• প্রকাশ : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

ময়মনসিংহের শিল্পঘন ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও আধুনিক পুলিশিংয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসতিয়াক আহমেদ।


ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে তার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যাত্রীসেবায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন, যা স্থানীয় জনজীবন, পরিবহন খাত এবং সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চাপ সামলানো এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সক্রিয়তা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতারই পরিচায়ক নয়, বরং মানবিক পুলিশিংয়ের এক বাস্তব প্রতিফলন।


এই ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ভরাডোবা হাইওয়ে থানা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে ভালুকা পৌর সদরের কাঁঠালী বাগরাপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার জব্দ এবং এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


ভরাডোবা হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আগের তুলনায় মহাসড়কের যানযট প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সময়ে প্রায় ৪৫০ টির বেশি অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে কয়েক শতাধিক যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে এবং যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হয়েছে।  


  সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েছিলেন ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার পর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা খুব দ্রুত এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের এই মানবিকতায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।” তার অভিজ্ঞতা যেন একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতীক, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতা হয়ে উঠছে কেন্দ্রবিন্দু।


একই সড়কের নিয়মিত চালক শফিকুল ইসলাম জানান, “আগে এই রাস্তায় ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। এখন পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়, সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়ায় এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে।”


ভালুকার স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “আগে প্রায়ই দুর্ঘটনা বা যানজটের কারণে আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক থাকছে।”


নারী ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মী নাসরিন আক্তার বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে আগে ভয় লাগতো। এখন রাস্তার পাশে পুলিশের উপস্থিতি দেখলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত লাগে।” রাতে একাকী চলাচলকারী নারী যাত্রীদের সহায়তা এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মতো উদ্যোগ পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান। ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার সদস্যরা নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যান চলাচলের কারণে যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।


সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবতায় অনেক সময় তা উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগের ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবৈধ থ্রি-হুইলারের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে, যা দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলকে আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ করছে। একই সঙ্গে চালকদের বিকল্প ফিডার রোড বা স্থানীয় সড়ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জীবিকা ও আইনের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় থাকে।


তবে ইতিবাচক অগ্রগতির মাঝেও কিছু কাঠামোগত ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শিল্পঘন এই অঞ্চলে ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং মাঝে মাঝে অবৈধ যান চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সময় সড়কের নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সীমিত জনবল দিয়ে দীর্ঘ মহাসড়ক তদারকি করা হাইওয়ে পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।


কিছু সাধারণ যাত্রীর মতে, উন্নতির ধারা থাকলেও আরও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসযাত্রী বলেন, “অনেক জায়গায় এখনো গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো মানা হয় না। মাঝে মাঝে পুলিশ না থাকলে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”


ওসি ইসতিয়াক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ সেবা দিতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সড়ককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।


চলমান এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে আরও টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার, সিগন্যালিং ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এর পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সড়কের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্যভিত্তিক অভিযান, গোপন সংবাদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ মহাসড়ক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক পুলিশিং কেবল কঠোরতা নয় বরং মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের সমন্বয়। প্রশংসা ও সমালোচনা উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এর মূল চাবিকাঠি।


একটি ব্যস্ত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন কখনোই সহজ নয়। তবুও সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও যখন সেবা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটে, তখনই জন্ম নেয় আস্থা। ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় সেই আস্থার ভিত্তি নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলছেন ওসি ইসতিয়াক আহমেদ যা নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণে এক অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ হয়ে থাকছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

কালো রঙের লম্বা কুর্তা–পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ। তাঁদের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। সামনে যাঁকে পাচ্ছেন, তাঁর দিকেই হঠাৎ বন্দুকটি তাক করে ধরছেন। রিকশাচালক থেকে পথচারী, এমনকি শিশুও বাদ যাচ্ছে না। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকছেন।


৩৫ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করছেন। তবে ভিডিওটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে এটি বানানো বলে দাবি করেছেন দুই তরুণের একজন।


ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের (সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক) বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা। ভিডিওর নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তাঁর সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা আরেক তরুণের নাম ইয়াসিন। তিনি মূলত লিমন তোহার ভিডিও ধারণে (ক্যামেরাম্যান) সহযোগিতা করেন।


ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বন্দুক হাতে ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তাঁর বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই লিমনের বলে জানান তিনি।


‘মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতেই ভিডিওটি’


লিমন তোহা প্রথম আলোকে বলেন, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখে তিনি এটি তৈরি করেন। তাঁর ভাষ্য, মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা। লিমন দাবি করেন, ‘এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। কিন্তু ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি। পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।’


লিমনের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি। সেসব নাটক ও সিনেমার কিছু দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মতো করে ভিডিও তৈরি করেন। পাকিস্তানি ভিডিও ও নাটকের আদলে তৈরি করা কনটেন্টে বেশি সাড়া পান। এরপর ওই ধরনের ভিডিও বানানোর প্রবণতা বাড়ে। নিজের কনটেন্ট নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট বলে দাবি করেন লিমন।


এভাবে মানুষকে বন্দুক হাতে ভয় দেখানো যায় কি না এমন প্রশ্নে লিমন তোহা বলেন, ‘এটা অপরাধ কি না, আমি জানি না। অন্য দেশে এমন ভিডিও অনেকেই করে। টিকটকে বিভিন্ন দেশের ট্রেন্ড দেখে ভিডিওটি আমি তৈরি করেছি। এটা শুধুই মজা করে তৈরি করা।’


‘পুলিশও দেখেছে’


ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুকটি খেলনা বলে দাবি করে লিমন বলেন, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। লিমন বলেন, ‘বন্দুক দেখে শুরুতে কেউ কেউ ভয় পেয়েছেন। পরে খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা মজাও করেছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। তারা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পেরেছে এটি খেলনা বন্দুক। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা পুলিশের রি–অ্যাকশনও ধারণ করেছিলাম, তবে সেটি ঠিকমতো না আসায় ফেসবুকে ছাড়া হয়নি।’


ওই দুই তরুণের বাড়ি বন্দর থানার মধ্যে পড়েছে। তবে ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মধ্যে।


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আমাকে কেউ জানায়নি অথবা কেউ অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করেন। তাঁরা কিংবা পার্ক কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি। আমরা খোঁজ নেব। যদি সংশ্লিষ্টটা থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আইন কী বলে


ভিডিওটি বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন আইনবিশেজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এটি পুরোপুরি আইনি বিষয়। কাউকে যদি কোনো ধরনের টুল ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয়, তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ; সেটা খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক কিংবা ভিডিও তৈরি করার উদ্দেশ্যে হোক। এখানে দুটি বিষয়—প্রথমটি অস্ত্র দিয়ে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে, প্যানিক তৈরি করা হচ্ছে। এটা পুরোপুরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দ্বিতীয়ত, ওই ভিডিও, অর্থাৎ মানুষের প্যানিক তৈরির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মানহানি করা হচ্ছে। এটা সাইবার সিকিউরিটি আইনের আওতায় পড়ে।


নওশাদ জমির

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।


জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির বিধি অনুযায়ী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে কমিটিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।


সংসদীয় নথি সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এতে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে চেয়ারম্যান এবং আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।


কমিটির সদস্যরা হলেন—আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসন-৮-এর সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর আবদুল লতিফ।


সংসদীয় নথিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী কমিটির গঠন, কার্যাবলি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।


আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি ও পর্যালোচনায় এ স্থায়ী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

সিরাজগঞ্জ সদর থানার বহুতি চারা বটতলা এলাকায় আজ শুক্রবার ভোর চারটার দিকে এক মর্মান্তিক সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশা বহুতি চারা বটতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।


উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় আহত আরও একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে পড়ে যায় গাঁজাবাহী একটি মাইক্রোবাস। ক্রেন দিয়ে পুকুর থেকে মাইক্রোবাসটি তোলার পর ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে কসবা থানা পুলিশ। 


শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন ভোররাতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামিমের নেতৃত্বে সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস পুলিশের অভিযানের এলাকায় প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পুলিশ গাড়িটি থামার সংকেত দিলে চালক না থেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে।


পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়কে ঢুকে পড়ে। খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি একটি পুকুরে পড়ে যায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-০৭৪০।


পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাইক্রোবাসে থাকা পাচারকারী ও চালক সাঁতরে পালিয়ে যায়। পুকুরে পড়ার পর মাইক্রোবাস থেকে গাঁজার প্যাকেট বের হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। পরে ক্রেন এনে মাইক্রোবাসটি পুকুর থেকে তোলা হয়। এ সময় পানিতে ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাইক্রোবাস ও গাঁজা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।


কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও চালক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করলে পালানোর সময় খিদিরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে ক্রেন এনে গাড়ি ও গাড়িতে থাকা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হঠাৎ উধাও হওয়ার ঘটনায় যে জল্পনার দানা বেঁধেছিল তার অবসান হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পিন্টু দাসসহ পরিবারের সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম।


শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয় জানিয়ে এসআই বলেন, “গত দুদিন ধরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।


“পরে ফটিকছড়ির একটি বাসা থেকে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।”


স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চাঁদপুরে নানা আলোচনা চলছিল। ১৯ অগাস্ট থেকে হঠাৎ তার মোবাইল ফোন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একই সময়ে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খররও প্রকাশ হয়। তাদের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।


এর মধ্যেই কয়েকজন ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও সোনা পাওনা থাকার দাবি করেন। এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।


পিন্টু দাসের বাড়ি মূল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। তিনি অনেক সময় ধরে চাঁদপুরে আছেন। এখানে তার আত্মীয়বাড়ি রয়েছে।


তিনি প্রথমে সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে শহরের আখন্দ মার্কেটে নিজেই দোকান দেন। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে পিন্টু দাসের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।


ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস আখন্দ মার্কেটে পাঁচ-ছয় মাস আগে দোকান দিয়েছেন। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করেছেন।


তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উধাও হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।


কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি এসআই গাজী কালাম।


তিনি বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেছেন, চার খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কথা জানান।

 

নবাগত পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমি এখানে ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। এই ঘটনা এবং মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্নও আসবে, সে প্রশ্নগুলোর পেশাদারিত্বের সাথে জবাব খুঁজে বের করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি।

 

সময় তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এই মামলা নিয়ে সারাদেশে নানান রকম কথাবার্তা হচ্ছে। প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সুবিচার নিশ্চিত হয়।

 

আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করেছে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমিও আপনাদের মত শুনেছি। আমি রংপুরে গতকাল যোগদান করেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটা ক্রাইমসিন, সেটাকে সংগ্রহ করা আছে।

 

আরপিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোন ক্লু আসলে জানাবেন আমরা তদন্ত করব। এটা পুলিশের কাজ, তবে সবার কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

মাহবুবুর রশীদ বলেন, মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয় এটা দেশের সমস্যা। এই মুহূর্তে এটা সামাজিক সমস্যা। আমি আজ সকালে আমার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি এবং তাদেরকে সময় দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখতে পারবেন।

 

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে নতুন পুলিশ কমিশনারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রসঙ্গত; শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন পূজা চক্রবর্তী। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়ে এবং ছেলেকে ফোন করেন। সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) বোনের বাসার সামনে গিয়ে গেটে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে।

 

স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।

 

রোববার বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

বর্তমানে আলোচিত মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।