ভোগান্তির মূলে আট মহাসড়কে ১২৯ বাজার-বাসস্ট্যান্ড

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ এএম

মোটরযানের গতিসীমার নির্দেশনা অনুযায়ী, মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকার ও বাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার থাকার কথা। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এটি ৫০ কিলোমিটার। 


তবে দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ব্যস্ত সময়ে রাজধানী ঢাকায় এই গতি ঘণ্টায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। গত ডিসেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে এক সেমিনারে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলের গতি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসার এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল সড়ক বিভাগ।

 

এদিকে মহাসড়কে যান চলাচলের ধীরগতি ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের আট মহাসড়কের ১২৯টি ব্যস্ত পয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এতে যানজটের দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটছে। মহাসড়কের ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে এই পয়েন্টের কারণে এবারও ঈদযাত্রায় বাড়তি ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। 


গত ৫ মার্চ সচিবালয় সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সেখানে মহাসড়কে যানজটের ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 


দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থার বড় অংশ সড়কনির্ভর। যাত্রী পরিবহনের ৮৮ শতাংশ এবং পণ্য পরিবহনে ৭৬ শতাংশ সড়কপথ ব্যবহার হয়। ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবে সড়কপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রুট ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক। 


পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই মহাসড়কের পাঁচটি পয়েন্টে বাজার ও ৯টি জায়গায় বাসস্ট্যান্ড আছে। বাসস্ট্যান্ড রয়েছে- চন্দ্রা জেবি টাওয়ার, পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক, এলেঙ্গা, হাটিকুমরুল মোড়, চারমাথা, মোকামতলা ও চরিয়া সিকার মধ্যপাড়ায়। 


রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহাসড়কের বাজার ও বাসস্ট্যান্ড আছে ১৯টি পয়েন্টে। এর মধ্যে আছে ঢাকামুখী চিটাগং রোডের মোড়, মোগড়াপাড়া, গৌরীপুর, চান্দিনাবাজার, মাধাইয়াবাজার, কুটুম্বপুর বাজার, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, নিমসার বাজার, মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজারের ঢাকামুখী লেন, দেবিদ্বার বাজার, বারইয়ারহাট, মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড। 


২০২১ সালের মহাসড়ক আইনে বলা আছে, অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে বাজার, মার্কেট বা যে কোনো স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। সড়কের দুই পাশে ১০ মিটারের মধ্যে হাটবাজার কিংবা স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা দণ্ডনীয় অপরাধ। 


নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা ও পার্কিং অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আছে। তবে প্রশাসনের তরফে তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। 


এদিকে ২০২৩ সালের হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে হাট ও বাজার স্থাপন করতে পারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর আলোকেই অনেক মহাসড়কের পাশে অনেক জায়গায় বসছে হাটবাজার। 


বাজার বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে 


পুলিশের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাজার ও বাসস্ট্যান্ড সবচেয়ে বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। সেখানে বাজার আছে ১৭টি ও বাসস্ট্যান্ড পাঁচটি। বাজারের পয়েন্টের মধ্যে আছে ভবানীপুর, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা উড়ালসড়ক, বকশীগঞ্জ, কানুরামপুর, কাশীগঞ্জ, পিরিজপুর, সিডস্টোর ও মোসলেমপুর। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বাজার ১৯টি ও বাসস্ট্যান্ড দুটি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বাজার আটটি ও বাসস্ট্যান্ড চারটি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে বাজার ৯টি, বাসস্ট্যান্ড ১০টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে বাজার সাতটি ও বাসস্ট্যান্ড সাতটি, যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে বাজার একটি ও বাসস্ট্যান্ড একটি। 


ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের অন্তত ৫৫ স্থান যানপ্রবণ এলাকা। এই সড়কে যানজটের পেছনে রয়েছে অন্তত ১৬ কারণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের ৪৫টি স্থানে কম-বেশি যানজট তৈরি হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি এবং খুলনা সড়কে ছয়টি স্থানে যানজট তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বাজার, মহাসড়কে থ্রিহুইলার বা কম গতির যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং, সড়ক সংকীর্ণতা ও হেঁটে রাস্তা পারপারসহ নানা কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়েও এসব মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। আর উৎসবের সময়, বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়। 


