• প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ এএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দীর্ঘ প্রচারণা শেষ হয়। এবার শুরু হিসেব নিকেশ। দীর্ঘ প্রচারণা শেষে এবার হিসেবে বসছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সিলেট জেলার মোট ছয়টি আসন রয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে আছেন তাদের প্রার্থীরা। 


তবে জামায়াতের নেতাদের দাবি, কেবল সিলেট-২ আসন ছাড়া আর কোথাও এগিয়ে নেই বিএনপি। একটিতে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। আর বাকীগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে সব আসনে নীরব ভোট বেশি। তারাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজনৈতিক নেতারা তাদের জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন।


প্রচার প্রচারণায় ভোটের মাঠ অনেকাংশেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক ও তাদের নেতা-কর্মীদের দখলে ছিল। এই দুই দলের প্রার্থীরাই ৫ অগাস্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনসংযোগ, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।


সিলেট -১ঃ ‘মিথ ও মর্যাদার’ লড়াই


সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিকে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে সবসময় ‘মর্যাদার’ মনে করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেন, সেই দলই সরকার গঠন করে- এটা মিথে পরিণত হয়েছে।


এই আসনে আট প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাবিবুর রহমানের মধ্যে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া খন্দকার মুক্তাদির দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে প্রচারে থাকায় এগিয়ে থাকলেও ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে হাবিবুর রহমানও লড়াইয়ের আলোচনায় রয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক সিলেট বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। 


তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। তার কনিষ্ঠ ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০১৮ সালেও বিএনপির হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন।


এদিকে, বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির হাবিবুর রহমান। তাকে নিয়ে দলে কোনো কোন্দল নেই, নেই কোনো অসন্তোষ। ইসলামী ছাত্রশিবির দিয়ে রাজনীতির পথ চলা শুরু হাবিবুরের। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি সিলেট জেলা শাখার আমির থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। 


এর আগে হাবিবুর রহমান সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া (আ্যাপেল), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্তি দাস (কাঁচি)।


সিলেট-২ঃ ‘ইলিয়াস-স্মৃতিতে নির্ভার’ লুনা


বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। এবার তিনি ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করছেন। তার সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা।


তারা মনে করেন, ইলিয়াস আলীর কারণে এখানে ব্যাপক জনপ্রিয় তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি ভোটের প্রচারে ইলিয়াস আলীর সময়ে হওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। এদিকে, এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এ নিয়ে দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।অবশেষে হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব (পররাষ্ট্র) হিসেবে মনোনীত করায় লুনা ‘ঝামেলা মুক্ত’ হন বলে মনে করেন সমর্থকরা।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন-গণফোরামের মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল)।


সিলেট-৩ঃ  জোটের সুবিধা-অসুবিধা


ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মালিক। তার সঙ্গে মূল লড়াইয়ে থাকবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে মুসলেহ উদ্দিন রাজু তার বাবা ইসলামি পণ্ডিত মাওলানা নুরুদ্দিন গহরপুরীর পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারলে ফল এম এ মালিকের পক্ষে যেতে পারে। 


তবে মালিকের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ দলের ঐক্য। আর এই আসনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন; তারাও ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। তবে তাদের অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেন তার উপরই নির্ভর করবে রাজুর ভাগ্য। এ ছাড়া এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। জোটের সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।


ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী লোকমান আহমদ থাকলে নির্বাচনি লড়াই হত হাড্ডাহাড্ডি। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তবে মূল লড়াইয়ে থাকবেন রিকশা প্রতীকের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনওয়ারুল হক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা (ফুটবল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইনুল বাকর (কম্পিউটার)।


সিলেট-৪ঃ ‘মেয়র-চেয়ারম্যানের’ লড়াই


কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এখানে ধানের শীষের প্রার্থী। আর জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। আরিফ ও জয়নালের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। আরিফুল হক সিলেট-১ আসনে মনোনয়র প্রত্যাশী ছিলেন। আর জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন আরিফুল হককে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার চালান।  


