দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:১১ এএম

ইরানে ইসরায়েল ও এর ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জেরে দুবাইয়ে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরানের হামলা এবং বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে বসবাসরত ধনীরা বিপাকে পড়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যনগরী ছাড়তে এখন প্রাইভেট জেটই এই ধনীদের একমাত্র ভরসা। ফলে বিকল্প পথে দেশ ছাড়ার হুড়োহুড়িতে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া আকাশ ছুঁয়েছে।


ধনকুবের, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও লাখো পর্যটকের প্রমোদকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঝলমলে দুবাই এখন চরম উৎকণ্ঠার শহর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে শুধু দুবাই-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।


ইরানের হামলায় দুবাই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির বেশ কিছু বিলাসবহুল হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।


আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গতকাল সোমবারও তারা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার জেরে তেহরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত।


এ পরিস্থিতিতে দুবাই থেকে অনেকে পার্শ্ববর্তী ওমানের দিকে ছুটছেন। গাড়ি চালিয়ে ওমান যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। সেখানে এ পর্যন্ত যুদ্ধের প্রভাব তেমনটা পড়েনি। ওমানের মাসকাট বিমানবন্দর এখনো চালু রয়েছে। তবে সেখানে ফ্লাইট ছাড়তে কিছুটা দেরি হচ্ছে।


বিভিন্ন অনলাইন টিকিট বুকিং সাইটের তথ্য অনুযায়ী, ওমানের মাসকাট থেকে ইউরোপগামী অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ফুরিয়ে গেছে।


দুবাইয়ে ছুটিতে এসেছিলেন রুশ পর্যটক আলেকজান্দ্রা ভাভিলোভা। তিনি জানান, অনেক চেষ্টার পর গতকাল রাতে তিনি একটি টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তবে সেটি ইউরোপের নয়, মাসকাট থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোগামী একটি ফ্লাইটের। এদিকে মাসকাট থেকে প্রাইভেট জেটের ভাড়া বেড়েছে অনেক। ব্যাপক চাহিদা ও অস্থিতিশীল এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজের অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি।


মাসকাটভিত্তিক প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘জেটভিপ’ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানায়, নেক্সট্যান্ট নামের খুব ছোট একটি জেটে করে ইস্তাম্বুল যাওয়ার খরচ এখন ৮৫ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা), যা স্বাভাবিক সময়ের প্রায় তিন গুণ। আবার মস্কোগামী প্রাইভেট চার্টার বিমানে একেকজন যাত্রীর সিটভাড়া পড়ছে ২০ হাজার ইউরো (প্রায় ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা)।


এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রাইভেট জেট কোম্পানি উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে।


অস্ট্রিয়াভিত্তিক চার্টার প্রতিষ্ঠান অ্যালবাজেট জানিয়েছে, তাদের কাছে এখন খুব কম উড়োজাহাজ ফাঁকা আছে। ইউরোপে যাওয়ার জন্য প্রায় ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা) ভাড়া চাইছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিনিধি জানান, বিমা–সংক্রান্ত জটিলতা ও মালিকপক্ষের আপত্তিতে অনেক অপারেটর এখন ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও জোগানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।


আমিরাত ছাড়তে ইচ্ছুক অনেক যাত্রী ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে যাচ্ছেন। কারণ, রিয়াদ বিমানবন্দর এখনো সচল রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফোর তথ্য অনুযায়ী, অনেক বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ‘এসইউভি’ গাড়ির বহর ভাড়া করছে। এসব গাড়িতে করে গ্রাহকদের রিয়াদে পৌঁছে দেওয়ার পর সেখান থেকে প্রাইভেট ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তারা।


প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ভিমানা প্রাইভেট জেটসের প্রধান নির্বাহী আমির ন্যারান বলেন, রিয়াদ থেকে ইউরোপের ফ্লাইটের ভাড়া সাড়ে ৩ লাখ ডলার (প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকায়) গিয়ে ঠেকেছে।


এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ইতালিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো গতকাল সরকারি উড়োজাহাজে করে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন। ইতালির শত শত নাগরিক যখন দুবাইয়ে আটকা পড়ে আছেন, সে সময় মন্ত্রীর এভাবে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। 


জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর সময় ক্রোসেতো সপরিবার দুবাইয়ে অবকাশ যাপন করছিলেন।


এ ঘটনায় রোমের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংঘাতের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সরকার কেন আগে থেকে সতর্ক ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। এমনকি তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।


উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সপরিবার ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মন্ত্রী একাই ইতালিতে ফিরেছেন। তাঁর পরিবার এখনো দুবাই অবস্থান করছে। 


মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানের খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন।


দ্য গার্ডিয়ানকে ক্রোসেতো বলেন, ‘আমি এখন আমার অফিসে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত। হাজার হাজার মানুষের মতো আমিও সেখানে আটকে পড়েছিলাম। কিন্তু সেটা এখন বড় কোনো বিষয় নয়।’


তবে বেশির ভাগ পর্যটকের জন্য এখন দুবাইয়ে অবস্থান করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।


দুবাই পর্যটন বোর্ড স্থানীয় হোটেলগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। ফ্লাইট জটিলতার কারণে যেসব পর্যটক আরব আমিরাত ছাড়তে পারছেন না, তাঁদের হোটেল থেকে বের না করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগের ভাড়াতেই তাঁদের থাকার মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।


কিন্তু অনেক রুশ পর্যটক অনলাইনে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের হয় বাড়তি টাকা দিতে বলা হচ্ছে অথবা রিসোর্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।


বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজন রুশ নারী বলেন, ‘আমাদের হোটেলের রিসেপশনিস্ট বুকিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। তাঁর মতে, এটা তাঁদের সমস্যা নয়। ভিনদেশে আটকে পড়া মানুষের প্রতি এমন আচরণ সত্যি অমানবিক।’


ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বন্দরগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার পশ্চিমা পর্যটক এখন মাঝসমুদ্রে প্রমোদতরিতে আটকা পড়েছেন।


এ অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরের কাছে অন্তত ছয়টি বড় প্রমোদতরি নোঙর করেছে। এসব জাহাজের প্রতিটিতে হাজার হাজার যাত্রী আছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের জাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের ব্যালকনিতে না গিয়ে নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এদিকে গত রোববার দুবাই ও শারজার শিল্পাঞ্চলে বিমান হামলার আগে ও পরের কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে। আবুধাবির জায়েদ বন্দরে ইরানের ড্রোনের আঘাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। মেইন শিফ-৪ নামের একটি জাহাজের পর্যটকেরা সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেছেন। 


জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে তাঁরা জানান, তাঁদের ছুটির স্বর্গ নিমেষে রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় চরম আতঙ্কিত তাঁরা।


দুবাইয়ে আটকা পড়া এমএসসি ইউরিবিয়া জাহাজের যাত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁদের রুমের চাবির মেয়াদ ৬ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর আগে পর্যটকদের পক্ষে জাহাজ ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।


আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম নিয়ে গতকাল ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফ্লাইট ছাড়া, বাতিল হওয়া বা আবার কবে চালু হবে—এসব নিয়ে একেক রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।


তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকার ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, গতকাল বিকেলে অন্তত একটি যাত্রীবাহী বিমান আবুধাবি থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।


দুবাইভিত্তিক আইনজীবী ইরিনা হিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দুবাইয়ে তাঁর পরিচিতজনেরা এখন তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।


প্রথম দল দ্রুত ওমান সীমান্তের দিকে ছুটছে। তাদের আশা, সেখান থেকে প্রাইভেট জেটে করে তারা ইস্তাম্বুলে যাবে। দ্বিতীয় দলটি জেদ ধরে আছে। তারা মনে করে, জীবন স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। তারা সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটা, পাম জুমেইরাহতে সূর্যাস্ত দেখা আর রোদে শরীর এলিয়ে দিয়ে সময় কাটানোতেই বিশ্বাসী।


