এই প্রথমবারের মতো বরগুনা-১ আসনে ইসলামী দল বিজয়ী হলেও বরগুনা-২ আসনে মাঠ ধরে রেখেছে ধানের শীষ। বরগুনা-১ নির্বাচনী এলাকা ১৯৮৪ সালে গঠিত হয়েছিল, যখন পটুয়াখালী জেলাকে ভেঙ্গে দুটি জেলায় (বরগুনা ও পটুয়াখালী) ভাগ করা হয়েছিল।
২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ২০০১ সালের আদমশুমারির প্রকাশিত জনসংখ্যার পরিবর্তন প্রতিফলিত করার জন্য নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে। ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়।
১৯৮৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এ আসনটিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় পার্টি, জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ও পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগ থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এসেছে।
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অপেক্ষার অবসান, ভোটের মাঠে বাংলাদেশ। ভোটাধিকারবঞ্চিত কোটি মানুষের দীর্ঘ আক্ষেপ ঘুচিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’। আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে- তা ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে গোটা জাতি।
বরগুনার দুই আসন বিএনপি-হাতপাখা ভাগাভাগি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনার দুটি সংসদীয় আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জয় পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বিএনপি প্রার্থী।
গতকাল শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার।
বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনে হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া পীর সাহেব মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
১৯১টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন অলিউল্লাহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট।
এ আসনে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৭ টি এবং না ভোট পড়েছে ৮৫ হাজার ৮২০টি।
বরগুনা-২ (বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা) আসনে ১২২টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রার্থী নূরুল ইসলাম মণি ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডা. সুলতান আহমেদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট। এছাড়াও হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ২০ হাজার ৯৯৭ ও না ভোট পড়েছে ৫৭ হাজার ৪৭৪টি।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চাঁদা না পেয়ে পাটকলের ম্যানেজারকে হুমকি দেওয়ার পর আতঙ্কে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভূঞাপুর থানাধীন সারপলশিয়া মৌজায় অবস্থিত ‘ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কোম্পানিতে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিলের সুপারভাইজার মো. আক্তার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করলেও পুলিশ কেবল চাঁদাবাজির ধারায় তা রেকর্ড করেছে। আসামিদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে ম্যানেজারের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা তো নেওয়া হয়ইনি, উল্টো ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে দিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূঞাপুরের সারপলশিয়া এলাকায় ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসা ‘ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামক জুট মিলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান(৫৫)। তিনি ওই উপজেলার ভারই গ্রামের সাবেক পোষ্টমাষ্টার মৃত হাসান আলীর ছেলে। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় পাথাইলকান্দি গ্রামের আসলামের ছেলে ওয়ারেস(২৫), সারপলসিয়া গ্রামের বাছেদের ছেলে মো. শামীম (৩০) এবং পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃত আ. হাই তালুকদারের ছেলে মো. লিখন(৩০) মিলের ম্যানেজারের নিকট বিভিন্ন সময়ে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তাদের দলবল নিয়ে মিলে ঢুকে ম্যানেজারের সাথে চরম অসদাচরণ করে এবং ২৪ আগস্টের মধ্যে চাঁদা না দিলে ম্যানেজারকে হত্যা করে লাশ গুম করার আল্টিমেটাম দেয়। সে সময় মিলের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন, প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. রমজান আলী, হিসাব রক্ষক মো. ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা তাদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা চলে যায়নি। ফলে চাঁদাবাজদের অব্যাহত হুমকিতে ম্যানেজার সাজিদুর রহমান চরম ভীতসন্তপ্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে গত ২৪ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা মোটরসাইকেল যোগে পুনরায় মিলে ঢুকে ম্যানেজারকে খুঁজতে থাকে। এই খবর পেয়ে পূর্বের হুমকিতে আতঙ্কিত থাকা ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান তীব্র মানসিক আঘাতে মিলের ভেতরেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ম্যানেজারের এই রহস্যজনক ও আকস্মিক মৃত্যুর পর পুলিশ কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করার অনুমতি দেয়।
