হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেহরানের হাসান আবাদ স্কয়ার

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার দ্বিতীয় দিন ছিল রোববার। হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০০র বেশি নিহত ও অন্তত ৭০০ জন আহত হয়েছে।



এই হামলার জবাবে, ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ইস্পাহানে সামরিক স্থাপনায় হামলার সর্তকতা জারি করেছে। সেখান থেকে সব বেসামরিক ব্যক্তিদের সরে যেতে বলা হয়েছে। জবাবে, দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধের সর্তকতা জারি করেছে ইরান। 



নওরোজের পাঠকদের জন্য যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখযাগ্য ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো-



ইরানে এক দিনে ১২০০টির বেশি বোমা হামলা: ইসরায়েল

ইসরায়েলের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তারা (ইসরায়েল) ইরানে ১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা ফেলেছে। খবর আল–জাজিরার। ইরানের যেসব স্থানে গতকাল হামলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। এই হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে। আহত বহু মানুষ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, স্কুলে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এই হামলা জবাব দেওয়া হবে।



মধ্যপ্রাচ্যের সব বিমানবন্দর বন্ধ, বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিঘ্নিত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার পর এয়ার লাইন্সগুলো এখনও মধ্যপ্রাচ্যে ও আশেপাশের ফ্লাইট বাতিল এবং ডাইভার্ট বা অন্যমুখী করে দিচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এবং দুবাই আল মাকতুমের সকল ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। দ্য এমিরেটস এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা সোমবার স্থানীয় সময় তিনটা পর্যন্ত দুবাই থেকে সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকার জন্য তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, একই কারণে সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত আবুধাবি থেকে ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইতিহাদ এয়ারলাইন্স।



তেলের দাম বেড়েছে এক লাফে ১০%

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পড়ায় তেলের দামে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সোমবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।



ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের নিহতের খবর

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে টার্কি টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমাদিনেজাদ তার নিজের বাড়িতে হামলার শিকার হন। ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়।



যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাব দেওয়ার ঘোষণা লেবাননের হেজবুল্লাহর

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান সমর্থিত লেবাননের হেজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে লেবানন হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এই গোষ্ঠি "সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে "অপরাধের সর্বোচ্চ" হিসেবে অভিহিত করেছেন মি. কাসেম। তিনি বলেন, "বিধাতার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে আমরা এই আগ্রাসন মোকাবেলায় আমাদের কর্তব্য পালন করবো।" হেজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন, যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটিকে ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে ইসরায়েলের বিরোধিতা করার জন্য এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া শক্তি ইরান প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তখন দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন দখল করেছিল। হেজবুল্লাহ ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠনটির উপস্থিতি দেখা যায়।



তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা 'আরো বাড়বে': নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে "অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।" প্রতিরক্ষামন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ এবং মোসাদ সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধানের সাথে এক বৈঠকের সময় এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তেল আবিবের কিরিয়ার ছাদ থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেছেন, "আমাদের বাহিনী এখন সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে তেহরানের কেন্দ্রে হামলা করছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই হামলার মাত্রা আরো বাড়বে।" "যদিও এই দিনগুলো দুঃখের দিন। গতকাল তেলআবিবে এবং আজকে বেইত সেমেশে আমরা আমাদের প্রিয় মানুষদের হারিয়েছি। এই পরিবারগুলোর প্রতি আমার হৃদয়ের গভীর থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাপ্রকাশ করছি।" তিনি বলেছেন, "আমাদের অস্তিত্ব এবং আমাদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য" ইসরায়েল এই অভিযানে "আইডিএফের পূর্ণ শক্তি" নিয়ে আসছে।




মধ্যপ্রাচ্যে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা’, ইরানের নাম নেয়নি ঢাকা

ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নামোল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি। শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মী নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে দুইশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতাও রয়েছেন।



তেহরানে হামলা বাড়ানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামনের দিনগুলোতে তেহরানে বিমান হামলা আরো জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগ করেনি। আল জাজিরা লিখেছে, এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ জারি করেছি। আমাদের বাহিনী এখন প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত করছে। সামনের দিনগুলোতে হামলা কেবল বৃদ্ধিই পাবে।”



