ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের অর্থনৈতিক ‘কার্ড’ বিশ্লেষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের দাবি তিনি নাকচ করেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তির বড় অংশই ইতিমধ্যে হারিয়েছে।
অন্যদিকে, তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ রয়েছে, যা ব্যবহার করা হয়নি। গতকাল রোববার রাতে নিজের এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে গালিবাফ এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার একটি সমীকরণ তুলে ধরেন। এর একদিকে রয়েছে ইরানের সরবরাহভিত্তিক সক্ষমতা- হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও তেলের পাইপলাইন।
সমীকরণের অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপ- কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, তেহরানের হাতে এমন কিছু বিকল্প আছে, যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তার বেশ কিছু হাতিয়ার ব্যবহার করেছে বা আংশিকভাবে প্রয়োগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার লিখেছেন, ‘ওরা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক: সরবরাহ কার্ড = চাহিদা কার্ড।’
তেহরানের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্ড আংশিক ব্যবহার হয়েছে। বাব এল-মান্দেব কার্ড ব্যবহার হয়নি। পাইপলাইন কার্ডও ব্যবহার করা হয়নি।
ওয়াশিংটনের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আংশিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার’ দিকটি তুলে ধরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে দেশটিতে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
ছবি : সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে নজিরবিহীন এক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির সহায়তায় ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল সম্পদের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, এই পদক্ষেপে ওপেকভুক্ত দেশ ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশা করছেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী (যাকে তিনি ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ বলেছেন) পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়নি।
চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে, যা দেশটির বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে বলে দাবি করেছেন মার্কো রুবিও।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ শুক্রবার রাতে বলেছে, এই চুক্তির ফলে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে।
এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব তহবিলে প্রায় ২০৯ বিলিয়ন (২০ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “এই বিনিয়োগ কেবল আমাদের তেল শিল্পের আধুনিকায়ন করবে না, বরং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য আনবে।”
রয়টার্স লিখেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র সাড়ে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।
দেশটির তেল সম্পদের একটি অংশ কব্জায় নেওয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর আওতায় ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশাধিকার পেত এবং সেখান থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হতো।
ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন করে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার একটি মডেল বিবেচনায় ছিল। এর আওতায় মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে ক্ষেত্রগুলো নিলামে দেওয়া হতে পারে।
তবে ভেনেজুয়েলায় এ ব্যবস্থা আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশটির তেল শিল্পের মূল কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।
তবে চুক্তিটির কাঠামো, কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, ডনাল্ড ট্রাম্প সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনোকিছু জানাননি।
রয়টার্সের বলছে, অরিনোকো বেল্ট ও মারাকাইবো হ্রদ অঞ্চলের কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে নতুন করে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
তবে জ্বালানি বিশ্লেষকরা এ চুক্তির আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন, চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক কাঠামোর আরও বিস্তারিত না জানা পর্যন্ত এটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে কি না, তা বলা কঠিন।
এ চুক্তি স্বল্পমেয়াদে পেট্রোলের দাম কমাতে পারবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিজের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গোল্ডউইন বলেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার কোনো নজির নেই।”
১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল শিল্প জাতীয়করণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ-এর অধীনে নিয়ে আসে।
পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চ্যাভেজের আমলে মার্কিন কোম্পানি এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংবিধানেও মূল তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে সংরক্ষিত থাকায় মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম কমানোর রাজনৈতিক চাপ এবং দেশের কৌশলগত রিজার্ভ পূর্ণ করার তাগিদ থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতের দিকে দ্রুত হাত বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যে ৫৭৫ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশ ও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করছে। পুলিশের তথ্যের প্রায় দুই ঘণ্টা পর এনডিআরআরএমএ সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।
নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে কাজ করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
সূত্র: বিবিসি
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে হড়পা বান ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে দেশটি। উদ্ধারকারীরা তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নেপাল পুলিশের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছিল। এ ঘটনায় আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় চার হাজার ৪৭৩ পুলিশ সদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছেন।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কয়েক ডজন মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রেকিং বা তীর্থযাত্রার জন্য ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।
দুর্যোগের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে। নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলার ঘরবাড়ি ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। গাছের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। কাদায় মাখামাখি অবস্থায় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বেঁচে যাওয়া মানুষদের।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এক মাসের বেতন প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির মন্ত্রীরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ।
এদিকে তিব্বতের শিগাতসে এলাকায় নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া দুই লেনের একটি সড়ক পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হ্রদ তৈরি হয়ে ক্রমেই বড় হওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। হ্রদের বাঁধ ভেঙে আরও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) চলতি বছরের অক্টোবরে রায় ঘোষণা করতে পারে বলে জানিয়েছে গাম্বিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ২৩তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের ফাঁকে বিশেষ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে এই তথ্য জানান গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী দাওদা এ. জাল্লোর।
গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে জানান, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জেনোসাইড সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত অক্টোবরে রায় দিতে পারে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার দায় নির্ধারণে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তা তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখতে এবং এ টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করে তাদের মিয়ানমারে ফেরার পথ সুগম করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছে ২৩০০ জনের বেশি মানুষ। এর মধ্যেই তিব্বতের দিকে ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবরে সেখানে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপালের কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে উদ্ধার অভিযান। শুক্রবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি নতুন করে বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে থাকেন।
রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই পাহাড়ের উঁচুতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা মরদেহের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ৪৮৯ নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ১৮৬ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্বে) ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিমে) ২৮ জন এবং রসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি এখনো ২,৩৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা মূলত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার অধিবাসী। এছাড়া বিদেশ থেকে নেপালে ঘুরতে আসা ১২৭ জন প্রবাসী নেপালি এবং ১,৭৩৭ জন স্থানীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানায়, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চললেও নতুন করে প্লাবনের শঙ্কায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
তিব্বতে ভূমিকম্প
ভয়াবহ হিমবাহধস ও বন্যার পর এবার তিব্বতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। প্রতিবেদন রয়টার্সের।
জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর তিব্বতে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল ও চীনের অঞ্চলগুলো থেকে কয়েক শ মাইল উত্তরে অবস্থিত।
এর আগে বুধবার তিব্বতের নাগকু এলাকায় ৪ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের খবর জানিয়েছিল চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, তিব্বতে একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রাকৃতিকভাবে পানি আটকে তৈরি হওয়া হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় চীন বন্যা মোকাবিলায় চতুর্থ স্তরের ‘ফ্লাড রেসপন্স’ ব্যবস্থা চালু করেছে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হ্রদটির পানির স্তর ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দলকে গিরং কাউন্টিতে পাঠানো হয়েছে।