ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল (পুনর্বিক্রয়) সাইটে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানকার গ্যালারির নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার।
ফিফা তাদের এই রিসেল বা বিনিময় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, অর্থাৎ বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন।
তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে ফিফা।
সে হিসাবে, এ চারটি টিকিট যদি নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়, তবে শুধু কমিশন বাবদই ফিফার পকেটে যাবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকার বেশি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে টিকিটের বাজারে অস্থিরতা গত শুক্রবার সকালেও দেখা গেছে। এদিন গ্যালারির অন্যান্য আসনের টিকিটও বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ পাউন্ডে। এমনকি সবচেয়ে কম দামি টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার ৯২৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ থেকে আসা আয় তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ২১১টি সদস্যদেশের পেছনে ব্যয় করে।
গত বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সরাসরি বিক্রির জন্য নতুন ব্লকের কিছু টিকিট ছেড়েছে ফিফা, যেখানে ফাইনাল ম্যাচে টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা)।
এ ছাড়া আগামী ১৪ জুলাই টেক্সাসের আর্লিংটনে সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলারে এবং ১৫ জুলাই আটলান্টার সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট ৯ হাজার ৬৬০ ও ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে বিক্রি করছে ফিফা।
বিশ্বকাপ দেখার এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে গত শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপ মানেই ছিল ফুটবল নিয়ে এক আনন্দ উৎসব। নিজের দেশকে সমর্থন দিতে সারা বিশ্ব থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে যেত এবং সেটা তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।’
গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু সেখানে (ফিফায়) নেই, তাই সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে আশা করব, তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে। ফুটবল মূলত দর্শকদের জন্যই। অবশ্যই স্পনসর বা অন্যান্য বাণিজ্যিক দিকের কথা ভাবতে হবে, নয়তো এটি টিকিয়ে রাখা যাবে না, সবাই সেটা জানে। কিন্তু এই ব্যবসা সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।’
টেলিগ্রাফের মতে, ফাইনালে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান বিশাল এক ‘লুটতরাজ’-এর খণ্ডচিত্র। ফুটবলপ্রেমীদের পকেট কাটার এ মহোৎসবে আরও কী কী ঘটছে, সেসব নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে নেমেছে ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্টস’।
বড় সংকটে ইনফান্তিনো
ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে সংকট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য। বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৬৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
টিকিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন ফুটবল-সমর্থক গোষ্ঠী। ব্যাপারটা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা।
তারা ঘোষণা করে, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে অতি সীমিতসংখ্যক টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বণ্টন করা হবে, যা কেবল দলগুলোর সবচেয়ে অনুগত বা নিয়মিত সমর্থকেরাই পাবেন।
টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতিকে। মূলত এই পদ্ধতির কারণেই চলতি মাসে ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটগুলোর মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
ফিফার অনুমোদনেই টিকিটের কালোবাজারি
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। মূলত সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের নিজস্ব ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় সাইটে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র চারটি টিকিটের দাম (একেকটি ২৩ লাখ ডলার) এত বেড়েছে।
বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ফিফার কমিশন-বাণিজ্য।
তবে নিজস্ব টিকিটের উচ্চ মূল্য, ডায়নামিক প্রাইসিং এবং এই পুনর্বিক্রয় পদ্ধতি নিয়ে ফিফার আত্মপক্ষ সমর্থনও বেশ জোরালো। তাদের দাবি, এখান থেকে অর্জিত নিট মুনাফা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নেই পুনর্নিয়োগ করা হবে।
হোটেল ভাড়া বেড়েছে চার গুণ