নতুন ‘সুপ্রিম লিডারের’ নাম ঘোষণা দুয়েক দিনের মধ্যেই

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর নতুন নেতা বেছে নিচ্ছে ইরান। আল জাজিরাকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হতে পারে।

আলি খামেনির মৃত্যুতে ইতোমধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরই নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে এমন তথ্য সামনে এলো। আরাগচি বলেন, অন্তর্বর্তী কমিটি ‘নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত’ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। “ইরানের বর্তমান আক্রমণ আত্মরক্ষা ও ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসনের একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ”, যোগ করেন তিনি।

 

শত্রু ঘাঁটি গুড়িয়ে দিচ্ছে ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের  প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল তাদের কাজ শুরু করেছে। খামেনির পরবর্তী নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাতে শূন্যতা তৈরি না হয়, সেজন্য তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অন্যতম সদস্য হলেন পেজেশকিয়ান নিজেই। তার সঙ্গে কমিটিতে রয়েছেন বিচার বিভাগের প্রধান মোহসেনি এজেহেই ও আয়াতুল্লাহ আলৈ রেজা আরাফি। বিবিসি লিখেছে, রাষ্ট্রীয় টিভিতে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের ‘বিপর্যস্ত’ করবে। বর্তমানে তারা শত্রু ঘাঁটি গুড়িয়ে দিচ্ছে।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খামেনির গায়েবানা জানাজা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে তার গায়েবানা জানাযা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রোববার তারাবির নামাজের পর রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে জানাযা হবে বলে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন। 



খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “খামেনির শাহাদাতে শোক ও দুঃখের এ মুহূর্তে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।” তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের নীতি লঙ্ঘনের ঘটনায় পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করছে।”



ইরানের পাল্টা হামলায় আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত

ইরানের পাল্টা হামলায় তিনজন নিহতের যে তথ্য দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সেখানে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। রোববার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ইরান থেকে আসা ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টিকে বাধাগ্রস্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। আর ৩৫টি দেশের মধ্যে পড়ে ক্ষতি করেছে। “এসব ঘটনায় পাকিস্তানি, নেপালি ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আর যে ৫৮ জন আহত হয়েছেন, তারা আমিরাত, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন, এবং আফগানিস্তানের নাগরিক।”



‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করছে, প্রতিবেশীদের নয়’

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিবেশীদের নিশানা করছে না বলে মন্তব্য করে নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, তারা আমেরিকান ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। এক্সে তিনি বলেছেন, “যখন আপনাদের দেশে থাকা ঘাঁটিগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই বাহিনীকে ব্যবহার করে এ অঞ্চলে অভিযান চালায়, তখন আমরা সেই ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করব।” তিনি বলেন, “ঘাঁটিগুলো (মার্কিন) এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশ নয়; বরং সেগুলো আমেরিকান ভূখণ্ড।”



'আমাদের সেনারা শত্রুদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে': ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের "শত্রুদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে" বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় তিনি এমন দাবি করেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণের আধা ঘন্টা আগে মি. পেজেশকিয়ান তার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ইরানে 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সংকল্পকে বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না"।



ইরানে হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৪০ কর্মকর্তা

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন প্রায় ৪০ কর্মকর্তা  প্রাণ হারিয়েছেন।



মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কনে’ ইরানের হামলা

মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে' ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও মার্কিন এক কর্মকর্তা আলজাজিরা বলেছেন, ওই হামলায় রণতরীটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। সেটি এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে’ চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা বলে ইরান।



ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্র, মুদ বোজো বলেছেন, তার দেশ “শুধুমাত্র সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারে”। ফ্রান্সের আরটিএল টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে তিনি বলেছেন, “খামেনি ছিলেন একজন নিপীড়ক ও দমনমূলক একনায়ক, যিনি তার নিজ দেশের জনগণকে দমন করেছিলেন। নারী, যুব ও সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন এবং সম্প্রতি দেশটিতে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তাই তার মৃত্যুতে আমরা শুধু উৎফুল্ল হতে পারি”।



