রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান এক বছর ১১ মাস অর্থাৎ ২৩ মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িত ছিলো সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পটপরিবর্তনের পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হতে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. শহিদা আক্তার বানু ২৫ আগস্ট হতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আ.ত.ম মকছুদার রহমানকে (দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন রংপুরের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান। মাকছুদার রহমান ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল অবসরে গেলে কিছুদিন সিনিয়র শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ প্রতিষ্ঠানটির অফিস কক্ষে সিনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ চলতি বছরের ১৮ মে এক পত্রের মাধ্যমে ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ হতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে দায়িত্বে পুনরায় বহাল করেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওই পত্র অনুযায়ী গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার স্মারকমূলে অধ্যক্ষ শাহজাহান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় উক্ত শিক্ষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয়পদে বহাল হওয়ায় অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বীয়পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মোস্তফা জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি।
তবে ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা স্কুলের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের দাবি, অধ্যক্ষ শাহজাহান প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত অবস্থায় আছেন। কোন মিটিংয়েই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাকডেটে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে বরখাস্ত দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো তাকে পুনর্বহাল করেছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ। ম্যানেজিং কমিটির মতামত না নিয়ে একক ক্ষমতাবলে তিনি অধ্যক্ষ শাহজাহানকে পুনর্বহাল করেছেন।
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করেই অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত বেতন সাবমিট করে নাই। কোনো কারণ ছাড়াই বেতন বন্ধ করে দিয়ে এটিকে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি অধ্যক্ষ শাহজাহান।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের সারে তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা স্বেচ্ছায় ছুটি ছাড়াই আসেনি প্রতিষ্ঠানে। ক্লাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাড়িতে চলে গেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, গত তিন চার মাস থেকে স্কুলে ক্লাস ভালভাবে হচ্ছে না। আমরা শুনেছি আমাদের যে অধ্যক্ষ রয়েছেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি তো গত দুই বছর থেকেই স্কুলেই আসে না। শিক্ষকরাও আসে, আসে না।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, অনেকে উপবৃত্তির টাকা পেলেও আমরা উপবৃত্তির টাকা পাইনি। এজন্য স্যারদের কাছে গিয়েছিলাম। তারা বলছেন কলেজের অধ্যক্ষ পাসওয়ার্ড নিয়ে রাখার কারণে তারা সাবমিট করতে পারে নাই। আর অধ্যক্ষ স্কুলে আসে না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জুলি বলেন, অধ্যক্ষ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক গত দুই বছর থেকে প্রতিষ্ঠানে আসেন না। স্যার ম্যাডাম এর যখন যার ইচ্ছা আসে যায় তেমন একটা ক্লাস হয় না আমাদের তাই আমরাও দুপুর হলেই চলে যাই। অনেকে আবার স্কুলেই আসে না।
সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ বলেন, ডিসি অফিসের মিটিংয়ে আমরা যখন যাই। তখন এডিসি স্যার উপস্থিতির স্বাক্ষর নেন। দুই একটা কথা বলি মিটিং শেষ করেন। পরবর্তীতে রেজুলেশনে উনি কি লেখেন, না লেখেন আমরা কিছুই জানি না। যে ১৬ তারিখের মিটিংয়ের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে তারিখে গভর্নিং বডির কোন মিটিং হয়নি। তার আগে ১২ তারিখ মিটিং হয়েছে। কিন্তু সেদিন কোনো ডিসিশন হয়নি। অধ্যক্ষকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, কবে বহাল করা হয়েছে আমরা কিছুই জানি নাহ।
সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, অধ্যক্ষের বরখাস্ত হওয়া এবং বহাল হওয়ার বিষয়টি আমরা জানি না। মিটিংয়ের পরে কি লিখেছে সেটাও জানি না।
সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ শাহজাহান স্যার এখনো অনুপস্থিত। উনি আসেন না। উনাকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান বলেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর মিনিস্ট্রি অডিটের সময় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চলতি বছরের ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে পাঠানো এক পত্রে জানতে পারি আমাকে অব্যাহতি প্রদান করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এরপরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করে অনুপস্থিত থেকেই এমপিওসহ সকল ধরনের পাসওয়ার্ড নিজের কাছে নিয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান আমার ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও বেতন সাবমিট করে নাই।
গত ২ মাস থেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার বেতন বন্ধ করে রাখছে অনুপস্থিত থাকা অধ্যক্ষ। আজ পর্যন্ত আমি জানি না কি কারণে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমি কোন সমাধান পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও অনুপস্থিত অধ্যক্ষের কাছে পাসওয়ার্ড থাকায় ষষ্ঠ, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ফরম যথাসময়ে সাবমিট করতে না পারায় ২০০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হয়েছে। পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পরে একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুপস্থিত অধ্যক্ষ শাহজাহান সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের নামে একটি নোটিশ ইস্যু করে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে আসছেন না। ক্লাসগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না গত দুই মাস থেকেই।