ছবি : সংগৃহীত
দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন।
এর মধ্যে সুনমাগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। সেখানে চার উপজেলায় পাঁচজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই শনিবার দুপুরে হাওরে ধান কাটার সময় প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুজন করে এবং নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যু
সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলার ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। স্ব-স্ব থানা-পুলিশ আহত ও নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বজ্রপাতে নিহতরা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২২), উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪), দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮), তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালাম (২৮) এবং জামালগঞ্জের সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন নিহতের পাশাপাশি ৪-৫ জন আহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান ও লিটন মিয়া ধান কাটতে গিয়ে, রহমত উল্লাহ বাড়িতে কাজ করার সময়, আবুল কালাম হাঁসের খামারে কাজ করার সময় এবং হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নিহত হন। নিহতদের তাৎক্ষণিক স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
দিরাইয়ে বজ্রপাতে নিহত লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।
ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ জানিয়েছেন, বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানা হেফাজতে আছে। বিধি মোতাবেক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আবুল কালামের মরদেহ পরিবারের হেফাজতে আছে। অভিযোগ পেলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুরুজ্জামানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু
শনিবার দুপুর ২টার দিকে গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামর ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের প্রয়াত সেকান্দর আলী খান মমতাজ আলী খান (৫৮)।
২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, নিহত রহমত আলী উজ্জল মুদি দোকানি। দুপুরে বজ্রপাতের সময় ধান ক্ষেত দেখতে পুর্বানাপাড়া গ্রামে যান। সেখানে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় উজ্জল। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নিহতের দাফনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক যুবক মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, নিহত মমতাজ আলী খান উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জেলের মৃত্যু
রংপুরের মিঠাপুকুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত দশজন। মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরুজ্জামান জানান, উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার রামেশ্বর পাড়া গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকার মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখিপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।
সখিপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন, গ্রামের তানজিমুল ইসলাম গোল্ডেনের একটি পুকুরে মাছ ধরার কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন মাছ ধরছিলেন, আর কয়েকজন পাড়ের একটি টং ঘরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত দশজন। তাদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
নেত্রকোণায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওড়ে বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেছেন। নিহত আলতু মিয়া (৬৫) একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
আটপাড়া থানার ওসি মো. জুবায়দুল আলম বলেন, দুপুর ১টার দিকে মেষি হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন আলতু মিয়া। এ সময় বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হয়। পরে স্থানীয়রা হাওড়ে গিয়ে আলতু মিয়ার মরদেহ পরে থাকতে দেখেন।
কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু
করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিক মারা গেছেন। করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল করিম বলেন, শনিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হেলাল মিয়া (৩৮) উপজেলার কলাবাতা গ্রামের বাসিন্দা।
হবিগঞ্জে কৃষকের মৃত্যু
নবীগঞ্জ উপজেলায় বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, নিহত সুনাম উদ্দিন (৬০) উপজেলার রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।
বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া জানান, সুনাম উদ্দিন সকালে হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় থাকা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে আগামীকাল বুধবার দুপুরের দিকে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ছয়টার দিকে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল।
আজ সকাল ছয়টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া আজ দুপুরে বলেন, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকায় আগামীকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আগে গতকাল দেশের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের আমবাগানে-৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতেও তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগে বাতাস সমুদ্রগামী হয়। তাতে ঠান্ডা হাওয়া কমে যায়, ভ্যাপসা ভাব চলে আসে। তার ফলেই এত গরম ছিল। তবে বৃষ্টির পর আগামীকাল তাপমাত্রা কমতে পারে।
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে না, বরং তিনি আইনের আওতায় পুরোপুরি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, শেখ হাসিনা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি দেশে ফিরে এলে আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার তা-ই হবে। দেশে তার ফেরা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, “উনি এলে আমরা খুশি, তাহলে আর বেঁধে আনতে হলো না।”
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের পতনের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, এরশাদ পতনের পরও দেশে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা কারও প্রতি সুবিচার না করলেও বর্তমান সরকার তাঁর সঙ্গে পূর্ণ ন্যায়বিচার করবে বলে আশ্বস্ত করেন তথ্য উপদেষ্টা।
সংগৃহীত ছবি
মেঘনাঘাট-হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে এরই মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতেও দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে মেঘনাঘাট-হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানায়, গ্রিডে ত্রুটির কারণে রাজধানীর ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে চট্টগ্রামের একাংশও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রভাব পড়ে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়েও। দুপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেলা সোয়া ২টার দিকে সেখানে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়।
প্রতীকী ছবি
দেশে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের পাশাপাশি হামের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে নতুন করে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে নতুন করে এক হাজার ২৯৫ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে ছয়জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে এক হাজার ২৩২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৬৩ জন।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যু ও সংক্রমণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে দুজন করে এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। এছাড়া নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
নতুন করে শনাক্ত হওয়া সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে ৫০৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ২৪৮ জন।
দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগী দুই লাখ ছাড়িয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জনে। একই সময়ে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১ জন। এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট এক হাজার ১৩৫ সন্দেহজনক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৫ জন।
বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি অনেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সংক্রমণ রোধে সতর্কতা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার
উল্লেখ্য, হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার অব্যাহত রেখেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী বৃহস্পতিবার প্রকাশ হচ্ছে না এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। দুই দিন পিছিয়ে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফল প্রকাশিত হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আখতারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো। সে প্রেক্ষিতে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৩৯৩ জন। তারা ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ ও কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ ও বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বড় একটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে যায়। সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ চলে যায়। বেলা আড়াইটার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বলছে, পৌনে দুই ঘণ্টা পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি শুরু হয়েছে। তবে এখনো সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ এখনো জানা যায়নি।
এর আগে বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল (ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল ইত্যাদি) এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে যায়। মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁওতেও বিদ্যুৎ চলে যায়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বলছে, কারিগরি কারণ জানা যায়নি। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
পাওয়ার গ্রিড জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক আছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ বলছে, বিপর্যয়ের পর বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন এক এক করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকাজ ব্যাহত হয়েছে। আধঘণ্টা অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ না আসায় ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বন্ধ রাখা হয়। ট্রাইব্যুনাল আজ আর না বসার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম দুপুরে বলেন, এর আগে কখনও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল কিনা, মনে পড়ছে না।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে , আজ বেলা ১১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। তবে এই ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
বিপর্যয়ের কারণ ও সূত্রপাত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেননি।
দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।