ইলন মাস্ক
মালিকানা নিজের হলে এক ঝুড়ি থেকে আপেল তুলে আরেক ঝুড়িতে কমলার পাশে রাখা যেতেই পারে। তবে, বাণিজ্যিক কোম্পানির বেলায় সেটি অত সহজ নয়। সেখানে হিসাব কষার বিষয় আছে, আইন মানার বিষয় আছে। অনেক হিসাব বদলেও যায় চোখের পলকে। ইলন মাস্ক অনেকগুলো কোম্পানিই প্রতিষ্ঠা করেছেন, কিনেছেনও। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও বড় কোম্পানি স্পেস এক্স কিনে নিয়েছে নতুন এবং সম্ভাবনাময় এআই স্টার্টআপ এক্সএআই কে। আর এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তির সম্পদ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৮০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হলেন।
এ নিয়ে ফোর্বস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, সোমবার সন্ধ্যায় ঘোষিত ওই ক্রয় চুক্তির ফলে মাস্কের সম্পদ একদিনেই প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে। চুক্তির পর একীভূত কোম্পানিদ্বয়ের মোট মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার।
চুক্তির আগে মাস্ক স্পেসএক্সের আনুমানিক ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন, যার মূল্য ছিল প্রায় ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। একই সময়ে এক্সএআই-এ তার ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্বের মূল্য ছিল প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। একীভূত হওয়ার পর স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দাঁড়ায় ১ লাখ কোটি ডলার এবং এক্সএআই-এর মূল্যায়ন থাকে ২৫ হাজার কোটি ডলারে। নতুন কাঠামোয় মাস্কের মালিকানা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার মোট মূল্য ফোর্বসের হিসাবে প্রায় ৫৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
বর্তমানে স্পেসএক্সই মাস্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এর বাইরে টেসলায় তার ১২ শতাংশ শেয়ারের মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। পাশাপাশি টেসলার স্টক অপশন থেকে আরও প্রায় ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের মালিকানা রয়েছে। টেসলার বিনিয়োগকারীরা নভেম্বরে যে পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে, নির্দিষ্ট কর্মক্ষমতার লক্ষ্য পূরণ হলে সেটি মাস্ককে ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত শেয়ার দিতে পারে।
গত এক বছরেরও কম সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো মাস্কের দুটি কোম্পানি একীভূত হলো। গত মার্চে তিনি এক্সএআই ও সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত করেন। ওই সময় এক্সএআই-এর মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার এবং এক্স-এর মূল্যায়ন ছিল প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
এবার সব কোম্পানি স্পেসএক্সের অধীনে এসেছে এবং মাস্কের নজর সম্ভবত শেয়ার বাজারে স্পেসএক্সকে তালিকাভূক্ত করে আরও মূলধন সংগ্রহ করা। সেটি হলে এগুলো শিগগিরই পাবলিক কোম্পানির নিয়মাবলীর আওতায় পড়বে।
গত চার মাসেই সম্পদের হিসাবে মাস্ক চারটি বড় মাইলফলক পেরোলেন। অক্টোবরে তার সম্পদ প্রথমবার ৫০ হাজার কোটি ডলার ছাড়ায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন ৮০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছানোর পর তার সম্পদ ৬০ হাজার কোটি ডলার ছাড়ায়। চার দিন পর টেসলার স্টক অপশন সংক্রান্ত আদালতের রায়ের পর তার সম্পদ ৭০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করে।
বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজের চেয়ে মাস্ক প্রায় ৫৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার এগিয়ে আছেন। পেইজের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এই ব্যবধান বলছে, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার দিকে অন্য সবাইকে বহু পেছনে ফেলে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
প্রতীকী ছবি
শিশুদের খুব কম বয়সে স্মার্টফোন বা অন্যান্য ক্রিনযুক্ত যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ (ইনসার্ম) এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শৈশবের নির্দিষ্ট সময়ে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব পরবর্তী জীবনেও থাকতে পারে। এর সঙ্গে শিশুদের পড়াশোনার ফলাফল খারাপ হওয়া এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। গবেষণার ফলাফল ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের ৫০২ শিশুর ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় শিশুদের বিভিন্ন বয়সে স্ক্রিন ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের জীবনের একেবারে শুরুর দিকে, বিশেষ করে এক বছর বয়সে, বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানোর সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তুলনামূলক খারাপ পড়াশোনার ফলাফল এবং দুর্বল কার্যকর স্মৃতিশক্তির সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ছয় বছর বয়সে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গেও একই ধরনের নেতিবাচক ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষকদের তথ্যমতে, শিশুদের জীবনের প্রথম কয়েক বছর এবং স্কুলে যাওয়ার শুরুর সময় স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুর স্বাভাবিক শেখা ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমের সময় কমে যায়। ফলে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুরা খেলাধুলা, বই পড়া এবং মা-বাবার সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর জন্য কম সময় পায়। অথচ শিশুর শেখা, চিন্তাশক্তি ও মানসিক বিকাশে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময়ই শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে না। শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে এবং স্ক্রিন ব্যবহারের সময় মা-বাবা বা অন্য কোনো অভিভাবক তার সঙ্গে যুক্ত থাকছেন কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের ভাষা বিকাশের সঙ্গে স্ক্রিন ব্যবহারের সম্পর্ক নিয়ে আগেও বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগ জানানো হয়েছে।। ২০২০ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির শেরি ম্যাডিগানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের ভাষাগত দক্ষতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ার প্রবণতা থাকে।
পাসওয়ার্ড ছাড়াই অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত
অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য এতদিন মূল ভরসা ছিল পাসওয়ার্ড। তবে পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া, অন্যের হাতে চলে যাওয়া কিংবা ফিশিংয়ের মাধ্যমে চুরি হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে। এসব সমস্যা কমাতেই জনপ্রিয় হচ্ছে পাসকী। পাসকী হলো পাসওয়ার্ডের বিকল্প একটি আধুনিক লগইন পদ্ধতি। এতে আলাদা কোনো জটিল পাসওয়ার্ড মনে রাখার দরকার হয় না। ব্যবহারকারীর স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই পরিচয় যাচাই করা যায়।
ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক চালু থাকলে সেগুলো দিয়েই পাসকী ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে ঢোকা সম্ভব। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে পিন বা অন্য কোনো ডিভাইস-ভিত্তিক নিরাপত্তা পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।
কেন পাসকী ব্যবহার করবেন?
পাসকীর অন্যতম সুবিধা হলো এটি সাধারণ পাসওয়ার্ডের মতো সহজে অন্যকে বলে দেওয়া বা কপি করে নেওয়া যায় না। ফলে পাসওয়ার্ড চুরি এবং ফিশিংয়ের মতো প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এছাড়া ব্যবহারকারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা মুখের তথ্য সরাসরি ওয়েবসাইটে পাঠানো হয় না। বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই সাধারণত সংশ্লিষ্ট ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়। ফলে ব্যক্তিগত বায়োমেট্রিক তথ্য সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রেও এটি বাড়তি সুবিধা দেয়।
পাসকী ব্যবহারের আগে যা প্রয়োজন
পাসকী চালু করার আগে আপনার ডিভাইস ও ব্রাউজার সেটি সমর্থন করে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণভাবে উইন্ডোজ ১০ বা পরবর্তী সংস্করণ, ম্যাকওএস ভেনচুরা বা পরবর্তী সংস্করণ এবং ক্রোমওএস ১০৯ বা নতুন সংস্করণের কম্পিউটারে পাসকী ব্যবহার করা যায়।
স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড ৯ বা পরবর্তী সংস্করণ এবং আইওএস ১৬ বা পরবর্তী সংস্করণ প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি ক্রোম, সাফারি, এডজ বা ফায়ারফক্সের মতো সমর্থিত আধুনিক ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে। ডিভাইসে স্ক্রিন লক চালু থাকা জরুরি। ফোনের পাসকী ব্যবহার করে কম্পিউটারে লগইন করতে চাইলে দুই ডিভাইসে ব্লুটুথ চালু রাখতে হতে পারে। অ্যাপল ডিভাইসে আইক্লাউড কীচেইন সক্রিয় থাকাও প্রয়োজন।
গুগল অ্যাকাউন্টে পাসকী তৈরি করবেন যেভাবে
গুগল অ্যাকাউন্টে পাসকী তৈরির জন্য প্রথমে অ্যাকাউন্টের সেটিংসে প্রবেশ করুন। এরপর সিকিউরিটি বিভাগ থেকে পাসকীস অপশন নির্বাচন করুন। সেখানে গিয়ে ক্রিয়েট অ্যা পাসকীতে ক্লিক করুন। নিরাপত্তার জন্য বর্তমান পাসওয়ার্ড দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে হতে পারে। এরপর ফোন বা কম্পিউটারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আনলক কিংবা পিন-এর সঙ্গে পাসকী যুক্ত করে সেটআপ শেষ করুন।
পাসকী দিয়ে লগইন করবেন কীভাবে?
