ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬, সময় : ১:১২ এএম

চীনের বেইজিংয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক জমকালো রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং। এই ভোজের খাদ্যতালিকা যেন কূটনীতিরই এক দারুণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। 


চীনের রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজনে ঐতিহ্যগতভাবে হুয়াইয়াং রন্ধনশৈলীর ওপর জোর দেওয়া হয়। সাংহাইয়ের আশপাশের অঞ্চল থেকে এই রান্নার উৎপত্তি। হালকা ও স্নিগ্ধ স্বাদের জন্য এই খাবার বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। রান্নার দারুণ কারুকাজ এবং মৌসুমি উপাদানের ব্যবহার এই খাবারকে বিশেষত্ব দিয়েছে।


উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে শুরুর আগ্রহ দেখিয়েছে। এই আলোচনার সমাপ্তি টানতে আয়োজকেরা মেনুতে কিছুটা নমনীয়তা এনেছেন। খাদ্যতালিকায় তাঁরা চীনের জাতীয় খাবার ‘বেইজিং হাঁসের রোস্ট’ রেখেছেন। 


এর পাশাপাশি যুক্ত করেছেন গরুর পাঁজরের মাংস, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুসিদ্ধ (ওয়েল-ডান) স্টেক খাওয়ার পছন্দের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।


মার্কিন অতিথিদের জন্য খাবারের তালিকায় ডেজার্ট বা মিষ্টির আইটেমগুলো রাখা হয়েছে বেশ গুরুত্ব দিয়ে। পরিবেশন করা হয়েছে তিরামিসু, ফল ও আইসক্রিম। এর সঙ্গে ছিল ‘ট্রাম্পেট-শেল’ বা শঙ্খ আকৃতির বিশেষ এক পেস্ট্রি।


কয়েক দশক ধরে চীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খাবারকে কূটনীতির শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে। বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিদের আপ্যায়নেও তারা এই রীতি অনুসরণ করে। 


চীনের আধুনিক ইতিহাসে দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ সময় খাবার নিয়ে টানাটানি ছিল। সেই অভাবের দিনগুলো খাবারকে চীনা সংস্কৃতিতে আভিজাত্যের প্রতীকে রূপান্তর করেছে।


কূটনীতির প্রতীক হিসেবে খাবার


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি কর্মকর্তাদের চীন সফরের সময় খাবার নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। ২০২৩ সালে বেইজিংয়ের একটি ইউনানি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন ‘ম্যাজিক মাশরুম’ খাওয়া নিয়ে মজার মন্তব্য করেছিলেন। 


এ ছাড়া ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বেইজিংয়ের একটি সাধারণ রেস্তোরাঁয় বসে ফ্রায়েড লিভার বা ভাজা কলিজার স্বাদ নিয়েছিলেন, যা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।


চীন অনেক সময় বিদেশি অতিথিদের সম্মানে খাবারের নাম রেখেছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জারের গোপন সফরের সময় তাঁর জন্য বিশেষ এক মুরগির পদ তৈরি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় ভোজের এসব মেনু পরে স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোও হুবহু অনুকরণ করে।


সাংহাইয়ের অভিজাত রেস্তোরাঁ ‘গুই হুয়া লো’র নির্বাহী শেফ শি ছিয়াং হুয়াইয়াং রান্নার বিশেষত্ব নিয়ে কথা বলেন। 


তিনি জানান, এই রান্নার প্রধান শক্তি হলো এর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। এর স্বাদ ও ঘ্রাণ বিদেশি অতিথিসহ প্রায় সব মানুষের কাছেই বেশ প্রিয়। এই খাবার তাই যে কারও রুচির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।


চীনের আটটি প্রধান আঞ্চলিক রন্ধনশৈলীর একটি হলো হুয়াইয়াং রন্ধনশৈলী। দীর্ঘ সময় ধরেই গুরুত্বপূর্ণ সব কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে এই রান্নার পদগুলো প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। তাই কূটনৈতিক আয়োজনে হুয়াইয়াং খাবার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


১৯৪৯ সালে চীন প্রতিষ্ঠার সময় ‘ফাউন্ডিং ব্যাংকুয়েট’ বা প্রতিষ্ঠাকালীন ভোজে এই খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে চীনের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ভোজসভায়ও ছিল এই রান্নার পদ। 


এ ছাড়া ২০০২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সম্মানে যে ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন, সেখানেও হুয়াইয়াং খাবার রাখা হয়েছিল।