তারা বলছেন, এসব স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার ও থ্রিহুইলার বা কম গতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট অনেকটা কমানো সম্ভব।


মহাসড়কে যানজটের স্থান ও কারণ শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যানজটের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করছে। তবে সব রুটেই কিছু সাধারণ কারণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে- সড়কে ইউটার্ন, পথচারীর হেঁটে রাস্তা পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, সড়কের পাশে বাজার বসা, সড়কের পাশে বাসস্ট্যান্ড ও যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো। 


তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬ কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের ৫৫ স্থানে যানজট হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ স্থানে ইউটার্নের কারণে যানজট হয়। এ ছাড়া ১৭ পয়েন্টে মানুষ হেঁটে রাস্তা পারাপার হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে যানজট হচ্ছে ১১ পয়েন্টে। অবশ্য একই স্থানে একাধিক কারণও রয়েছে। 


ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল সড়কে বাস বা যে কোনো যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার পর চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্তে তিনটি কারণে যানজটে পড়তে হয়। কারণগুলো হলো- ইউটার্ন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও রাস্তায় হেঁটে পথচারী পারাপার। স্কয়ার কাটা নামক স্থানেও এই তিন কারণে যানজট দেখা দেয়। চন্দ্রা জেবি টাওয়ার এলাকায় পাঁচ ধরনের সমস্যা রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড, আন্ডারপাস রোড, রাস্তায় পথচারী পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও সড়কসংলগ্ন বাজার স্থাপন। বাজারের আসা-যাওয়ার কারণে মানুষকে হেঁটে রাস্তা পার হতে হয়। যমুনা সেতু টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণেও পেছনে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সময় সেতুর ওপরে গাড়ি বিকল হয়ে গেলে সেটি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা না করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে যানবাহন। 


ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের নলকা ব্রিজ এলাকায় উল্টোপথে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন চালকরা। বগুড়া বাজার ওভারব্রিজের নিচে ঢাকামুখী সড়কের পাশে বাজার রয়েছে। বাজারে জনসমাগমের কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এ ছাড়া হোটেলগুলো থেকে উল্টো পথে গাড়ি যাতায়াত করে নিয়মিত। রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের চরিয়া সিকার মধ্যপাড়া এলাকায় ইউটার্ন থাকার কারণে গাড়ির গতি কমে যাওয়ায় যানজট দেখা দেয়। 


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক 


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫ স্থানে যানজট তৈরি হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর কারণ ১২টি। ঢাকার অন্যতম প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চিটাগাং রোড এলাকা। সড়কসংলগ্ন বাজার, সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশার কারণে সেখানে যানজট কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে এই রুটে গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর বরাব বাসস্ট্যান্ডে তীব্র জটে পড়তে হয়। মহাসড়কে উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় গাড়ি থেমে থেমে চলে সেখানে। ফলে পেছনে লম্বা সারি পড়ে যায়। তারাব গোলচত্বরেও প্রায় একই সমস্যা। 


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয় সড়কসংলগ্ন বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এবং ইউটার্নের কারণে। এই সড়কে ১৭ স্থানে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। সাধারণত বাজারে সবসময়ই ভিড় থাকে। ফলে গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন চালকরা। এ ছাড়া ইউটার্ন রয়েছে ১১ জায়গায়। এসব স্থানে গাড়ি ঘোরানোর সময় পেছনে সারি পড়ে যায়। 


এ ছাড়া রাস্তায় থ্রি-হুইলার গাড়ি তো আছেই। তিন চাকার এই গাড়ির গতি তুলনামূলক কম, যে কারণে দ্রুতগামী গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হয় চালককে। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। গৌরীপুর বাজার ও তিতাস থানা এলাকার রাস্তার মাথায় পথচারী হেঁটে পারাপার করেন। এ ছাড়া সেখানে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করা হয়। এ সময় গাড়ির জট লেগে যায়। 


ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩ পয়েন্টে যানজট


সড়ক পথে ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই মহাসড়কে ১০ কারণে ৪৩ স্থানে নিয়মিত যানজট দেখা দেয়। এই রুটে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাজার। ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৯ স্থানে বাজার, দোকান রয়েছে। বাজারে আসা-যাওয়া মানুষ রাস্তায় উঠে যাওয়ায় গাড়ির গতি কমে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। 


এ ছাড়া ১৩টি পয়েন্টে সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে এসব স্থানে সড়ক তুলনামূলক সরু হয়ে গাড়ি এক বা দুই লেনে ধীরগতিতে চলাচল করে। রূপগঞ্জের বরপা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় যাত্রীবাহী সব বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। এ ছাড়া যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় পেছনের বাসকে বাধা দিতে সামনের বাস আড়াআড়ি করে দাঁড়ায়। ফলে একটা গাড়ির পেছনে আরেকটি বাস থেমে সারি বড় হয়। রূপগঞ্জের ভূলতা মোড়ে ফুট ওভারব্রিজ না থাকা এবং ফুটপাতে দোকান থাকায় মানুষকে সড়কে হাঁটতে হয়। তখন গাড়ির গতি কমে যায়। 


ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

 

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের ২১ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের তথ্যমতে, হোতপাড়া ওভার ব্রিজের নিচে, ভবানীপুর বাজার, বাঘের বাজার, নতুন বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা ফ্লাইওভার, এমসি বাজার, জৈনা বাজার, জামালপুরের বকশীবাজার ও ময়মনসিংহের নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড উল্লেখযোগ্য যানজটের স্পট। এই সড়কে মূলত ১০ কারণে যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে। এর মধ্যে সড়কের যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, সড়কের পাশে বাজার গড়ে ওঠা, রাস্তা খানাখন্দ, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থলের কারণে বেশি যানজট হয়।


ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট


সাভারের হেমায়েতপুরে বাসস্ট্যান্ড ও সড়কের পাশে বড় একটি বাজার গড়ে ওঠায় মানুষের সমাগম থাকে সবসময়। ফলে এই সড়কের যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করার সময় এবং ঢাকা থেকে বের হওয়ার পর সেখানে যানজটের মুখে পড়তে হয়। সেখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন ওই সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা। 


পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সড়কে আটটি কারণে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে।


অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থা


ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি পয়েন্টে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে। এর অন্যতম কারণ, সড়কের পাশে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড। এ ছাড়া আরও চার কারণে যানজট পোহাতে হয় মানুষকে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৯ স্থানে চার কারণে যানজট তৈরি হয়। যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানজটের কারণ ছয়টি। 





নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। 


বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকালে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”




আমার দৃঢ় বিশ্বাস-আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে; যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।


ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে-সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক বা বাসার আশপাশে; এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ! তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ফেলবে। যাতে আমাদের পরিবেশ, আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি পরিষ্কার থাকে। সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে বা বসতে পারে।”


শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশপাশে হোক, স্কুলের আশপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে কর সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুকভরে শ্বাস নিতে পারব।”


তিনি আরও বলেন, “কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি, বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয়। আজকে আমার সকল ছোট্ট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।”


বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা-যা-ই হোক না কেন-সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

৪৫ দিন পর পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেয়েছে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালুর অনুমতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সবধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু হবে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৪৫.০০.০০০০.০০০.১৬৩.২৭.০০১৪.২৬ (অংশ-২).১০৩ নং স্মারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয়া হয়।


