ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
লিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজা উপত্যকার সামগ্রিক পুনর্গঠন কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন প্রশাসন মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য ইসরায়েলের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করছে।
ওয়াশিংটনের এই নতুন প্রস্তাব থেকে এটি বেশ স্পষ্ট যে গাজায় আবারও নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার কোনো সুযোগ ইসরায়েলি বাহিনীর সামনে আর অবশিষ্ট নেই। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন ওই শান্তি প্রস্তাবের নথিতে ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে একটি লিখিত অনুমোদন বা সই চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই বিশেষ প্রস্তাবে ইসরায়েলকে গাজার প্রধান প্রধান বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো দ্রুত শুরু করার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত জরুরি ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়টি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই নতুন খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন বা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসের পাঁচ মাস আগেই পূর্বাভাস মিলেছিল যে কী ঘটতে যাচ্ছে সামনে। পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে মার্চে প্রকাশ করা হয়েছিল দু’টি প্রতিবেদন। আঞ্চলিক একটি আন্তঃদেশীয় জ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্রের সেই প্রতিবেদনে হিন্দুকুশ হিমালয়ে দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।
হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের মানুষের পক্ষে কাজ করা কাঠমাণ্ডু-ভিত্তিক ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) প্রতিবেদন দু’টিতে বলা হয়, অঞ্চলটিতে হিমবাহ দ্রুত থেকে আরও দ্রুত গতিতে গলছে এবং সহস্রাব্দ শুরুর পর থেকে বরফ হারানোর হার দ্বিগুণ হয়েছে।
১৯৭৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। নেপাল ছাড়াও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভুটান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার আইসিআইএমওডি- এর সদস্যদেশ।
‘এশিয়ার ওয়াটার টাওয়ার’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলের গলিত পানির ওপর নির্ভরশীল ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য ভবিষ্যতে বিপজ্জনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রতিবেদন দু’টিতে।
ওই পূর্বাভাসের পাঁচ মাসের মাথায় দুই দিন আগেই নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬২৬ জনের। এই ভয়াবহ দুর্যোগের সঠিক কারণ এখনও খুঁজে দেখছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। তাদের অনেকেই মনে করছেন, একাধিক কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টিপাত হওয়া।
ভারতের দেহরাদুন ভিত্তিক ‘ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজি’-এর এক বিজ্ঞানী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উুঁচুতে যেখানে তুষারপাত হওয়ার কথা, সেখানে বৃষ্টি হওয়ার কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াই হয়ত উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের বদলে বৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ।
চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত আইসিআইএমওডি- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং আনুমানিক জমে থাকা বরফের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।
পর্যবেক্ষণাধীন ৩৮টি হিমবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইসিআইএমওডি’র তৈরি করা ‘এইচকেএইচ গ্লেসিয়ার আউটলুক ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এটি হিমালয়ের বরফাবৃত অংশ গলে এমন এক পর্যায়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখান থেকে তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।
আইসিআইএমওডি-এর গবেষকরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন যে, অতিরিক্ত উচ্চতা থেকে বরফ ও পাথরের ধস বন্যার সূত্রপাত করেছিল কি না। বিপুল বরফ ও পাথরের ধ্বংসস্তূপ লেহন্দে খোলা (ভোটে কোশি নদীর উপনদী) নদীতে পড়ে পানি, পলি ও বিশাল পাথরখণ্ড গড়িয়ে এনে নিম্নাঞ্চলে হড়পা বান সৃষ্টি করতে পারে।
আইসিআইএমওডি-এর জ্যেষ্ঠ ক্রায়োস্ফিয়ার বিশেষজ্ঞ ও ভারতের আইআইটি ইন্দোরের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক আজম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তুষারাবৃত এলাকা কমে যাওয়া এবং হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগ রয়েছে। তুষারের আবরণ কমে নগ্ন হয়ে পড়া পাথুরে এলাকাগুলো বেশি তাপ শোষণ করায় পাহাড়ের ঢাল আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের’ (আইসিআইএমওডি) তথ্যানুযায়ী, মেরু অঞ্চলের বাইরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের ভাণ্ডার হল এই হিন্দুকুশ হিমালয়। সেখানে ৬৩ হাজার ৭০০টিরও বেশি হিমবাহ রয়েছে; যা ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
হিমবাহগুলো এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎস; যা শত শত কোটি মানুষের খাবার, পানি, জ্বালানি ও জীবিকার জন্য সহায়ক।
মার্চের আইসিআইএমওডি প্রতিবেদন বলা হয়, ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উঁচুতে থাকা হিমবাহের অন্তত ৭৮% অংশ উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে আছে।
