ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১১ মে, ২০২৬, সময় : ৭:৩২ এএম

পাবনার বেড়া পৌরসভার মৈত্রবাঁধা মহল্লার একটি বাড়িতে প্রায় দেড় দশক ধরে মে মাস এলেই ফুটছে দৃষ্টিনন্দন ‘মে ফ্লাওয়ার’। বছরের অন্য সময় গাছটির কোনো অস্তিত্ব চোখে না পড়লেও গ্রীষ্মের শুরুতে মাটি ভেদ করে বের হয় কচি ডাঁটা। এরপর ধীরে ধীরে গাছে ধরে লাল গোলাকার ফুল। এবারও ওই বাড়িতে পাঁচটি মে ফ্লাওয়ার ফুটেছে।


বাড়িটির মালিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক শিখা রাহা। তাঁর বাড়িতে ফুল দেখতে প্রায়ই কেউ না কেউ আসেন। অনেকে মুঠোফোনে ছবি তোলেন, কেউ আবার ফুলটির নাম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখান। উজ্জ্বল লাল রঙের গোলাকার গড়নের এই ফুল সহজেই সবার নজর কাড়ছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে আঙিনার পাশে মে ফ্লাওয়ার গাছ লাগানো হয়। এর পর থেকে প্রতিবছর মে মাস এলেই ফুল ফুটছে। তবে এই গাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ফুলের মৌসুম শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে পুরো গাছ শুকিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। বাইরে থেকে তখন গাছটির কোনো অস্তিত্ব দেখা যায় না। কিন্তু মাটির নিচে শিকড় জীবিত থাকে। পরবর্তী মৌসুমে আবারও সেই শিকড় থেকে নতুন করে গাছ জন্ম নেয় ও ফুল ফোটে।


শিখা রাহা বলেন, ‘১৫ বছর আগে শখের বশে মে ফ্লাওয়ার গাছ লাগিয়েছিলাম। তেমন কোনো যত্ন ছাড়াই প্রতিবছর ফুল হচ্ছে। অনেকেই ফুল দেখতে আসেন, ছবি তোলেন। তখন খুব ভালো লাগে। যেহেতু এই ফুলগাছের শিকড় বা কন্দ থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়, তাই প্রতিবছর অনেকেই আমার কাছ থেকে কন্দ নিয়ে লাগান।’


উদ্ভিদবিদদের তথ্যমতে, মে ফ্লাওয়ার মূলত কন্দজাতীয় একধরনের ফুলগাছ। এটি ফায়ার বল, ব্লাড লিলি বা গ্লোব লিলি নামেও পরিচিত। আফ্রিকাকে এ ফুলের আদি নিবাস ধরা হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও এটি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। সাধারণত গ্রীষ্মের শুরুতে মাটি ভেদ করে ডাঁটা বের হয় এবং মে মাসজুড়ে ফুল ফোটে। এই ফুল সাধারণত কন্দ বা শিকড়জাত অংশ থেকে জন্মায়। ফুল ও পাতা শুকিয়ে যাওয়ার পর মাটির নিচে থাকা কন্দ তুলে সংরক্ষণ করা যায়, আবার মাটিতেও রেখে দেওয়া যায়। বর্ষার আগমুহূর্তে বা গরমের শেষে হালকা ঝুরঝুরে মাটিতে কন্দ লাগালে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে কন্দ পুরোপুরি মাটির গভীরে পুঁতে না রেখে আংশিক ওপরে রাখাই ভালো। হালকা ছায়াযুক্ত ও পানি জমে না এমন জায়গায় এই গাছ ভালো জন্মে। তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি দিলেই চলে। যদিও এ গাছে বীজ হয়, তবে বীজ থেকে ফুল পেতে অনেক সময় লাগে। একবার কন্দ লাগালে প্রতিবছর মৌসুমে সেখান থেকেই নতুন গাছ বের হয়ে ফুল ফোটে।