স্থানীয় কয়েকব্যক্তি জানায়, এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা জায়গা ভাড়া নিয়ে ট্রাক যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করেছে। জুট মিলের ট্রাক ওই রাস্তা বিনাভাড়ায় ব্যবহার করে থাকে- সেই বিষয়েই ওয়ারেস, শামীম, লিখন সহ কয়েকজন মিলে গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের বেশিরভাগ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, ময়নাতদন্ত না করিয়ে পুলিশ প্রকারান্তরে চাঁদাবাজদের আড়াল করার এবং মৃত্যুর ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মিলের সহকারী প্রোডাকশন ইনচার্জ ফরিদুল ইসলাম ও ফেরদৌস ওয়াহিদ সহ সাধারণ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ওয়ারেস, শামীম, লিখনদের সরাসরি হুমকির কারণেই ম্যানেজার স্ট্রোক করে মারা গেছেন। অথচ পুলিশ মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে কেবল চাঁদাবাজির সাধারণ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে।
মামলার বাদী ও মিলের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন জানান, ২০১৮ সালের আগে স্থাপিত জুট মিলটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছে। এ পর্যন্ত কোনোপ্রকার কথা হয়নি। হঠাৎ করেই ওয়ারেস, শামীম, লিখন সহ ৫-৬ ব্যক্তি চাঁদা আদায়ে উঠেপড়ে লাগে। ম্যানেজার চাঁদাবাজদের চাপ সহ্য করতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে মিলেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
মামলার এজাহারে সে কথা উল্লেখ থাকার পরও পুলিশ সাধারণ চাঁদাবাজির ধারায় মামলা(নং-২০, তাং-২৬/৮/২৬ইং, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৮৫/৫০৬ পেনাল কোড) রেকর্ড করা করেছে। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত হওয়া একজন মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও পুলিশ তা না করে মরদেহ দাফন করার অনুমতি দিয়ে অন্যায় করেছে।
নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল জানান, জুট মিলের ম্যানেজার অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। ওখানে পাওনা টাকা নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়েছে- চাঁদাবাজির কোনো বিষয় আছে বলে তিনি জানেন না।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, জুট মিলের ঘটনায় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্ট্রোক করে ম্যানেজারের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাঁদাদাবিকারীদের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, যেহেতু স্ট্রোক করে ম্যানেজারের মৃত্যু হয়েছে, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করতে দেয়নি। মরদেহ পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়েছে।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো.ইসমাঈল হোসেনের ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের উপদ্দি লামছি মৌজার ২৮৫১ হালদাগের ওই সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটে।
মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের উপদ্দি লামছি মৌজায় তাঁর বেশ কিছু ক্রয়কৃত জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ২৮৫১ নম্বর হালদাগের প্রায় এক ডিসমিল জায়গা স্থানীয় একেএম জায়েদুল হক জাবেদ পুরোনো সীমানা প্রাচীর ভেঙে দখল করে নেন। পরে রাতের আঁধারে সেখানে নতুন সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে জায়গাটি পুরোপুরি দখলে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে জাবেদ গং তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন। এছাড়া তিনি বা তাঁর লোকজন জায়গায় গেলে শিক্ষক পরিচয় দেওয়া এক নারী তাদের বেজায় গালমন্দ করেন বলেও অভিযোগ করেন।
অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে একেএম জায়েদুল হক জাবেদ বলেন, জায়গাটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসেন সেখানে কিছু জায়গা কিনেছেন, তবে কতটুকু কিনেছেন তা কাউকে জানাননি।
এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুই পক্ষ স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধান করবে বলে জানা গেছে।
আবু নাছের ওরফে সোহাগ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আবু নাছের ওরফে সোহাগ (৪৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগ বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কবুতর ব্যাপারী বাড়ির মৃত মো.আবু তাহেরের ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভা বহুমুখী সমবায় সমিতির আদায়কারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট সোহাগ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, সোহাগ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কুড়ালের কোপে মজিদ মোড়ল (৭০) নামের এক কলা ব্যবসায়ী শশুরকে হত্যা করে থানায় হাজির হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার (৩৫)। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার এবং নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে উপজেলার জামালপুর এলাকার বাসিন্দা কলা ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারা বেগমের (২৮) সঙ্গে একই এলাকার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