বিশ্বকাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর হোটেলগুলোতে কক্ষভাড়া কয়েক শ ডলার বেড়েছে। দেখা গেছে, আয়োজক ১৬টি শহরে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর দিন আবাসন খরচ গড়ে চার গুণ বেড়েছে। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের সময় একটি হোটেলের কক্ষভাড়া যেখানে গত মে মাসের শেষে ছিল মাত্র ১৫৭ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে (প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা)।
ট্রেনভাড়া ১৩ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০ ডলার
পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম- উড়োজাহাজে নয়, মাত্র ৩০ মিনিটের এই ট্রেনভ্রমণের টিকিটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ ডলারের বেশি। যেখানে যাতায়াতের স্বাভাবিক খরচ ১২ ডলার ৯০ সেন্ট, সেখানে বিশ্বকাপের সময় তা প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় খোদ ফিফাই নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিরুদ্ধে ‘লুটতরাজের’ অভিযোগ তুলেছে। যদিও ফিফার এমন অবস্থানকে ‘স্পর্ধা’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক চুক্তি পেয়েছি, যেখানে ফিফা বিশ্বকাপের পরিবহন খাতে এক পয়সাও দিচ্ছে না। সমর্থকদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য নিউ জার্সি ট্রানজিটকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিশাল বিল মেটাতে হচ্ছে, সেখানে ফিফা আয় করছে ১১০০ কোটি ডলার। আমাদের সাধারণ যাত্রীদের ওপর আমি এই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারি না। ফিফার উচিত যাতায়াত খরচ বহন করা।’
পরিবহন খরচের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে অন্য শহরগুলোতেও। বোস্টনের উপকণ্ঠে জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে ট্রেনের টিকিটের দাম পড়বে ৮০ ডলার এবং কোচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ ডলার।
স্টেডিয়ামে পার্কিং খরচ ২২৫ ডলার
যাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের পকেটও ভালোই কাটা পড়বে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হবে ২২৫ ডলার (প্রায় ২৭ হাজার টাকা)। পিছিয়ে নেই বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামও, সেখানে একটি গাড়ির পার্কিং খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ ডলার।
ফ্যান জোনে ঢুকতেও খরচ করতে হবে
টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ও যাতায়াত খরচের পর যুক্ত হয়েছে ফ্যান জোনে প্রবেশমূল্য। সাধারণত বিশ্বকাপের ফ্যান জোনগুলো উন্মুক্ত থাকলেও এবার নিউ জার্সিতে তা হচ্ছে না। গত ডিসেম্বরেই এ নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
জানা গেছে, সেখানকার ফ্যান জোনে ঢুকতে সাধারণ মানুষকে টিকিট কাটতে হবে। টিকিটমাস্টার ওয়েবসাইটে এ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট।
ছবি : সংগৃহীত
সেপ্টেম্বরে নয়, ভারত বাংলাদেশ সফর করতে পারে আগামী বছরের জানুয়ারিতে। সিরিজটি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও দেশটির সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই।
বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র এএনআইকে জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে সিরিজ আয়োজনের জন্য সময় চেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বার্তা সংস্থাটিকে সেই সূত্রের ভাষ্য, ‘ভারত-বাংলাদেশ সিরিজটি জানুয়ারিতে হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে। বিসিবিও আগামী বছরের শুরুর দিকে সময় চেয়েছে।’
ভারতের বাংলাদেশ সফর মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে হওয়ার কথা ছিল। পরে সেটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। চলতি বছর জানুয়ারিতে বিসিবি জানিয়েছিল, বাংলাদেশ সফরে ভারত তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টুয়েন্টি খেলবে। ঢাকায় ও চট্টগ্রামে হওয়ার কথা ছিল ম্যাচগুলো। তবে এই সফর নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বিসিসিআই।
গত জানুয়ারিতে বিসিবি ভারতের সফর ঘোষণার পর দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। ভারতীয় উগ্রবাদীদের রোষানলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাদের আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবি বাংলাদেশ দলকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হয়েছিল সেই বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ দাবি করেছিল, তাদের ম্যাচগুলো যেন ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেটি করেনি আইসিসি, বাংলাদেশের জায়গায় তারা স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে।