বেড়ার মনজুর কাদের মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আবদুস সালাম জানান, এটি আফ্রিকান বংশোদ্ভূত একটি ফুল। গোলাকার এই ফুল দেখতে অনেকটা ফুটবলের মতো। প্রায় ২০০টি ছোট ফুল মিলে একটি বড় ফুলের আকার তৈরি হয়। এ কারণে একে বল লিলি বা ফুটবল লিলিও বলা হয়। সাধারণত মে মাসেই এই ফুল ফোটে এবং দুই সপ্তাহের মতো স্থায়ী থাকে।


মনজুর কাদের মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মে ফ্লাওয়ার বছরের অন্য সময় দেখা যায় না। মে মাসে ফুটলে পুরো পরিবেশ বদলে যায়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে কলা ব্যবসায়ী শ্বশুরকে বাজারে ডেকে নিয়ে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে মেয়ের জামাই। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জামালপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ (৬৫) জামালপুর গ্রামের মৃত আলকু মোড়লের পুত্র এবং হত্যাকারী মোজাম্মেল জামালপুরের মধ্যপাড়া গ্রামের নোয়াব আলীর পুত্র।


নিহতের পুত্র বিল্লাল জানান, সাত দিন আগে তার বোন শাহানাজকে মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেয় বোন জামাই মোজাম্মেল। শুক্রবার বিকেলে মোজাম্মেল কথা আছে বলে ফোন করে তার শ্বশুরকে জামালপুর বাজারে ডেকে নেয়। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মোজাম্মেল সাথে থাকা ব্রিফকেস থেকে কুড়াল বের করে আব্দুল মজিদের মাথায় কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মজিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নোভা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।


কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, মাথার পিছন দিকে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় আব্দুল মজিদকে হাসপাতালে নিয়ে এলে পরীক্ষা করে দেখতে পাই তিনি আগেই মারা গেছেন। 


কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত ও মামলা দায়েরের কার্যক্রম পক্রিয়াধীন আছে। হত্যাকারীকে আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ পিএম

সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণ গেছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। 


বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে সিলেটের দুটি হাসপাতালে ওই তিন শিশুর মৃত্যু হয় বলে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানিয়েছেন। মৃত পাঁচ মাস বয়সী উদ্ভব বিশ্বাস সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নকুল বিশ্বাসের ছেলে। অপরজন ১১ মাস বয়সী হুমায়ারা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা ছমির উদ্দিনের ছেলে। তারা শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।


এছাড়া নয় মাস ১১ দিন বয়সী আদিল সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা ফকরুল ইসলামের ছেলে। সে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। 


এদিকে, হাম পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫৬ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১২৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিলেটে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারানো ১৫১ জনের মধ্যে দশজনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২১ পিএম

দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে। তাঁদের কেউ একটি, কেউ দুই থেকে তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও উন্নয়ন কার্যক্রম দেখভাল করবেন।বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।


সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজারের দায়িত্ব। আর হুইপ জেকে গউছ পেয়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের দায়িত্ব।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থের অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 


সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। 


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন তাঁরা। প্রয়োজন হলে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটিতে নদীকেন্দ্রিক বিনোদন ও ভোজনরসিকদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করে যাত্রা শুরু করেছে একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ।


শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আসরের নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রেস্তোরাঁটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।উপজেলার ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকার নদীর পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ও মনোরম পরিবেশে নির্মিত এই ভাসমান রেস্তোরাঁটি স্থানীয়দের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।  রেস্তোরাঁটির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ এবং  উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা।অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা শেষে উপস্থিত অতিথিরা রেস্তোরাঁটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণপিপাসুদের নদীর আবহে মানসম্মত খাবার ও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই ভাসমান রেস্তোরাঁটি চালু করা হয়েছে। এর ফলে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বিনোদনের এক নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলো।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

