ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে সোমবার সারাদিন মনোনয়ন পত্র জমা পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রঙ্গনে এসে জড়ো হন। পরে তারা আলাদা আলাদাভাবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। সিলেট বিভাগে ১৯ আসনে ১শ ৫৪ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছন। এরমধ্যে সিলেটে ৫৬, সুনামগঞ্জ ৩৮, মৌলভীবাজার ৩১ এবং হবিগঞ্জে ২৯ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।
সিলেটঃসিলেটের ৬টি আসনে ৪৭ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, সিলেট - ১ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী এবং তারা সবাই মনোনয়ন দাখিল করেছেন। মনোনয়ন দাখিল কারীরা হলেন- বিএনপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াতের মাওলানা হাবীবুর রহমান, এনসিপির এহতেশাম হক, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন, বাস (মার্কসবাদী) সঞ্জয় দাস, ইনসিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান ও খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান।
সিলেট-২ আসনে ১০ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেছেন ৯ জন। তারা হলেন- জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান, বিএনপির প্রার্থী তাহসীনা রুশদীর লুনা, তার ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসীর আলী, গণফোরামের প্রার্থী মুজিবুল হক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আমীর উদ্দিন ও স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আব্দুস শহিদ।
সিলেট-৩ আসনে ১১ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেছেন ৯ জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির এমএ মালিক, জামায়াতের মাওলানা লোকমান আহমদ, এনসিপির নুরুল হুদা জুনেদ, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, খেলাফত মজলিসের দেলওয়ার হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের রেদুয়ানুল হক চৌধুরী, স্বতন্ত্র মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোসলেহ উদ্দিন রাজু ও স্বতন্ত্র মইনুল বাকের।
সিলেট-৪ আসনে ৮ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতের জয়নাল আবেদিন, এনসিপির রাশেদ উল আলম, গণ অধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম, খেলাফতের আলী হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা সাঈদ আহমদ ও জাতীয় পার্টি মুজিবুর রহমান।
সিলেট-৫ আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেছেন ৬ জন। তারা হলেন বিএনপি সমর্থিত জমিয়ত ইসলামের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, জামায়াত ইসলামের হাফিজ মো. আনওহার হোসাইন খান, স্বতন্ত্র মামুনুর রশীদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মো. আবুল হাসান ও জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন খালেদ।
সিলেট -৬ আসনে ৯ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জাময়োতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান, স্বতন্ত্র ফখরুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির মো. আব্দুন নুর।
সুনামগঞ্জঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরা হলেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের বিএনপি মনোনীত আনিসুল হক, ও কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী ডা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী,খেলাফত মজলিস প্রার্থী মাওলানা মখলিসুর রহমান।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী,বিএনপি মনোনীত অপর প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ড. শোয়াইব আহমদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস খোকন,স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব।
সুনামগঞ্জ-৩ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিস প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ, জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এডভোকেট শাহিনুর পাশা চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদ মিশেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার, এনসিপির দুই প্রার্থী মাসুদুর রহমান ও ইসহাক আমিনী, গনঅধিকার প্রার্থী পারভেজ আহমদ।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল, বিদ্রোহী (বিএনপি) প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শামসউদ্দিন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুফতি আজিজুল হক, খেলাফত মজলিস প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন মোহন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন,বিএনপি (বিদ্রোহী) প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান ,জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানি, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ আব্দুল কাদির, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী,ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আজিজুল হক,জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
হবিগঞ্জঃ হবিগঞ্জের ৪টি সংসদীয় ৪টি আসনে মোট ২৯ জন এমপি প্রার্থী তাদের মনোনয়ন দাখিল করেন। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী মোঃ শাহ জাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল বাসদ এর প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডাঃ আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ, স্বতস্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক আফছার আহমেদ, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল বাসদ এর প্রার্থী লুকমান আহমদে তালুকদার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নোমান আহমদ সাদিক।
হবিগঞ্জ-৩ (সদর, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ, জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী চৌধুরী আশরাফুল বারি নোমান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মুমিন চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী শাহিনুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী এসএম সরওয়ার।
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফয়সল, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী মোঃ গিয়াস উদ্দিন, এবি পার্টির প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী শাহ মোঃ আল আমিন, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল বাসদ এর প্রার্থী মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম খোকন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী রেজাউল মোস্তাফা।
মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজার জেলার ৪ টি নির্বাচনী আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ছিলেন। তারমধ্যে ৩১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) সংসদীয় আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস ও ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মৌলভী লুকমান আহমদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল আহমদ ও মো. শরিফুল ইসলাম।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী, ১০ দলীয় জোটের ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল কুদ্দুছ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল মালিক, স্বতন্ত্র নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন, এম জিমিউর রহমান চৌধুরী, মো. ফজলুল হক খান।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজিনা নাসের,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান কামালী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি জহর লাল দত্ত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য, সাবেক মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে শেখ নূরে আলম হামিদী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান এবং বিএনপি নেতা লন্ডন প্রবাসী জালাল আহমেদ জিপু, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ছেলে মুঈদ আশিক চিশতী।
মৌলভীবাজার জেলায় মোট ভোটার ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৪ জন। নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ৮ জন ভোটার।
দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ।
রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩ তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আব্দুর রশিদ ডিগ্রী কলেজ থেকে কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে। আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা। দেশের ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও।
ম্যারাথনে অংশ নেয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাথ পারভীন বলেন, এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয় একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
আয়োজকদের ভাষ্য—একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
তরুন রানার এলিন খান বলেন, একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া।পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়—গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।
তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো। একদিকে শরীরচর্চা, অন্যদিকে একটি জনপদকে নতুন করে চেনানোর প্রয়াস থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি।
একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান, তখন শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁও তাই এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়; ৩২ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।
ঠাকুরগাঁও রানারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”
পরে দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন l ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর অন্তুর্গত ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক ও বেআইনিভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ব্যাংকটিতে আওয়ামীপন্থীদের পুণবার্সন, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করা ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে হয়রানির মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যেই ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি দখলের অপচেষ্টা করছেন।
রাকাব সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত সভায় ব্যাংকের শতাধিক কর্মকর্তাদের সর্বসম্মতিতে ডিজিএম মো. জিয়াউদ্দিন আকবরকে আহবায়ক, এজিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকারকে সদস্য সচিব করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি করা হয়। ব্যাংকের অন্যান্য অফিসারের সুপারিশ ও সম্মতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটির আহবায়ক কর্তৃক ডিজিএম মো. মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে প্রধান কার্যালয়ের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে রাকাবের ১৮টি জোনের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
২০২৫ সালের ১৬ আগস্টে রাজশাহীর ম্যাংগো রিসোর্ট-এ কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি, হেড অফিস কমিটি এবং ১৮টি জোনের কমিটির সকল সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে রাকাব চত্বরে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ রাকাবের প্রধান কার্যালয়ে ইফতার মাহফিল ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মচারী সহ বিএনপির রাজশাহী-২ (পবা-মোহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাকাব চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আলী, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মরতুজা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নজরুল হুদা। আরো ছিলেন ব্যাংকটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, অংশীজন সহ প্রায় শহস্রাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ডিজিএম জিয়াউদ্দিন আকবর বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোষরদের দ্বারা বহু অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন রাকাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেই চিন্তার ফলশ্রুতিতে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে সকলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আড়ম্বড়পূর্ণভাবে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু তারপরও আওয়ামীলীগার দোসরদের অপচেষ্টা ও অপতৎপরতা থেমে থাকেনি।
তিনি বলেন, তারা উত্তরাঞ্চলের প্রাণ তথা কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের হৃদয়ের স্পন্দন খ্যাত রাকাবকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও পিছিয়ে পড়া ব্যাংক হিসেবে অকার্যকর করার জন্য নানান ষড়যন্ত্রে পুণরায় লিপ্ত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে (২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করে) তড়িঘড়ি করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি ভুয়া কমিটি গঠন করেন এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। যেখানে বহু কর্মকর্তারা জানেন-ই না, সেখানে তাদের নাম কিভাবে গেলো!
