ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের বিভিন্ন স্থানে সাদা কাপড়ে কালো আরবি হরফে ‘কালিমা’ লেখা পতাকা ঝুলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে নানা মহলে চলছে নানা আলোচনা। শনিবার লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কালিমা খচিত পতাকা দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি এলাকায় ট্যাক্সি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার ডিভাইডারের অংশে বাঁশ দিয়ে কালিমা লেখা পতাকা ওড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া শিবু মার্কেট এলাকায় ওভারপাসে বৈদ্যুতিক পিলারে উড়ছে সাদা পতাকা। এসব পতাকায় কালো কালিতে আরবি হরফে ইসলাম ধর্মের কালিমা লেখা রয়েছে। তাছাড়া সড়কের পাশে বিভিন্ন বাড়ির ছাদেও একই ধরনের পতাকা উড়তে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রাতের বেলা কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্ররা এসব পতাকা সড়কে স্থাপন করেছে। তবে, কী উদ্দেশে এসব পতাকা সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে তা বলতে পারেননি কেউ। সড়কের পাশের দোকানি আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে এই পতাকা সড়কে দেখছি। আগে কখনো এসব পতাকা দেখিনি। শুনেছি মাদ্রাসার ছাত্ররা রাতের বেলা এই পতাকা লাগিয়েছে।
অটোরিকশাচালক জালাল মিয়া বলেন, আগে কখনো আরবি লেখার পতাকা দেখিনি। কিছুদিন ধরে এই ধরনের পতাকা সড়কে দেখছি। তবে কারা এই পতাকা স্থাপন করেছে তা জানা নেই।
এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে এসব পতাকা লাগানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলতে শোনা যায়, এই সড়কটির শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভূঁইগড় এলাকায় আমরা এ ধরনের পতাকা লাগিয়েছি। ওই মাদ্রাসা ছাত্র আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও কালিমা খচিত কিছু পতাকা লাগানো হয়েছিল।
কিন্তু সেগুলো সরিয়ে ফেলায় প্রতিবাদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সড়কে আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১৫০০ পতাকা লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভিডিওতে কথা বলা ওই ছাত্রের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, এটা কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের পতাকা নয়। কোনও নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর লোকজন করেনি। মূলত আবেগ থেকে কিছু মুসলমান ছেলে এটা করছে। এতে দোষের কিছু নেই।
আগে কখনও এ ধরনের পতাকা উড়তে দেখা যায়নি, তাহলে হঠাৎ কেন কালিমা খচিত পতাকা উড়ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ানো হয়েছে। এতে করে অনেক মুসলিম আবেগতাড়িত হয়ে কালিমা খচিত পতাকা উড়িয়েছে। আমার জানামতে, এর বাইরে কোনও ধরনের উদ্দেশ্য বা কারণ নেই।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কী বলছেন মুফতি হারুন ইজহার এদিকে ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মুফতি হারুন ইজহার। ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে শনিবার (২৭ জুন) রাতে ভিডিও বক্তব্যে তিনি পরিচিত উগ্রবাদী সংগঠনের পতাকার নকশার বাইরে ভিন্ন ধাঁচে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তরুণদের সমালোচনা করে ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘আমরা বলছিলাম– যেখানে যেখানে বিদেশি কুফফারদের পতাকা আছে, বিকল্প হিসেবে সেখানে আপনারা কালেমা খচিত পতাকার মাধ্যমে কাউন্টার করবেন। পরে দেখলাম, হোন্ডা নিয়ে শোডাউন, মিছিল শুরু হয়েছে। তো এই ফ্যান্টাসির ব্যাপারে আমার বক্তব্য- ভাই, এত যে আপনারা অতি উৎসাহ দেখাচ্ছেন, আপনারা কি ওই রকম আমলদার? পতাকা ও হোন্ডা নিয়ে শোডাউনে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, সেই উৎসাহ-উদ্দীপনায় আপনি কি কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) পড়েছেন? মাওলানা সাহেব, উত্তরগুলো খারাপ লাগবে আপনাদের।’
কখন এ ধরনের কাজ করা যায়, তাও তুলে ধরেন তিনি, ‘এগুলো মাঝে মাঝে করা যায়, কোনো বিশেষ উপলক্ষে। কোনো মেহমান আসতেছে, ইসলামের বিজয়ের কোনো বিষয় বা প্রতিবাদস্বরূপ– রাসুলুল্লাহকে (সা.) গালি দিয়েছে অথবা কোনো অন্যায়-জুলুম করেছে কোনো কর্তৃপক্ষ, তখন। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বড় বিষয়ে, সাময়িকভাবে একদিন কোনো এক সময় এদের প্রতিবাদস্বরূপ শোডাউন করতে পারেন তাওহীদের পক্ষে। কিন্তু একেবারে যদি অতিউৎসাহী হয়ে যান, অতি ফ্যান্টাসি এবং ব্যবসা করেন, এটা ঠিক না।’
হারুন ইজহার বলেন, ‘এটিকে সীমিত পর্যায়ে রাখুন। পতাকা দিয়ে একটি অপসংস্কৃতিকে মোকাবেলা করার জন্য যতটুকু দরকার, অতটুকু। দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা কিচ্ছু নেই। কিন্তু হাজার হাজার কালেমা পতাকা লাগায় রাখছেন আপনি। এই যে শূন্যস্থানে আপনি কালেমা পতাকা লাগায় রাখলেন, কী হবে? পতাকা উড়তেছে পতপত করে, কিন্তু এলাকার লোক জোহরের নামাজ পড়তেছে না। তো লাভ কী হইছে? সাহাবায়ে কেরাম কি ফ্যান্টাসি করেছেন? সাহাবায়ে কেরাম এলাকার লোকদের মুসল্লি বানিয়েছেন। এজন্য অতি আবেগ এখানে ঠিক না।’
এর আগে গত ১৩ জুন ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকার পরিবর্তে কালেমার পতাকা টানানোর আহ্বান’ ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেছিলেন, ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে। এগুলো যেখানে থাকবে, কালেমার পতাকাও থাকবে আমাদের।’
ওই ভিডিওতে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এই যে আর্জেন্টিনা, তারপরে... এই যে আপনার বদমায়েশি শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের তরুণরা কালেমার পতাকা শুরু করেছে।’
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে হারুন ইজহারের এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন স্থানে সাদা এবং কালো পতাকা লাগানো শুরু হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, স্থাপনা, অলিগলি ছেয়ে যায়। এমনকি পতাকা হাতে শোডাউন ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হতে থাকে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এসব পতাকার সঙ্গে আল কায়েদা, আইএসআইএস, তালেবান, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকার নকশার মিল রয়েছে বলে জানান। তাঁরা সংগঠিত এই পতাকা কর্মসূচিকে নিজেদের অবস্থান পোক্ত এবং দেশের সরকারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও বর্ণনা করেন। এর পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে নড়েচড়ে বসে সরকার। ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন।
শুক্রবার পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এরপর শনিবার বিকেলে ডিএমপি কার্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়।
এ ব্যাপারে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সাদা-কালো পতাকার বিষয়ে পলিসি মেকিং লেভেল থেকে শুরু করে সবাই সজাগ। বৃহস্পতিবার আলাপের পর শুক্রবার থেকে মাঠে কাজ হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জড়িতদের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেককে নজরদারিতেও রাখা হয়েছে।
ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের আবেগ ব্যবহার করে কাজগুলো হচ্ছে। তারা সফল হলে সরকার বিপদে পড়বে। আর সুবিধা নেবে আওয়ামী লীগ। এজন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।
শনিবারের ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘পতাকা হচ্ছে খেলাধুলার প্রতীক। আপনি বলবেন– না, আমি আর্জেন্টিনিয়ান, ব্রাজিলিয়ান, জার্মান, ফরাসি– এসব রাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে সম্মান করতেছি না। এদের জাতীয়তাকেও সম্মান করছি না। আমি জাস্ট বিনোদন করতেছি। খেলা তো বিনোদন। বিনোদন যদি আর্ট হয়ে যায়, বিনোদন যদি শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি) হয়ে যায়, আমি গত সপ্তাহে বলছিলাম– তখন সেটা জায়েজ থাকবে না। তো সব দিক থেকে বিদেশি পতাকা তোলা নাজায়েজ।’
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘চলমান পতাকা নিয়ে আমার দুই সপ্তাহের তিক্ত অভিজ্ঞতা। আমি হজ থেকে আসা দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে। আমি প্রথম জুমাতে বলছিলাম– আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা আরও বিভিন্ন কুফফার রাষ্ট্রের পতাকা উঠতেছে। পতাকা জিনিসটা কী? পতাকা সম্মানের জিনিস কিনা? এটা একটা সম্মান, ইজ্জত, অহংকার এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক, ঠিক কিনা? প্রত্যেক দেশের পতাকা তার রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় গর্বের প্রতীক। সুতরাং যখন এ রকম একটা পতাকা উঠাব, তখন ওই জাতিকে সম্মান করা হলো, ঠিক কিনা? কোনো কুফফার রাষ্ট্র, তাদের জাতি বা তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করা জায়েজ আছে কি?’
এ ছাড়া গত শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে আল কুরআনের দারস পেজে দেওয়া পোস্টে হারুন ইজহার বলেন, ‘তরুণদের উদ্দেশে বলতে চাই– তাদের মধ্যে কাজের চেয়ে ফ্যান্টাসিটা বেশি। কৌশলগত কিছু স্ট্র্যাটেজিক কনসার্নের বিষয় আছে। এটা একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। কালেমার পতাকা বললেই তালেবান, আল কায়েদা, আইএস চলে আসে সামনে। তো কালেমা মানে কি আইএস নাকি, কালেমা মানে কি আল কায়েদা, কালেমা মানে কি তালেবান?’
তিনি বলেন, ‘তো এইটা আবার হওয়ার কারণ আছে, আমাদের যুবকরা যে পতাকার ডিজাইনটা ব্যবহার করে, যেহেতু তালেবান একটা বিশাল শক্তি এখন বিশ্বের, অনলাইনের কারণে আরও বিভিন্ন জিহাদি সংগঠনগুলোর পতাকা পরিচিত হয়ে গেছে, ডিজাইন করতে গেলেই ওই ডিজাইনগুলো চলে আসে।’
‘কালিমার পতাকা সম্পর্কে শায়েখ হারুন ইজহার হাফিযাহুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা’ ক্যাপশনে এই ভিডিওর সময়কাল সম্পর্কে জুমাবার ১৯ জুন লেখা। এতে হারুন ইজহার তরুণদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এখন বর্তমান পতাকার বিষয় আসছে বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের যে পতাকা উঠছে তা বর্ণাঢ্য, তো আপনে কালেমার বর্ণাঢ্য পতাকা করেন। আপনাকে কেন তালেবানদের ডিজাইনেই পতাকা করতে হবে? একটা পতাকাও তো দেখলাম না, বাংলাদেশে সবুজের উপরে সাদা লেখা, দেখলাম না। সবুজ পতাকা করলে সমস্যা কী?’
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর অন্তুর্গত ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক ও বেআইনিভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ব্যাংকটিতে আওয়ামীপন্থীদের পুণবার্সন, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করা ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে হয়রানির মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যেই ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি দখলের অপচেষ্টা করছেন।
রাকাব সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত সভায় ব্যাংকের শতাধিক কর্মকর্তাদের সর্বসম্মতিতে ডিজিএম মো. জিয়াউদ্দিন আকবরকে আহবায়ক, এজিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকারকে সদস্য সচিব করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি করা হয়। ব্যাংকের অন্যান্য অফিসারের সুপারিশ ও সম্মতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটির আহবায়ক কর্তৃক ডিজিএম মো. মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে প্রধান কার্যালয়ের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে রাকাবের ১৮টি জোনের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
২০২৫ সালের ১৬ আগস্টে রাজশাহীর ম্যাংগো রিসোর্ট-এ কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি, হেড অফিস কমিটি এবং ১৮টি জোনের কমিটির সকল সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে রাকাব চত্বরে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ রাকাবের প্রধান কার্যালয়ে ইফতার মাহফিল ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মচারী সহ বিএনপির রাজশাহী-২ (পবা-মোহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাকাব চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আলী, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মরতুজা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নজরুল হুদা। আরো ছিলেন ব্যাংকটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, অংশীজন সহ প্রায় শহস্রাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ডিজিএম জিয়াউদ্দিন আকবর বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোষরদের দ্বারা বহু অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন রাকাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেই চিন্তার ফলশ্রুতিতে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে সকলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আড়ম্বড়পূর্ণভাবে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু তারপরও আওয়ামীলীগার দোসরদের অপচেষ্টা ও অপতৎপরতা থেমে থাকেনি।
তিনি বলেন, তারা উত্তরাঞ্চলের প্রাণ তথা কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের হৃদয়ের স্পন্দন খ্যাত রাকাবকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও পিছিয়ে পড়া ব্যাংক হিসেবে অকার্যকর করার জন্য নানান ষড়যন্ত্রে পুণরায় লিপ্ত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে (২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করে) তড়িঘড়ি করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি ভুয়া কমিটি গঠন করেন এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। যেখানে বহু কর্মকর্তারা জানেন-ই না, সেখানে তাদের নাম কিভাবে গেলো!
ব্যাংকটির বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যায়, রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজা, জিএম তাজ উদদিন আহম্মেদ, ডিজিএম মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম শাহিনুর ইসলাম সহ অনেকেই অন্যান্য অফিসারদের মুঠোফোনে ফোন করে আবার চা পানের অজুহাতে ডেকে তাদের জোরপূর্বক নতুন আওয়ামী কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। নতুন কমিটিতে যোগদান না করলে সকলকেই বদলি ও খারাপ এসিআর প্রদানের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। গোলাম মরতুজা, তাজ উদদিন, মিজান ও শাহিনুর এদের সকলের-ই আওয়ামী লীগের প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রদর্শন করে অতীতে নানা অপকর্ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন সহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান রাকাব সংশ্লিষ্টরা।
এবারে রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তার মন্তব্য মেলেনি।
রাকাব এ্যাসোসিয়েশনের কমিটির চক্রান্তের বিষয়ে অভিযোগকারীরা জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান কার্যালয়ের আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। লিখিত আবেদনে তিনি জানান যে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রধান কার্যালয় কমিটি নামে দুইটি কমিটি সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে আমার শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে প্রধান কার্যালয় কমিটির আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদান করালাম। অথচ, পরের মাসেই তিনি নিজেই নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ঘোষণা করে কমিটি দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেরাজ উদ্দিন মোল্লার ভাই পরিচয়ে গত ১৭ বছরে রাকাবের হেড অফিসে সাধারণ সেবা বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২০ আগষ্ট ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলামকে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর যুগ্ম আহবায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় সংগঠন পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকা এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহবায়ক পদ হতে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কারাদেশে উল্লেখ করা হয় যে, ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর সাংগঠনিক কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ, সংগঠনের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে কোন কর্ম সম্পাদন এমনকি রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে কোন কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবেন না। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর জয়পুরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের ঘনিষ্ঠজন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং রাকাব, বগুড়া জোনের জোনাল ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আস্থাভাজন হয়েছিলেন। ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি, নিয়াগ বাণিজ্য ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা রয়েছে।
গত ২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আগামী ২৯ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে সাধারণ সভা আহবানের বিজ্ঞপ্তি জারী করেন। ঠিক তার পরেরদিন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে তড়িঘড়ি করে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন নামের একটি কমিটি নিজেদের নামে দখলের অপপ্রচার ও অপচেষ্টা চালায়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যমান কমিটির আহবায়কের অনুমতি ছাড়াই এবং নির্বাচন বহির্ভূত ও বে-আইনীভাবে সৃষ্ট ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর গঠনতন্ত্রের ধারা-১৩(২)(ক), ১৫(ক), ১৮(ক)(খ), ১৯ এর বিরোধী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং প্রধান কায়ালয় কমিটি জাল, যোগ-সাজসী, প্রতারণামূলক গঠনতন্ত্র বিরোধী অবৈধ এবং বে-আইনী হওয়ায় তা অকার্যকর মর্মে অভিযোগ উঠেছে। আরো অভিযোগ উঠেছে যে, কমিটির সদস্যগণের কোন রুপ মতামত বা অনুমতি এবং সাধারণ সভা ছাড়াই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সৈয়দ খায়রুল ইসলাম বলেন, এনিয়ে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর নাম ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গ্রুপে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনসহ নামের একটি তালিকা প্রচারিত হচ্ছে। সকল সদস্যগণকে প্রচারিত এ ধরণের তালিকায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষক আন্দোলন এবং জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, ‘রাকাবের প্রতিষ্ঠা মূলত এই উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জন্যই হয়েছিল। বর্তমানেও এটি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বেশ ভালো কাজ করছে। তবে ব্যাংকের ভেতরের দ্বন্দ্বে কৃষকদের কোন ক্ষতি হোক, তা আমরা চাই না। যদি কেউ এমন অপতৎপরতা চালায়; তবে আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চারভাবে আওয়াজ তুলবো এবং প্রতিহত করবো। তিনি বলেন, রাকাব যেভাবে কৃষকদের সহযোগিতায় কাজ করছে, ঠিক সেইভাবেই কাজ করুক এটাই আমাদের কাম্য। ব্যাংকটির উন্নতি অটুট থাকুক এবং স্বার্থান্বেষী কূটকৌশলকারীরা পরাজিত হোক এই প্রত্যাশায় করি।
অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় দুই কোটি মূল্যবান নকল কনডম ও যৌন উত্তেজক ওষুধ। ছবি: সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ভুয়া সংবাদপত্রের সাইনবোর্ড ও সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) মোড়কজাতকরণের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ভুয়া পত্রিকা অফিসের আড়ালে পরিচালিত কারখানা থেকে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের বিপুল অবৈধ ও নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়।
জানা যায়, একই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ভবনটি সিলগালা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার শর্তে ভবনটির সিলগালা খুলে দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ নিয়ম না মেনে গোপনে পুনরায় যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম প্রস্তুত ও মোড়কজাতকরণের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এটি কোনো অনুমোদিত বা বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে অবৈধভাবে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের অধিকাংশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা হতো, ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছিল। তা ছাড়া মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এগুলো চরম জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছিল।
