মৌসুমী-ফল আম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৭ মে, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ এএম

জাতভিত্তিক আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করেছে সরকার। সে অনুযায়ী সাতক্ষীরায় গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে ৫ মে থেকে। এবার সর্বশেষ জাত হিসেবে গৌরমতি ১৪ আগস্ট সংগ্রহ শুরু হবে। এর মধ্যে সংগ্রহ করা যাবে অন্যান্য আম। 


অর্থাৎ মে মাস আম সংগ্রহ শুরু হলেও জাত এবং জেলাভিত্তিক আম পরিপক্কতার সময় ভিন্নতার কারণে আম অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংগ্রহ করা যাবে। এর আগে সারা দেশের আম সংগ্রহের তারিখ ম্যাংগো ক্যালেন্ডার (সময়সূচি) করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।


গত রোববার খামারবাড়িতে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার তৈরি সংক্রান্ত সভা হয়। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সভাপতিত্ব করেন। 


সভায় আম বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, রপ্তানিকারক, আম উৎপাদনকারী বিভিন্ন জেলার কৃষি বিভাগের উপপরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর ম্যাংগো ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়।


সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের আম বিশ্বের ৩৭টি দেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানিকৃত দেশের সঙ্গে আমাদের কৃষিজ পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি উভয় রাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জড়িত। এ কারণে রপ্তানির ক্ষেত্রে আম সঠিক সময় সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণ অতি গুরুত্বপূর্ণ। সভায় জাতওয়ারি জেলাভিত্তিক আম সংগ্রহের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।


বক্তারা জানান, মানসম্মত আম রপ্তানি এবং বাজার ব্যবস্থায় স্থায়িত্ব ধরে রাখার জন্য ঠিক পরিপক্ক ধাপে আম সংগ্রহ করা প্রয়োজন। পাকা আম পরিপূর্ণ পুষ্টতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত গাছ থেকে পাড়া উচিত নয়। কারণ অপুষ্ট আম ঠিকমতো পাকে না এবং স্বাদে টক বা অল্প মিষ্টি হয়। জলবায়ু ও ভৌগোলিক কারণে আম পরিপক্কতার সময়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এজন্য মানসম্মত আম রপ্তানির লক্ষ্যে জেলাওয়ারি জাতভিত্তিক আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শরফ উদ্দিন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আম রপ্তানি ও বিপণন ব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনা করেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।


রপ্তানিযোগ্য আমের জাত ও সংগ্রহের সময়




কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রপ্তানিযোগ্য আমের জাত অনুযায়ী আম সংগ্রহের সময়সূচি তৈরি করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনও আমের সময়সূচি তৈরি করে থাকে। অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত ঠেকাতে এরই মধ্যে আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। 


নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো জাতের আম পাড়া বা বিক্রি করা যাবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সাতক্ষীরা: জেলা প্রশাসনের সময়সূচি অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, বৈশাখী ও বোম্বাইসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।


তবে রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত তারিখ থেকে আরও পাঁচ থেকে সাতদিন পরে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ আম সংগ্রহ শুরু হবে ১২ মে থেকে। হিমসাগর, খিরসাপাত ২২ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন ও বারি আম-৩ (আম্রপালি) ১৫ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৭ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২০ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২২ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


যশোর: যশোর জেলায়ও রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২১ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২৩ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১৬ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১৬ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ১১ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২২ জুন, ফজলি ২৩ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২৪ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২০ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২০ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৯ মে, ল্যাংড়া ১১ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২২ জুন, ফজলি ২৪ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২৬ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


নাটোর: নাটোর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১২ জুন, বারি আম-২ লক্ষণভোগ ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো ১৬ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৫ জুন, ফজলি ২৬ জুন ও বারি আম-৪ জাত ৫ জুলাই থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


রাজশাহী: রাজশাহী জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১২ জুন, বারি আম-২ লক্ষণভোগ ১৬ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ১৮ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৫ জুন, ফজলি ২৬ জুন, বারি আম-৪ জাত ৫ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ৩১ জুলাই থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২৬ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২৬ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ৪ জুন, ল্যাংড়া ১৪ জুন, বারি আম-২ লক্ষণভোগ ১৮ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২০ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২২ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৭ জুন, ফজলি ৩০ জুন, বারি আম-৪ জাত ৬ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ৪ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


নওগাঁ: নওগাঁ জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১ জুন থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১ জুন, হিমসাগর, খিরসাপাত ৮ জুন, ল্যাংড়া ১৭ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২২ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২৩ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৮ জুন, ফজলি ৩০ জুন, বারি আম-৪ জাত ৮ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ৮ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