তবে সিলেট-৪ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েচেনন আরিফুল। এদিকে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান। এলাকায় তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছেন। এই আসন থেকে জামায়াত কখনও নির্বাচিত হতে পারেনি। 


আর নির্বাচনের ‘ম্যাজিক ম্যান’ হিসেবে আরিফুলের খ্যাতি রয়েছে। তার সমর্থকদের ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয়, বহিরাগত কোনো বিষয় নয়। এখানে উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক)।


সিলেট-৫ঃ ‘ফুলতলী হুজুর ফ্যাক্টর’


দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মামুনুর রশিদ; যিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। ভোটের মাঠে তার ‘ফুটবল’ হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা। দলের শৃঙ্খলা না মানায় এরই মধ্যে তাকে সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করছেন এমন আরও কয়েক নেতা বহিষ্কার হয়েছেন।


বিএনপি এই আসনটি তার জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে লড়ছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপি জোট থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এখানে প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল হাসান। তিনি দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে লড়ছেন।তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে এসেছেন আরেক আলোচিত রাজনীতিক ‘চাকসু মামুন’। 


তার গুরুত্ব অনুধাবন করে জেলা বিএনপির নেতারা ঘন ঘন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সফর করছেন। জোট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। সবশেষ এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন ‘ফুলতলী হুজুর’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী। ভোটারদের অভিমত, এই আসনে ‘ফুলতলী হুজুরের’ ব্যাপক সমর্থক রয়েছেন। অতীতের নির্বাচনে দেখা গেছে, ফুলতলী হুজুরের সংগঠন ‘আনজুমানে আল ইসলাহের’ ভোট যেদিকে গেছে সেদিকেই ভোটের বাতাস তৈরি হয়েছে। 


এই ‘ভোট ব্যাংক’ সবসময় জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখে। ভোটারদের ধারণা, ‘ফুলতলী মসলকের’ একটা বড় ভোট ‘চাকসু মামুনের’ বাক্সে যেতে পারে। সেটা হয়ত মামুনের ব্যক্তি ইমেজ, দলীয় একাংশের সমর্থনের সঙ্গে বাড়তি শক্তি দেবে। এ আসনে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একবার করে এবং দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।


সিলেট-৬ঃ 


ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া এই আসনে নিজস্ব ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাওলানা ফখরুল ইসলামের। তিনি লড়াইয়ের ময়দানে জোরেশোরে ছুটছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এখানে বিএনপির মূল সমস্যা দলীয় বিভক্তি। 


২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিশেষ করে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছিলেন। পরে দলের চূড়ান্ত টিকেট পান এমরান আহমদ চৌধুরী। ভোটের মাঠে এরা কেউ হয়ত প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ হননি। আর জামায়াতে ইসলামীর দুই উপজেলাতেই শক্ত ভিত্তি রয়েছে। 


দলে কোনো কোন্দল নেই, সেটি সেলিম উদ্দিনকে সুবিধা দিচ্ছে।তবে কেউ কেউ এই আসনের এলাকাভিত্তিক ভোটের প্রভাবকে একেবারে নাকচ করে দিতে চান না। কারণ, জামায়াতের সেলিম উদ্দিন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী ফখরুল ইসলামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলাতে। এটা কাজে লাগলে বিএনপির প্রার্থী গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভালো অবস্থানে থাকবেন বলেও মনে করছেন তার নেতাকর্মীরা। 


নেতারা যা বলছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ করছেন। আমাদের নির্বাচনি এলাকায় কিছু ছোটখাটো সমস্যা ছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, সিলেটের সব আসনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আশা করছি, সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেখতেছি, মানুষজন একটা পরিবর্তন চাচ্ছে, পুরাতন বন্দোবস্ত আর চাচ্ছে না। বিশেষ করে সমাজের তরুণ ভোটারদের একটা বড় আকাঙ্ক্ষা হল পুরাতন বন্দোবস্ত যেন আর ফিরে না আসে।”