কালো রঙের লম্বা কুর্তা–পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ। তাঁদের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। সামনে যাঁকে পাচ্ছেন, তাঁর দিকেই হঠাৎ বন্দুকটি তাক করে ধরছেন। রিকশাচালক থেকে পথচারী, এমনকি শিশুও বাদ যাচ্ছে না। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকছেন।


৩৫ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করছেন। তবে ভিডিওটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে এটি বানানো বলে দাবি করেছেন দুই তরুণের একজন।


ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের (সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক) বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা। ভিডিওর নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তাঁর সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা আরেক তরুণের নাম ইয়াসিন। তিনি মূলত লিমন তোহার ভিডিও ধারণে (ক্যামেরাম্যান) সহযোগিতা করেন।


ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বন্দুক হাতে ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তাঁর বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই লিমনের বলে জানান তিনি।


‘মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতেই ভিডিওটি’


লিমন তোহা প্রথম আলোকে বলেন, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখে তিনি এটি তৈরি করেন। তাঁর ভাষ্য, মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা। লিমন দাবি করেন, ‘এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। কিন্তু ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি। পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।’


লিমনের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি। সেসব নাটক ও সিনেমার কিছু দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মতো করে ভিডিও তৈরি করেন। পাকিস্তানি ভিডিও ও নাটকের আদলে তৈরি করা কনটেন্টে বেশি সাড়া পান। এরপর ওই ধরনের ভিডিও বানানোর প্রবণতা বাড়ে। নিজের কনটেন্ট নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট বলে দাবি করেন লিমন।


এভাবে মানুষকে বন্দুক হাতে ভয় দেখানো যায় কি না এমন প্রশ্নে লিমন তোহা বলেন, ‘এটা অপরাধ কি না, আমি জানি না। অন্য দেশে এমন ভিডিও অনেকেই করে। টিকটকে বিভিন্ন দেশের ট্রেন্ড দেখে ভিডিওটি আমি তৈরি করেছি। এটা শুধুই মজা করে তৈরি করা।’


‘পুলিশও দেখেছে’


ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুকটি খেলনা বলে দাবি করে লিমন বলেন, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। লিমন বলেন, ‘বন্দুক দেখে শুরুতে কেউ কেউ ভয় পেয়েছেন। পরে খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা মজাও করেছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। তারা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পেরেছে এটি খেলনা বন্দুক। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা পুলিশের রি–অ্যাকশনও ধারণ করেছিলাম, তবে সেটি ঠিকমতো না আসায় ফেসবুকে ছাড়া হয়নি।’


ওই দুই তরুণের বাড়ি বন্দর থানার মধ্যে পড়েছে। তবে ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মধ্যে।


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আমাকে কেউ জানায়নি অথবা কেউ অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করেন। তাঁরা কিংবা পার্ক কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি। আমরা খোঁজ নেব। যদি সংশ্লিষ্টটা থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আইন কী বলে


ভিডিওটি বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন আইনবিশেজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এটি পুরোপুরি আইনি বিষয়। কাউকে যদি কোনো ধরনের টুল ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয়, তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ; সেটা খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক কিংবা ভিডিও তৈরি করার উদ্দেশ্যে হোক। এখানে দুটি বিষয়—প্রথমটি অস্ত্র দিয়ে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে, প্যানিক তৈরি করা হচ্ছে। এটা পুরোপুরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দ্বিতীয়ত, ওই ভিডিও, অর্থাৎ মানুষের প্যানিক তৈরির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মানহানি করা হচ্ছে। এটা সাইবার সিকিউরিটি আইনের আওতায় পড়ে।

সর্বশেষ সব খবর

নওশাদ জমির

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।


জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির বিধি অনুযায়ী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে কমিটিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।


সংসদীয় নথি সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এতে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে চেয়ারম্যান এবং আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।


কমিটির সদস্যরা হলেন—আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসন-৮-এর সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর আবদুল লতিফ।


সংসদীয় নথিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী কমিটির গঠন, কার্যাবলি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।


আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি ও পর্যালোচনায় এ স্থায়ী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর