বাচনী ইশতেহার পৃথকভাবে ঘোষণা হবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে। সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ ছয়টি ভাগে এই ৩১ দফা নীতি ঘোষণা করেছে জামায়াত। পৃথক সেমিনারে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদরা। 


পলিসি সামিটের উদ্বোধন অধিবেশনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক মর্যাদাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হবে। দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা। জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি বিভাজনের নয়; আশা, শান্তি এবং ঐক্যের হবে। 


রূপরেখার প্রথমে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। ট্যাক্স ধাপে ধাপে কমিয়ে ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ। স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু; যাতে এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা একই সঙ্গে থাকবে। তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বাড়ানো হবে না। বন্ধ কলকারখানা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে চালু করা, সেখানে শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা থাকবে। লাইসেন্স ব্যবস্থা সহজ করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা থাকবে।


শিক্ষা-সংক্রান্ত ছয়টি নীতিতে বলা হয়েছে, স্নাতক শেষে পাঁচ লাখ ডিগ্রিধারীকে মাসে দুই বছর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। মেধার ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য প্রতিবছর ১০০ শিক্ষার্থী সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ পাবেন।


স্বাস্থ্যসেবার নীতিতে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী জ্যেষ্ঠ নাগরিকরা বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। ৬৪ জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর বয়স দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও সন্তানের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। 


কর্মসংস্থান ও তারুণ্যের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ এবং প্রতিটি জেলায় ‘জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ চাকরি নিশ্চিত করা হবে। নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে।


তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রূপরেখায় ভিশন-২০৪০ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। ২০৩০ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিতে ২০ লাখ চাকরি তৈরি, ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটিতে রপ্তানি পাঁচ বিলিয়নে উন্নীতকরণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে রূপরেখায়।


দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে আগামী সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় তিন গুণ করা এবং বাংলাদেশি পেশাজীবী, গবেষক, শিক্ষকদের দেশে আনতে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ নীতি প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।


জামায়াত আমিরের বক্তব্যে জোর ছিল নারীর কর্মসংস্থানে। তিনি বলেছেন, নারীরা এখনও কাঠামোগত বাধায় রয়েছে। কর্মে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্ত না করে টেকসই সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। 


নারীদের বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আখ্যা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, ৩৭ শতাংশ নারী আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে যুক্ত, যা দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম উচ্চহার। এই হার দ্রুত বৃদ্ধি করতে চাই। উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। 


শফিকুর রহমান জানান, জামায়াতের ৪৩ শতাংশ সদস্য নারী। তিনি বলেছেন, তাই জামায়াত গর্বিত। জামায়াত এমন সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে কোনো মেয়ে পিছিয়ে না থাকে। নতুন বাংলাদেশে সমান নাগরিক হিসেবে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশ করতে পারে।


শফিকুর রহমান বলেন, শুধু প্রবৃদ্ধি নয়; অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনের পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে।


শফিকুর রহমান বলেন, লাখো প্রবাসী শ্রমিক তাদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন। তারা দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে আরও বড় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। 


জামায়াত আমির জানান, তাঁর দল চায় বাংলাদেশে আধুনিক বাজার অর্থনীতি গড়ে উঠুক, যা সামাজিক ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী এবং যেখানে কোনো নাগরিক পিছিয়ে থাকবে না। তিনি বলেছেন, বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে চাই। জামায়াত বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে। 


শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। অন্যতম তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে এখানে বাণিজ্য ও পারস্পরিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ অফুরন্ত। তরুণ সমাজই হবে আমাদের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির ইঞ্জিন। 


কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, এমন প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নেব, যা কৃষকদের ক্ষমতায়িত করে। তিনি বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য দরজা খুলে দেবে জামায়াত। 


জামায়াতকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষক দাবি করে শফিকুর রহমান বলেছেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা বাধ্যতামূলক এবং পবিত্র কর্তব্য। জামায়াতের সঙ্গে পাঁচ লাখের বেশি অমুসলিম সদস্য ঐকবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন। 


পলিসি সামিটে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সংগ্রাম সম্পদ আবুল আসাদ, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ৩০ দেশের কূটনীতিকরা। জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও ছিলেন। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও ছিলেন সামিটে।




হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের বিদায় জানাতে আসেন স্বজনরা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীসহ বিভিন্ন যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছতে বিকল্প আকাশ পথ ব্যবহার করছেন। শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদির রিয়াদ ও দাম্মামগামী বেশ কয়েকজন যাত্রী এমন কথা জানিয়েছেন। 


