মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে ভেস্তে যায় বড় হামলার পরিকল্পনা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের একটি মাদ্রাসায় তৈরি করা বোমা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। একইসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হুমকি দেওয়ারও চেষ্টা করছিল নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গত প্রায় চার মাসেও ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। পাশাপাশি এসব বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যও ছিল।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা সংগঠিত হয়ে নাশকতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয় এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে সংগঠনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালায়। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করে উগ্র ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ ও জিহাদি কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের (জেএমজেবি) সমর্থক। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ, সমর্থন ও প্ররোচনা দিয়ে আসছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদ্রাসার আড়ালে সেখানে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। আস্তানা গড়ে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল, যার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা ছিল।
তবে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেই তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদের উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের দুটি কক্ষের দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা জানান, তিন থেকে চার দিন পর একই স্থানে আবারও একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে একজন আহত হন।
ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত জঙ্গি নেতা ও বোমা তৈরির কারিগর আল আমিন শেখসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। তাদের মধ্যে সাতজন এজাহারভুক্ত আসামি।
তদন্ত সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এসময় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সুত্র আরও জানায়, শেখ আল আমিনসহ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন এর আগেও অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কাজ শুরু করেন।
জানা গেছে, শেখ আল আমিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ৭টি মামলার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলাগুলো বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লা থানার মামলা, ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় একই আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলা, ঢাকার মতিঝিল থানায় ২০২০ সালে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, ২০১৭ সালে নরসিংদী মডেল থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও মোল্লারহাট থানায় দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা।
সূত্র আরও জানায়, বিস্ফোরণের আলামত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন হাতে পেলে তদন্ত কার্যক্রম আরও গতি পাবে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত সহজ হবে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, ২০২২ সালের ১ এপ্রিল মাসিক ১০ হাজার টাকায় জনৈক পারভীন বেগমের কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নেন মুফতি হারুন নামে এক ব্যক্তি। পরে সেখানে ‘উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়।
তবে মাদ্রাসার আড়ালে সেখানে বোমা তৈরি ও জঙ্গি সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলতো বলে ধারণা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কোনও সন্দেহ তৈরি হয়নি।
জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন কাজ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, এজাহারে উল্লেখিত জেএমজেবি মূলত জেএমবির একটি উপ-সংগঠন ছিল। জেএমবির শীর্ষ নেতা ছিলেন শায়খ আব্দুর রহমান এবং জেএমজেবি পরিচালিত হতো সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে। পরবর্তীকালে সংগঠনটির সদস্যরা ‘নব্য জেএমবি’ নামে আত্মপ্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শ অনুসরণ শুরু করে।
এদিকে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলটি এখনও ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে কর্ডন করে রাখা হয়েছে। বাড়ির মূল মালিক পারভীন বেগম এখনও তার বাড়ির দখল বুঝে পাননি। জনসাধারণের প্রবেশ ঠেকাতে চারপাশে ক্রাইম সিন লেখা হলুদ ফিতা টানানো রয়েছে।
পারভীন বেগমের মেয়ে সোহানা আক্তার মুনিয়া বলেন, “মুফতি হারুনের ছোট বোন আয়েশার সঙ্গে স্থানীয়ভাবে পরিচয়ের সূত্র ধরেই বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। মাদ্রাসা পরিচালনার কথা বলায় বাড়তি খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে দেখায় কোনও সন্দেহও হয়নি।” ঘটনার পর প্রকৃত বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকেই পুলিশকে বাড়িটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। কিন্তু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রাইম সিন হিসেবে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। আমার বাবা মারা গেছেন, মায়ের বয়স হয়েছে। বাড়ি ভাড়ার টাকাতেই সংসার চলতো। দ্রুত বাড়িটি বুঝিয়ে দিলে আমাদের উপকার হবে।”
এটিইউ’র পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) মাহফুজুল আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনই বলার মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি : পিএমও
জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে অনুষ্ঠিত দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তারেক রহমান।
গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তিনি। এর মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এসব বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তারেক রহমান। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তার সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ ও অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁওসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিপর্যয়ের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানিয়েছে, ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং চট্টগ্রামের একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক আছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। তবে এই ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
বিপর্যয়ের কারণ ও সূত্রপাত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেননি। গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কয়েক ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে।
দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার নির্ধারিত শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তাঁরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।
এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি : পিএমও
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণা
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
অবকাঠামো, দ্রুতগতির রেল ও যোগাযোগব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার প্রত্যয়
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার দুপুরের মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে পরিণত হয়। তখন এটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল।
পূর্বাভাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে ২৮ অক্টোবর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার দুপুরের মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে পরিণত হয়। তখন এটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল।
পূর্বাভাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে ২৮ অক্টোবর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
টোকিওতে মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে। দুই দেশের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে। উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আথর্-সামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট-দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকা শক্তিতে রূপান্তর করা।’
জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলি, যা আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।’
বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।