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। মোস্তফা জামান মুকুল মাস্টার হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখে। সেখানে আমার আস্থাভাজন কোনো লোক নেই। আমি চাকরি করি, সবাই আমার লোক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান মুকুলের বেতন কেনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন আমার বিলটা বন্ধ ছিলো, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বিল প্রদানের আদেশ প্রদান করার পরেও আমার বিল না করায় মন্ত্রণালয় মোস্তফা জামান মুকুলের বিল বন্ধ করে দিছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কেন হলো না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মোস্তফা মাস্টার উপবৃত্তির ফরম তুলে নিজের কাছে রাখায় উপবৃত্তি ফরম সাবমিট করা সম্ভব হয়নি। এজন্য বাচ্চাদের উপবৃত্তি হয়নি। এখানে আমার কোন অপরাধ নেই। প্রতিষ্ঠানটা নষ্ট করি ফেলছে মুকুল মাস্টারসহ কিছু স্থানীয়রা।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন জানান, সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনার জন্য দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে স্বীয় পদে বহাল করা হয়। যদি প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে থাকে সেটি আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তাকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিবো। অবশ্যই নিয়মিত অফিস করতে হবে।
এনায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন উপবৃত্তি পায়নি। এর পিছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল জানান, আমি কয়েকদিন থেকে এডিসি রাজস্ব স্যারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আগের এডিসি স্যার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু বলতে পারতো। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ছবি : সংগৃহীত
কালো রঙের লম্বা কুর্তা–পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ। তাঁদের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। সামনে যাঁকে পাচ্ছেন, তাঁর দিকেই হঠাৎ বন্দুকটি তাক করে ধরছেন। রিকশাচালক থেকে পথচারী, এমনকি শিশুও বাদ যাচ্ছে না। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকছেন।
৩৫ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করছেন। তবে ভিডিওটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে এটি বানানো বলে দাবি করেছেন দুই তরুণের একজন।
ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের (সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক) বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা। ভিডিওর নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তাঁর সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা আরেক তরুণের নাম ইয়াসিন। তিনি মূলত লিমন তোহার ভিডিও ধারণে (ক্যামেরাম্যান) সহযোগিতা করেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বন্দুক হাতে ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তাঁর বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই লিমনের বলে জানান তিনি।
‘মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতেই ভিডিওটি’
লিমন তোহা প্রথম আলোকে বলেন, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখে তিনি এটি তৈরি করেন। তাঁর ভাষ্য, মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা। লিমন দাবি করেন, ‘এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। কিন্তু ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি। পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।’
লিমনের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি। সেসব নাটক ও সিনেমার কিছু দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মতো করে ভিডিও তৈরি করেন। পাকিস্তানি ভিডিও ও নাটকের আদলে তৈরি করা কনটেন্টে বেশি সাড়া পান। এরপর ওই ধরনের ভিডিও বানানোর প্রবণতা বাড়ে। নিজের কনটেন্ট নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট বলে দাবি করেন লিমন।
এভাবে মানুষকে বন্দুক হাতে ভয় দেখানো যায় কি না এমন প্রশ্নে লিমন তোহা বলেন, ‘এটা অপরাধ কি না, আমি জানি না। অন্য দেশে এমন ভিডিও অনেকেই করে। টিকটকে বিভিন্ন দেশের ট্রেন্ড দেখে ভিডিওটি আমি তৈরি করেছি। এটা শুধুই মজা করে তৈরি করা।’
‘পুলিশও দেখেছে’
ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুকটি খেলনা বলে দাবি করে লিমন বলেন, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। লিমন বলেন, ‘বন্দুক দেখে শুরুতে কেউ কেউ ভয় পেয়েছেন। পরে খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা মজাও করেছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। তারা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পেরেছে এটি খেলনা বন্দুক। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা পুলিশের রি–অ্যাকশনও ধারণ করেছিলাম, তবে সেটি ঠিকমতো না আসায় ফেসবুকে ছাড়া হয়নি।’
ওই দুই তরুণের বাড়ি বন্দর থানার মধ্যে পড়েছে। তবে ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মধ্যে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আমাকে কেউ জানায়নি অথবা কেউ অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করেন। তাঁরা কিংবা পার্ক কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি। আমরা খোঁজ নেব। যদি সংশ্লিষ্টটা থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আইন কী বলে
ভিডিওটি বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন আইনবিশেজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এটি পুরোপুরি আইনি বিষয়। কাউকে যদি কোনো ধরনের টুল ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয়, তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ; সেটা খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক কিংবা ভিডিও তৈরি করার উদ্দেশ্যে হোক। এখানে দুটি বিষয়—প্রথমটি অস্ত্র দিয়ে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে, প্যানিক তৈরি করা হচ্ছে। এটা পুরোপুরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দ্বিতীয়ত, ওই ভিডিও, অর্থাৎ মানুষের প্যানিক তৈরির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মানহানি করা হচ্ছে। এটা সাইবার সিকিউরিটি আইনের আওতায় পড়ে।
নওশাদ জমির
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির বিধি অনুযায়ী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে কমিটিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সংসদীয় নথি সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এতে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে চেয়ারম্যান এবং আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন—আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসন-৮-এর সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর আবদুল লতিফ।