এএনআই তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কে উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি মাসের শুরুতে ভারত সফর করেন তামিম। এ সময় তিনি বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্সও ঘুরে দেখেছেন বলে জানা গেছে।
মার্তিনেজ
অ্যাস্টন ভিলা ও আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দলে ভেড়াচ্ছে চেলসি। ৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে নিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি। ৩৩ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলকিপার লন্ডনে মেডিকেল সম্পন্ন করার পর যোগ দেবেন ক্লাবটিতে।
চেলসির প্রধান গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের পারফরম্যান্স নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষ করে গত সোমবার ফুলহ্যামের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়ের ম্যাচে তার কিছু ভুল নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার মাঝেই দিবু মার্তিনেজকে দলে টানলো চেলসি।
২০২৩ সাল থেকেই চেলসির প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সানচেজ। তবে ফুলহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচে জশ কিংয়ের নেয়া শট কাছের পোস্টে তার হাত ফসকে জালে ঢুকে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও আরেকটি শট ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন সানচেজ। বলটি বিপজ্জনক জায়গায় চলে গেলে সেখান থেকে গোল করেন স্ট্রাইকার গনসালো গার্সিয়া। এর পরই গোলরক্ষক পজিশন শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেয় চেলসি। চেলসির গোলরক্ষক পজিশনে আরও আছেন জেঙ্ক থেকে ১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা মাইক পেন্ডার্স। বৃহস্পতিবার রাতে কারাবাও কাপে লুটন টাউনের বিপক্ষে চেলসির হয়ে অভিষেক হতে পারে তার।
জাপানের গোলকিপার জিওন সুজুকির সঙ্গে চুক্তি করার পর থেকেই মার্তিনেজকে বিক্রি করার আগ্রহ প্রকাশ করে চেলসি। চেলসি ও ভিলার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বড় লেনদেন হয়েছে। ভিলা থেকে ক্লাব-রেকর্ড ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে মরগান রজার্সকে দলে নেয় চেলসি। বিপরীতে গত মাসে আলেহান্দ্রো গারনাচো প্রাথমিকভাবে ধারে ভিলায় যোগ দেন।
এছাড়া প্রায় ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যমানের স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসন বৃহস্পতিবার ভিলার মাঠে মেডিকেল সম্পন্ন করছেন। ভিয়ারিয়ালের সাবেক কোচ উনাই এমেরির অধীনে আবারও খেলতে যাচ্ছেন তিনি।
এর আগে এই দলবদল মৌসুমে মার্তিনেজকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল জুভেন্টাস। তবে আঙুলের চোট নিয়ে উদ্বেগের কারণে সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। পরে টটেনহ্যামের গোলরক্ষক গুগলিয়েলমো ভিকারিওকে ধারে নেয় ইতালিয়ান ক্লাবটি।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া, তার ওপর একজন খেলোয়াড় কম; আল-নাসরের জন্য ম্যাচটি তখন প্রায় হাতের বাইরে। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে আল-ইত্তিফাককে হারানোর পর বদলে গেল পুরো আবহ। সৌদি সাংবাদিক খালিদ আল-শানিফের দাবি, এমন নাটকীয় জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ড্রেসিংরুমে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পর্তুগিজ তারকা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার চলতি মৌসুমে প্রথমবার আল-নাসরের শুরুর একাদশে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তবে প্রথমার্ধের পর তাকে তুলে নেন কোচ আঞ্জে পস্তেকোগলু। তার জায়গায় মাঠে নামেন আবদুল্লাহ আল-খাইবারি।
রোনালদোকে তুলে নেয়ার কারণ নিয়েও পরে আলোচনা শুরু হয়। সৌদি সাংবাদিক খালিদ আল-শানিফ দাবি করেন, শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় বিরতির সময় মাঠ ছাড়ার অনুরোধ করেছিলেন রোনালদো। তবে সতীর্থরা পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে যাওয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
আল-নাসরের প্রত্যাবর্তনটিও ছিল অবিশ্বাস্য। দুই গোল পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আল-নাসর।
তবে রোনালদোকে তুলে নেয়ার ব্যাখ্যায় ভিন্ন কথা বলেছেন পস্তেকোগলু। আল-নাসর কোচের ভাষ্য, ম্যাচটির আগে রোনালদোর জন্য ৪৫ মিনিট খেলার পরিকল্পনাই ছিল। আগের ম্যাচে ৩০ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। এবার ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেসে ফেরানোর লক্ষ্যেই তাকে ৪৫ মিনিট খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
