ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই: সারজিস আলম বিয়ে বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান নোয়াখালীতে জমজ ২ দুই বোনকে ধর্ষণ কালীগঞ্জে ঈদ পূর্নমিলনী ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহণ রংপুরে তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার যৌথবাহিনীর হাতে রসিক কাউন্সিলর গ্রেফতার লোহাগাড়া সড়ক দূর্ঘটনা ট্রাজেডি: মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হল আরও ৩জন লোহাগাড়ায় থামছেইনা মহাসড়কের মৃত্যুর মিছিল, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৫ আহত ৯ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রংপুরে ১২০ পরিবারে ঈদ পালন

নাটোরে স্কুলছাত্রীকে গণধধর্ষণ, ৫ কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

নাটোর প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:৪০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ২১৬ Time View

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে গণধধর্ষণের দায়ে পাঁচ কিশোরকে ১০ বছর করে আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।

নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা একই উপজেলার। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাড. আনিছুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই গ্রামের মাহাবুল ইসলামের ছেলে পল্লব, আলাউদ্দিনের ছেলে শোভন , আব্দুর রহিমের ছেলে ছাইদুর রহমান, রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ওম্বর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং মিজাউল ইসলামের ছেলে টুটুল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা এলাকার বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা প্রায় স্কুলে যাওয়ার সময় ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসত। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বখাটেরা। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এরই একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ওই ছাত্রী বাড়িতে নিজের শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে থাকাকালে কৌশলে এই ৫ যুবক দরজার ছিটকানি খুলে মুখে মাফলার বেঁধে তাকে বাড়ির পাশের একটি আখ খেতে তুলে নিয়ে যায়। অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে তাকে একে একে পাঁচজন ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগীর চিৎকারে প্রতিবেশীরাসহ ওই ছাত্রীর বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর বাবা–মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায় ভুক্তভোগী। পরে তার বাবা মেয়ের মুখে বিস্তারিত শুনে বড়াইগ্রাম থানায় গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে পাঁচজনের নামেই আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে প্রত্যেককে ১০ বছর করে আটকাদেশ দেন আদালতের বিচারক।

মামলার বাদী শাহজাহান সরদার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সময় বয়স কম থাকলেও বর্তমানে প্রত্যেক আসামির বয়স ৩০ বছরের বেশি। তাদের যে বিচার করা হয়েছে তাতে তিনি ন্যায়বিচার পাননি। এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

নাটোরে স্কুলছাত্রীকে গণধধর্ষণ, ৫ কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

নাটোর প্রতিনিধি
Update Time : ০৮:৪০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে গণধধর্ষণের দায়ে পাঁচ কিশোরকে ১০ বছর করে আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।

নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা একই উপজেলার। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাড. আনিছুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই গ্রামের মাহাবুল ইসলামের ছেলে পল্লব, আলাউদ্দিনের ছেলে শোভন , আব্দুর রহিমের ছেলে ছাইদুর রহমান, রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ওম্বর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং মিজাউল ইসলামের ছেলে টুটুল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা এলাকার বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা প্রায় স্কুলে যাওয়ার সময় ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসত। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বখাটেরা। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এরই একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ওই ছাত্রী বাড়িতে নিজের শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে থাকাকালে কৌশলে এই ৫ যুবক দরজার ছিটকানি খুলে মুখে মাফলার বেঁধে তাকে বাড়ির পাশের একটি আখ খেতে তুলে নিয়ে যায়। অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে তাকে একে একে পাঁচজন ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগীর চিৎকারে প্রতিবেশীরাসহ ওই ছাত্রীর বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর বাবা–মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায় ভুক্তভোগী। পরে তার বাবা মেয়ের মুখে বিস্তারিত শুনে বড়াইগ্রাম থানায় গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে পাঁচজনের নামেই আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে প্রত্যেককে ১০ বছর করে আটকাদেশ দেন আদালতের বিচারক।

মামলার বাদী শাহজাহান সরদার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সময় বয়স কম থাকলেও বর্তমানে প্রত্যেক আসামির বয়স ৩০ বছরের বেশি। তাদের যে বিচার করা হয়েছে তাতে তিনি ন্যায়বিচার পাননি। এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।