জাপান প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দেশটি প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোনো বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন এই সতর্কতা চালু করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।


গতকাল মঙ্গলবার জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিন শহর তাজিমি, গুজো এবং তয়োদায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের আওহাওয়া সংস্থা।


তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেই দিনগুলোকে জাপানে ‘কোকুশোবি’ বলা হয়। তীব্র গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই পরিভাষাটি চালু করা হয়েছিল।


বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহওয়া ঘন ঘন দেখা দিতে থাকার মধ্যে জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অসহনীয় গরমের দিন’ ঘোষণা করা হল। গত বছর জাপানের ইসেসাকি নগরীতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা গিয়েছিল।


জাপানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য বিশেষ পরিভাষা আছে। যেমন: যেসব দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় তাকে বলে মোসোবি বা ‘চরম গরম দিন’।


কিন্তু ‘কোকু’ শব্দটি আরও প্রচণ্ড বা প্রখর তাপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশের ৯১৪ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর প্রায় ৩০০ টিতেই মঙ্গলবার মোসোবি রেকর্ড করা হয়েছে।


তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ দেশের ৪০ টিরও বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক অ্যালার্ট জারি করেছে। লোকজনকে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করা, যথেষ্ট পানি পান, লবণ খাওয়া এবং বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, টোকিও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিটি হাসপাতালে ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সের মোট ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে ভর্তি করা হয়েছে। এবছর এটিই হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।


দমকল বিভাগও অ্যালার্ট জারি করে লোকজনকে তাপ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে। গত বছর জাপান ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।



সর্বশেষ সব খবর

নেপালের ত্রিশুলি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ার

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

কাদামিশ্রিত পানির স্রোত যখন চারপাশে ছুটে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল মাটি যেন ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে। ঢলের পানিতে পাহাড়ের ঢালগুলোও পানিতে ভরে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। 


নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন নেপালের ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী সারাসওয়াইত ঘালে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমরা এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব না।’


সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দারা এখন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে আসছেন। কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কেউ চেষ্টা করছেন যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা উদ্ধার করতে। কিন্তু সারাসওয়াইত ঘালের ঘরটি আর নেই।


তিনি জানান, চারপাশের পাহাড়ি ঢাল পানিতে ভরে যাওয়ার পর কাদামিশ্রিত পানির প্রবল স্রোত নিচের দিকে ছুটে আসে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি কোনোভাবে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় পৌঁছান। সেখান থেকে দেখেন, পানির স্রোতে ঘরের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে যাচ্ছে।


পানি ও কাদার স্তর চারপাশে জমে যাওয়ার পরও সেই ভয়াবহ দৃশ্য তার মনে গেঁথে আছে। দুর্যোগের পর নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে সারাসওয়াইতের মনে হচ্ছে, যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন মনে হয় কোনো পৃথিবীই নেই। কী-ই বা বাকি আছে? মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি।’


নিজের হারানো জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কিছুই নেই।’


ত্রিশুলি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ারও এই দুর্যোগে নিজের ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়েছেন। জন্মের পর যে জায়গায় বেড়ে উঠেছেন, সেই জায়গাটি এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। রিশিকা বলেন, ‘যে জায়গায় আমরা জন্মেছি, যেখানে বড় হয়েছি। আমাদের মা-বাবা অনেক কষ্ট করেছেন, অন্যরাও অনেক কষ্ট করেছেন।’


এই দুর্যোগের ক্ষত সহজে ভুলতে পারবেন না বলেও জানায় কিশোরীটি। তিনি বলেন, ‘মনে হয়না, এই কষ্টের কথা আমি কখনো ভুলতে পারব।’


সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৬ পিএম

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে দেশবিরোধী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারত একদিন পুনর্দখল করবে বলে মন্তব্য করেছেন।


কাশ্মীর নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ (Pakistan-occupied Kashmir)’ স্লোগান দেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়। শুভেন্দু বলেন, তাঁর প্রশাসন একটি ‘শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক’ সরকার পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যাম্পাসে চলা কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ এবং বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সমালোচনা করেন শুভেন্দু। এ বক্তব্যে পুলওয়ামা হামলা তথা অপারেশন সিঁন্দুর-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সামরিক অভিযান পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।


তিনি বলেন, যারা বলে ‘কাশ্মীরের আজাদি চায়’, তাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা উচিত। অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে আমাদের ভারতীয় বিমানবাহিনী মাসুদ আজহারের বংশধরদের নিশ্চিহ্ন করেছে। আমরাও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দখল করব।


যাদবপুর ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদি নেতা কিষাণজির প্রতি সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ধরনের প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হয় তারা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। যথেষ্ট হয়েছে। এর মাঝামাঝি আর কিছু থাকবে না।


তিনি বলেন, বিজেপি সরকার যে সব শক্তিকে দেশবিরোধী বলে মনে করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।


‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কলকাতার রাস্তায় যখন ‘আজাদি’র স্লোগান ওঠে, তখন আমার কষ্ট হয়। আপনারা কী স্বাধীনতা চাইছেন? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। রাজৌরি এলাকায় সীমান্তের ওপার থেকে নতুন করে একটি ড্রোনের তৎপরতা শনাক্ত হওয়ার পর বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।


সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট রাত প্রায় ৮টা ৫ মিনিটে পাকিস্তানের দিক থেকে একটি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের চলাচল শনাক্ত করা হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাজৌরির বেহরুটি এলাকার আকাশে ড্রোনটিকে চক্কর দিতে দেখেন। এলাকাটি ২২ জম্মু ও কাশ্মীর রাইফেলসের দায়িত্বাধীন অভিযানের এলাকার মধ্যে পড়ে। ড্রোনটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখেন সেনাসদস্যরা।


একপর্যায়ে এটি মঙ্গলনার-দাবরোতে এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে তা নথিভুক্ত করে।


এরপর নিয়ন্ত্রণরেখার সামনের পুরো এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। আকাশ ও স্থল- দুই পথেই কঠোরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য হলো, ড্রোনের মাধ্যমে মাদক, অস্ত্র বা অন্য কোনো অবৈধ পণ্য সীমান্তের এপারে ফেলে যাওয়া হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। একই সঙ্গে নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তের কাছের এলাকাগুলোতে তল্লাশি অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা ব্যক্তির সন্ধান পেতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালানো হচ্ছে।


তবে ড্রোনটির তৎপরতার উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে কোনো কিছু সীমান্তের এপারে পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আরো সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম
  • আপডেট : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ওআইসির মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করেছেন। তিনি বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন।


২০২১ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।


ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ কূটনীতিক। জাতিসংঘে কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।


ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। চাইলে একবার মেয়াদ নবায়ন করা যায়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ মহাসচিব নির্বাচন করে। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান ও সমান সুযোগের পাশাপাশি প্রার্থীর দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সংস্থাটির সনদে মহাসচিবের পদ আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ক্রমানুসারে বণ্টনের বিধান নেই। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ন্যায্যতা ও পালাক্রমের নীতি অনুসরণ করা হয়।


ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা এরই মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের সমর্থন পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। সেখানে মৌরিতানিয়াকে উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে এবার একজন মৌরিতানীয় কূটনীতিক আসছেন। সংস্থাটির সদস্যদের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার দেশ।

বিষয় : ওআইসি

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে নজিরবিহীন এক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।


ট্রাম্প দাবি করেছেন, বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির সহায়তায় ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল সম্পদের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, এই পদক্ষেপে ওপেকভুক্ত দেশ ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশা করছেন ট্রাম্প।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী (যাকে তিনি ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ বলেছেন) পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়নি।


চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।


তিনি বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে, যা দেশটির বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।


অন্যদিকে এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে বলে দাবি করেছেন মার্কো রুবিও।


গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ শুক্রবার রাতে বলেছে, এই চুক্তির ফলে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে।


এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব তহবিলে প্রায় ২০৯ বিলিয়ন (২০ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এক বিবৃতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “এই বিনিয়োগ কেবল আমাদের তেল শিল্পের আধুনিকায়ন করবে না, বরং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য আনবে।”


রয়টার্স লিখেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র সাড়ে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।


দেশটির তেল সম্পদের একটি অংশ কব্জায় নেওয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর আওতায় ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশাধিকার পেত এবং সেখান থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হতো।


ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন করে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার একটি মডেল বিবেচনায় ছিল। এর আওতায় মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে ক্ষেত্রগুলো নিলামে দেওয়া হতে পারে।


তবে ভেনেজুয়েলায় এ ব্যবস্থা আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশটির তেল শিল্পের মূল কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।


তবে চুক্তিটির কাঠামো, কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, ডনাল্ড ট্রাম্প সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনোকিছু জানাননি।


রয়টার্সের বলছে, অরিনোকো বেল্ট ও মারাকাইবো হ্রদ অঞ্চলের কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে নতুন করে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।


তবে জ্বালানি বিশ্লেষকরা এ চুক্তির আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।


তারা বলছেন, চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক কাঠামোর আরও বিস্তারিত না জানা পর্যন্ত এটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে কি না, তা বলা কঠিন।


এ চুক্তি স্বল্পমেয়াদে পেট্রোলের দাম কমাতে পারবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।


গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিজের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গোল্ডউইন বলেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।


তিনি বলেন, “তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার কোনো নজির নেই।”


১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল শিল্প জাতীয়করণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ-এর অধীনে নিয়ে আসে।


পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চ্যাভেজের আমলে মার্কিন কোম্পানি এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।


ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংবিধানেও মূল তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে সংরক্ষিত থাকায় মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।


আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম কমানোর রাজনৈতিক চাপ এবং দেশের কৌশলগত রিজার্ভ পূর্ণ করার তাগিদ থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতের দিকে দ্রুত হাত বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৫ এএম

নেপালে ভয়াবহ ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।


এর আগে নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যে ৫৭৫ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশ ও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করছে। পুলিশের তথ্যের প্রায় দুই ঘণ্টা পর এনডিআরআরএমএ সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।


নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে কাজ করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।


সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ সব খবর