মহাকাশে ধান চাষে সফল
কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মহাকাশের কক্ষপথে ধান চাষ করে সফল হয়েছেন চীনের নভোচারীরা। দেশটির নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে পৃথিবীর ওপর খাদ্যের নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে মানববসতি স্থাপনের গবেষণায় এই অর্জনকে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৪ মে উৎক্ষেপণ করা শেনঝৌ-২৩ মিশনের মাধ্যমে ধানের বীজ তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যার পর নভোচারী জু ইয়াংঝু, ঝাং ঝিয়ুয়ান এবং লাই কা-ইং প্রথম ধাপের ধানের নমুনা সংগ্রহ বা ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকাশ করা ভিডিওতে নভোচারীদের ধান সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য তা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।
এর আগে ২০২২ সালে তিয়ানগং স্টেশনে ১২০ দিনে সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করে ধান উৎপাদনে সফল হয়েছিল চীন। সে সময় উৎপাদিত ৫৯টি স্পেস সিড পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
তবে নতুন এই গবেষণায় মহাকাশে পরপর দুই প্রজন্মের ধান চাষ করার উপায় খুঁজছেন নভোচারীরা। মহাকাশের পরিবেশে ধানের একাধিক প্রজন্ম বড় হলে সেগুলো প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না, তা জানতে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও করছেন তাঁরা।
ছবি : সংগৃহীত
মহাজাগতিক বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মুখোমুখি হবে পৃথিবী। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় আসায় চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো মুহূর্তের জন্য বদলে যাবে গাঢ় অন্ধকারে। মহাজাগতিক এ দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন এবং পর্তুগালের ছোট একটি অংশ থেকে। এ ছাড়া ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন স্থান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথ উত্তর আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপের দিকে বিস্তৃত হয়েছে।
স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাসের দৃশ্য দেখা যাবে। ফলে সেখানে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সূর্যাস্তের এক বিরল দৃশ্যও উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মানুষের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যে অনেকে গ্রহণের পথের কাছাকাছি এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তবে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টি হলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পূর্ণগ্রাসের মুহূর্তটি সরাসরি দেখার সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ থেকে এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণটি শুরু হবে। স্থায়ীত্বকাল হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
নাসার তথ্যমতে, পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব স্থানভেদে ভিন্ন হবে। গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি এলাকায় এটি দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণগ্রাসও আড়াই মিনিটের কম থাকবে।
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। চাঁদের ছায়ার যে অংশে সূর্যের পুরো মুখ ঢেকে যায়, সেখান থেকেই দেখা যায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকায় দেখা গিয়েছিল সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এবার দুই বছর পর আবারও পৃথিবীর মানুষ এমন বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইউটিউব
অনলাইনে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম এখন ইউটিউব। ভিডিও দেখার পাশাপাশি ইউটিউবে নিজস্ব চ্যানেল খুলে আয়ত্ত করছেন অনেকে। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেল জনপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণে নিয়মিত ভালো মানের ভিডিও প্রকাশ করলেও অনেকের দর্শকসংখ্যা (ভিউ) বেশি হয় না।
তবে বেশ কিছু বিষয় মেনে চললে ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত জনপ্রিয় করা যায়। ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত জনপ্রিয় করার আট কৌশল জেনে নেওয়া যাক।
১. আকর্ষণীয় থাম্বনেইল তৈরি
ভিডিওর থাম্বনেইল দর্শকের কাছে প্রথম আকর্ষণ তৈরি করে। তাই স্পষ্ট ও রঙিন ছবি ব্যবহার করে সঙ্গে গাঢ় অক্ষরে লেখা টেক্সট যুক্ত করতে হবে। এতে ভিডিওর প্রতি দর্শকের কৌতূহল বাড়বে।
২. শুরুর ১০ সেকেন্ডে দর্শক ধরে রাখা
ভিডিও শুরুর প্রথম কয়েক সেকেন্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই আকর্ষণীয় বা চমকপ্রদ কোনো বিষয় তুলে ধরতে পারলে দর্শক ভিডিও দেখতে আগ্রহী হন। একটি ভিডিওর দৈর্ঘ্যের ওপর হুক নির্ভর করে। এ ছাড়া দর্শক ভিডিও দেখে চলে যাওয়ার আগে যেন চ্যানেলটির গ্রাহক (সাবস্ক্রাইবার) হন, সে জন্য ভিডিওর শুরুতে, মাঝখানে ও শেষে গ্রাহক হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে।
৩. দর্শকের মতামত চাওয়া