অভিযোগ আছে, বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল শশুর বাড়ী থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীর ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। কলা বিক্রি করে সংসার চালানো পিতা আব্দুল মজিদ মোড়লের পক্ষে সব সময় মোজাম্মেলের দাবি মেটানো সম্ভব হতো না। আর তার জের হিসেবে প্রায়ই শাহনারা বেগমকে মারধরের শিকার হতে হতো। প্রায় ১৫ দিন আগে মোজাম্মেল মারধর করে শাহানারাকে বাড়ী থেকে বের করে দেন। তারপর থেকে শাহানারা বাবার বাড়ীতে আছেন। স্বামীর অত্যাচারে শাহানারা তার সংসারে না ফেরার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো. মাসুদ রানা শামিম জানায়, শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) বিকেলে প্রতিদিনের মতো বাড়ী থেকে জামালপুর বাজারের উদ্দেশে রওনা হন মজিদ মোড়ল। বেলা সাড়ে চারটার দিকে বাজারের ভাঙ্গারি পট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে দিয়ে মাথায় কলার ছড়া নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো কুড়াল দিয়ে মোজাম্মেল তার শ্বশুর আব্দুল মজিদ মোড়লের মাথায় কোপ দেন। এতে গুরুতর জখম হন মজিদ মোড়ল। পরে স্থানীয়রা আব্দুল মজিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডা. মো. জিয়াউর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন {মামলা নং ২৪(৮)২}। মামলার পর অভিযুক্ত মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। আজ শনিবার (২৯ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে মোজাম্মেল নিজেই থানায় হাজির হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পঞ্চগড়ে সার সরবরাহ, সুষ্ঠু বিতরণ, মজুদ পরিস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিবন্ধিত রাসায়নিক সার ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন,“দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। এই সার নিয়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গুজব ছড়ানোর কোনো রকম সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, বিগত দিনে একটি দলীয় মতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই সার ডিলার ছিলেন। তারা বহাল তবিয়তেই থাকবেন, তাদের বাদ দেওয়া হবে না। ডিলারদের বাদ দেওয়া হবে- এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ গুজব। বরং কোনো ডিলারের পদ শূন্য হলে সেখানে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “এটাই হলো তারেক রহমান সরকার-যার কাছে দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থ এক হয়ে কাজ করার মানসিকতা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজ গ্রামের ও নিজ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিরা ডিলার হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ও গুজব ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের প্রতি মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই টিম সার সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।
জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু এবং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শরিফ হোসেন।
এ সময় জেলার পাঁচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং নিবন্ধিত রাসায়নিক সার ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুদের ইসলামী শিক্ষা ও উত্তম চরিত্র গঠনে মাতা-পিতার ভূমিকা অপরিসীম। সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, আদর্শ ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৭টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার মাহরাজপুর জেনাস তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা চত্বরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেনাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (জিএসডিও) আয়োজিত ‘শিশুদের ইসলামী শিক্ষা ও উত্তম চরিত্র গঠনে মাতা-পিতার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন, জেনাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মহারাজপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আরিফুল ইসলাম, রামকৃষ্ণপুর জেনাস তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শৈয়ব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিশুর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো তার পরিবার এবং প্রথম শিক্ষক মাতা-পিতা। বাবা-মায়ের আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ শিশুর চরিত্র গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই সন্তানকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; ইসলামী শিক্ষা, নামাজের প্রতি আগ্রহ, সত্যবাদিতা, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দিতে হবে।
লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন বলেন, “শিশুরা আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাদের হাতে শুধু বই তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে বাবা-মায়ের নিজেদের আচরণও হতে হবে সন্তানের জন্য আদর্শ। কারণ শিশুরা উপদেশের চেয়ে বাবা-মায়ের কাজ ও আচরণ থেকেই বেশি শিক্ষা গ্রহণ করে।”
জিএসডিও পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “শিশুদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত তদারকি থাকলে শিশুরা সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিশুদের ইসলামী ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে পরিবার, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় স্থানীয় মুসল্লি, অভিভাবক, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।