কোনো সমর্থিত অ্যাকাউন্টের সাইন-ইন পেজে গিয়ে প্রথমে ইউজারনেম বা ই-মেইল লিখুন। এরপর পাসকী দিয়ে লগইন করার অপশন নির্বাচন করুন। এবার ফোন বা কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আনলক কিংবা পিন দিয়ে যাচাই সফল হলেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে।
ফোনের পাসকী দিয়ে কম্পিউটারে লগইন
কম্পিউটারে থাকা কোনো অ্যাকাউন্টে ফোনের পাসকী ব্যবহার করেও প্রবেশ করা যায়। এজন্য সাইন-ইন পেজ থেকে ট্রাই অ্যানাদার ওয়ে নির্বাচন করে ইউজ ইওর পাসকী অপশনে যেতে হবে। এরপর কম্পিউটারের স্ক্রিনে কিউআর কোড দেখা গেলে ফোনের ক্যামেরা দিয়ে সেটি স্ক্যান করুন। ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আনলক কিংবা পিন দিয়ে পরিচয় যাচাই করলেই কম্পিউটারে লগইন সম্পন্ন হবে।
পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা কমানোর পাশাপাশি ফিশিং ও পাসওয়ার্ড চুরির ঝুঁকি কমাতে পাসকী গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে ডিভাইসের স্ক্রিন লক এবং অ্যাকাউন্টের রিকভারি তথ্যও নিরাপদ রাখা জরুরি।
১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিনের সিইও টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব তুলে নিচ্ছেন টার্নাস। ছবি: রয়টার্স
নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ইভেন্ট। প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও সম্ভাব্য ফোল্ডএবল মডেলকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ নামের ইভেন্টেই উন্মোচিত হতে পারে পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন ১৮ সিরিজ।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় (ইস্টার্ন টাইম দুপুর ১টা) অ্যাপলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে আয়োজনটি।
আসন্ন এই শরতের ইভেন্ট ঘিরে সবচেয়ে বড় গুঞ্জন হচ্ছে একটি ‘ফোল্ডএবল’ বা ভাঁজ করা যায় এমন আইফোন মডেল। অ্যাপল তাদের ‘আইওএস ২৭’-এর কোডে বেশ কিছুদিন ধরেই এ ধরনের ডিভাইসের সুবিধা যোগের কাজ কছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ডিভাইসটির নাম হবে ‘আইফোন আল্ট্রা’, যা পকেটেও রাখা যাবে আবার ভাঁজ খুললে ‘আইপ্যাড মিনি’র মতো ট্যাবলেটের অভিজ্ঞতা দেবে।
এ বছর ‘আইফোন ১৮’ সিরিজ প্রকাশে কিছু নতুন কৌশল নিতে পারে অ্যাপল। আগামী মাসে ‘আইফোন আল্ট্রা’র পাশাপাশি ‘আইফোন ১৮ প্রো’ মডেলগুলো উন্মোচিত হতে পারে। অন্যদিকে, সাশ্রয়ী ‘আইফোন এয়ার ২’, ‘আইফোন ১৮ই’ ও মূল ‘আইফোন ১৮’ মডেলগুলোর জন্য ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে গ্রাহকদের।
অ্যাপল তাদের নতুন ডিভাইসগুলোর মূল কেন্দ্রে এআইকে রাখছে এবং আসন্ন ইভেন্টে এটাই কোম্পানিটির আলোচনার প্রধান বিষয় হতে যাচ্ছে। জুনে অনুষ্ঠিত ডব্লিউডব্লিউডিসি কি-নোটের প্রচলিত ধারায় অ্যাপলের পরিবর্তনের বিষয়টি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না।
প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য আলাদা ফিচারের দিকে নজর না দিয়ে অ্যাপল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিরি রিভ্যাম্প ‘সিরি এআই’ ও ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’কে ঘিরে সমন্বিত ও ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেছিল।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, সিরি এআইকেন্দ্রিক এ ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যোগ একঝাঁক নতুন ডিভাইস আনার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল।
এর মধ্যে রয়েছে নতুন আইপ্যাড, হোমপড মিনি ও অ্যাপল টিভি বক্সের আপগ্রেডেড সংস্করণ ও ঘরের সংযোগ অন্যান্য ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘স্মার্ট ডিসপ্লে’।
অ্যাপলের ইতিহাস বিবেচনা করা হলে এই ইভেন্টের মূল আকর্ষণ বরাবরের মতো নতুন আইফোনগুলোর ওপরই নিবদ্ধ থাকবে। এ আইফোন ইভেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে প্রথম কোনো বড় উন্মোচন ইভেন্ট হতে যাচ্ছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিনের সিইও টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব তুলে নিচ্ছেন টার্নাস।
প্রতীকী ছবি