নেপালের ত্রিশুলি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ার
কাদামিশ্রিত পানির স্রোত যখন চারপাশে ছুটে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল মাটি যেন ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে। ঢলের পানিতে পাহাড়ের ঢালগুলোও পানিতে ভরে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।
নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন নেপালের ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী সারাসওয়াইত ঘালে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমরা এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব না।’
সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দারা এখন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে আসছেন। কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কেউ চেষ্টা করছেন যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা উদ্ধার করতে। কিন্তু সারাসওয়াইত ঘালের ঘরটি আর নেই।
তিনি জানান, চারপাশের পাহাড়ি ঢাল পানিতে ভরে যাওয়ার পর কাদামিশ্রিত পানির প্রবল স্রোত নিচের দিকে ছুটে আসে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি কোনোভাবে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় পৌঁছান। সেখান থেকে দেখেন, পানির স্রোতে ঘরের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে যাচ্ছে।
পানি ও কাদার স্তর চারপাশে জমে যাওয়ার পরও সেই ভয়াবহ দৃশ্য তার মনে গেঁথে আছে। দুর্যোগের পর নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে সারাসওয়াইতের মনে হচ্ছে, যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন মনে হয় কোনো পৃথিবীই নেই। কী-ই বা বাকি আছে? মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি।’
নিজের হারানো জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কিছুই নেই।’
ত্রিশুলি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ারও এই দুর্যোগে নিজের ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়েছেন। জন্মের পর যে জায়গায় বেড়ে উঠেছেন, সেই জায়গাটি এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। রিশিকা বলেন, ‘যে জায়গায় আমরা জন্মেছি, যেখানে বড় হয়েছি। আমাদের মা-বাবা অনেক কষ্ট করেছেন, অন্যরাও অনেক কষ্ট করেছেন।’
এই দুর্যোগের ক্ষত সহজে ভুলতে পারবেন না বলেও জানায় কিশোরীটি। তিনি বলেন, ‘মনে হয়না, এই কষ্টের কথা আমি কখনো ভুলতে পারব।’
সূত্র: বিবিসি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে দেশবিরোধী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারত একদিন পুনর্দখল করবে বলে মন্তব্য করেছেন।
কাশ্মীর নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ (Pakistan-occupied Kashmir)’ স্লোগান দেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়। শুভেন্দু বলেন, তাঁর প্রশাসন একটি ‘শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক’ সরকার পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যাম্পাসে চলা কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ এবং বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সমালোচনা করেন শুভেন্দু। এ বক্তব্যে পুলওয়ামা হামলা তথা অপারেশন সিঁন্দুর-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সামরিক অভিযান পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, যারা বলে ‘কাশ্মীরের আজাদি চায়’, তাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা উচিত। অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে আমাদের ভারতীয় বিমানবাহিনী মাসুদ আজহারের বংশধরদের নিশ্চিহ্ন করেছে। আমরাও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দখল করব।
যাদবপুর ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদি নেতা কিষাণজির প্রতি সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ধরনের প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হয় তারা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। যথেষ্ট হয়েছে। এর মাঝামাঝি আর কিছু থাকবে না।
তিনি বলেন, বিজেপি সরকার যে সব শক্তিকে দেশবিরোধী বলে মনে করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কলকাতার রাস্তায় যখন ‘আজাদি’র স্লোগান ওঠে, তখন আমার কষ্ট হয়। আপনারা কী স্বাধীনতা চাইছেন? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। রাজৌরি এলাকায় সীমান্তের ওপার থেকে নতুন করে একটি ড্রোনের তৎপরতা শনাক্ত হওয়ার পর বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট রাত প্রায় ৮টা ৫ মিনিটে পাকিস্তানের দিক থেকে একটি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের চলাচল শনাক্ত করা হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাজৌরির বেহরুটি এলাকার আকাশে ড্রোনটিকে চক্কর দিতে দেখেন। এলাকাটি ২২ জম্মু ও কাশ্মীর রাইফেলসের দায়িত্বাধীন অভিযানের এলাকার মধ্যে পড়ে। ড্রোনটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখেন সেনাসদস্যরা।
একপর্যায়ে এটি মঙ্গলনার-দাবরোতে এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে তা নথিভুক্ত করে।
এরপর নিয়ন্ত্রণরেখার সামনের পুরো এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। আকাশ ও স্থল- দুই পথেই কঠোরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য হলো, ড্রোনের মাধ্যমে মাদক, অস্ত্র বা অন্য কোনো অবৈধ পণ্য সীমান্তের এপারে ফেলে যাওয়া হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। একই সঙ্গে নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তের কাছের এলাকাগুলোতে তল্লাশি অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা ব্যক্তির সন্ধান পেতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তবে ড্রোনটির তৎপরতার উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে কোনো কিছু সীমান্তের এপারে পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আরো সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ওআইসির মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করেছেন। তিনি বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
২০২১ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ কূটনীতিক। জাতিসংঘে কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। চাইলে একবার মেয়াদ নবায়ন করা যায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ মহাসচিব নির্বাচন করে। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান ও সমান সুযোগের পাশাপাশি প্রার্থীর দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংস্থাটির সনদে মহাসচিবের পদ আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ক্রমানুসারে বণ্টনের বিধান নেই। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ন্যায্যতা ও পালাক্রমের নীতি অনুসরণ করা হয়।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা এরই মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের সমর্থন পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। সেখানে মৌরিতানিয়াকে উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে এবার একজন মৌরিতানীয় কূটনীতিক আসছেন। সংস্থাটির সদস্যদের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার দেশ।
ছবি : সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে নজিরবিহীন এক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির সহায়তায় ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল সম্পদের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, এই পদক্ষেপে ওপেকভুক্ত দেশ ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশা করছেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী (যাকে তিনি ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ বলেছেন) পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়নি।
চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে, যা দেশটির বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে বলে দাবি করেছেন মার্কো রুবিও।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ শুক্রবার রাতে বলেছে, এই চুক্তির ফলে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে।
এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব তহবিলে প্রায় ২০৯ বিলিয়ন (২০ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “এই বিনিয়োগ কেবল আমাদের তেল শিল্পের আধুনিকায়ন করবে না, বরং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য আনবে।”
রয়টার্স লিখেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র সাড়ে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।
দেশটির তেল সম্পদের একটি অংশ কব্জায় নেওয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর আওতায় ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশাধিকার পেত এবং সেখান থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হতো।
ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন করে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার একটি মডেল বিবেচনায় ছিল। এর আওতায় মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে ক্ষেত্রগুলো নিলামে দেওয়া হতে পারে।
তবে ভেনেজুয়েলায় এ ব্যবস্থা আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশটির তেল শিল্পের মূল কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।
তবে চুক্তিটির কাঠামো, কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, ডনাল্ড ট্রাম্প সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনোকিছু জানাননি।
রয়টার্সের বলছে, অরিনোকো বেল্ট ও মারাকাইবো হ্রদ অঞ্চলের কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে নতুন করে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
তবে জ্বালানি বিশ্লেষকরা এ চুক্তির আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন, চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক কাঠামোর আরও বিস্তারিত না জানা পর্যন্ত এটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে কি না, তা বলা কঠিন।
এ চুক্তি স্বল্পমেয়াদে পেট্রোলের দাম কমাতে পারবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিজের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গোল্ডউইন বলেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার কোনো নজির নেই।”
১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল শিল্প জাতীয়করণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ-এর অধীনে নিয়ে আসে।
পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চ্যাভেজের আমলে মার্কিন কোম্পানি এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংবিধানেও মূল তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে সংরক্ষিত থাকায় মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম কমানোর রাজনৈতিক চাপ এবং দেশের কৌশলগত রিজার্ভ পূর্ণ করার তাগিদ থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতের দিকে দ্রুত হাত বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে।