রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল বৃহস্পতিবার আবারও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, রুশ সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিনই অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, কিয়েভ যদি আপস করতে প্রস্তুত থাকে, তখনই শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা যুদ্ধ থামাতে পারবে। রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন এ কথা বলেন।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সরাসরি আলোচনায় বসতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে কিয়েভ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেছেন, পুতিন ওই বার্তার কথা জানেন, তবে এখনো চিঠির বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ পাননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক হলে তা ‘দারুণ’ হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচিত এ যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। পুতিন বলেছেন, জনশক্তি, শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তার দিক থেকে রাশিয়া এগিয়ে আছে।
পুতিন দাবি করেন, রুশ সেনাবাহিনী সম্প্রতি প্রায় আড়াই হাজার বর্গকিলোমিটার (১ হাজার ৫৫৩ বর্গমাইল) এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় মস্কোকে তার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং তারা তা করবে।
তবে পশ্চিমা দেশগুলোর কিছু সামরিক বিশ্লেষক এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রসর হওয়াটা উল্লেখজনকভাবে ধীর হয়ে গেছে। তাঁদের মতে, রাশিয়া এখনো তাদের ঘোষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন থেকে অনেকটা দূরে আছে।
তা সত্ত্বেও পুতিনের কণ্ঠে শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, ‘অভিযান প্রতিদিনই চলছে। বর্তমানে রুশ ফেডারেশন লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এ ছাড়া দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের ৮৫ শতাংশের বেশি এলাকা ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের ৮০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে।’
পুতিন বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় পক্ষ চাইবে, আমরা আমাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিই। কিন্তু সেটি থামানোর চেয়ে (আলাস্কার) অ্যাঙ্কোরেজে যে সমঝোতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলোতে সম্মত হয়ে পুরো যুদ্ধের অবসান ঘটানোই বেশি ভালো হবে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে অ্যাঙ্কোরেজে ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের শীর্ষ বৈঠক হয়। সে বৈঠকে হওয়া সমঝোতার কথাই উল্লেখ করেছেন পুতিন। এটিকে মূলত মস্কোর সে দাবির প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে হচ্ছে, যেখানে রাশিয়া চাইছে, ইউক্রেন তার পূর্বদিকের দনবাস অঞ্চলের বাকি অংশও ছেড়ে দিক। রাশিয়া যে চারটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে, তার দুটির সম্পূর্ণ এলাকা এ দনবাসের অন্তর্ভুক্ত।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলবে। এতে ইউক্রেনের অবশিষ্ট অংশও রুশ হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
পুতিন বলেছেন, কিয়েভকে শেষ পর্যন্ত আপস করতেই হবে। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন যে বর্তমানে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এমন অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রভাব ব্যবহার করে ইউক্রেনকে সমঝোতায় রাজি করাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নিজের খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত পুতিনেরই। জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এবং রাশিয়ার মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি-সংকটে দেশটির (রাশিয়া) জনগণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং তাঁরা শান্তি চান।
জেলেনস্কি আরও সতর্ক করে বলেন, পুতিন যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেন, তবে তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে দেশবিরোধী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারত একদিন পুনর্দখল করবে বলে মন্তব্য করেছেন।
কাশ্মীর নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ (Pakistan-occupied Kashmir)’ স্লোগান দেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়। শুভেন্দু বলেন, তাঁর প্রশাসন একটি ‘শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক’ সরকার পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যাম্পাসে চলা কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ এবং বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সমালোচনা করেন শুভেন্দু। এ বক্তব্যে পুলওয়ামা হামলা তথা অপারেশন সিঁন্দুর-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সামরিক অভিযান পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, যারা বলে ‘কাশ্মীরের আজাদি চায়’, তাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা উচিত। অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে আমাদের ভারতীয় বিমানবাহিনী মাসুদ আজহারের বংশধরদের নিশ্চিহ্ন করেছে। আমরাও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দখল করব।
যাদবপুর ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদি নেতা কিষাণজির প্রতি সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ধরনের প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হয় তারা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। যথেষ্ট হয়েছে। এর মাঝামাঝি আর কিছু থাকবে না।
তিনি বলেন, বিজেপি সরকার যে সব শক্তিকে দেশবিরোধী বলে মনে করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কলকাতার রাস্তায় যখন ‘আজাদি’র স্লোগান ওঠে, তখন আমার কষ্ট হয়। আপনারা কী স্বাধীনতা চাইছেন? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। রাজৌরি এলাকায় সীমান্তের ওপার থেকে নতুন করে একটি ড্রোনের তৎপরতা শনাক্ত হওয়ার পর বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট রাত প্রায় ৮টা ৫ মিনিটে পাকিস্তানের দিক থেকে একটি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের চলাচল শনাক্ত করা হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাজৌরির বেহরুটি এলাকার আকাশে ড্রোনটিকে চক্কর দিতে দেখেন। এলাকাটি ২২ জম্মু ও কাশ্মীর রাইফেলসের দায়িত্বাধীন অভিযানের এলাকার মধ্যে পড়ে। ড্রোনটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখেন সেনাসদস্যরা।
একপর্যায়ে এটি মঙ্গলনার-দাবরোতে এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে তা নথিভুক্ত করে।
এরপর নিয়ন্ত্রণরেখার সামনের পুরো এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। আকাশ ও স্থল- দুই পথেই কঠোরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য হলো, ড্রোনের মাধ্যমে মাদক, অস্ত্র বা অন্য কোনো অবৈধ পণ্য সীমান্তের এপারে ফেলে যাওয়া হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। একই সঙ্গে নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তের কাছের এলাকাগুলোতে তল্লাশি অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা ব্যক্তির সন্ধান পেতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তবে ড্রোনটির তৎপরতার উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে কোনো কিছু সীমান্তের এপারে পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আরো সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ওআইসির মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করেছেন। তিনি বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