ইরান যুদ্ধে ৩ মার্কিন সেনা নিহত, গুরুতর আহত ৫

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এই প্রথম মার্কিন সেনার প্রাণহানির খবর জানাল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের তিন সেনা নিহত এবং ৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। নিহত সেনাদের নাম জানায়নি সেন্টকম। নিহত সেনাদের পরিবারকে তাদের মৃত্যুর খবর দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে তারা। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকান বীরদের প্রাণহানি হতে পারে। আমাদের পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যুদ্ধে প্রায়ই এমন হয়।”



যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তিন সেনার মৃত্যুর খবর জানালেও বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে আঘাত হানেনি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী এর আগে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল ইরানের গণমাধ্যমে।  তবে সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমনকি রণতরীর ধারেকাছেও পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে সেন্টকম। বরং উল্টো ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রোববার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চলছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতির নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। আপাতত নিহতদের পরিচয় বা এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য তাদের স্বজনদের জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত গোপন রাখা হবে।



তেহরানে নতুন হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে,‘ বিমানবাহিনী এখন তেহরানের কেন্দ্রে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে।’



মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, দাবি ইরানের

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে। চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই রণতরিতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।’ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জানুয়ারির শেষদিক থেকে আরব সাগরে অবস্থান করছে। ইরানে হামলা চালতে এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি জোরদার করার পরিকল্পনা থেকে এই রণতরী মোতায়েন করে ওয়াশিংটন।



প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়। তিনি বলেন, ইরানের আত্মরক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আল জাজিরাকে এসব কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী ভাইদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করছি না। আমরা হামলা করছি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে।’ ইরান প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে বলে উল্লেখ করেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, তেহরানের আশা প্রতিবেশী দেশগুলো এটা বুঝতে পারবে যে, এই পরিস্থিতি ইরানের সৃষ্টি নয়। এর জন্য ইরানের দায়ও নেই। কিন্তু ইরানের আর করার কিছু নেই।



হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পরিকল্পনা তেহরানের নেই: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। এমনকি এই পর্যায়ে ‘নৌচলাচল ব্যাহত হয়, এমন কিছু করারও’ কোনো পরিকল্পনা নেই।

আল-জাজিরাকে তেহরানের এই অবস্থানের কথা জানান আব্বাস আরাগচি। হরমুজ প্রণালির কাছে আজ দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও। ওই প্রণালির দুই পাশে বহু জাহাজ নোঙর করে আছে।



ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চলবে 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের কঠোর হমলা চলবে। আজ রোববার টেলিভশনে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই হুঁশিয়ারি দেন।প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবো।’ তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর আঘাত হানতে থাকবে, শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে থাকবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিপ্লবের নেতার (আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি) শাহাদাত বরণ ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।’



ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ৮ জন নিহত

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরী সেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এই হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলের মাজেন ডেভিড আডোম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার জেরুজালেমের ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারীরা হতাহতদের সরিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে চিকিৎসক দল রয়েছে, হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টার তৎপর রয়েছে। মাজেন ডেভিড আডোম-এর মুখপাত্র জাকি হেলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেইত শেমেশে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, বেইত শেমেশ শহরে আবাসিক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।



হরমুজ প্রণালির উভয় পাশে বহু জাহাজ আটকা পড়েছে

জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য–উপাত্ত দেওয়া সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে, অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে। প্রণালির অপর পাশেও আরও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর এই অঞ্চলটি যুদ্ধের কবলে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের শিপ-ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী এবং এলএনজি উৎপাদনকারী বড় দেশ কাতারের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় এই ট্যাঙ্কারগুলো রয়েছে।



খামেনি হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়, এটা মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পুতিন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সব মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস এ কথা জানিয়েছে। তাস জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে শোক প্রকাশ করেছেন।



মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলার দাবি আইআরজিসি'র

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে"। এতে আরো বলা হয়েছে, "শত্রুদের ওপর হামলার এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে" তারা। তবে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি এবং অন্যান্য সূত্রগুলোও এখনো এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। এই রণতরী, আব্রাহাম লিংকন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরের কাছে অবস্থানরত দুইটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর একটি।



ইরানের পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গতকাল শত্রুপক্ষের হামলায় জাতীয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার তাঁরা নিহত হন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল–জাজিরার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছে ইরান।  ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আরও কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাঁদের নাম পরে প্রকাশ করা হবে।



যুক্তরাষ্ট্রে হামলা হলে এমন আঘাত করব, যা আগে দেখা যায়নি : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানো নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলে হামলা চালানো হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শক্তি ব্যবহার করবেন। খবর বিবিসির। ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান মাত্রই বলেছে যে তারা আজ অত্যন্ত কঠোরভাবে আক্রমণ চালাবে, তারা এত জোরালো হামলা চালাবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে তাদের এমনটা না করাই ভালো। কারণ, যদি তারা এটা করে, তাহলে আমরা এমন শক্তি ব্যবহার করে তাদের আঘাত করব, যা আগে কখনো দেখা যায়নি!’ ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারির পর ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছেন।



এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হতে যাচ্ছেন, সেটির দিকেই নজর সবার। সর্বোচ্চ নেতা খুঁজতে ইতোমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে দেশটির লিডারশিপ কাউন্সিল।এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানালেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন। রোববার আল-জাজিরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান।



ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮ 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৮ এ দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন। খবর আল–জাজিরার। গতকাল শনিবার এ হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। হামলার সময় ওই বিদ্যালয়ে ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল।



সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ: তাসনিম নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের আধাসরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে এই তথ্য জানানো হয়। খবরে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা জাহাজগুলো বারবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) একটি বার্তা পাচ্ছে। বার্তায় বলা হচ্ছে, কৌশলগত এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরান। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ এই হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ তেলের দামের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।



ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের পর্ষদ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সময়ে দেশটিকে নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের একটি পর্ষদ। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে। খবর আল–জাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি তিন সদস্যের পর্ষদ অস্থায়ীভাবে দেশের সবকিছুর নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। এ তিন সদস্যের পর্ষদে থাকছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি।



কার্যালয়ে বসে কাজ করার সময় নিহত হন খামেনি: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার ভোরে তাঁর কার্যালয়ে কাজ করার সময় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ঘোষিত কাউন্সিলের এক বিবৃতি থেকে এমনটা জানা গেছে। খামেনির মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। এর আগে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডের কিছু অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এ লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডই খামেনির কার্যালয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যুতে এটাই প্রমাণ হয় যে তাঁর লুকিয়ে থাকার খবরগুলো ছিল ‘শত্রুপক্ষের মানসিক যুদ্ধের’ অংশ।



খামেনির পথ অব্যাহত থাকবে:ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রী

ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন সময়ে হয়েছে যখন ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করছিল। ২৬শে ফেব্রুয়ারি জেনেভায় সবশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই বিবৃতিতে বলেন, খামেনির পথ “চলবে।”



খামেনি নিহত, এখন ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন

দেশের বাইরের বিষয়েও নিয়মিতভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিজ দেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ইসরায়েলসহ অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তিনি কখনো মাথানত করেননি। আলী খামেনির সময় ইরানের সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর ছয় সন্তান রয়েছে।



হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত

ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা ও রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনোটাই করা হয়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও মেহের জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা ‘অবিচল রয়েছেন ও রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


তিব্বতে ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

ভয়াবহ হিমবাহধস ও বন্যার পর এবার তিব্বতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। প্রতিবেদন রয়টার্সের। 

 

জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর তিব্বতে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল ও চীনের অঞ্চলগুলো থেকে কয়েক শ মাইল উত্তরে অবস্থিত। 


এর আগে বুধবার তিব্বতের নাগকু এলাকায় ৪ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের খবর জানিয়েছিল চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

 

এদিকে, তিব্বতে একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রাকৃতিকভাবে পানি আটকে তৈরি হওয়া হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় চীন বন্যা মোকাবিলায় চতুর্থ স্তরের ‘ফ্লাড রেসপন্স’ ব্যবস্থা চালু করেছে। 


সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হ্রদটির পানির স্তর ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দলকে গিরং কাউন্টিতে পাঠানো হয়েছে।


নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার আগের ও পরের চিত্র, ছবি: ইইউ স্পেস প্রোগ্রাম স্যাটেলাইট ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসে ধ্বংসাবশেষের কারণে তৈরি হওয়া হ্রদের পানি সরিয়ে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি কমাতে তৎপর হয়ে উঠেছে চীন। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক বন্যায় সীমান্ত এলাকার শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।


বৃহস্পতিবার নেপাল ও চীন উভয় দেশই হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। সীমান্তের দুই পাশে ধ্বংসাবশেষ জমে দুটি বাঁধসদৃশ হ্রদ তৈরি হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে আট সদস্যের একটি প্রকৌশলী দল মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দলটি আকাশপথে জরিপ চালানোর পাশাপাশি হ্রদটির ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল তৈরি করছে। 


প্রকৌশলী দলের সদস্য চেন হানশিয়াও জানান, দুর্গম অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, হিমবাহ ধসে হ্রদটি তৈরি হওয়ার পর এর আশপাশে অনেক বিচ্ছিন্ন ও খাড়া পাহাড়ি প্রাচীর তৈরি হয়েছে, যা উদ্ধার ও প্রকৌশল কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে।


তার মতে, হ্রদটির ঝুঁকি কমানোর সাধারণ পদ্ধতি হলো প্রাকৃতিক বাঁধের নিচু অংশে একটি পানি নিষ্কাশন চ্যানেল খনন করা। তবে চ্যানেলটির প্রস্থ ও গভীরতা নির্ধারণের আগে পানির প্রবাহের গতি এবং হ্রদে কী হারে পানি জমছে, তা হিসাব করতে হবে।


জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ মিটার। এতে বর্তমানে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে।


আগামী কয়েক দিনে হ্রদটির পানির স্তর ও তলদেশের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আবহাওয়া পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন প্রকৌশলীরা।


চীন-নেপাল সীমান্তের জিরং বন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্গত এলাকার উজানে মাটি ও পাথর আলগা হয়ে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আগামী সপ্তাহজুড়েই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।



চীনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এখনো প্রাকৃতিক বাঁধে আটকে থাকা হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পানির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিংপুলের সমান। এতে প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন প্রচারিত একটি উদ্ধারকারী দলের আকাশপথে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদামি রঙের বিপুল পরিমাণ পানি একটি অববাহিকায় জমে রয়েছে, যার কোনো দৃশ্যমান পানি বের হওয়ার পথ নেই। ইতোমধ্যে ওই পানি আশপাশের ঝোপঝাড় ও গাছপালা ডুবিয়ে দিয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ ও পাথরের তৈরি বাঁধের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।


সীমান্তের দুই পাশে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে ৩১ দেশের প্রায় ৫৪০ জন পর্যটক রয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ এএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। দুর্যোগের পর বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে।


দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানির সঙ্গে নেমে এসেছে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ। এতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির পাশে নদীর পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।


বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন। ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনো দুর্যোগের ক্ষত স্পষ্ট।


এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে আটকা পড়া ৫৫৫ জন পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বন্যা আঘাত হানার পর তিব্বতের পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চীনের কঠোর সংবাদনিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসছে ধীরে ধীরে।


তিব্বত থেকে সরিয়ে নেওয়া ৫৫৫ পর্যটকের জাতীয়তা জানায়নি সিনহুয়া। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দুর্যোগে তাদের নাগরিকদের কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।


তিব্বত থেকে সরিয়ে নেওয়া পর্যটকদের সংখ্যা নেপালে নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হিসাবের সঙ্গে মিলে গেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ এএম

পাহাড় থেকে হুড়মুড় করে নেমে এলো কাদা, বরফ আর পাথরের ঢল। চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের বিস্তীর্ণ জনপদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখন শুধুই স্বজনহারাদের আর্তনাদ। আর প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে এই তাণ্ডব কোনো সাধারণ দুর্যোগ ছিল না। এটি ছিল আক্ষরিক অর্থে এক ‘স্থলভাগের সুনামি’।


গতকাল বৃহস্পতিবারও ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনেকেই। এই দুর্যোগের হাত থেকে যারা রেহাই পেয়েছেন, তারাও একেকজন বেঁচেছেন একেকভাবে। তাদের ঘটনাও অবাক করে দেওয়ার মতো। 


যেমন- নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল গত বুধবার নবনির্মিত একটি বাড়ির বাইরে টয়লেটের জন্য গর্ত খুঁড়ছিলেন। সেই সময় মাটি ও কাদামিশ্রিত সেই জলপ্রবাহ ধেয়ে আসতে শুরু করে। গর্তের বাইরে থাকা তাঁর চার সহকর্মী চিৎকার করে বিবেককে বাইরে আসতে বলেন।


বিবেক কুমাল পাঁচ ফুট গভীর গর্ত থেকে বের হয়ে দেখেন তাঁর সঙ্গীরা আগেই পালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দৌড়াতে শুরু করলাম। এর পর উঁচু পানি এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।’ 


বিবেক জানান, তিনি ভেসেই যেতেন। হঠাৎ একটি আমগাছে আটকে যাওয়ায় তাঁর প্রাণ বেঁচে যায়। বিবেকের পাশাপাশি আরও তিনজনকে গতকাল চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। তারাও বিভীষিকাময় সেই পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরেছেন। 


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১৪ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাঠমান্ডু ও রাসুয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, বেঁচে ফেরাদের অনেককে গতকাল বৃহস্পতিবার একা হাঁটতে দেখা যায়। তাদের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তারা ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ রকমই আরেক বেঁচে ফেরা ব্যক্তির নাম ওমকার জোশি। তিনি আগের দিন কাছের এক পাহাড়ে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি এএফপিকে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেছে। পুরো শহর কাদাপানির নিচে তলিয়ে গেছে। 


তিনি জানান, সেখানের ৯০ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জোশি বলেন, এটি এখন সুবিশাল এক কবর। শুধু মানুষের রক্তে রঞ্জিত বালু আর পাথরের টুকরো পড়ে আছে।


জোশির দেওয়া তথ্যানুসারে, শত শত মানুষ কাছের পাহাড়ের ঢালে কোনো রকমে উঠে জীবন বাঁচান। সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার হেলিকপ্টার আসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। 


এদিকে, এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের যেতে হচ্ছে আরেক দুর্বিষহ মুহূর্তের মধ্য দিয়ে। এ রকমই একজন সীতা বিকে। তিনি তাঁর ছোট ভাই রামচন্দ্রকে খুঁজছেন, যিনি পেশায় তিমুরের একজন স্কুলশিক্ষক। 


সীতা বলেন, ‘আমি খবর শোনার আগে সকালে তার সঙ্গে কথা বলেছি। তবে ঘটনার সময় থেকেই তার ফোন বন্ধ।’ 


অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের (কর্মকর্তাদের) প্রথম অগ্রাধিকার হলো যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে, তাদের উদ্ধার করা। আমার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’


কাছেই এক কোনায় বসে কাঁদতে দেখা যায় আনিশা নেপালি নামে একজনকে। ২৪ বছর বয়সী আনিশা খবর শুনে গত বুধবারই কাঠমান্ডু থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পৌঁছেছেন। তবে নিখোঁজ মা ও ছোট ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি। আনিশা বলেন, ‘আমি তাদের নাম দিয়েছি। তবে এখনও কিছু শুনতে পাইনি।’


ত্রিশূলি নদীতীরে প্রায় দেড়শ বাড়ি ছিল। বাসিন্দারা জানান, মাত্র একটি বাদে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। যেটি রক্ষা পেয়েছে, সেটিও একটি চারতলা বৃদ্ধাশ্রম। সেখানেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কাদামাটির জলপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সময় সাত বয়োবৃদ্ধ সেটিতে তলিয়ে যান। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে আছেন। 


তিমুর শহরের এক বাসিন্দা সাবির মিয়ান জানান, ঢল নামার আগে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন তারা। ওই সতর্কবার্তায় প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। 


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন। তবে বাদ বাকি সব ভেসে গেছে। সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।


৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বড়াল বলেন, ‘ওটা কেবল পানি ছিল না। ছিল কাদার বিশাল এক স্রোত। সুনামির মতো সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। স্রোত যতই কাছে আসছিল, ততই উচ্চতা বাড়ছিল।’ 


ভূমিধসের সময় বড়ালের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। বড়াল বলেন, ‘আমি স্ত্রীর হাত ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলাম। ওকে ছাদে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কাদার স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আমি কোনোমতে ছাদে উঠতে পেরেছিলাম। আমার স্ত্রী কাদার নিচে কোথাও রয়েছে। ও আর বেঁচে নেই।’ 


অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল বলেন, কাদা ও মাটির আচমকা এভাবে চলে আসার বিষয়টি অনেকটা স্থলভাগে সুনামির মতো।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ পিএম