ভিডিওর মধ্যে প্রশ্ন রেখে বা মতামত জানতে চেয়ে দর্শককে কমেন্ট সেকশনে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে ভিডিওর কনটেন্ট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও বাড়বে।
৪. পোল বা কার্ডের মতো ইন্টারঅ্যাকটিভ কৌশল ব্যবহার
ভিডিওর বিষয়ে পোল ও কার্ড যুক্ত করলে দর্শক সরাসরি অংশ নিতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ চ্যানেলের এনগেজমেন্ট বাড়াতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৫. নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ
ইউটিউব চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা বাড়াতে অবশ্যই নিয়মিতভাবে ভিডিও প্রকাশ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ভিডিও প্রকাশ করলে দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়। ধারাবাহিকভাবে ভিডিও প্রকাশের ফলে নিয়মিত দর্শক বৃদ্ধির পাশাপাশি চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
৬. প্রতিক্রিয়ার উত্তর দেওয়া
দর্শকের মন্তব্য ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চ্যানেলের প্রতি আস্থা তৈরি করে। এতে নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এর ফলে অনিয়মিত দর্শকেরাও চ্যানেলে গ্রাহক হয়ে থাকেন।
৭. ভিডিও প্লেলিস্টে সাজানো
ভিডিওগুলো প্লেলিস্টে সাজিয়ে রাখলে দর্শক একটির পর একটি ভিডিও দেখতে আগ্রহী হন। এর ফলে ভিডিও দেখার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ইউটিউবও সার্চ ফলাফলে আপনার চ্যানেলকে দ্রুত সামনে নিয়ে যাবে।
৮. ভিডিওর শেষে ‘কল টু অ্যাকশন’ রাখা
প্রতিটি ভিডিওর শেষে দর্শককে লাইক, সাবস্ক্রিপশন ও শেয়ার করার আহ্বান জানাতে হবে। এতে দ্রুত দর্শকসংখ্যা ও এনগেজমেন্ট বাড়বে। এ ছাড়া চ্যানেলকে এগিয়ে রাখতে ভিডিওর শিরোনাম ও বর্ণনায় দর্শকদের বেশি খোঁজ করা শব্দ বা কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে হবে।
সূত্র: টেকলুসিভ
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। স্বাধীন হয়েছে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে। কিন্তু দিনদিন দুর্নীতি বেড়েই চলছে। তাই প্রশাসনে দুর্নীতি রোধে জিপিএস ও জিও-ফিক্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি।
দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, বরং আইনের শাসন, সুশাসন, জনআস্থা এবং সরকারি সেবার মানকে দুর্বল করে দেয়। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি। সেই বিবেচনায় সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও অধিদপ্তরে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) এবং জিও-ফিক্সিং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিও-ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে কোনো প্রকল্প, কর্মকর্তা, যানবাহন বা সরকারি কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান এবং সময়ভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর ফলে মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ, সেতু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সরকারি কাজ বাস্তবে কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে তা সহজেই যাচাই করা যায়। প্রকল্পের ছবি, ভিডিও ও অগ্রগতি যদি জিও-ট্যাগসহ সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে ভুয়া প্রতিবেদন বা কাগজে-কলমে কাজ দেখানোর সুযোগ অনেকাংশে কমে যাবে।
সরকারি যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা হলে যানবাহনের অপব্যবহার, জ্বালানি অপচয় এবং অননুমোদিত ব্যবহার কমানো সম্ভব। একইভাবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা গেলে জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ আরও কার্যকর সেবা পাবে।
তবে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না; এর সঙ্গে শক্তিশালী আইন, তথ্যের নিরাপত্তা, স্বচ্ছ নীতিমালা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার যেন নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জিপিএস ও জিও-ফিক্সিং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও অধিদপ্তরে পরিকল্পিতভাবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তাই যত দ্রুত সম্ভব জিপিএস ও জিও ফিক্সিং প্রযুক্তি প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, দফতর, অধিদপ্তর, সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে বসানো দরকার।
ছবি : সংগৃহীত