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

কালো রঙের লম্বা কুর্তা–পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ। তাঁদের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। সামনে যাঁকে পাচ্ছেন, তাঁর দিকেই হঠাৎ বন্দুকটি তাক করে ধরছেন। রিকশাচালক থেকে পথচারী, এমনকি শিশুও বাদ যাচ্ছে না। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকছেন।


৩৫ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করছেন। তবে ভিডিওটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে এটি বানানো বলে দাবি করেছেন দুই তরুণের একজন।


ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের (সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক) বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা। ভিডিওর নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তাঁর সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা আরেক তরুণের নাম ইয়াসিন। তিনি মূলত লিমন তোহার ভিডিও ধারণে (ক্যামেরাম্যান) সহযোগিতা করেন।


ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বন্দুক হাতে ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তাঁর বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই লিমনের বলে জানান তিনি।


‘মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতেই ভিডিওটি’


লিমন তোহা প্রথম আলোকে বলেন, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখে তিনি এটি তৈরি করেন। তাঁর ভাষ্য, মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা। লিমন দাবি করেন, ‘এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। কিন্তু ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি। পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।’


লিমনের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি। সেসব নাটক ও সিনেমার কিছু দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মতো করে ভিডিও তৈরি করেন। পাকিস্তানি ভিডিও ও নাটকের আদলে তৈরি করা কনটেন্টে বেশি সাড়া পান। এরপর ওই ধরনের ভিডিও বানানোর প্রবণতা বাড়ে। নিজের কনটেন্ট নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট বলে দাবি করেন লিমন।


এভাবে মানুষকে বন্দুক হাতে ভয় দেখানো যায় কি না এমন প্রশ্নে লিমন তোহা বলেন, ‘এটা অপরাধ কি না, আমি জানি না। অন্য দেশে এমন ভিডিও অনেকেই করে। টিকটকে বিভিন্ন দেশের ট্রেন্ড দেখে ভিডিওটি আমি তৈরি করেছি। এটা শুধুই মজা করে তৈরি করা।’


‘পুলিশও দেখেছে’


ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুকটি খেলনা বলে দাবি করে লিমন বলেন, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। লিমন বলেন, ‘বন্দুক দেখে শুরুতে কেউ কেউ ভয় পেয়েছেন। পরে খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা মজাও করেছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। তারা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পেরেছে এটি খেলনা বন্দুক। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা পুলিশের রি–অ্যাকশনও ধারণ করেছিলাম, তবে সেটি ঠিকমতো না আসায় ফেসবুকে ছাড়া হয়নি।’


ওই দুই তরুণের বাড়ি বন্দর থানার মধ্যে পড়েছে। তবে ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মধ্যে।


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আমাকে কেউ জানায়নি অথবা কেউ অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করেন। তাঁরা কিংবা পার্ক কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি। আমরা খোঁজ নেব। যদি সংশ্লিষ্টটা থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আইন কী বলে


ভিডিওটি বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন আইনবিশেজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এটি পুরোপুরি আইনি বিষয়। কাউকে যদি কোনো ধরনের টুল ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয়, তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ; সেটা খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক কিংবা ভিডিও তৈরি করার উদ্দেশ্যে হোক। এখানে দুটি বিষয়—প্রথমটি অস্ত্র দিয়ে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে, প্যানিক তৈরি করা হচ্ছে। এটা পুরোপুরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দ্বিতীয়ত, ওই ভিডিও, অর্থাৎ মানুষের প্যানিক তৈরির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মানহানি করা হচ্ছে। এটা সাইবার সিকিউরিটি আইনের আওতায় পড়ে।


নওশাদ জমির

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।


জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির বিধি অনুযায়ী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে কমিটিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।


সংসদীয় নথি সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এতে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে চেয়ারম্যান এবং আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।


কমিটির সদস্যরা হলেন—আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসন-৮-এর সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর আবদুল লতিফ।


সংসদীয় নথিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী কমিটির গঠন, কার্যাবলি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।


আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি ও পর্যালোচনায় এ স্থায়ী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