তৃতীয় দলটি সম্পর্কে হিভার লিখেছেন, তারা ‘আশ্রয়স্থলে অবস্থান-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা’ পালন করবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছে ২৩০০ জনের বেশি মানুষ। এর মধ্যেই তিব্বতের দিকে ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবরে সেখানে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপালের কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে উদ্ধার অভিযান। শুক্রবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি নতুন করে বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে থাকেন।


রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই পাহাড়ের উঁচুতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।


নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা মরদেহের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ৪৮৯ নিশ্চিত করা হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ১৮৬ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্বে) ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিমে) ২৮ জন এবং রসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।


মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি এখনো ২,৩৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।


নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা মূলত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার অধিবাসী। এছাড়া বিদেশ থেকে নেপালে ঘুরতে আসা ১২৭ জন প্রবাসী নেপালি এবং ১,৭৩৭ জন স্থানীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।


জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানায়, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চললেও নতুন করে প্লাবনের শঙ্কায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


তিব্বতে ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

ভয়াবহ হিমবাহধস ও বন্যার পর এবার তিব্বতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। প্রতিবেদন রয়টার্সের। 

 

জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর তিব্বতে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল ও চীনের অঞ্চলগুলো থেকে কয়েক শ মাইল উত্তরে অবস্থিত। 


এর আগে বুধবার তিব্বতের নাগকু এলাকায় ৪ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের খবর জানিয়েছিল চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

 

এদিকে, তিব্বতে একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রাকৃতিকভাবে পানি আটকে তৈরি হওয়া হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় চীন বন্যা মোকাবিলায় চতুর্থ স্তরের ‘ফ্লাড রেসপন্স’ ব্যবস্থা চালু করেছে। 


সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হ্রদটির পানির স্তর ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দলকে গিরং কাউন্টিতে পাঠানো হয়েছে।


নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার আগের ও পরের চিত্র, ছবি: ইইউ স্পেস প্রোগ্রাম স্যাটেলাইট ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসে ধ্বংসাবশেষের কারণে তৈরি হওয়া হ্রদের পানি সরিয়ে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি কমাতে তৎপর হয়ে উঠেছে চীন। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক বন্যায় সীমান্ত এলাকার শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।


বৃহস্পতিবার নেপাল ও চীন উভয় দেশই হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। সীমান্তের দুই পাশে ধ্বংসাবশেষ জমে দুটি বাঁধসদৃশ হ্রদ তৈরি হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে আট সদস্যের একটি প্রকৌশলী দল মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দলটি আকাশপথে জরিপ চালানোর পাশাপাশি হ্রদটির ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল তৈরি করছে। 


প্রকৌশলী দলের সদস্য চেন হানশিয়াও জানান, দুর্গম অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, হিমবাহ ধসে হ্রদটি তৈরি হওয়ার পর এর আশপাশে অনেক বিচ্ছিন্ন ও খাড়া পাহাড়ি প্রাচীর তৈরি হয়েছে, যা উদ্ধার ও প্রকৌশল কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে।


তার মতে, হ্রদটির ঝুঁকি কমানোর সাধারণ পদ্ধতি হলো প্রাকৃতিক বাঁধের নিচু অংশে একটি পানি নিষ্কাশন চ্যানেল খনন করা। তবে চ্যানেলটির প্রস্থ ও গভীরতা নির্ধারণের আগে পানির প্রবাহের গতি এবং হ্রদে কী হারে পানি জমছে, তা হিসাব করতে হবে।


জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ মিটার। এতে বর্তমানে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে।


আগামী কয়েক দিনে হ্রদটির পানির স্তর ও তলদেশের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আবহাওয়া পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন প্রকৌশলীরা।


চীন-নেপাল সীমান্তের জিরং বন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্গত এলাকার উজানে মাটি ও পাথর আলগা হয়ে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আগামী সপ্তাহজুড়েই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।



চীনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এখনো প্রাকৃতিক বাঁধে আটকে থাকা হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পানির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিংপুলের সমান। এতে প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন প্রচারিত একটি উদ্ধারকারী দলের আকাশপথে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদামি রঙের বিপুল পরিমাণ পানি একটি অববাহিকায় জমে রয়েছে, যার কোনো দৃশ্যমান পানি বের হওয়ার পথ নেই। ইতোমধ্যে ওই পানি আশপাশের ঝোপঝাড় ও গাছপালা ডুবিয়ে দিয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ ও পাথরের তৈরি বাঁধের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।


সীমান্তের দুই পাশে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে ৩১ দেশের প্রায় ৫৪০ জন পর্যটক রয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ এএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। দুর্যোগের পর বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে।


দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানির সঙ্গে নেমে এসেছে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ। এতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির পাশে নদীর পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।


বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন। ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনো দুর্যোগের ক্ষত স্পষ্ট।


এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে আটকা পড়া ৫৫৫ জন পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বন্যা আঘাত হানার পর তিব্বতের পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চীনের কঠোর সংবাদনিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসছে ধীরে ধীরে।


তিব্বত থেকে সরিয়ে নেওয়া ৫৫৫ পর্যটকের জাতীয়তা জানায়নি সিনহুয়া। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দুর্যোগে তাদের নাগরিকদের কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।


তিব্বত থেকে সরিয়ে নেওয়া পর্যটকদের সংখ্যা নেপালে নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হিসাবের সঙ্গে মিলে গেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ এএম

পাহাড় থেকে হুড়মুড় করে নেমে এলো কাদা, বরফ আর পাথরের ঢল। চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের বিস্তীর্ণ জনপদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখন শুধুই স্বজনহারাদের আর্তনাদ। আর প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে এই তাণ্ডব কোনো সাধারণ দুর্যোগ ছিল না। এটি ছিল আক্ষরিক অর্থে এক ‘স্থলভাগের সুনামি’।


গতকাল বৃহস্পতিবারও ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনেকেই। এই দুর্যোগের হাত থেকে যারা রেহাই পেয়েছেন, তারাও একেকজন বেঁচেছেন একেকভাবে। তাদের ঘটনাও অবাক করে দেওয়ার মতো। 


যেমন- নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল গত বুধবার নবনির্মিত একটি বাড়ির বাইরে টয়লেটের জন্য গর্ত খুঁড়ছিলেন। সেই সময় মাটি ও কাদামিশ্রিত সেই জলপ্রবাহ ধেয়ে আসতে শুরু করে। গর্তের বাইরে থাকা তাঁর চার সহকর্মী চিৎকার করে বিবেককে বাইরে আসতে বলেন।


বিবেক কুমাল পাঁচ ফুট গভীর গর্ত থেকে বের হয়ে দেখেন তাঁর সঙ্গীরা আগেই পালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দৌড়াতে শুরু করলাম। এর পর উঁচু পানি এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।’ 


বিবেক জানান, তিনি ভেসেই যেতেন। হঠাৎ একটি আমগাছে আটকে যাওয়ায় তাঁর প্রাণ বেঁচে যায়। বিবেকের পাশাপাশি আরও তিনজনকে গতকাল চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। তারাও বিভীষিকাময় সেই পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরেছেন। 


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১৪ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাঠমান্ডু ও রাসুয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, বেঁচে ফেরাদের অনেককে গতকাল বৃহস্পতিবার একা হাঁটতে দেখা যায়। তাদের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তারা ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ রকমই আরেক বেঁচে ফেরা ব্যক্তির নাম ওমকার জোশি। তিনি আগের দিন কাছের এক পাহাড়ে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি এএফপিকে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেছে। পুরো শহর কাদাপানির নিচে তলিয়ে গেছে। 


তিনি জানান, সেখানের ৯০ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জোশি বলেন, এটি এখন সুবিশাল এক কবর। শুধু মানুষের রক্তে রঞ্জিত বালু আর পাথরের টুকরো পড়ে আছে।


জোশির দেওয়া তথ্যানুসারে, শত শত মানুষ কাছের পাহাড়ের ঢালে কোনো রকমে উঠে জীবন বাঁচান। সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার হেলিকপ্টার আসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। 