এদিকে লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছে। একই সঙ্গে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবাগ্রহীতা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট, শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে যারা আদ্-দ্বীনের পক্ষে সোচ্চার থেকে কথা বলেছেন তাদের সবার প্রতি কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে আগামী ৫ বছরের জন্য জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. মাহবুব উল্লাহ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে নিজের পছন্দমতো ক্ষেত্রে গবেষণামূলক কাজ করবেন। গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করবেন। পাশাপাশি গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রতিবেদন জমা দেবেন।


এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তার গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত রাখবে। একই সঙ্গে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠাবে।


প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।


তবে এ সময়ে তিনি অন্য কোনো চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।


আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আদেশে বলা হয়, হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাখিল করা আপিল ও এর বিস্তারিত বিবরণ পর্যালোচনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।


তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২- এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।


স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা আদেশে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার কাছেও আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।


এর আগে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।


 চিকিৎসাসেবা চালুর দিন-তারিখ জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল


সিএনজি স্টেশন মালিকদের কর্মসূচি স্থগিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪৭ পিএম

গ্যাস সংকটের কারণে আগামী ৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশন বন্ধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে স্টেশন মালিক সমিতি। ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও দাবি মানতে। এজন্য আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।


সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের কারণে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। দাবি না মানলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানান সমিতির নেতারা।


সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু করা, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।


এর আগে কমিশন বৃদ্ধিসহ ৪ দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশের সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।


সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

আগামী সপ্তাহে গ্যাস সংকট পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।


সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি বাসা-বাড়িতে মা-বোনেরা, গৃহিণীরা সংসারের রান্নার কাজে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রোডাকশন কম্প্রোমাইজড হয়েছে। এই কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি জনগণের কাছে।


তিনি বলেন, বলতে কোনো দ্বিধা নেই এটা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, স্টিল তারা দেশের এই সাপ্লাইটা এনসিওর করে। আমরা তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। আমরা এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। আমরা এজন্য বারবার দুঃখপ্রকাশ করছি। কিন্তু, একেবারে ২৪/৭ আমাদের টিম তাদের সঙ্গে একান্তভাবে কাজ করছে। আমরা যেটা বললাম, আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে ইনশাআল্লাহ।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টোটাল সাপ্লাইটা (ত্রুটি দেখা দেওয়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে) ৫০০-৫৫০ এর মতো, আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে ২৮০-৩০০ তারা ন্যাশনাল গ্রিডে, অর্থাৎ ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট পার ডে তারা ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই দিতে সমর্থ হবে। এটা তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি। এটা আমাদের নয়, তাদের তথ্যের ভিত্তিতে।


অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ চালু করতে পারলে পরের সপ্তাহে ১০০ শতাংশ করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং আছে।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।


তিনি বলেন, আমদানিকৃত এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) দিয়ে রি-গ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সমাধান না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এক্সিলারেট এনার্জির বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।


বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস আনা হচ্ছে। এগুলো এয়ার ফ্রেইটে আনা হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাস্টম ছাড়পত্র দিয়ে মেরামত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।


প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এফএসআরইউতে একটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ওই সময় কাছাকাছি একটি এলএনজি কার্গো থাকলেও দ্রুত সেটি সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


তিনি আরও জানান, এলএনজি দীর্ঘ সময় মজুত করে রাখা হয় না। জাহাজে করে এলএনজি আসে এবং এফএসআরইউতে তা গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল অচল থাকায় কার্গোর সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে সামিট পরিচালিত অন্য এফএসআরইউ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।


স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা


জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও সরকার একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। স্বল্পমেয়াদে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ব্যবহার এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি বলেন, বর্তমানে রি-গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা গেলে সরবরাহ বাড়ানো যাবে।


অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ভোলার স্থানীয় চাহিদা, শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন মেটানোর পর যদি উদ্বৃত্ত গ্যাস থাকে, তাহলে তা মূল ভূখণ্ডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সঙ্গে আলোচনা শেষে সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় এক বছরের মধ্যে সেই গ্যাস শিল্পকারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।


প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী নভেম্বরে বিড জমা দেওয়ার শেষ সময়।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।