শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ
সিলেটের ইতিহাসে প্রথম পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার নিয়ে চলছে নানা সংশয়ও নানা আশংকা। এ দিকে দফায় দফায় তদন্তের নামে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচার নিয়ে হতাশা বেড়েছে শহীদ পরিবারে। বিচারের দীর্ধ সুত্রিতা নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটের সাংবাদিক সমাজও। ২ বছরে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে দেশে। ক্ষমতার মসনদে বসেছে নির্বাচিত সরকার। সেই সরকারের মেয়াদও ৬ মাস হতে চলেছে। কেবল শেষ হয়নি তুরাব হত্যার বিচার। এ মামলায় ২ বছরে অর্জন কেবল ২ জন আসামী গ্রেফতার। প্রকাশ্য পুলিশের গুলির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনো তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে আছে সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা কোর্টপয়েন্টের উত্তর পাশে ডায়বেটিক হাসপালের প্রধান গেইটের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলীতে নিহত হন দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের মো. তুরাব (এটিএম তুরাব)। এরপর কেটে গেছে ২ বছর। এই সময়ে এসএমপির কোতোয়ালী থানা, পি বি আই হয়ে মামলাটি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- আইসিটিতে। অপেক্ষা বাড়ছে বিচারের। মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ তুরাবের মা, স্বামী হত্যার বিচার দেখতে চান বিয়ের ৩ মাসের মাথায় প্রিয়জনকে হারানো স্ত্রী ও তুরাবের ভাই-বোনেরা।
সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৯ জুলাই বাদ জুমআ সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বিএনপি। তখন ন্যুনতম কোনো উত্তেজনা ছিলনা। নিত্যদিনের মতো সেদিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকগণ। পাশেই ছিল পুলিশের সশস্ত্র অবস্থান। হঠাৎই অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের মারমুখী আচরণে বদলে যায় পরিস্থিতি। উত্তপ্ত হয়ে উঠে কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। ঐ পুলিশের কিলিং মিশনের টার্গেটে পড়ে যান সাংবাদিক এটিএম তুরাব। পুলিশের ছুঁড়া ৯৮টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয় তুরাবের শরীরে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরী ভিত্তিতে সোবহানী ঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই আইসিইউ-তে থাকা অবস্থায় সাংবাদিক তুরাব সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
তুরাবের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ও সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, তুরাবের শরীরে ৯৮টি ছররা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিতে তার লিভার ও ফুসফুস আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মাত্র তিন মাস আগে লন্ডনি কন্যা বিয়ে করেছিলেন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। লন্ডন যাওয়ার সব প্রক্রিয়া এগিয়েও রেখেছিলেন। হয়তো কয়েক মাসের মধ্যে তার লন্ডন পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় তাকে।
এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়ে তার পরিবার। লন্ডনে থাকা সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী তানিয়া ইসলাম বিয়ের তিন মাসের মধ্যে হয়ে যান বিধবা। এখনো কাঁদেন তিনি। কারণ তখন দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় স্বামীর মরদেহ ও শেষ বিদায়ের দৃশ্য দেখতে পারেননি তিনি। সাংবাদিক তুরাব হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তুরাব হত্যা মামলায় এসএমপির তৎকালীন এডিসি সাদেক কাউসার দস্তগীর ও পুলিশ কনস্টেবল উজ্জল সিংহ কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামী এখনো বাইরে থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় মৃত্যুর ৫ দিনের মাথায় একই বছরের ২৪ জুলাই সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মো. আজরফ (জাবুর) এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় আট থেকে ১০ জন পুলিশকে অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু কোতোয়ালি থানা পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে। এরপর সেই বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেনের আদালতে এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন তার ভাই আবুল আহসান মো. আযরফ (জাবুর)। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
আদালত শুনানি শেষে মামলার এফআইআর করার নির্দেশ দেন। মামলায় ২নং আসামি এসএমপির তৎকালীন উপকমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩নং আসামি তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও ৪নং আসামি হন কোতোয়ালী থানার তৎকালীন সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, থানার তৎকালীন ওসি মঈন উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ফজলুর রহমান, থানার এসআই কাজি রিপন সরকার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পিযূষ কান্তি দে, যুবলীগ নেতা ও সিসিকের তৎকালীন গণসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিসিকের ৩২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, নগরের চালিবন্দর নেহার মঞ্জিলের বাসিন্দা শিবলু আহমদ (মো. রুহুল আমিন), এসএমপির কনস্টেবল সেলিম মিয়া, কনস্টেবল আজহার, কনস্টেবল ফিরোজ ও কনস্টেবল উজ্জ্বল। এছাড়া মামলায় ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।
এদিকে, দীর্ঘ দুই বছরে এই মামলায় দু’জন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনো পলাতক। গেল বছর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টে স্থানান্তর করা হয়। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের পর আইসিটি কোর্টের তদন্ত টীম দফায় দফায় সিলেট সফর করেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। গেল বছরের ২০ জুলাই প্রথমবারের মতো তুরাব হত্যা মামলার দুই আসামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চাওয়া হয় রিমান্ড।
গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে চার্জশীট দাখিল করার কথাও জানিয়েছিলেন আইসিটি কোর্টের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তাগণ। কিন্তু এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে আরও দুই বছর। সামনে চলে আসছে আরেক আগস্ট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টের একটি তদন্ত টীম গত সপ্তাহে সিলেট সফর করে গেছেন। তারা তুরাব হত্যা মামলার সাক্ষীদের সাথে কথাও বলছেন। এব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, আমরা তদন্তের কাজে সিলেটে এসেছি। তুরাব হত্যা মামলার বাদি ও সাক্ষীদের সাথে কথা বলেছি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার বাদী সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ (জাবুর) হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে আমার ভাইকে হত্যা করা হলো। শত শত ফুটেজ, নিউজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী থাকার পরও একের পর এক তদন্তের নামে কালক্ষেপনে আমরা বিচার নিয়ে হতাশ। প্রশাসন এখন পর্যন্ত মাত্র ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে কোন তৎপরতা না থাকার বিষয়টি দুঃখনজক। আমরা তুরাব হত্যার বিচার চাই।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুর কবরস্থানে গিয়ে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের তৎকালিন সিলেট ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। জিয়ারত শেষে শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা জরুরি। তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবী জোরদার করবো। এর বিচারের হতেই হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সার্থে তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত। আমরা জানিনা এই সরকার তুরাব হত্যার বিচার করবে কিনা। তবে শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন, পরিবারের খোঁজ খবর নেন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হঠাৎ উধাও হওয়ার ঘটনায় যে জল্পনার দানা বেঁধেছিল তার অবসান হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পিন্টু দাসসহ পরিবারের সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম।
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয় জানিয়ে এসআই বলেন, “গত দুদিন ধরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
“পরে ফটিকছড়ির একটি বাসা থেকে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।”
স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চাঁদপুরে নানা আলোচনা চলছিল। ১৯ অগাস্ট থেকে হঠাৎ তার মোবাইল ফোন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একই সময়ে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খররও প্রকাশ হয়। তাদের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।
এর মধ্যেই কয়েকজন ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও সোনা পাওনা থাকার দাবি করেন। এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।
পিন্টু দাসের বাড়ি মূল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। তিনি অনেক সময় ধরে চাঁদপুরে আছেন। এখানে তার আত্মীয়বাড়ি রয়েছে।
তিনি প্রথমে সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে শহরের আখন্দ মার্কেটে নিজেই দোকান দেন। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে পিন্টু দাসের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস আখন্দ মার্কেটে পাঁচ-ছয় মাস আগে দোকান দিয়েছেন। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করেছেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উধাও হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি এসআই গাজী কালাম।
তিনি বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”
রংপুর
মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেছেন, চার খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ
করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার
(২৮ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
নবাগত
পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমি এখানে ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। এই ঘটনা এবং
মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্নও আসবে, সে প্রশ্নগুলোর পেশাদারিত্বের
সাথে জবাব খুঁজে বের করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি।
এ
সময় তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গুরুত্বের
সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এই মামলা নিয়ে
সারাদেশে নানান রকম কথাবার্তা হচ্ছে। প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সুবিচার নিশ্চিত হয়।
আসামি
সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করেছে এ প্রসঙ্গে জানতে
চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমিও আপনাদের মত শুনেছি। আমি
রংপুরে গতকাল যোগদান করেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটা ক্রাইমসিন, সেটাকে সংগ্রহ করা আছে।
আরপিএমপি
কমিশনার আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায়
কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত
ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোন ক্লু আসলে জানাবেন আমরা তদন্ত করব। এটা পুলিশের কাজ, তবে সবার কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাহবুবুর
রশীদ বলেন, মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয় এটা দেশের সমস্যা। এই মুহূর্তে এটা
সামাজিক সমস্যা। আমি আজ সকালে আমার
কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি এবং তাদেরকে সময় দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে
একটা পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
রংপুর
নগরীতে একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে নতুন পুলিশ কমিশনারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে
কথা বলাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত;
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে
বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন পূজা চক্রবর্তী। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়ে এবং ছেলেকে ফোন করেন। সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) বোনের বাসার সামনে গিয়ে গেটে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে
বিষয়টি অবগত করে।
স্বজনদের
মাধ্যমে খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের
ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে
নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
রোববার
বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ
চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে আলোচিত এ মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।
দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ।
রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩ তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আব্দুর রশিদ ডিগ্রী কলেজ থেকে কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে। আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা। দেশের ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও।
ম্যারাথনে অংশ নেয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাথ পারভীন বলেন, এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয় একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
আয়োজকদের ভাষ্য—একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
তরুন রানার এলিন খান বলেন, একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া।পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়—গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।
তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো। একদিকে শরীরচর্চা, অন্যদিকে একটি জনপদকে নতুন করে চেনানোর প্রয়াস থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি।
একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান, তখন শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁও তাই এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়; ৩২ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।
ঠাকুরগাঁও রানারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”
পরে দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন l ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর অন্তুর্গত ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক ও বেআইনিভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ব্যাংকটিতে আওয়ামীপন্থীদের পুণবার্সন, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করা ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে হয়রানির মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যেই ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি দখলের অপচেষ্টা করছেন।
রাকাব সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত সভায় ব্যাংকের শতাধিক কর্মকর্তাদের সর্বসম্মতিতে ডিজিএম মো. জিয়াউদ্দিন আকবরকে আহবায়ক, এজিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকারকে সদস্য সচিব করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি করা হয়। ব্যাংকের অন্যান্য অফিসারের সুপারিশ ও সম্মতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটির আহবায়ক কর্তৃক ডিজিএম মো. মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে প্রধান কার্যালয়ের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে রাকাবের ১৮টি জোনের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
২০২৫ সালের ১৬ আগস্টে রাজশাহীর ম্যাংগো রিসোর্ট-এ কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি, হেড অফিস কমিটি এবং ১৮টি জোনের কমিটির সকল সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে রাকাব চত্বরে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ রাকাবের প্রধান কার্যালয়ে ইফতার মাহফিল ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মচারী সহ বিএনপির রাজশাহী-২ (পবা-মোহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাকাব চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আলী, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মরতুজা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নজরুল হুদা। আরো ছিলেন ব্যাংকটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, অংশীজন সহ প্রায় শহস্রাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ডিজিএম জিয়াউদ্দিন আকবর বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোষরদের দ্বারা বহু অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন রাকাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেই চিন্তার ফলশ্রুতিতে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে সকলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আড়ম্বড়পূর্ণভাবে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু তারপরও আওয়ামীলীগার দোসরদের অপচেষ্টা ও অপতৎপরতা থেমে থাকেনি।
তিনি বলেন, তারা উত্তরাঞ্চলের প্রাণ তথা কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের হৃদয়ের স্পন্দন খ্যাত রাকাবকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও পিছিয়ে পড়া ব্যাংক হিসেবে অকার্যকর করার জন্য নানান ষড়যন্ত্রে পুণরায় লিপ্ত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে (২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করে) তড়িঘড়ি করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি ভুয়া কমিটি গঠন করেন এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। যেখানে বহু কর্মকর্তারা জানেন-ই না, সেখানে তাদের নাম কিভাবে গেলো!