২০২১ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ কূটনীতিক। জাতিসংঘে কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। চাইলে একবার মেয়াদ নবায়ন করা যায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ মহাসচিব নির্বাচন করে। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান ও সমান সুযোগের পাশাপাশি প্রার্থীর দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংস্থাটির সনদে মহাসচিবের পদ আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ক্রমানুসারে বণ্টনের বিধান নেই। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ন্যায্যতা ও পালাক্রমের নীতি অনুসরণ করা হয়।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা এরই মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের সমর্থন পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। সেখানে মৌরিতানিয়াকে উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে এবার একজন মৌরিতানীয় কূটনীতিক আসছেন। সংস্থাটির সদস্যদের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার দেশ।
ছবি : সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে নজিরবিহীন এক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির সহায়তায় ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল সম্পদের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, এই পদক্ষেপে ওপেকভুক্ত দেশ ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশা করছেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী (যাকে তিনি ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ বলেছেন) পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়নি।
চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে, যা দেশটির বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে বলে দাবি করেছেন মার্কো রুবিও।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ শুক্রবার রাতে বলেছে, এই চুক্তির ফলে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে।
এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব তহবিলে প্রায় ২০৯ বিলিয়ন (২০ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “এই বিনিয়োগ কেবল আমাদের তেল শিল্পের আধুনিকায়ন করবে না, বরং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য আনবে।”
রয়টার্স লিখেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র সাড়ে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।
দেশটির তেল সম্পদের একটি অংশ কব্জায় নেওয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর আওতায় ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশাধিকার পেত এবং সেখান থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হতো।
ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন করে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার একটি মডেল বিবেচনায় ছিল। এর আওতায় মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে ক্ষেত্রগুলো নিলামে দেওয়া হতে পারে।
তবে ভেনেজুয়েলায় এ ব্যবস্থা আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশটির তেল শিল্পের মূল কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।
তবে চুক্তিটির কাঠামো, কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, ডনাল্ড ট্রাম্প সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনোকিছু জানাননি।
রয়টার্সের বলছে, অরিনোকো বেল্ট ও মারাকাইবো হ্রদ অঞ্চলের কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে নতুন করে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
তবে জ্বালানি বিশ্লেষকরা এ চুক্তির আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন, চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক কাঠামোর আরও বিস্তারিত না জানা পর্যন্ত এটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে কি না, তা বলা কঠিন।
এ চুক্তি স্বল্পমেয়াদে পেট্রোলের দাম কমাতে পারবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিজের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গোল্ডউইন বলেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার কোনো নজির নেই।”
১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল শিল্প জাতীয়করণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ-এর অধীনে নিয়ে আসে।
পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চ্যাভেজের আমলে মার্কিন কোম্পানি এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংবিধানেও মূল তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে সংরক্ষিত থাকায় মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম কমানোর রাজনৈতিক চাপ এবং দেশের কৌশলগত রিজার্ভ পূর্ণ করার তাগিদ থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতের দিকে দ্রুত হাত বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যে ৫৭৫ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশ ও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করছে। পুলিশের তথ্যের প্রায় দুই ঘণ্টা পর এনডিআরআরএমএ সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।
নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে কাজ করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
সূত্র: বিবিসি
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে হড়পা বান ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে দেশটি। উদ্ধারকারীরা তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নেপাল পুলিশের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছিল। এ ঘটনায় আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় চার হাজার ৪৭৩ পুলিশ সদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছেন।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কয়েক ডজন মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রেকিং বা তীর্থযাত্রার জন্য ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।
দুর্যোগের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে। নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলার ঘরবাড়ি ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। গাছের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। কাদায় মাখামাখি অবস্থায় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বেঁচে যাওয়া মানুষদের।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এক মাসের বেতন প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির মন্ত্রীরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ।
এদিকে তিব্বতের শিগাতসে এলাকায় নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া দুই লেনের একটি সড়ক পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হ্রদ তৈরি হয়ে ক্রমেই বড় হওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। হ্রদের বাঁধ ভেঙে আরও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।