পস্তেকোগলু জানান, দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রোনালদো আরও কিছুক্ষণ মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার জায়গায় বদলি নামানোর সিদ্ধান্তটিই সঠিক ছিল বলে মনে করেন কোচ।
বার্সেলোনায় 'স্বাধীনতার পতাকা'
ঘরের মাঠে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো নিজেদের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান বাতিল করেছে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা।
গত সপ্তাহে এলচে-র বিরুদ্ধে ম্যাচে এক সমর্থকদের কাছ থেকে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রতীক ‘এস্তেলাদা’ পতাকা বাজেয়াপ্ত ও তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক বিলবাওর বিরুদ্ধে স্প্যানিশ লিগের ম্যাচ দিয়ে ঘরের মাঠে নতুন মৌসুম শুরু করে বার্সেলোনা। স্কোয়াডে থাকা সর্বোচ্চ ৮ জন বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে (জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবারসি, গাভি, রদ্রি, দানি ওলমো এবং লামিন ইয়ামাল) ট্রফিসহ সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল।
তবে সেই আয়োজন বাতিল করে স্থানীয় একটি সংগঠনের মাধ্যমে গ্যালারিতে ১০,০০০ ক্ষুদ্র ‘এস্তেলাদা’ পতাকা বিতরণ ও প্রদর্শন করা হয়।
বার্সেলোনা সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য এটি "উপযুক্ত সময় নয়" এবং ফুটবল বিভাজন নয়, বরং ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যম হওয়া উচিত। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের অবস্থান বুঝতে পেরেছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পেছনের কারণ ও বার্সেলোনার বক্তব্য:
পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদ: গত সপ্তাহে এলচে-র বিপক্ষে ম্যাচে এক তরুণ বার্সা ভক্তের কাছ থেকে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এস্তেলাদা পতাকা কেড়ে নেয় এবং লাঠিচার্জ করে তাকে আটক করে।
বাকস্বাধীনতার অধিকার: বার্সেলোনা জানিয়েছে, ‘এস্তেলাদা’ কোনো সহিংসতার উসকানি নয়, এটি আইনগতভাবে অনুমোদিত একটি প্রতীক এবং বাকস্বাধীনতার অংশ।
অসংগতিপূর্ণ পদক্ষেপ: সমর্থকদের ওপর পুলিশের এই লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াকে "অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত" বলে অভিহিত করেছে ক্লাবটি।
ব্রাজিলের ব্র্যান্ডই হলো ফুটবল। তাদের শৈল্পিক ফুটবলে মোহিত পুরো বিশ্ব। পেলে-রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের খেলা দেখে ব্রাজিলের ভক্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের একটি অংশ।
টেলিভিশনে যে দলের সুন্দর ফুটবলে মুগ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা, এবার বাস্তবে সেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা দেখার সুযোগ। ঢাকার মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়ার মতো ইউরোপ মাতানো তারকা খেলবেন, ব্যাপারটি স্বপ্ন মনে হলেও বাস্তবতায় খুবই সম্ভব।
রোববার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ প্রতিনিধি ঢাকায় আসার পরই যে গুঞ্জন রটেছিল ফুটবলপাড়ায়, তা হয়তো আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবরে ঢাকার মাঠে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল প্রতিনিধি দল। তাদের আগ্রহে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ অক্টোবর হামজা চৌধুরী-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দ্বৈরথটা দেখা যাবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।
রোববার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ দেখেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও দেখেন তারা। দুই মাঠের মান ও সংলগ্ন অবকাঠামো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।
তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ-বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে প্রতিনিধি দল। দুটি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে পরশু রাতেই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। সেখানেই বাংলাদেশ আর ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
ব্রাজিলের প্রস্তাবিত তারিখ ৫ ও ৬ অক্টোবর। ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ঢাকায় আসতে চাইছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নানা আলোচনা চললেও ৬ অক্টোবর ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে গেছে- এমন খবর সঠিক নয় বলে গতকাল জানিয়েছেন বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। তাদের জায়গায় এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। এখন মহাসমস্যায় পড়েছে বাফুফে। ফিফার আমন্ত্রিত টুর্নামেন্ট আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছে না দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আবার ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রস্তাবও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই তো বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল হাঁটছেন সুন্দর সমাধানের পথে। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে।
