• প্রকাশ : রবিবার ৩১ মে, ২০২৬, সময় : ১:৪৩ এএম

বাংলাদেশের আমের জন্য নতুন দুটি বাজার হতে পারে জাপান ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে আম আমদানি করতে আগ্রহী এই দুই দেশ। এ নিয়ে আশাবাদী দেশের রপ্তানিকারকেরা। তাঁদের আশা, প্রয়োজনীয় মান ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করা গেলে বাংলাদেশের আম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। আম আমদানির বিষয়ে কথা বলতে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আসছে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। চলতি মৌসুমেই দেশটিতে আম রপ্তানি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা।


জাপানের পক্ষ থেকে আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আমদানের ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের উৎপাদনকারী এ দেশ বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। সেগুলো নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।


মালয়েশিয়ায় এবারই রপ্তানির সম্ভাবনা


দুই দেশের মধ্যে মালয়েশিয়ার বাজারটির বিষয়ে রপ্তানিকারকদের আগ্রহ বেশি। কারণ হলো, সেখানে বাস করা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি। আর জাপানের আগ্রহ উচ্চ মানসম্পন্ন আমের দিকে। সেই বাজার অপেক্ষাকৃত ছোট হলেও খুব মানসম্পন্ন বাজার হতে পারে বলে ধারণা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা।


জুনের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসছেন। দেশটির একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে আম নিতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদলটি দেশের আম উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং ব্যবস্থা, সংরক্ষণ ও রপ্তানি-প্রস্তুতি পরিদর্শন করবে।


বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানি করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড লিংকের স্বত্বাধিকারী রাজিয়া সুলতানা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা এ বছর থেকেই আম রপ্তানি করব মালয়েশিয়ায়।’


সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মালয়েশিয়ার বাজারের ব্যাপারে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এর বড় কারণ, দেশটিতে আছে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি। এসব ব্যক্তি দেশের আমের ব্যাপারে আগ্রহী হবেন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরা যদি মাথাপিছু এক কেজি আমও কেনেন, তবে এর পরিমাণ কত হতে পারে, তা বিবেচনা করা যায়। এ বাজার আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’


চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে আম উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ায় এবারই আম রপ্তানির সুযোগ হতে পারে।


জাপানের আগ্রহ, তবে শর্ত আছে


তবে জাপানের বাজারে প্রবেশের পথে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশটি শুধু আমের স্বাদ নয়, উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্যনিরাপত্তা ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের মতো বিষয়েও কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করে। রপ্তানিকারকদের মতে, জাপানে আম রপ্তানির সবচেয়ে বড় শর্ত হলো কোয়ারেন্টিন ও খাদ্যনিরাপত্তা মান পূরণ করা।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে তাজা আম আমদানির অনুমোদন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য আদান-প্রদান চলছে। বাংলাদেশের জমা দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে জাপান ১৬টি সম্ভাব্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে, যেগুলো ২০২৩ সালের পেস্ট রিস্ক অ্যানালাইসিসে (পিআরএ) অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পিআরএ হলো এমন একটি ঝুঁকি মূল্যায়ন, যার মাধ্যমে আমদানিকারক দেশ নিশ্চিত হয় যে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা আমের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর পোকামাকড় বা উদ্ভিদরোগ তাদের দেশে প্রবেশ করবে না। জাপানের শর্তের বিষয়ে ডিএইর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ শাখার পরিচালক মো. আবদুর রহিম ৬ মে সেন্টার ফর অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োসায়েন্স ইন্টারন্যাশনালকে (সিএবিআই) চিঠি দেন। প্রতিষ্ঠানটি কৃষি, উদ্ভিদ স্বাস্থ্য, কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। জাপানের চাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রস্তুত করতে সিএবিআইয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


দেশের কাঁচা সবজি ও ফল রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্ট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, জাপানিরা আম উৎপাদন থেকে শুরু করে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকতে চায়। মাটির গুণাগুণও দেখতে চায় তারা। বেশ জটিল বিষয়।


