যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ রুহুল আমিন রেজা
পটুয়াখালী জেলা যুবদলের নতুন কমিটি খুব শীগ্রই প্রকাশিত হবে, এ কমিটিতে যুবদলের সভাপতি হওয়ার দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সদ্য সাবেক কমিটির ১ নং সহ-সভাপতি ও বিজ্ঞ স্পেশাল পিপি জনাব অ্যাডভোকেট মোঃ রুহুল আমিন রেজা।
অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রেজা ১৯৮৪ সালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বৃহত্তর কমলাপুর (যাহা বর্তমানে ভুরিয়া ও কমলাপুর দুটি ইউনিয়ন) ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার মধ্যে দিয়ে তার রাজনীতিক কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে কমলাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সালে কমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক হন।
১৯৯৩ সালে তিনি পটুয়াখালী জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক এর দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে ১৯৯৪-১৯৯৭ এবং ২০০১-২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সততার সাথে পটুয়াখালী সদর থানা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তিনি পটুয়াখালী সদর থানা যুবদলের আহবায়ক ও পরবর্তিতে পটুয়াখালী জেলা যুবদলের ১নং সহ-সভাপতির দায়িত্ব সততা নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।তার রাজনৈতিক সততার আরেকটি দলিল তিনি কলাপাড়া পৌর ও থানা যুবদল, মহিপুর থানা যুবদল, কুয়াকাটা পৌর যুবদল কমিটি গঠনের টিম লিডার ছিলেন। তিনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে সম্মেলন করে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করেন।
তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পাস করেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, এল এল বি সম্পন্ন করে দীর্ঘ ২৬ বছর পটুয়াখালী জেলা বারে ওকালতি করে এখন একজন সিনিয়র আইনজীবী ও পটুয়াখালী স্পেশাল দায়রাজজ আদালতের পিপি হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রেজা শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগ আমলে তিনি চাকরি পাননি। ২০০৬-২০২৪ এর ৫ আগস্ট এর আগ পর্যন্ত তিনি অসংখ্য বার আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছেন। তার বাড়িতে ও তার পরিবারের উপর এবং তার পৈত্রিক ব্যবসায় একাধিক বার হামলা হয়েছে শুধুমাত্র তার বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে। বিএনপির দুঃসময়ে হরতাল অবরোধ এ পটুয়াখালীতে তিনি অপরিসীম ভূমিকা পালন করেন, এতে তাকে একাধিকবার পুলিশী হয়রানি হতে হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন বিজ্ঞ আইনজীবী।
২০০০ থেকে ২০২৬ সন দীর্ঘ ২৬ বছর বিএনপির শত শত নেতাকর্মীর রাজনৈতিক মামলা তিনি বিনা পয়সায়, এমনকি নিজ খরচে পরিচালনা করেছেন। জনাব এডভোকেট রুহুল আমিন রেজা খুবই সৎ এবং দয়াবান একজন মানুষ। তিনি সব সময়ই গরিব-দুঃখী মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকেন। বিগত দিনে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে পটুয়াখালীর রাজপথে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির একজন যুবনেতা।
পটুয়াখালীর যুবদলের অনেক তৃণমূলের কর্মীরা জানান, জনাব অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রেজার মতো সৎ ও যোগ্য মানুষ যদি পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন তাহলে পটুয়াখালী জেলা যুবদল সাংগঠনিক ভাবে অনেক শক্তিশালী হবে। পটুয়াখালী জেলা হবে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত একটি জেলা, কারণ তিনি কোনো সন্ত্রাসী ও মাদকব্যাবসায়ীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় না। আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাই পটুয়াখালী জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে জনাব অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রেজা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হউক।
নওশাদ জমির
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির বিধি অনুযায়ী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে কমিটিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সংসদীয় নথি সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এতে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে চেয়ারম্যান এবং আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন—আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসন-৮-এর সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর আবদুল লতিফ।
সংসদীয় নথিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী কমিটির গঠন, কার্যাবলি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি ও পর্যালোচনায় এ স্থায়ী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার বহুতি চারা বটতলা এলাকায় আজ শুক্রবার ভোর চারটার দিকে এক মর্মান্তিক সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশা বহুতি চারা বটতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় আহত আরও একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে পড়ে যায় গাঁজাবাহী একটি মাইক্রোবাস। ক্রেন দিয়ে পুকুর থেকে মাইক্রোবাসটি তোলার পর ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে কসবা থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন ভোররাতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামিমের নেতৃত্বে সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস পুলিশের অভিযানের এলাকায় প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পুলিশ গাড়িটি থামার সংকেত দিলে চালক না থেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে।
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়কে ঢুকে পড়ে। খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি একটি পুকুরে পড়ে যায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-০৭৪০।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাইক্রোবাসে থাকা পাচারকারী ও চালক সাঁতরে পালিয়ে যায়। পুকুরে পড়ার পর মাইক্রোবাস থেকে গাঁজার প্যাকেট বের হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। পরে ক্রেন এনে মাইক্রোবাসটি পুকুর থেকে তোলা হয়। এ সময় পানিতে ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাইক্রোবাস ও গাঁজা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও চালক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করলে পালানোর সময় খিদিরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে ক্রেন এনে গাড়ি ও গাড়িতে থাকা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হঠাৎ উধাও হওয়ার ঘটনায় যে জল্পনার দানা বেঁধেছিল তার অবসান হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পিন্টু দাসসহ পরিবারের সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম।
