ছবি : সংগৃহীত
তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি খারাপ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে দেশের অন্তত সাত জেলায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া, রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জ এবং ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।
বেড়েছে লোডশেডিং
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে লোডশেডিং বাড়ছে। ছুটির দিনেও লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিতরণ সংস্থাগুলো।
পিজিসিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণত মধ্যরাতের পর বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। রাত ১০টার পর থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ে এবং মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন বলছেন, আসল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে গ্রাম। তবে এতদিন রাজধানীসহ বড় শহরগুলো তুলনামূলক লোডশেডিংমুক্ত রাখা গেলেও কয়েক দিন ধরে তা সম্ভব হচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিনবারে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন এলাকায় দৈনিক পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন গ্রাহক। গেল দুই সপ্তাহের মধ্যে গত শনিবার রাত ২টায় সবচেয়ে বেশি– তিন হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল কমবেশি ১৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল রোববার রাত ৮টায় ১৭ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক হাজার ৯৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখিয়েছে পিজিসিবি।
বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর
লোডশেডিংয়ের কারণে গতকাল টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি, নেত্রকোনা, রাজশাহী, শেরপুর, সিলেট ও ঢাকা জেলার দোহারে গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেছেন।
আর্জেন্টিনা-জর্ডান ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে হামলা করা হয়। কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, তাদের চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট, কিন্তু আসে মাত্র ৯ মেগাওয়াট। অফিসে হামলার ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে টাঙ্গাইলের জামুর্কীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা সাবস্টেশন ভাঙচুরের চেষ্টা করে।
ঢাকার দোহারের নুরপুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ঘেরাও এবং ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন গ্রাহকরা।
ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে একটি সংগঠন।
বিদ্যুতের দাবিতে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। গতকাল রাত ১০টার দিকে হাইটেক পার্কের বর্ণী এলাকায় বিভিন্ন গ্রামের গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। শনিবার দিবাগত রাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের বাইরে থাকা ৩৩ কেভি অটোমেটিক সার্কিট রিক্লোজার বন্ধ করে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজশাহীর বাগমারার মচমৈল বাজারে এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যাসহ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বের হওয়া পল্লী বিদ্যুতের একটি প্রচার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় জনতা।
গতকাল বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে না পেরে শেরপুরের নকলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এসে বিক্ষুব্ধ লোকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেন। শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম (ভারপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রয়োজন ৭০ মেগাওয়াট। পাচ্ছি ৩৫ মেগাওয়াট। তাই বিশ্বকাপ ফুটবলের পুরো খেলার সময় বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিং ও গ্রাহক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জাতীয় সংসদে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জাতীয় সংসদে বিধি ৩০০-এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি চলমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, হঠাৎ করেই দেশের একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে লিকেজ ধরা পড়ায় কেন্দ্রটি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে হয়েছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ওই কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।
এ দুটি আকস্মিক ও কারিগরি কারণে জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় মুহূর্তের মধ্যে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। এর সরাসরি প্রভাব হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিষয়টিকে একটি জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সংসদের সব সদস্য এবং দেশের জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
কেন বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা
চলতি মাসে দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বড় একটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। প্রচণ্ড এই গরমের কারণে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানায় এসি ও ফ্যানের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে।
এর বাইরে মধ্যরাতে চাহিদা বাড়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টর। প্রথমত, সারাদেশে লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং রাত ১০টার পর শুরু হয়। আগে মধ্যরাতের পর বিদ্যুতের চাহিদা যেখানে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট কমে যেত, এখন রিকশা চার্জিংয়ের কারণে কমছে মাত্র এক হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।
দ্বিতীয়ত, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচই রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণত মধ্যরাতের পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে আনার যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে, খেলা দেখার কারণে তা ভেঙে পড়েছে।