তবে জাপানের শর্তগুলো পূরণ করা কঠিন নয় বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। জাপানের শর্তের মধ্যে একটি হলো ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি)। আম রপ্তানির ক্ষেত্রে ভিএইচপি হলো একটি বিশেষ তাপপ্রয়োগ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে আমের ভেতরে থাকা ফল মাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের ডিম ও লার্ভা ধ্বংস করা।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘রাজধানীর গাবতলীতে ভিএইচটির ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করেছি। বাকি কিছু পোকা নিয়ে কথা আছে। আশা করছি, জাপানেও এ বছর আম রপ্তানি শুরু করা যাবে।’


বাংলাদেশ থেকে ২০১৬ সালে আম রপ্তানি শুরু হয়। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২ হাজার ১৮৮ টন আম রপ্তানি হয়েছে। ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩২১ টন রপ্তানি হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০২৫ সালে আম রপ্তানি বেশি হয়েছিল। তবে তা ২০২৩ সালের ৩ হাজার ১০০ টনের চেয়ে অনেক কম।




মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

২০১৮ সালে টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হকের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


আইএসপিআর বলেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।


ওই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় সে সময় র‍্যাব–৭ (চট্টগ্রাম) এর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন। তখন কক্সবাজার র‍্যাব–৭ এর আওতায় ছিল।


একরামুল হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের এক দিন পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে হেফাজতে নিল সেনাবাহিনী।


২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল। তিনি ১২ বছর উপজেলা যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন।


২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত প্রবেশ নিষিদ্ধ কর্মকর্তার দুই কর্মকর্তার তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের সঙ্গে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


আফ্রিকায় আগুনে ঘুমন্ত ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। 


গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।


সূত্রে বরাতে জানা গেছে, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন এলাকায়। আহত আরেকজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকায়।


অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।


এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। 


এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। 


ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ প্রথম কার্যক্রম শুরু করেন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছেন। 


বঙ্গভবনের প্রধান ফটক-২ এ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদানের জায়গায় নিয়ে যায়। পরে পিজিআর-এর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেন।


গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমিন, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে অক্টাগনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।


আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সামরিক সচিব ও জনবিভাগের সচিব তাঁকে বঙ্গভবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন।


জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসির বৈঠক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠক করেছেন। 


মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।


বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে কমিশন। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। 


সিইসি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ–সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।


সিইসি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, তা জানানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে, এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।


তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। এ আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় পদক্ষেপ নিতে বললে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। 


বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে সোমবার এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংসদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ২-এর বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের কারণে এই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সাথে আলোচনাক্রমে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

 


সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী)

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে (এস কে সুর চৌধুরী) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় আজ মঙ্গলবার তাঁকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সকালে কারাগার থকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। 


এর আগে দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৫ জুলাই এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ যুক্তিতর্ক তুলে ধরে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার আসামির খালাস চান। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন । আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের মার্চে তাঁকে দুদকে তলব করা হয়। এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।


২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 


অভিযোগ আছে, এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন।


মামলার তথ্য অনুযায়ী, এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন তিনি। তবে আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদক মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। ২৫ আস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৫৯ পিএম

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করা ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত।


তারা সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। আজ সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।


এতে বলা হয়, তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।


ওই সময়ের ডিসিদের মধ্যে রয়েছেন—নেত্রকোণার ডিসি মঈনউল ইসলাম, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের ডিসি মো. শাহরিয়ার, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের ডিসি মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙ্গামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের ডিসি মো. কামাল হোসেন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসেন, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব।


এছাড়া তৎকালীন মানিকগঞ্জের ডিসি এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশখাগড়াছড়ির ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী,  সুনামগঞ্জের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার ডিসি মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের ডিসি সরোজ কুমার নাথ,  নীলফামারীর ডিসি নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার ডিসি মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।