এই রান্নার প্রধান পদগুলোর মধ্যে রয়েছে সিংহের মাথা আকৃতির নরম মাংসের মিটবল। এ ছাড়া ইয়াংঝু ফ্রায়েড রাইস এবং মিষ্টি-টক সসে ডুবো তেলে ভাজা ‘স্কুইরেল ফিশ’ বেশ জনপ্রিয়। এই রন্ধনশৈলীর আরেকটি চমৎকার পদ হলো ‘ওয়েনসি তোফু’। এতে তোফুর একটি খণ্ডকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কয়েক হাজার সরু সুতার মতো করে কাটা হয়।


ইয়াংসি নদী অববাহিকায় উৎপন্ন বিভিন্ন উপকরণ এই রান্নার মূল বৈশিষ্ট্য। শেফরা সাধারণত মিঠাপানির মাছ, ইল মাছ এবং বাঁশের কোঁড়ল ব্যবহার করেন। খাবারের প্রাকৃতিক সতেজতা বজায় রাখতে তাঁরা খুব অল্প মসলা ব্যবহার করেন। এতে উপকরণের নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ ফুটে ওঠে।


সাংহাইভিত্তিক খাদ্য লেখক ক্রিস্টোফার সেন্ট ক্যাভিশ বলেন, ভোজসভার জন্য এই খাবারগুলো দারুণ। উত্তরের শানডংয়ের খাবারের তুলনায় এগুলো অনেক হালকা। আবার দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান অঞ্চলের খাবারের মতো ঝালও নয়। দক্ষিণের বিখ্যাত ক্যান্টনিজ খাবারের তুলনায় এগুলো সহজলভ্য এবং এতে জটিল বা দুর্লভ উপকরণের ব্যবহার কম। তাই সব ধরনের অতিথির জন্য এই খাবারগুলো বেশ মানানসই।


খাদ্য লেখক ক্রিস্টোফার সেন্ট ক্যাভিশ বলেন, সহজ কথায় বলতে গেলে এই খাবারগুলো বেশ ‘নিরাপদ’। ওয়াশিংটন ডিসির কোনো ভোজসভায় যেমন মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয়, এটি অনেকটা তেমনই। এই খাবার নিয়ে কারও বিরক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এগুলো খুব বেশি ঝাল নয়, আবার খুব অদ্ভুত বা অপরিচিতও নয়। ফলে সব ধরনের অতিথির কাছেই এটি গ্রহণযোগ্য।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৮ পিএম

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) চলতি বছরের অক্টোবরে রায় ঘোষণা করতে পারে বলে জানিয়েছে গাম্বিয়া। 


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ২৩তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের ফাঁকে বিশেষ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে এই তথ্য জানান গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী দাওদা এ. জাল্লোর।


গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে জানান, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জেনোসাইড সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত অক্টোবরে রায় দিতে পারে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার দায় নির্ধারণে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তা তাৎপর্যপূর্ণ হবে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখতে এবং এ টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করে তাদের মিয়ানমারে ফেরার পথ সুগম করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছে ২৩০০ জনের বেশি মানুষ। এর মধ্যেই তিব্বতের দিকে ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবরে সেখানে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপালের কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে উদ্ধার অভিযান। শুক্রবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি নতুন করে বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে থাকেন।


রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই পাহাড়ের উঁচুতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।


নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা মরদেহের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ৪৮৯ নিশ্চিত করা হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ১৮৬ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্বে) ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিমে) ২৮ জন এবং রসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।


মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি এখনো ২,৩৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।


নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা মূলত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার অধিবাসী। এছাড়া বিদেশ থেকে নেপালে ঘুরতে আসা ১২৭ জন প্রবাসী নেপালি এবং ১,৭৩৭ জন স্থানীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।


জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানায়, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চললেও নতুন করে প্লাবনের শঙ্কায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


তিব্বতে ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

ভয়াবহ হিমবাহধস ও বন্যার পর এবার তিব্বতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। প্রতিবেদন রয়টার্সের। 

 

জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর তিব্বতে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল ও চীনের অঞ্চলগুলো থেকে কয়েক শ মাইল উত্তরে অবস্থিত। 


এর আগে বুধবার তিব্বতের নাগকু এলাকায় ৪ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের খবর জানিয়েছিল চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

 

এদিকে, তিব্বতে একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রাকৃতিকভাবে পানি আটকে তৈরি হওয়া হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় চীন বন্যা মোকাবিলায় চতুর্থ স্তরের ‘ফ্লাড রেসপন্স’ ব্যবস্থা চালু করেছে। 


সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হ্রদটির পানির স্তর ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দলকে গিরং কাউন্টিতে পাঠানো হয়েছে।


নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার আগের ও পরের চিত্র, ছবি: ইইউ স্পেস প্রোগ্রাম স্যাটেলাইট ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসে ধ্বংসাবশেষের কারণে তৈরি হওয়া হ্রদের পানি সরিয়ে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি কমাতে তৎপর হয়ে উঠেছে চীন। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক বন্যায় সীমান্ত এলাকার শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।


বৃহস্পতিবার নেপাল ও চীন উভয় দেশই হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। সীমান্তের দুই পাশে ধ্বংসাবশেষ জমে দুটি বাঁধসদৃশ হ্রদ তৈরি হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে আট সদস্যের একটি প্রকৌশলী দল মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দলটি আকাশপথে জরিপ চালানোর পাশাপাশি হ্রদটির ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল তৈরি করছে। 


প্রকৌশলী দলের সদস্য চেন হানশিয়াও জানান, দুর্গম অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, হিমবাহ ধসে হ্রদটি তৈরি হওয়ার পর এর আশপাশে অনেক বিচ্ছিন্ন ও খাড়া পাহাড়ি প্রাচীর তৈরি হয়েছে, যা উদ্ধার ও প্রকৌশল কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে।


তার মতে, হ্রদটির ঝুঁকি কমানোর সাধারণ পদ্ধতি হলো প্রাকৃতিক বাঁধের নিচু অংশে একটি পানি নিষ্কাশন চ্যানেল খনন করা। তবে চ্যানেলটির প্রস্থ ও গভীরতা নির্ধারণের আগে পানির প্রবাহের গতি এবং হ্রদে কী হারে পানি জমছে, তা হিসাব করতে হবে।


জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ মিটার। এতে বর্তমানে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে।


আগামী কয়েক দিনে হ্রদটির পানির স্তর ও তলদেশের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আবহাওয়া পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন প্রকৌশলীরা।


চীন-নেপাল সীমান্তের জিরং বন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্গত এলাকার উজানে মাটি ও পাথর আলগা হয়ে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আগামী সপ্তাহজুড়েই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।



চীনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এখনো প্রাকৃতিক বাঁধে আটকে থাকা হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পানির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিংপুলের সমান। এতে প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন প্রচারিত একটি উদ্ধারকারী দলের আকাশপথে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদামি রঙের বিপুল পরিমাণ পানি একটি অববাহিকায় জমে রয়েছে, যার কোনো দৃশ্যমান পানি বের হওয়ার পথ নেই। ইতোমধ্যে ওই পানি আশপাশের ঝোপঝাড় ও গাছপালা ডুবিয়ে দিয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ ও পাথরের তৈরি বাঁধের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।


সীমান্তের দুই পাশে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে ৩১ দেশের প্রায় ৫৪০ জন পর্যটক রয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ এএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। দুর্যোগের পর বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে।


দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানির সঙ্গে নেমে এসেছে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ। এতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির পাশে নদীর পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।


বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন। ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনো দুর্যোগের ক্ষত স্পষ্ট।


এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে আটকা পড়া ৫৫৫ জন পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বন্যা আঘাত হানার পর তিব্বতের পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চীনের কঠোর সংবাদনিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসছে ধীরে ধীরে।


তিব্বত থেকে সরিয়ে নেওয়া ৫৫৫ পর্যটকের জাতীয়তা জানায়নি সিনহুয়া। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দুর্যোগে তাদের নাগরিকদের কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।


তিব্বত থেকে সরিয়ে নেওয়া পর্যটকদের সংখ্যা নেপালে নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হিসাবের সঙ্গে মিলে গেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ এএম

পাহাড় থেকে হুড়মুড় করে নেমে এলো কাদা, বরফ আর পাথরের ঢল। চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের বিস্তীর্ণ জনপদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখন শুধুই স্বজনহারাদের আর্তনাদ। আর প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে এই তাণ্ডব কোনো সাধারণ দুর্যোগ ছিল না। এটি ছিল আক্ষরিক অর্থে এক ‘স্থলভাগের সুনামি’।


গতকাল বৃহস্পতিবারও ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনেকেই। এই দুর্যোগের হাত থেকে যারা রেহাই পেয়েছেন, তারাও একেকজন বেঁচেছেন একেকভাবে। তাদের ঘটনাও অবাক করে দেওয়ার মতো। 


যেমন- নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল গত বুধবার নবনির্মিত একটি বাড়ির বাইরে টয়লেটের জন্য গর্ত খুঁড়ছিলেন। সেই সময় মাটি ও কাদামিশ্রিত সেই জলপ্রবাহ ধেয়ে আসতে শুরু করে। গর্তের বাইরে থাকা তাঁর চার সহকর্মী চিৎকার করে বিবেককে বাইরে আসতে বলেন।


বিবেক কুমাল পাঁচ ফুট গভীর গর্ত থেকে বের হয়ে দেখেন তাঁর সঙ্গীরা আগেই পালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দৌড়াতে শুরু করলাম। এর পর উঁচু পানি এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।’ 


বিবেক জানান, তিনি ভেসেই যেতেন। হঠাৎ একটি আমগাছে আটকে যাওয়ায় তাঁর প্রাণ বেঁচে যায়। বিবেকের পাশাপাশি আরও তিনজনকে গতকাল চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। তারাও বিভীষিকাময় সেই পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরেছেন। 


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১৪ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাঠমান্ডু ও রাসুয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, বেঁচে ফেরাদের অনেককে গতকাল বৃহস্পতিবার একা হাঁটতে দেখা যায়। তাদের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তারা ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ রকমই আরেক বেঁচে ফেরা ব্যক্তির নাম ওমকার জোশি। তিনি আগের দিন কাছের এক পাহাড়ে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি এএফপিকে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেছে। পুরো শহর কাদাপানির নিচে তলিয়ে গেছে। 


তিনি জানান, সেখানের ৯০ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জোশি বলেন, এটি এখন সুবিশাল এক কবর। শুধু মানুষের রক্তে রঞ্জিত বালু আর পাথরের টুকরো পড়ে আছে।


জোশির দেওয়া তথ্যানুসারে, শত শত মানুষ কাছের পাহাড়ের ঢালে কোনো রকমে উঠে জীবন বাঁচান। সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার হেলিকপ্টার আসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। 


এদিকে, এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের যেতে হচ্ছে আরেক দুর্বিষহ মুহূর্তের মধ্য দিয়ে। এ রকমই একজন সীতা বিকে। তিনি তাঁর ছোট ভাই রামচন্দ্রকে খুঁজছেন, যিনি পেশায় তিমুরের একজন স্কুলশিক্ষক। 


সীতা বলেন, ‘আমি খবর শোনার আগে সকালে তার সঙ্গে কথা বলেছি। তবে ঘটনার সময় থেকেই তার ফোন বন্ধ।’ 


অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের (কর্মকর্তাদের) প্রথম অগ্রাধিকার হলো যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে, তাদের উদ্ধার করা। আমার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’


কাছেই এক কোনায় বসে কাঁদতে দেখা যায় আনিশা নেপালি নামে একজনকে। ২৪ বছর বয়সী আনিশা খবর শুনে গত বুধবারই কাঠমান্ডু থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পৌঁছেছেন। তবে নিখোঁজ মা ও ছোট ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি। আনিশা বলেন, ‘আমি তাদের নাম দিয়েছি। তবে এখনও কিছু শুনতে পাইনি।’


ত্রিশূলি নদীতীরে প্রায় দেড়শ বাড়ি ছিল। বাসিন্দারা জানান, মাত্র একটি বাদে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। যেটি রক্ষা পেয়েছে, সেটিও একটি চারতলা বৃদ্ধাশ্রম। সেখানেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কাদামাটির জলপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সময় সাত বয়োবৃদ্ধ সেটিতে তলিয়ে যান। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে আছেন। 


তিমুর শহরের এক বাসিন্দা সাবির মিয়ান জানান, ঢল নামার আগে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন তারা। ওই সতর্কবার্তায় প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। 


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন। তবে বাদ বাকি সব ভেসে গেছে। সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।


৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বড়াল বলেন, ‘ওটা কেবল পানি ছিল না। ছিল কাদার বিশাল এক স্রোত। সুনামির মতো সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। স্রোত যতই কাছে আসছিল, ততই উচ্চতা বাড়ছিল।’ 


ভূমিধসের সময় বড়ালের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। বড়াল বলেন, ‘আমি স্ত্রীর হাত ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলাম। ওকে ছাদে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কাদার স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আমি কোনোমতে ছাদে উঠতে পেরেছিলাম। আমার স্ত্রী কাদার নিচে কোথাও রয়েছে। ও আর বেঁচে নেই।’ 


অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল বলেন, কাদা ও মাটির আচমকা এভাবে চলে আসার বিষয়টি অনেকটা স্থলভাগে সুনামির মতো।