চ্যাটজিপিটির ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে, ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য টেক্সটভিত্তিক চ্যাটের সীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘থিংক’ বাটন। এক বিলিয়নের বেশি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী অর্জনের পর এটিকে প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম বড় আপডেট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি-৫.৬ লুনা ফ্রি ও গো ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ডিফল্ট মডেল হিসেবে চালু করা হবে। এটি বর্তমান জিপিটি-৫.৫ মডেলের জায়গা নেবে। চলতি সপ্তাহ থেকেই নতুন মডেল উন্মুক্ত করা শুরু হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে ফ্রি ব্যবহারকারীরা সীমাহীন টেক্সট চ্যাটের পাশাপাশি নতুন ‘থিংক’ বাটন ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ‘থিংক’ বাটনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জটিল প্রশ্নের ক্ষেত্রে মডেলকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও যুক্তি প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিতে পারবেন। তবে ফাইল আপলোড, ছবি তৈরি, ভয়েস ফিচার এবং ছবি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, প্লাস ও প্রো গ্রাহকদের জন্য চালু করা হচ্ছে আরও উন্নত জিপিটি-৫.৬ সল মডেল। ওপেনএআইয়ের দাবি, নতুন এই মডেল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ওয়েব গবেষণা, লেখা, পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজে আরও দ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য ফল দেবে।
এ ছাড়া প্লাস ও প্রো ব্যবহারকারীরা ‘থিংকিং স্লাইডার’ নামে নতুন একটি সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে কাজের ধরন অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে, তা ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন।
ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহৃত জিপিটি-৫.৬ সল মডেলটি কোডেক্স এবং ওয়ার্ক পণ্যে ব্যবহৃত সংস্করণ থেকে আলাদা।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন মডেলগুলোর তথ্যগত নির্ভুলতা আগের জিপিটি-৫.৫ ইনস্ট্যান্ট সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। তাদের দাবি, জিপিটি-৫.৬ লুনা মডেলে তথ্যগত ভুলের হার ৬২ শতাংশ এবং জিপিটি-৫.৬ সল মডেলে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি-৫.৬ সল ইতোমধ্যে প্লাস ও প্রো ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে জিপিটি-৫.৬ লুনা, সীমাহীন টেক্সট চ্যাট এবং ‘থিংক’ বাটন ফ্রি ও গো ব্যবহারকারীদের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী ১২ আগস্ট মেড বাই গুগল অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হওয়ার কথা রয়েছে গুগলের নতুন পিক্সেল ১১ সিরিজ। এরই মধ্যে স্মার্টফোনগুলোর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন ও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের সম্ভাব্য দাম অনলাইনে ফাঁস হয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যান্ড্রয়েড হেডলাইনস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারও চারটি মডেল নিয়ে আসছে গুগল-পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল এবং পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড। সব মডেলেই থাকতে পারে গুগলের নতুন টেনসর জি৬ চিপসেট এবং টাইটান এম৩ নিরাপত্তা কো-প্রসেসর।
সম্ভাব্য দাম
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিক্সেল ১১-এর প্রারম্ভিক দাম হতে পারে ৮৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা)। পিক্সেল ১১ প্রো-এর দাম শুরু হতে পারে ১,০৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) থেকে।
অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল-এর সম্ভাব্য প্রারম্ভিক মূল্য ১,২৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা)। আর ভাঁজযোগ্য পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড-এর দাম শুরু হতে পারে ১,৮৯৯ ডলার (প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা) থেকে।
কী থাকছে পিক্সেল ১১-এ
সাধারণ পিক্সেল ১১-এ থাকতে পারে ৬.৩ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ ওএলইডি ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিটস উজ্জ্বলতা, ১২ বা ১৬ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ জিবি স্টোরেজ।
ফোনটির পেছনে ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা ও ১৩ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা থাকতে পারে। সামনে থাকতে পারে ১০.৫ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। এছাড়া ৪,৯৮৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির সঙ্গে ৩০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা থাকতে পারে।
প্রো ও প্রো এক্সএল মডেল
পিক্সেল ১১ প্রো-তে ৬.৩ ইঞ্চির এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৪৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা থাকতে পারে। এতে ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং সর্বোচ্চ ১২০ গুণ প্রো জুম সুবিধা মিলতে পারে। সেলফি ক্যামেরা হতে পারে ৪২ মেগাপিক্সেলের।
অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল-এ থাকতে পারে ৬.৮ ইঞ্চির ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট স্টোরেজ, ৫,১১৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট দ্রুত চার্জিং সুবিধা।
পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড
ভাঁজযোগ্য পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড-এ ৮ ইঞ্চির ভেতরের ও ৬.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে থাকতে পারে। এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরার পাশাপাশি আলট্রা-ওয়াইড ও পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা থাকতে পারে। ফোনটিতে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম, ১ টেরাবাইট স্টোরেজ এবং ৪,৮০৬ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সিরিজের সব ফোনেই অ্যান্ড্রয়েড ১৭, আইপি৬৮ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ, ওয়্যারলেস চার্জিং এবং উন্নত নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত থাকতে পারে।
তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি গুগল। আগামী ১২ আগস্ট 'মেড বাই গুগল' অনুষ্ঠানে পিক্সেল ১১ সিরিজের পাশাপাশি নতুন পিক্সেল ওয়াচ ও পিক্সেল বাডসও উন্মোচন করা হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ‘ক্লিনআপ’ ফিচার আসছে
নতুন এ টুলের ফলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে আসা ছবি, ভিডিও বা ভয়েস নোট এখন আর আলাদা করে খুঁজে মুছতে হবে না, কেবল কয়েক ক্লিপেই ডিভাইসের স্টোরেজ খালি করা যাবে। হোয়াটসঅ্যাপে স্টোরেজ সমস্যার সমাধানে আসছে ‘ক্লিনআপ’
ফোনে মেমোরি ঘাটতির দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে নতুন স্টোরেজ ক্লিনআপ টুল নিয়ে আসছে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। স্মার্টফোনের মেমোরি হুটহাট শেষ হয়ে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল। এসব চ্যানেলের শেয়ার করা ছবি, ভিডিও ও ভয়েস নোট নিয়মিত জমা হতে হতে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকটা জায়গা দখল করে নেয়।
নতুন এ টুলের ফলে চ্যানেলে আসা ছবি, ভিডিও বা ভয়েস নোট এখন আর আলাদা করে খুঁজে মুছতে হবে না, কেবল কয়েক ক্লিপেই ডিভাইসের জায়গা খালি করা যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট ডিজিটালট্রেন্ডস।
কয়েকমাস ধরে পরীক্ষার পর সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রকাশিত সর্বশেষ বিটা আপডেটে নতুন ফিচারটি নির্বাচনভিত্তিক বিটা ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
আলাদা ফাইল খোঁজার দিন শেষ
আগেও হোয়াটসঅ্যাপের স্টোরেজ সেটিং থেকে চ্যানেলের বিভিন্ন মিডিয়া ফাইল দেখা ও মোছা যেত। তবে সেই প্রক্রিয়া ছিল বেশ দীর্ঘ ও বিরক্তিকর। ডিলিট করার জন্য প্রতিটি ফাইল হাতে বেছে নিতে হত। নতুন টুলটিতে ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য দুটি আলাদা উপায়ে ফাইল মুছে ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রথম উপায়টি ব্যবহার করা যাবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের ‘ইনফরমেশন’ পেইজে গিয়ে। সেখান থেকে কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল কী পরিমাণ জায়গা দখল করে আছে তা পর্যালোচনার পাশাপাশি ক্যাটেগরি বা বিষয়ভিত্তিক ফিল্টার করে ফাইল মোছা যাবে, অর্থাৎ ফটো, ভিডিও, স্টিকার বা ভয়েস নোটের মধ্যে কোনটি বেশি জায়গা নিচ্ছে, তা আলাদা করে বাছাই করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
নতুন এ আপডেটের সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে, ক্লিনআপের সময় ব্যবহারকারীর ‘স্টার’ মার্ক করা বিভিন্ন বার্তা বা ফাইল হোয়াটসঅ্যাপ নিজে থেকে মুছে ফেলবে না। ফলে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য ভুলবশত মুছে যাওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই অপ্রয়োজনীয় সব ফাইল এক ক্লিকে পরিষ্কার করা যাবে।
ফোনের ‘আবর্জনার ঝুড়ি’ খালি করতে সহজ উপায়
যারা অসংখ্য চ্যানেল অনুসরণ করেন তাদের সুবিধার্থে আরও একটি শর্টকাট যোগ করছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এ সুবিধায় ‘আপডেটস’ ট্যাবে গিয়ে এক বা একাধিক চ্যানেলকে চাপ দিয়ে ধরে রেখে মেনু থেকে ‘ক্লিয়ার মিডিয়া ফাইলস’ অপশনটি বেছে নেওয়া যাবে। এখন আর আলাদা করে প্রতিটি চ্যানেলে ঢুকে ফাইল মোছার প্রয়োজন হবে না, বরং এক ক্লিকেই একসঙ্গে অনেকগুলো চ্যানেলের সংরক্ষিত মিডিয়া সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
ছোট পরিবর্তন মনে হলেও ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সমস্যার সমাধান নিয়ে আসছে এ সুবিধা। কারণ অনেক চ্যানেলই প্রতিদিন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গিগাবাইট পরিমাণ জায়গা দখল করে ফেলে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখার পরপরই ব্যবহারকারীরা এসব ফাইলের কথা ভুলে যান। ফলে ফোনে স্টোরেজ পূর্ণ হওয়ার সতর্কতা বার্তা না আসা পর্যন্ত কতটা জায়গা নষ্ট হয়েছে, তা তৎক্ষণাৎ জানা সম্ভব হয় না।
বর্তমানে গুগল প্লে স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ বিটা সংস্করণ ব্যবহারকারী সীমিত সংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড পরীক্ষকদের জন্য ফিচারটি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কয়েক সপ্তাহে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে সুবিধাটি পৌঁছাবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মূল অ্যাপে এ ফিচার কবে নাগাদ চালু হবে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি হোয়াটসঅ্যাপ।