বিমানবন্দরে রাসেল নামে এই যাত্রী জানান, তার আরও দুই সপ্তাহ ছুটি আছে। কিন্ত সৌদির রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে তার কফিল (মালিক) বলেছেন, ছুটি শেষ না করেই বিকল্প পথে দ্রুত কর্মস্থলে আসার জন্য। 


তিনি বলেন, ‘আমার টিকিট কাটা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের। কিন্ত এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সৌদির কর্মস্থলের মালিকের কথায় ওই টিকিট পরিবর্তন করে একই এয়ারলাইন্সের মদিনাগামী ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করেছি।’ 


শুক্রবার এ রুটে সৌদির গন্তব্য পৌঁছতে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা এলাকায় থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন তিনি। বিমানবন্দরে ছেলেকে বিদায় জানাতে আসা রাসেলের বাবা মো. আলী আহমেদও একই তথ্য জানান। রাসেলের মতো এমন অনেকেই টিকেট পরিবর্তন করে বিকল্প পথে তারা গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। 


সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ১০ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে এসব বিমানবন্দরগামী ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে আটকা পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।


এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪৪টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।


এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ৬৩টি। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারের ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি ফ্লাইট রয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং বিমানবন্দরগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রমে না ফেরা পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


তিনি বলেছেন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণীতে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।


দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করছে, করবে, এটিই বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য।


এভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।


সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। সুতরাং যার যার ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল ও বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি।


তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর এবার বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ।


দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।


দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।


হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।


‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রচ্ছদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩২ পিএম

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিনটি বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বইগুলো কিনে লাইব্রেরিতে রাখতে বলা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


চিঠিতে উল্লেখ করা তিনটি বই হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। 


নির্দেশনায় বলা হয়, ‘জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশিত বইগুলোর এক সেট করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’


চিঠির সূত্র হিসেবে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা, ১১/১ বাংলাবাজার, ইসলামী টাওয়ার, ঢাকার ২৩ আগস্ট তারিখের একটি পত্রের উল্লেখ রয়েছে।


নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


এ ছাড়া জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং নিমিউ অ্যান্ড টিসিকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।


চিঠিতে বইগুলো কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজেট, বরাদ্দ বা ক্রয়প্রক্রিয়ার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১০ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতেও মারা যান দুজন। এরপর মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩৫ জনের মৃত্যু হলো।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ১৮১ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৫ জন। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১৯ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ঢাকার বাইরে বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রামে, ২৪২ জন। এ ছাড়া খুলনায় ১৪০, বরিশালে ১২৭, রাজশাহীতে ৯৯, ময়মনসিংহে ৯২ এবং রংপুরে ৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।


দুর্গোৎসব চলাকালে সীমান্ত ও দুর্গম এলাকা এবং উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলের মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার পৃথক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব তথ্য ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।


ঢাকায় বিজিবি সদরদপ্তরে বাহিনীটির পরিচালক (অপারেশনস) লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ হাজার ৭৮৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদস্যরা কাজ করবে।


এর মধ্যে, প্রায় ১ হাজার ৪২৫টি মণ্ডপ সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে, ১ হাজার ১১৯টি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ১৮৩টি দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবির উপস্থিতি থাকবে।


লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন। সদরদপ্তরে স্থাপিত বিশেষ মনিটরিং সেল এবং 'শারদীয় সুরক্ষা' অ্যাপের মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা নিজেদের মধ্যে তথ্য শেয়ার ও সমন্বয় রক্ষা করবেন।


এদিকে, দেশের উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত এলাকার ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে কোস্টগার্ড।


ঢাকার মিরপুরে মন্দির পরিদর্শনের পর কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মইনুল হাসান ব্রিফিংয়ে জানান, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং ঢাকার নদীবেষ্টিত অঞ্চলের মণ্ডপগুলোতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা কাজ করছেন।


প্রতিমা বিসর্জনের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে কোস্টগার্ডের বিশেষ ডাইভিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জনে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ৫ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২১০ জন রোগী এসেছে।


বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৮০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন, সিলেটে ১৩৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭৭ জন, বরিশালে ১০৮ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, খুলনায় ১০৭ জন এবং রংপুরে ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার ২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।


গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৭২ জন।