সংসদীয় নথিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী কমিটির গঠন, কার্যাবলি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি ও পর্যালোচনায় এ স্থায়ী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার বহুতি চারা বটতলা এলাকায় আজ শুক্রবার ভোর চারটার দিকে এক মর্মান্তিক সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশা বহুতি চারা বটতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় আহত আরও একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে পড়ে যায় গাঁজাবাহী একটি মাইক্রোবাস। ক্রেন দিয়ে পুকুর থেকে মাইক্রোবাসটি তোলার পর ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে কসবা থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন ভোররাতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামিমের নেতৃত্বে সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস পুলিশের অভিযানের এলাকায় প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পুলিশ গাড়িটি থামার সংকেত দিলে চালক না থেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে।
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়কে ঢুকে পড়ে। খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি একটি পুকুরে পড়ে যায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-০৭৪০।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাইক্রোবাসে থাকা পাচারকারী ও চালক সাঁতরে পালিয়ে যায়। পুকুরে পড়ার পর মাইক্রোবাস থেকে গাঁজার প্যাকেট বের হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। পরে ক্রেন এনে মাইক্রোবাসটি পুকুর থেকে তোলা হয়। এ সময় পানিতে ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাইক্রোবাস ও গাঁজা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও চালক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করলে পালানোর সময় খিদিরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে ক্রেন এনে গাড়ি ও গাড়িতে থাকা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হঠাৎ উধাও হওয়ার ঘটনায় যে জল্পনার দানা বেঁধেছিল তার অবসান হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পিন্টু দাসসহ পরিবারের সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম।
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয় জানিয়ে এসআই বলেন, “গত দুদিন ধরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
“পরে ফটিকছড়ির একটি বাসা থেকে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।”
স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চাঁদপুরে নানা আলোচনা চলছিল। ১৯ অগাস্ট থেকে হঠাৎ তার মোবাইল ফোন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একই সময়ে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খররও প্রকাশ হয়। তাদের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।
এর মধ্যেই কয়েকজন ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও সোনা পাওনা থাকার দাবি করেন। এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।
পিন্টু দাসের বাড়ি মূল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। তিনি অনেক সময় ধরে চাঁদপুরে আছেন। এখানে তার আত্মীয়বাড়ি রয়েছে।
তিনি প্রথমে সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে শহরের আখন্দ মার্কেটে নিজেই দোকান দেন। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে পিন্টু দাসের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস আখন্দ মার্কেটে পাঁচ-ছয় মাস আগে দোকান দিয়েছেন। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করেছেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উধাও হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি এসআই গাজী কালাম।
তিনি বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”
রংপুর
মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেছেন, চার খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ
করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার
(২৮ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
নবাগত
পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমি এখানে ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। এই ঘটনা এবং
মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্নও আসবে, সে প্রশ্নগুলোর পেশাদারিত্বের
সাথে জবাব খুঁজে বের করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি।
এ
সময় তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গুরুত্বের
সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এই মামলা নিয়ে
সারাদেশে নানান রকম কথাবার্তা হচ্ছে। প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সুবিচার নিশ্চিত হয়।
আসামি
সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করেছে এ প্রসঙ্গে জানতে
চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমিও আপনাদের মত শুনেছি। আমি
রংপুরে গতকাল যোগদান করেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটা ক্রাইমসিন, সেটাকে সংগ্রহ করা আছে।
আরপিএমপি
কমিশনার আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায়
কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত
ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোন ক্লু আসলে জানাবেন আমরা তদন্ত করব। এটা পুলিশের কাজ, তবে সবার কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাহবুবুর
রশীদ বলেন, মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয় এটা দেশের সমস্যা। এই মুহূর্তে এটা
সামাজিক সমস্যা। আমি আজ সকালে আমার
কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি এবং তাদেরকে সময় দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে
একটা পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
রংপুর
নগরীতে একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে নতুন পুলিশ কমিশনারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে
কথা বলাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত;
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে
বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন পূজা চক্রবর্তী। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়ে এবং ছেলেকে ফোন করেন। সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) বোনের বাসার সামনে গিয়ে গেটে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে
বিষয়টি অবগত করে।
স্বজনদের
মাধ্যমে খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের
ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে
নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
রোববার
বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ
চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে আলোচিত এ মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।