তিনি আরও জানান, অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত বিপুল মালামাল ট্রাকে লোড করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানের মূল অভিযুক্ত ও কর্ণধার শাহাদত হোসেন শান্তু ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শিক্ষার্থীকে কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয়।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার বিহারী লাল মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে দ্বিতীয় তলা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রহমত ইসলাম শৌচাগার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পথে বিএসসি শিক্ষক শাহ আলম তাকে বাইরে যাওয়ার কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয় বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় আকস্মিক আঘাত ও আতঙ্কে শিক্ষার্থী রহমত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায়।
খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়।
সমঝোতা অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থী রহমতের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাকে নতুন পোশাক দেওয়া হবে। এছাড়া তার ফরম পূরণসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ প্রধান শিক্ষক বহন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটকের পর দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১০টি বাসে। গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার সামনে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চারজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটক করেছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবাদে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সামনের সড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস রেখে অবরোধ করে শ্রমিকদের একটি অংশ। পরে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। এসময় দুটি বাসে ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় কড়া পুলিশ পাহারায় শেখ বাদশাকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে আবারও কড়া নিরাপত্তায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুর ইউনিয়নের গাবুড়া বাজার থেকে শেখ বাদশাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আটকের প্রতিবাদে রাত ১১টা থেকে কোতোয়ালি থানা থানার সামনে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করা হয়। পরে রাত থেকে শেখ বাদশাকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে শ্রমিকদের একটি অংশ। এতে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে আন্তঃজেলার সব রুট ও ঢাকাগামী বাস চলাছল বন্ধ। বাস বন্ধের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রমিকদের আরেকটি অংশ থানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন।
বিকেল ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তদের একটি দল থানার সামনে এসে অবস্থান নিলে শ্রমিকদের সঙ্গে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ৬-৭ জন আহত হন। এসময় থানার সামনে ব্যারিকেড দেওয়া এস আর পরিবহনের একটি নৈশকোচ, এইচএ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাস ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসনের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়। এসময় পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা। তাকে ওই মামলাগুলোতে কোর্টে চালান দিলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর মোটরপরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল।
সিলেট নগরির শাহপরাণে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে সন্দেহের বশে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ডাকা সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
কমিশনার বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া জালালের সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল, যা বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর কথা ছিল। তবে গত প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের সন্দেহ হয়, রেহানা তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন। শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানার নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো জেনে জালাল সন্দেহ করেন, সম্পর্কটি সেদিকেই মোড় নিচ্ছে কি না। এই সন্দেহ থেকেই তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানান কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে, তবে বিষয়টি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাইরে অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহত শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরাণ এলাকায় থাকতেন এবং চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা; এক ছেলে থাকেন ফ্রান্সে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালালকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।ময়না তদন্ত শেষে গত বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বাদ আসর জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আবাসন চাহিদা পূরণে সিলেট-তামাবিল বাইপাস সড়ক এলাকায় আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে সিলেট তামাবিল বাইপাস এলাকায় প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রস্তাবিত এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং আবাসন প্রকল্পের জন্য জায়গাটির সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ও নিরাপদ আবাসনের প্রত্যাশা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সিলেটে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর বসবাস ও বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, সিলেটে যেহেতু প্রচুর প্রবাসী আছেন, তাদের জন্য একটি পরিকল্পিত শহর গড়তে চাই। এজন্য উপযুক্ত জায়গা সিলেটের কোথায় কোথায় রয়েছে, তা আমরা খুঁজে দেখছি।তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একটি স্মার্ট সিটির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রেখে একটি স্মার্ট সিটিতে যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করার উদ্যোগ নেব।
এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা ফেরদৌসী বেগম, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সিলেটের প্রকৌশলী নাজমুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।