সিরাজগঞ্জ সদর থানার বহুতি চারা বটতলা এলাকায় আজ শুক্রবার ভোর চারটার দিকে এক মর্মান্তিক সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশা বহুতি চারা বটতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।


উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় আহত আরও একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে পড়ে যায় গাঁজাবাহী একটি মাইক্রোবাস। ক্রেন দিয়ে পুকুর থেকে মাইক্রোবাসটি তোলার পর ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে কসবা থানা পুলিশ। 


শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন ভোররাতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামিমের নেতৃত্বে সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস পুলিশের অভিযানের এলাকায় প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পুলিশ গাড়িটি থামার সংকেত দিলে চালক না থেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে।


পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়কে ঢুকে পড়ে। খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি একটি পুকুরে পড়ে যায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-০৭৪০।


পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাইক্রোবাসে থাকা পাচারকারী ও চালক সাঁতরে পালিয়ে যায়। পুকুরে পড়ার পর মাইক্রোবাস থেকে গাঁজার প্যাকেট বের হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। পরে ক্রেন এনে মাইক্রোবাসটি পুকুর থেকে তোলা হয়। এ সময় পানিতে ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাইক্রোবাস ও গাঁজা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।


কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও চালক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করলে পালানোর সময় খিদিরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে ক্রেন এনে গাড়ি ও গাড়িতে থাকা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হঠাৎ উধাও হওয়ার ঘটনায় যে জল্পনার দানা বেঁধেছিল তার অবসান হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পিন্টু দাসসহ পরিবারের সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম।


শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয় জানিয়ে এসআই বলেন, “গত দুদিন ধরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।


“পরে ফটিকছড়ির একটি বাসা থেকে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।”


স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চাঁদপুরে নানা আলোচনা চলছিল। ১৯ অগাস্ট থেকে হঠাৎ তার মোবাইল ফোন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একই সময়ে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খররও প্রকাশ হয়। তাদের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।


এর মধ্যেই কয়েকজন ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও সোনা পাওনা থাকার দাবি করেন। এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।


পিন্টু দাসের বাড়ি মূল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। তিনি অনেক সময় ধরে চাঁদপুরে আছেন। এখানে তার আত্মীয়বাড়ি রয়েছে।


তিনি প্রথমে সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে শহরের আখন্দ মার্কেটে নিজেই দোকান দেন। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে পিন্টু দাসের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।


ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস আখন্দ মার্কেটে পাঁচ-ছয় মাস আগে দোকান দিয়েছেন। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করেছেন।


তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উধাও হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।


কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি এসআই গাজী কালাম।


তিনি বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেছেন, চার খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কথা জানান।

 

নবাগত পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমি এখানে ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। এই ঘটনা এবং মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্নও আসবে, সে প্রশ্নগুলোর পেশাদারিত্বের সাথে জবাব খুঁজে বের করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি।

 

সময় তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এই মামলা নিয়ে সারাদেশে নানান রকম কথাবার্তা হচ্ছে। প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সুবিচার নিশ্চিত হয়।

 

আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করেছে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমিও আপনাদের মত শুনেছি। আমি রংপুরে গতকাল যোগদান করেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটা ক্রাইমসিন, সেটাকে সংগ্রহ করা আছে।

 

আরপিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোন ক্লু আসলে জানাবেন আমরা তদন্ত করব। এটা পুলিশের কাজ, তবে সবার কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

মাহবুবুর রশীদ বলেন, মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয় এটা দেশের সমস্যা। এই মুহূর্তে এটা সামাজিক সমস্যা। আমি আজ সকালে আমার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি এবং তাদেরকে সময় দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখতে পারবেন।

 

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে নতুন পুলিশ কমিশনারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রসঙ্গত; শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন পূজা চক্রবর্তী। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়ে এবং ছেলেকে ফোন করেন। সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) বোনের বাসার সামনে গিয়ে গেটে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে।

 

স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।

 

রোববার বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

বর্তমানে আলোচিত মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।