রংপুর: রংপুর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ৩০ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ৩০ মে, ল্যাংড়া ১৮ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২৩ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২৩ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ৩০ জুন, বারি আম-৪ জাত ১৫ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ১১ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২ জুন থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২ জুন, হিমসাগর, খিরসাপাত ১৮ জুন, ল্যাংড়া ২০ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২৪ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২৮ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ১ জুলাই, বারি আম-৪ জাত ২০ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ১২ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।


ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ৩ জুন থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ৩ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২৬ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ৩০ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ৪ জুলাই, বারি আম-৪ জাত ২০ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ১৪ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।




প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি : পিএমও

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ শীর্ষ বৈঠক শুরু হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।


এর আগে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানকে সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। গার্ড অব অনার পরিদর্শন ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের এই শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।


গার্ড অব অনার পরিদর্শন ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের এই শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।


দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।


গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়ান।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশ পথে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।


এদিকে আলোচনার ফলাফল নিয়ে দুই নেতা দুপুরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুরে কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন। মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং পাল্টা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।


শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাপানের টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা।


চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।


সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।


তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আসোর অবদানের স্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান।


মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইপিএ বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।


এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।


জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা, চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।


এ ছাড়া একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।


কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।


প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।


প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।


চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।


ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার দুপুরের মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৯ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে আগামীকাল বুধবার। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের উপকূলের দিকে হওয়ায় বাংলাদেশে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।


ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছের পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরে এটি অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।


আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে। ফলে বাংলাদেশে এর খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার মূলত উপকূলীয় এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে ওঠার পর বৃহস্পতিবার ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।


তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে আবহাওয়া বিভাগ। এর গতিপথ পরিবর্তিত হলে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবের মাত্রাও বদলাতে পারে।


ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ছয় জেলা গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট ও নবরংপুরে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রও। সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ছয় জেলার পাহাড়, জলপ্রপাত, বাঁধ ও অন্যান্য পর্যটনস্থলে পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।


এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। এ নামের অর্থ সমুদ্র বা সাগর। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আওতাধীন উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশ বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে অংশ নেয়।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৩ পিএম

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারনে ফ্লাইট বিপর্যয়ে সৌদি আরবে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারা এবং পরবর্তীতে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তারা পরবর্তীতে যেতে পারলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন।


আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের নিউ ইস্কাটনস্থ বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।


প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি এক হয়ে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। ৩ লাখ টাকায় যেখানে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭-৮ লাখ টাকা নেয়া অনুচিত। ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা করুন এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকুন, যাতে সেই অর্থ তুলতে তুলতেই কর্মীদের সময় পার না হয়ে যায়।


তিনি জানান, কর্মীদের বিদেশ গমন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ে বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।


অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া উপস্থিত ছিলেন।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

দেশে ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৩ জনে। সোমবার (২৬ অক্টোবরর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৬৬ জন রোগী এসেছে।


বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৫৯ জন, রাজশাহীতে ৩২, সিলেটে ১৫৭ , চট্টগ্রামে ৩১১ জন, বরিশালে ১৩৪, ময়মনসিংহে ৮৮, খুলনায় ১২২, এবং রংপুরে ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।


গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৫২২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪৭৮ জন।


স্যাটেলাইট চিত্রে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ শক্তভাবে পেঁচানো মেঘের স্তর। একটি সুষ্পষ্ট কেন্দ্রীয় ঘূর্ণন দেখা যাচ্ছে। (ছবি: ইন্ডিয়া টুডে)

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০২ পিএম

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। আজ সোমবার আবহাওয়ার ৬ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।


ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে বুধবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।


ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।


চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কা খুব কম। এটির অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদিও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক প্যানেলের সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এসব দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব করা, যার অর্থ সাগর। তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় দুটি লঘুচাপের মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটিই এই নাম পাবে।


এর পরের নাম ‘মুরাসু’, যা প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় মুরাসু বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা ও জনসাধারণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা। একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় থাকলে নামের মাধ্যমে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।


চার দিন বৃষ্টির আভাস


এদিকে আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।


জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৪ পিএম

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ সহযোগিতা চান। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান। সাক্ষাতে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।


উপপ্রেস সচিব জানান, জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৬ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরের সময় তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।


সাক্ষাতে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।


তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে তার সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধি দলের

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


জাপানের প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।