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে আকস্মিক ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ওমরাহযাত্রীরা। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই মক্কার বিখ্যাত ক্লক টাওয়ারের চূড়ায় একটি শক্তিশালী বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই বিশাল ক্লক টাওয়ার। ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকার আকাশ চিরে একটি তীব্র আলোকচ্ছটা সরাসরি টাওয়ারের ওপর আছড়ে পড়ে।


বজ্রপাতের তীব্র আলোয় পুরো মক্কা নগরী মুহূর্তের জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে। এই রোমহর্ষক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর তা নেট দুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। 


সৌদি আরবের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে মক্কা এবং এর আশপাশের এলাকায় তীব্র বাতাস ও ভারী বজ্রঝড় শুরু হয়। ঝড়ের কারণে কাবা শরিফের মাতাফে (তাওয়াফের স্থান) অবস্থানরত ওমরাহযাত্রীরা তীব্র বাতাসের মুখোমুখি হন। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 


প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মক্কা অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অফিস আগামী কয়েকদিন এই এলাকায় আরও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। 


মক্কার ক্লক টাওয়ার বা আবরাজ আল-বাইত বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন। এর চূড়ায় উন্নত বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা বা লাইটনিং রড বসানো রয়েছে। এই ব্যবস্থার কারণে বিশাল বজ্রপাতের পরও টাওয়ারের কোনো বড় ক্ষতি হয়নি এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে পবিত্র এলাকাটি রক্ষা পেয়েছে।


সূত্র: আল-জাজিরা


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত ৭ আগস্ট চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর তাৎপর্য নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, হঠাৎ-ই এই তিনটি দেশ এই ধরনের চুক্তিতে একমত হয়নি। ২০২৩ সালে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীত সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পারিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সাক্ষর করেছিল। তারই ধারাবাহিকতাই এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি।


এই চুক্তি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। 

তবে, এই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়া নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের বক্তব্যই পাওয়া গেছে।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, এই প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশে যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে, এই বাংলাদেশ যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী?


গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নানা সংকট চলছে। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এই পরিস্থিতিতে আরো জটিল করে তোলে। এমন অবস্থায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভাবছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। 


কেননা, এই চুক্তিতে বলা হয়েছে জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে তা সকল দেশের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে।


গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলো সবাই এখন পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার পথ খুঁজছে। তারই ধারাবাহিকতা এই মক্কা চুক্তি।


এই জোট গঠনের অন্যতম লক্ষ্য হলো- চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্যদেশ তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে। অর্থাৎ এই চুক্তি বা জোটভুক্ত দেশগুলো একীভূত হয়ে তারা তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে একত্রে কাজে লাগবে।


এই চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


এই চুক্তিতে একই সঙ্গে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অঞ্চল ও তার বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 


তবে, কোনো এক দেশ বিপদে পড়লে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা, যুদ্ধবিমান বা অস্ত্র মোতায়েনের বাধ্যবাধকতা কিংবা আক্রান্ত হলে কী ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটি নির্ধারিত হয়নি চুক্তিতে।


এক দেশ আক্রমণের শিকার হলে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশের এগিয়ে আসার বিষয়টিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা ধারার সঙ্গে ‘কার্যত একই’ বলে বর্ণনা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ।


কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, যতক্ষণ না এটি বাস্তবে পরীক্ষিত হচ্ছে, উদাহরণস্বরূপ- সৌদি আরবের ওপর যে কোনো আক্রমণের জবাবে পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে- ততক্ষণ পর্যন্ত এই চুক্তিটিকে একটি বাধ্যতামূলক ন্যাটো ধাঁচের অঙ্গীকারের পরিবর্তে একটি ‘অভিপ্রায়ের ঘোষণা’ হিসেবে দেখা উচিত।


চলতি বছরের ১৯ মার্চ ইসলামি সম্মেলনের সময় সৌদি আরবের রিয়াদে তুরস্ক-পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি কী রকম হতে পারে সেটি নিয়েও আলোচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে মক্কায়।


এই চুক্তি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু এই তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বরং আরও বিস্তৃত হওয়া সম্ভব হলে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি করা, যাতে একদিন এই অঞ্চলের সব দেশ এই ছাতার নিচে একত্রিত হতে পারে।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণ কী?


মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান এবং মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। হঠাৎ কেন এই তিনটি দেশ এমন একটি চুক্তিকে যুক্ত হলো সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও হামলা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে। 


বিশেষ করে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করার কথা বলে ইসরায়েল দেশটির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকা দখলে নিয়েছে।


এদিকে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সৌদি আরবে ড্রোন হামলার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে, এসব গোষ্ঠীও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে পড়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক শক্তির দিক থেকে তুরস্ক অনেকটা এগিয়ে রয়েছে, শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব ও পাকিস্তান বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। সেদিক থেকে তিন দেশ একে অপরের পরিপূরক।


অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই মুহূর্তে আমরা যদি দেখি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের শত্রুদের মধ্যে রয়েছে ইরান কিংবা হুথির মতো বিদ্রোহীরা। কারণ এই জটিলতা শেষ না হলে হুথি জটিলতা শেষ হবে না। সুতরাং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্যাক্টটা খুব জরুরি ছিল।


অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ধরা হয় ইসরায়েলকে। সেই দিক থেকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দেশ দুটিকে একসঙ্গে পেলে সেটি তুরস্কের জন্যও লাভবান বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


গবেষক আলতাফ পারভেজ বলছিলেন, সৌদি আরবের অর্থ, পাকিস্তানের সামরিক কৌশল ও অভিজ্ঞতা আর তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের দক্ষতা। এই দেশগুলো ভেবেছে তারা তিনটি দেশ যদি একত্রিত হয়, সেটি তাদের নিরাপত্তার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে, ধর্মীয় দিক থেকেও এই চুক্তির বিশেষ একটি তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই চুক্তিকে মুসলিম দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরতে বার হিসেবে শুক্রবার ও স্থান হিসেবে মক্কাকে বাছাই করা হয়েছে।


বাংলাদেশ কেন যুক্ত হতে চায়?


আগস্টের শুরুতে তিন দেশের মধ্যে এই চুক্তি সই হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সামনে আসছে।


বাংলাদেশের কোনো কোনো গণমাধ্যমে গত সপ্তাহে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এটির জবাব দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে এই জোটে বা চুক্তি যেতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।


সেখানে হুমায়ুন কবির বলেছেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি। মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক আবেগের। মধ্যপ্রাচ্যে যদি এমনও হয় যে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্ট হয়, তাহলে ওখানে যাওয়াটা তো অস্বাভাবিক না। দেখা যাক কী হয়। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা নেই। সেদিক থেকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি আর তুরস্ক-পাকিস্তানের সামরিক শক্তি ও কৌশল আছে। সেদিক থেকে ওই তিন দেশ সাথে একসঙ্গে থাকলে তাতে বাংলাদেশই উপকৃত হবে।


অধ্যাপক খান বলছিলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। যেহেতু বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চাচ্ছে। সেদিক বিবেচনায় পাকিস্তান-তুরস্ক ও চীন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।


যদিও ইতিবাচক দিকও যেমন আছে, সেই সঙ্গে এর ঝুঁকির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


আলতাফ পারভেজ মনে করেন, বাংলাদেশ এই জোটে যখনই যুক্ত হবে, তখন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবে। যেটি একদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবেও দেখছেন তিনি।


তিনি বলেন, এটার তাৎক্ষণিক একটি প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। কারণ তখন ভারত ভাব পারে সে অনিরাপদ। তখনই সে ইসরায়েলে শরণাপন্ন হতে পারে। এই ইস্যুতে তখন ভারতকে সহযোগিতায় আগ্রহী হতে পারে ইসরায়েল। দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হতে পারে সামরিক উত্তেজনা।


‘এ উত্তেজনায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ওয়ার এবং প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ বাড়তি ঝুঁকিতে থাকবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিতে ঝুঁকলেও এক ধরনের ঝুঁকি, না ঝুঁকলেও থাকবে আরেক ধরনের ঝুঁকি।’


মিশরও অনানুষ্ঠানিক এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিশর সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, কারণ এতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে সেই দেশগুলোর মধ্যে ইরান, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, গ্রিস, সাইপ্রাস ও ভারতও রয়েছে।