এ ছাড়া গ্যাস কম পাওয়া এবং দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপুল বকেয়া বিল। বকেয়া ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাওনা আটকে থাকায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সংগ্রহে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
অন্য কয়েকটি কেন্দ্রেও একই ধরনের চাপ রয়েছে। কয়েক বছর ধরে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় বর্তমানে পিডিবির মোট বকেয়া প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিন থেকে গ্যাস কম পাওয়ার কারণে ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম আসছে। গত দিনগুলোতে ৮০-৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। তবে গতকাল মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরবরাহ ৯৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে গ্যাসে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
লোডশেডিংয়ের কারণে মাঠপর্যায়ের বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কমচারীরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অফিস ও সাবস্টেশনসহ ১১ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিরাপত্তা চেয়ে আরও বিতরণ কোম্পানি চিঠি দিয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মুহূর্তে সংকট থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে বৃষ্টি। কারণ বৃষ্টি হলে গরম কমবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও কমে আসবে।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)
চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়।
কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো এই সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেসারকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হৃদয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শোকবার্তায় বিসিবি জানায়, তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা হৃদয় ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেস বোলার। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিসিবি।
অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্ত ও অস্থিমজ্জার দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন হৃদয়। তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গত জুলাইয়ে হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় বিসিবি। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। আজ শনিবার এমন পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরের এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানা গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামের আমবাগানে, ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামীকাল রোববার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নেই
পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য আজ শনিবার টানা ৪ ঘণ্টা রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় গ্যাস থাকবে না।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর, বসুন্ধরা, জোহার সাহারা, ভাটারা ও বারিধারা জে ব্লকসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
লাউ ও পেঁপে উৎপাদন
এক টাকায় চারটি লাউ। আর এক কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন টাকায়। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে ফসল তোলার শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও উঠছে না। তাই জমিতে ফলনভরা লাউয়ের গাছ কেটে ফেলছেন কৃষক। পেঁপে পেকে নষ্ট হচ্ছে গাছেই। অথচ রাজধানীর বাজারে একটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকায়।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দর পড়ে গেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায়, কোথাও প্রতিটি লাউয়ের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা। অথচ স্থানীয় খুচরা বাজারে একটি লাউয়ের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
আটোয়ারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। তাঁর খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই অর্থে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এই কৃষক আরও বলেন, দুই থেকে তিন হাজারটি লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা হয় না। লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, কৃষক এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে দাম না পেলে চাষ করবেন কীভাবে?
একই উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার-কীটনাশকের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও লাউয়ের দাম মিলছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত। একজন শ্রমিককে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়। এ অবস্থায় বাগানে পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়াকে লোকসান আরও বাড়ানোর শামিল মনে করছেন তিনি।
পেঁপের বাজারেও একই চিত্র। ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এবার প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অনুকূল আবহাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার ও আবাদ বাড়ায় উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁপে আসায় দাম নেমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে।
সিংগাইরে জমিতে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। এ দামে পণ্য বিক্রি করে জমির ভাড়া, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক গাছ থেকে পেঁপে তুলছেন না। কোথাও পাকা পেঁপে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও গাছ কেটে বিকল্প ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে।
সিংগাইরের গোপালনগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু ক্রেতারা কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকার বেশি দিতে চাইছেন না। এই দামে শ্রমিক ও ভ্যানভাড়া দেওয়াই কঠিন বলে জানান তিনি।
সিংগাইরের আরেক কৃষক তাজুল সিকদার লোকসানের কারণে দুই বিঘা জমির পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছেন। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে খরচের সামান্য অংশও ফেরত না পাওয়ায় অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন তিনি।
কৃষকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁপে চাষে আগ্রহ কমে যাবে।
এ দিকে ঢাকার পাইকারি বাজারেও এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি চার থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে খুচরা বাজারে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
গত বছরের বেশি দামের অভিজ্ঞতায় এবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় উৎপাদন এবং আগাম বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ফলন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারের হিসাব উল্টে গেছে।
কারওয়ান বাজারের পেঁপে ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান গত বছর ভালো দাম পাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবার পাঁচ জেলার কৃষকদের তিন কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, এবারও বাজার ভালো থাকবে। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ওই ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দিন ধরে তিনি পেঁপে কেজিপ্রতি ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি করেছেন। এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে চার টাকায়। অথচ চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ঢাকায় পেঁপে আনতেই কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ চার টাকার বেশি পড়ে। তিন কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর এর ৫০ লাখ টাকাও ফেরত পাবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। ব্যাংক ঋণ ও সুদের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ব্যবসায়ী।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে তিন টন পেঁপে কারওয়ান বাজারে এনেছিলেন অজি উল্যাহ। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, জমির ভাড়া, বীজ, সারসহ উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ হয় আরও তিন টাকা।
অর্থাৎ ঢাকার বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁপেতে খরচ দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ তাঁকে পেঁপে বিক্রি করতে হয়েছে কেজিপ্রতি ছয় থেকে আট টাকায়। প্রতি কেজিতে লোকসান হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি।
কারওয়ান বাজারে ২০ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন আবু বকর। তিনি জানান, পেঁপের দাম এতটা কমে যেতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।
এদিকে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও সব পণ্যের দাম একসঙ্গে কমেনি। বগুড়ার মহাস্থান পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোলের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, করলার দাম ৫৫ থেকে ৪৫ টাকা, ফুলকপির দাম ৭০-৮০ থেকে ৬০ টাকা এবং মুলার দাম ৩৫ থেকে ২২ টাকায় নেমেছে। কিন্তু বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে পটোল ৫০-৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১৬০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বাজারে শীতের সবজি চলে এসেছে। ফলে মানুষের এখন আগ্রহ আগাম শীতের সবজির দিকে। লাউ এবং পেঁপে সারাবছর পাওয়ার কারণে মানুষ এখন এই দুই সবজির দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ ছাড়া পেঁপে ও লাউয়ের আবাদ ও উৎপাদন দুটিই বেড়েছে। অনেক জেলায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের পেঁপে ও লাউ চাষের বিস্তার ঘটেছে। বেশি জমিতে আবাদ ও ভালো ফলনের কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, লাউ এবং পেঁপের বাজারের চিত্র কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থার একটি বড় সংকট সামনে এনেছে। উৎপাদন বাড়লেও সেই পণ্য লাভজনক দামে বিক্রি করার নিশ্চয়তা নেই কৃষকের। দ্রুত পচনশীল পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে রেখে দাম বাড়ার অপেক্ষা করার সুযোগ কৃষকের নেই। বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে তাঁকে লোকসান মেনে নিতে হয়। সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দূরের বাজারে পণ্য পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝুঁকি থেকেই যায়। কম দামে পণ্য পেয়ে ভোক্তার সাময়িক স্বস্তি মিললেও উৎপাদক যদি উৎপাদন খরচই তুলতে না পারেন, তাহলে পরের মৌসুমে সেই ফসল চাষে তাঁর আগ্রহ ও সক্ষমতা- দুটিই কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, ভারত ‘মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস’ নামে একটি স্কিম চালু করেছে, যা কৃষকের নিজের উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এ ছাড়া ‘ফসল বীমা কর্মসূচি’ও রয়েছে সেখানে। ভারতে প্রায় ২৩টি পণ্য সরকার কিনে নিয়ে মজুত করে। পরে যখন মৌসুম শেষ হয়, তখন সরকার বাজারে সেই পণ্য ছাড়ে। তাতে বাজার নিয়ন্ত্রিত থাকে। পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষিমূল্য কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবও করেন এই বিশেষজ্ঞ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
নভেম্বরের শুরুতেই টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সে অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন এবং ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। পরদিন ৮ নভেম্বর রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা।
এর আগের দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে শুক্র, শনি ও রবিবার মিলিয়ে টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটির সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার ছুটির উল্লেখ নেই। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একই সময়ে ছুটি কার্যকর হবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।