ব্যাংকটির বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যায়, রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজা, জিএম তাজ উদদিন আহম্মেদ, ডিজিএম মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম শাহিনুর ইসলাম সহ অনেকেই অন্যান্য অফিসারদের মুঠোফোনে ফোন করে আবার চা পানের অজুহাতে ডেকে তাদের জোরপূর্বক নতুন আওয়ামী কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। নতুন কমিটিতে যোগদান না করলে সকলকেই বদলি ও খারাপ এসিআর প্রদানের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। গোলাম মরতুজা, তাজ উদদিন, মিজান ও শাহিনুর এদের সকলের-ই আওয়ামী লীগের প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রদর্শন করে অতীতে নানা অপকর্ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন সহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান রাকাব সংশ্লিষ্টরা।
এবারে রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তার মন্তব্য মেলেনি।
রাকাব এ্যাসোসিয়েশনের কমিটির চক্রান্তের বিষয়ে অভিযোগকারীরা জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান কার্যালয়ের আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। লিখিত আবেদনে তিনি জানান যে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রধান কার্যালয় কমিটি নামে দুইটি কমিটি সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে আমার শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে প্রধান কার্যালয় কমিটির আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদান করালাম। অথচ, পরের মাসেই তিনি নিজেই নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ঘোষণা করে কমিটি দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেরাজ উদ্দিন মোল্লার ভাই পরিচয়ে গত ১৭ বছরে রাকাবের হেড অফিসে সাধারণ সেবা বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২০ আগষ্ট ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলামকে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর যুগ্ম আহবায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় সংগঠন পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকা এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহবায়ক পদ হতে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কারাদেশে উল্লেখ করা হয় যে, ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর সাংগঠনিক কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ, সংগঠনের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে কোন কর্ম সম্পাদন এমনকি রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে কোন কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবেন না। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর জয়পুরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের ঘনিষ্ঠজন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং রাকাব, বগুড়া জোনের জোনাল ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আস্থাভাজন হয়েছিলেন। ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি, নিয়াগ বাণিজ্য ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা রয়েছে।
গত ২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আগামী ২৯ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে সাধারণ সভা আহবানের বিজ্ঞপ্তি জারী করেন। ঠিক তার পরেরদিন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে তড়িঘড়ি করে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন নামের একটি কমিটি নিজেদের নামে দখলের অপপ্রচার ও অপচেষ্টা চালায়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যমান কমিটির আহবায়কের অনুমতি ছাড়াই এবং নির্বাচন বহির্ভূত ও বে-আইনীভাবে সৃষ্ট ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর গঠনতন্ত্রের ধারা-১৩(২)(ক), ১৫(ক), ১৮(ক)(খ), ১৯ এর বিরোধী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং প্রধান কায়ালয় কমিটি জাল, যোগ-সাজসী, প্রতারণামূলক গঠনতন্ত্র বিরোধী অবৈধ এবং বে-আইনী হওয়ায় তা অকার্যকর মর্মে অভিযোগ উঠেছে। আরো অভিযোগ উঠেছে যে, কমিটির সদস্যগণের কোন রুপ মতামত বা অনুমতি এবং সাধারণ সভা ছাড়াই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সৈয়দ খায়রুল ইসলাম বলেন, এনিয়ে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর নাম ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গ্রুপে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনসহ নামের একটি তালিকা প্রচারিত হচ্ছে। সকল সদস্যগণকে প্রচারিত এ ধরণের তালিকায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষক আন্দোলন এবং জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, ‘রাকাবের প্রতিষ্ঠা মূলত এই উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জন্যই হয়েছিল। বর্তমানেও এটি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বেশ ভালো কাজ করছে। তবে ব্যাংকের ভেতরের দ্বন্দ্বে কৃষকদের কোন ক্ষতি হোক, তা আমরা চাই না। যদি কেউ এমন অপতৎপরতা চালায়; তবে আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চারভাবে আওয়াজ তুলবো এবং প্রতিহত করবো। তিনি বলেন, রাকাব যেভাবে কৃষকদের সহযোগিতায় কাজ করছে, ঠিক সেইভাবেই কাজ করুক এটাই আমাদের কাম্য। ব্যাংকটির উন্নতি অটুট থাকুক এবং স্বার্থান্বেষী কূটকৌশলকারীরা পরাজিত হোক এই প্রত্যাশায় করি।
অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় দুই কোটি মূল্যবান নকল কনডম ও যৌন উত্তেজক ওষুধ। ছবি: সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ভুয়া সংবাদপত্রের সাইনবোর্ড ও সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) মোড়কজাতকরণের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ভুয়া পত্রিকা অফিসের আড়ালে পরিচালিত কারখানা থেকে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের বিপুল অবৈধ ও নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়।
জানা যায়, একই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ভবনটি সিলগালা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার শর্তে ভবনটির সিলগালা খুলে দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ নিয়ম না মেনে গোপনে পুনরায় যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম প্রস্তুত ও মোড়কজাতকরণের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এটি কোনো অনুমোদিত বা বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে অবৈধভাবে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের অধিকাংশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা হতো, ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছিল। তা ছাড়া মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এগুলো চরম জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছিল।
তিনি আরও জানান, অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত বিপুল মালামাল ট্রাকে লোড করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানের মূল অভিযুক্ত ও কর্ণধার শাহাদত হোসেন শান্তু ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শিক্ষার্থীকে কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয়।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার বিহারী লাল মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে দ্বিতীয় তলা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রহমত ইসলাম শৌচাগার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পথে বিএসসি শিক্ষক শাহ আলম তাকে বাইরে যাওয়ার কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয় বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় আকস্মিক আঘাত ও আতঙ্কে শিক্ষার্থী রহমত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায়।
খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়।
সমঝোতা অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থী রহমতের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাকে নতুন পোশাক দেওয়া হবে। এছাড়া তার ফরম পূরণসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ প্রধান শিক্ষক বহন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।