ব্যাংকটির বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যায়, রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজা, জিএম তাজ উদদিন আহম্মেদ, ডিজিএম মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম শাহিনুর ইসলাম সহ অনেকেই অন্যান্য অফিসারদের মুঠোফোনে ফোন করে আবার চা পানের অজুহাতে ডেকে তাদের জোরপূর্বক নতুন আওয়ামী কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। নতুন কমিটিতে যোগদান না করলে সকলকেই বদলি ও খারাপ এসিআর প্রদানের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। গোলাম মরতুজা, তাজ উদদিন, মিজান ও শাহিনুর এদের সকলের-ই আওয়ামী লীগের প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রদর্শন করে অতীতে নানা অপকর্ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন সহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান রাকাব সংশ্লিষ্টরা।
এবারে রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তার মন্তব্য মেলেনি।
রাকাব এ্যাসোসিয়েশনের কমিটির চক্রান্তের বিষয়ে অভিযোগকারীরা জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান কার্যালয়ের আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। লিখিত আবেদনে তিনি জানান যে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রধান কার্যালয় কমিটি নামে দুইটি কমিটি সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে আমার শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে প্রধান কার্যালয় কমিটির আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদান করালাম। অথচ, পরের মাসেই তিনি নিজেই নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ঘোষণা করে কমিটি দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেরাজ উদ্দিন মোল্লার ভাই পরিচয়ে গত ১৭ বছরে রাকাবের হেড অফিসে সাধারণ সেবা বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২০ আগষ্ট ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলামকে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর যুগ্ম আহবায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় সংগঠন পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকা এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহবায়ক পদ হতে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কারাদেশে উল্লেখ করা হয় যে, ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর সাংগঠনিক কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ, সংগঠনের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে কোন কর্ম সম্পাদন এমনকি রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে কোন কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবেন না। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর জয়পুরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের ঘনিষ্ঠজন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং রাকাব, বগুড়া জোনের জোনাল ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আস্থাভাজন হয়েছিলেন। ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি, নিয়াগ বাণিজ্য ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা রয়েছে।
গত ২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আগামী ২৯ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে সাধারণ সভা আহবানের বিজ্ঞপ্তি জারী করেন। ঠিক তার পরেরদিন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে তড়িঘড়ি করে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন নামের একটি কমিটি নিজেদের নামে দখলের অপপ্রচার ও অপচেষ্টা চালায়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যমান কমিটির আহবায়কের অনুমতি ছাড়াই এবং নির্বাচন বহির্ভূত ও বে-আইনীভাবে সৃষ্ট ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর গঠনতন্ত্রের ধারা-১৩(২)(ক), ১৫(ক), ১৮(ক)(খ), ১৯ এর বিরোধী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং প্রধান কায়ালয় কমিটি জাল, যোগ-সাজসী, প্রতারণামূলক গঠনতন্ত্র বিরোধী অবৈধ এবং বে-আইনী হওয়ায় তা অকার্যকর মর্মে অভিযোগ উঠেছে। আরো অভিযোগ উঠেছে যে, কমিটির সদস্যগণের কোন রুপ মতামত বা অনুমতি এবং সাধারণ সভা ছাড়াই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সৈয়দ খায়রুল ইসলাম বলেন, এনিয়ে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর নাম ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গ্রুপে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনসহ নামের একটি তালিকা প্রচারিত হচ্ছে। সকল সদস্যগণকে প্রচারিত এ ধরণের তালিকায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষক আন্দোলন এবং জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, ‘রাকাবের প্রতিষ্ঠা মূলত এই উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জন্যই হয়েছিল। বর্তমানেও এটি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বেশ ভালো কাজ করছে। তবে ব্যাংকের ভেতরের দ্বন্দ্বে কৃষকদের কোন ক্ষতি হোক, তা আমরা চাই না। যদি কেউ এমন অপতৎপরতা চালায়; তবে আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চারভাবে আওয়াজ তুলবো এবং প্রতিহত করবো। তিনি বলেন, রাকাব যেভাবে কৃষকদের সহযোগিতায় কাজ করছে, ঠিক সেইভাবেই কাজ করুক এটাই আমাদের কাম্য। ব্যাংকটির উন্নতি অটুট থাকুক এবং স্বার্থান্বেষী কূটকৌশলকারীরা পরাজিত হোক এই প্রত্যাশায় করি।
অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় দুই কোটি মূল্যবান নকল কনডম ও যৌন উত্তেজক ওষুধ। ছবি: সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ভুয়া সংবাদপত্রের সাইনবোর্ড ও সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) মোড়কজাতকরণের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ভুয়া পত্রিকা অফিসের আড়ালে পরিচালিত কারখানা থেকে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের বিপুল অবৈধ ও নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়।