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয় জানিয়ে এসআই বলেন, “গত দুদিন ধরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
“পরে ফটিকছড়ির একটি বাসা থেকে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।”
স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চাঁদপুরে নানা আলোচনা চলছিল। ১৯ অগাস্ট থেকে হঠাৎ তার মোবাইল ফোন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একই সময়ে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খররও প্রকাশ হয়। তাদের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।
এর মধ্যেই কয়েকজন ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও সোনা পাওনা থাকার দাবি করেন। এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।
পিন্টু দাসের বাড়ি মূল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। তিনি অনেক সময় ধরে চাঁদপুরে আছেন। এখানে তার আত্মীয়বাড়ি রয়েছে।
তিনি প্রথমে সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে শহরের আখন্দ মার্কেটে নিজেই দোকান দেন। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে পিন্টু দাসের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস আখন্দ মার্কেটে পাঁচ-ছয় মাস আগে দোকান দিয়েছেন। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করেছেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উধাও হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি এসআই গাজী কালাম।
তিনি বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”
রংপুর
মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেছেন, চার খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ
করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার
(২৮ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
নবাগত
পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমি এখানে ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। এই ঘটনা এবং
মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্নও আসবে, সে প্রশ্নগুলোর পেশাদারিত্বের
সাথে জবাব খুঁজে বের করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি।
এ
সময় তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গুরুত্বের
সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এই মামলা নিয়ে
সারাদেশে নানান রকম কথাবার্তা হচ্ছে। প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সুবিচার নিশ্চিত হয়।
আসামি
সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করেছে এ প্রসঙ্গে জানতে
চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমিও আপনাদের মত শুনেছি। আমি
রংপুরে গতকাল যোগদান করেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটা ক্রাইমসিন, সেটাকে সংগ্রহ করা আছে।
আরপিএমপি
কমিশনার আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায়
কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত
ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোন ক্লু আসলে জানাবেন আমরা তদন্ত করব। এটা পুলিশের কাজ, তবে সবার কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাহবুবুর
রশীদ বলেন, মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয় এটা দেশের সমস্যা। এই মুহূর্তে এটা
সামাজিক সমস্যা। আমি আজ সকালে আমার
কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি এবং তাদেরকে সময় দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে
একটা পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
রংপুর
নগরীতে একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে নতুন পুলিশ কমিশনারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে
কথা বলাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত;
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে
বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন পূজা চক্রবর্তী। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়ে এবং ছেলেকে ফোন করেন। সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) বোনের বাসার সামনে গিয়ে গেটে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে
বিষয়টি অবগত করে।
স্বজনদের
মাধ্যমে খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের
ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে
নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
রোববার
বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ
চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে আলোচিত এ মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।
দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ।
রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩ তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আব্দুর রশিদ ডিগ্রী কলেজ থেকে কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে। আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা। দেশের ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও।
ম্যারাথনে অংশ নেয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাথ পারভীন বলেন, এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয় একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
আয়োজকদের ভাষ্য—একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
তরুন রানার এলিন খান বলেন, একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া।পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়—গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।
তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো। একদিকে শরীরচর্চা, অন্যদিকে একটি জনপদকে নতুন করে চেনানোর প্রয়াস থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি।
একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান, তখন শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁও তাই এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়; ৩২ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।
ঠাকুরগাঁও রানারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”
পরে দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন l ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।