এদিকে, এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের যেতে হচ্ছে আরেক দুর্বিষহ মুহূর্তের মধ্য দিয়ে। এ রকমই একজন সীতা বিকে। তিনি তাঁর ছোট ভাই রামচন্দ্রকে খুঁজছেন, যিনি পেশায় তিমুরের একজন স্কুলশিক্ষক। 


সীতা বলেন, ‘আমি খবর শোনার আগে সকালে তার সঙ্গে কথা বলেছি। তবে ঘটনার সময় থেকেই তার ফোন বন্ধ।’ 


অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের (কর্মকর্তাদের) প্রথম অগ্রাধিকার হলো যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে, তাদের উদ্ধার করা। আমার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’


কাছেই এক কোনায় বসে কাঁদতে দেখা যায় আনিশা নেপালি নামে একজনকে। ২৪ বছর বয়সী আনিশা খবর শুনে গত বুধবারই কাঠমান্ডু থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পৌঁছেছেন। তবে নিখোঁজ মা ও ছোট ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি। আনিশা বলেন, ‘আমি তাদের নাম দিয়েছি। তবে এখনও কিছু শুনতে পাইনি।’


ত্রিশূলি নদীতীরে প্রায় দেড়শ বাড়ি ছিল। বাসিন্দারা জানান, মাত্র একটি বাদে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। যেটি রক্ষা পেয়েছে, সেটিও একটি চারতলা বৃদ্ধাশ্রম। সেখানেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কাদামাটির জলপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সময় সাত বয়োবৃদ্ধ সেটিতে তলিয়ে যান। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে আছেন। 


তিমুর শহরের এক বাসিন্দা সাবির মিয়ান জানান, ঢল নামার আগে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন তারা। ওই সতর্কবার্তায় প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। 


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন। তবে বাদ বাকি সব ভেসে গেছে। সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।


৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বড়াল বলেন, ‘ওটা কেবল পানি ছিল না। ছিল কাদার বিশাল এক স্রোত। সুনামির মতো সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। স্রোত যতই কাছে আসছিল, ততই উচ্চতা বাড়ছিল।’ 


ভূমিধসের সময় বড়ালের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। বড়াল বলেন, ‘আমি স্ত্রীর হাত ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলাম। ওকে ছাদে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কাদার স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আমি কোনোমতে ছাদে উঠতে পেরেছিলাম। আমার স্ত্রী কাদার নিচে কোথাও রয়েছে। ও আর বেঁচে নেই।’ 


অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল বলেন, কাদা ও মাটির আচমকা এভাবে চলে আসার বিষয়টি অনেকটা স্থলভাগে সুনামির মতো।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ পিএম

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে আকস্মিক ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ওমরাহযাত্রীরা। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই মক্কার বিখ্যাত ক্লক টাওয়ারের চূড়ায় একটি শক্তিশালী বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই বিশাল ক্লক টাওয়ার। ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকার আকাশ চিরে একটি তীব্র আলোকচ্ছটা সরাসরি টাওয়ারের ওপর আছড়ে পড়ে।


বজ্রপাতের তীব্র আলোয় পুরো মক্কা নগরী মুহূর্তের জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে। এই রোমহর্ষক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর তা নেট দুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। 


সৌদি আরবের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে মক্কা এবং এর আশপাশের এলাকায় তীব্র বাতাস ও ভারী বজ্রঝড় শুরু হয়। ঝড়ের কারণে কাবা শরিফের মাতাফে (তাওয়াফের স্থান) অবস্থানরত ওমরাহযাত্রীরা তীব্র বাতাসের মুখোমুখি হন। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 


প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মক্কা অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অফিস আগামী কয়েকদিন এই এলাকায় আরও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। 


মক্কার ক্লক টাওয়ার বা আবরাজ আল-বাইত বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন। এর চূড়ায় উন্নত বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা বা লাইটনিং রড বসানো রয়েছে। এই ব্যবস্থার কারণে বিশাল বজ্রপাতের পরও টাওয়ারের কোনো বড় ক্ষতি হয়নি এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে পবিত্র এলাকাটি রক্ষা পেয়েছে।


সূত্র: আল-জাজিরা