এরপর আছে স্থান নির্ধারণী ম্যাচও, যার সম্ভ্যাব্য তারিখ ৩ অক্টোবর। তাই স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি না খেলে অথবা এক দিন এগিয়ে ২ অক্টোবর করা যায় কিনা, তা ফিফার কাছে আবেদন করবে বাফুফে। সেক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে রাতেই ঢাকায় রওনা দিলে ধকলটা কমবে বাংলাদেশের। তখন ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
বাংলাদেশে বেশ বড় বহর নিয়ে আসতে চায় ব্রাজিল। জানা গেছে ৯০ জনের কন্টিনজেন্টকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে দুবাই চার্টার্ড করে পাঠাতে হবে বাফুফেকে। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। শুধু ম্যাচ আয়োজনের জন্য কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই খরচ বহন করা কঠিন বাফুফের জন্য। তাই ব্রাজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের অর্থের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইবে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে’ বলেন শাহীন।
ছবি : সংগৃহীত
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী একটি বল এবারও উঠল নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা বিখ্যাত ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের বলটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪২ কোটি টাকায়।
যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবার এই নিলামের আয়োজন করে হেরিটেজ অকশনস। ঐতিহাসিক বলটির দাম সর্বোচ্চ ১ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম দামেই এটি বিক্রি হয়েছে। নিলামে বলটির চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২৫ লাখ পাউন্ডের (৪১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩৫০০ টাকা) সমান।
বলটি ছিল অ্যাডিডাসের ‘আজতেকা’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মেক্সিকো সিটিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনারের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে এই বলই ব্যবহার করা হয়েছিল। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লড়াইয়ে মাথার বদলে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের।
শুধু বিতর্কিত সেই গোলই নয়, একই ম্যাচে ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত হয়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। পাঁচজন ইংলিশ আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে শিলটনকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপও জিতে নেয় ম্যারাডোনার দল।
৩০ বছর ধরে রেফারির কাছে ছিল বল
ওই ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন ম্যাচের রেফারি আলি বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় তার সংগ্রহেই ছিল ঐতিহাসিক এই বস্তুটি।
২০২৩ সালে বিন নাসের একটি চিঠিতে নিশ্চিত করেন, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচে ব্যবহৃত একমাত্র বলটিই তার কাছে আছে। পরে স্বাধীনভাবে করা পরীক্ষাতেও বলটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের নিলাম বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে বলটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীগুলোর একটি।
এর আগেও বিক্রি হয়েছিল
এটি অবশ্য বলটির প্রথম নিলাম নয়। ২০২২ সালে আলি বিন নাসের বলটি বিক্রি করেছিলেন ২৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে, যা সে সময় প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডের সমান ছিল। পরের বছর নতুন মালিক আবার বলটি নিলামে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য পর্যন্ত কোনো দর না ওঠায় সেটি বিক্রি হয়নি।
অবশেষে ২০২৬ সালের নতুন নিলামে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়। ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের সেই ঐতিহাসিক বল।
একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও এর আগে নিলামে উঠেছিল। ২০২২ সালে সেই জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৭১ লাখ পাউন্ডে। ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের স্মারক হিসেবে ম্যারাডোনার জার্সির তুলনায় বলটির দাম এবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমই থাকল।