জানা যায়, একই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ভবনটি সিলগালা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার শর্তে ভবনটির সিলগালা খুলে দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ নিয়ম না মেনে গোপনে পুনরায় যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম প্রস্তুত ও মোড়কজাতকরণের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এটি কোনো অনুমোদিত বা বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে অবৈধভাবে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের অধিকাংশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা হতো, ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছিল। তা ছাড়া মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এগুলো চরম জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছিল।
তিনি আরও জানান, অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত বিপুল মালামাল ট্রাকে লোড করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানের মূল অভিযুক্ত ও কর্ণধার শাহাদত হোসেন শান্তু ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শিক্ষার্থীকে কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয়।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার বিহারী লাল মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে দ্বিতীয় তলা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রহমত ইসলাম শৌচাগার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পথে বিএসসি শিক্ষক শাহ আলম তাকে বাইরে যাওয়ার কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয় বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় আকস্মিক আঘাত ও আতঙ্কে শিক্ষার্থী রহমত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায়।
খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়।
সমঝোতা অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থী রহমতের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাকে নতুন পোশাক দেওয়া হবে। এছাড়া তার ফরম পূরণসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ প্রধান শিক্ষক বহন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটকের পর দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১০টি বাসে। গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার সামনে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চারজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটক করেছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবাদে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সামনের সড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস রেখে অবরোধ করে শ্রমিকদের একটি অংশ। পরে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। এসময় দুটি বাসে ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় কড়া পুলিশ পাহারায় শেখ বাদশাকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে আবারও কড়া নিরাপত্তায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুর ইউনিয়নের গাবুড়া বাজার থেকে শেখ বাদশাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আটকের প্রতিবাদে রাত ১১টা থেকে কোতোয়ালি থানা থানার সামনে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করা হয়। পরে রাত থেকে শেখ বাদশাকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে শ্রমিকদের একটি অংশ। এতে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে আন্তঃজেলার সব রুট ও ঢাকাগামী বাস চলাছল বন্ধ। বাস বন্ধের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রমিকদের আরেকটি অংশ থানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন।
বিকেল ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তদের একটি দল থানার সামনে এসে অবস্থান নিলে শ্রমিকদের সঙ্গে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ৬-৭ জন আহত হন। এসময় থানার সামনে ব্যারিকেড দেওয়া এস আর পরিবহনের একটি নৈশকোচ, এইচএ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাস ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসনের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়। এসময় পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা। তাকে ওই মামলাগুলোতে কোর্টে চালান দিলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর মোটরপরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল।
সিলেট নগরির শাহপরাণে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে সন্দেহের বশে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ডাকা সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
কমিশনার বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া জালালের সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল, যা বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর কথা ছিল। তবে গত প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের সন্দেহ হয়, রেহানা তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন। শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানার নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো জেনে জালাল সন্দেহ করেন, সম্পর্কটি সেদিকেই মোড় নিচ্ছে কি না। এই সন্দেহ থেকেই তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানান কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে, তবে বিষয়টি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাইরে অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহত শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরাণ এলাকায় থাকতেন এবং চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা; এক ছেলে থাকেন ফ্রান্সে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালালকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।ময়না তদন্ত শেষে গত বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বাদ আসর জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।