শিক্ষার্থীদের এক বছরের জন্য বিনা মূল্যে গুগল এআই প্রো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সুবিধা পেতে শিক্ষার্থী হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে। ‘ব্যাক টু স্কুল’ প্রোগ্রামের আওতায় এ বিশেষ সুবিধা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করেছে গুগল। অফারের অধীনে এক বছরের জন্য শিক্ষার্থীরা গুগলের জেমিনাই ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। জেমিনাইতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যবহারের সীমা এবং ৪০০ জিবি ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজসহ আরও কিছু নতুন সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিশেষ সুবিধা কে কে পাবেন
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অফারটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাবেন। তবে সে জন্য তাঁদের কাছে থাকতে হবে নিজস্ব জিমেইল অ্যাকাউন্ট, দেশের স্বীকৃত কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণপত্র। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র দরকার হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের ওপরে হতে হবে।
প্রথমে ব্রাউজারে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট লগইন করে ‘Google One Student Page’-এ যান। এরপর ‘Get Student Offer’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। দেশের নাম Bangladesh সিলেক্ট করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও নিজের নাম লিখতে হবে শিক্ষার্থীদের।
এরপর নানা তথ্য চাইবে গুগল। সেগুলো পূরণ করতে হবে।
পড়াশোনায় জেমিনাইয়ের নতুন সুবিধা
শুধু সাবস্ক্রিপশন বিনা মূল্যে দেওয়াই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কাজে জেমিনাইকে আরও কার্যকর করে তুলতে নতুন কিছু সুবিধাও যুক্ত করেছে গুগল। স্টুডেন্ট হাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাসের নোট ও সিলেবাস আপলোড করতে পারবেন। এরপর জেমিনাই এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করতে পারবে ব্যক্তিগত পড়ার নোট, ছোট ছোট শিক্ষামূলক পাঠ ও কুইজ।
এমনকি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এই এআই (কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা) ব্যবস্থা। ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবিধা আনছে জেমিনাই। এটি জটিল বিষয় বোঝাতে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন এবং তথ্যের টেবিল তৈরি করতে পারবে। ফলে বিজ্ঞান, গণিত বা অন্য কোনো জটিল বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আরও সহজে ধারণা নিতে পারবেন। এ ছাড়া জেমিনাই লাইভের সঙ্গে ডিপ রিসার্চ সুবিধাও যুক্ত করা হচ্ছে।
গুগলের এই শিক্ষার্থী অফার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত গ্রহণ করা যাবে। তাই যাঁরা যোগ্য শিক্ষার্থী, তাঁরা সময়সীমার আগেই অফারটি যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ নিতে পারেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই অ্যাকাউন্টে পাসকি যোগ করার তাগিদ বা পরামর্শ পেয়ে থাকতে পারেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি থাকলেও পাসকি এনেছে নিরাপত্তা। সব ওয়েবসাইটে এখনও এর ব্যবহার চালু না হলেও পুরানো ব্যবস্থার তুলনায় পাসকি সবদিক থেকেই এগিয়ে। তবে পাসকি ব্যবহারে কিছু বিষয় বুঝে রাখা জরুরি।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মনে রাখা কোনো শব্দ বা সংখ্যার বদলে নির্দিষ্ট ডিভাইস বা সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল পাসকি। ফলে যেখানে পাসকি সংরক্ষণ করছেন, সেখান থেকে যেন ভুলবশত লকআউট না হয়ে যান সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে।
পাশাপাশি, বন্ধু বা পরিচিত কারও সঙ্গে সাধারণ পাসওয়ার্ডের মতো সহজে পাসকি শেয়ার করাও সম্ভব নয়। এরপরও অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য পাসওয়ার্ডের চেয়ে পাসকি ব্যবহার বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক, বিশেষ করে যারা এখনও পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করছেন না।
পাসকি কীভাবে কাজ করে তা একবার বুঝে নিলে দৈনন্দিন লগইনের ঝামেলা অনেকটাই কমে আসবে। পাসকি কোথায় ও কীভাবে সংরক্ষণ করছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় অপারেটিং সিস্টেম ও পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলো বর্তমানে পাসকি সুবিধা সমর্থন করছে।
পাসওয়ার্ড বনাম পাসকি: সুবিধায় কে এগিয়ে?
পাসওয়ার্ড ও পাসকির মধ্যে মূল পার্থক্য বুঝতে প্রথমে জানতে হবে দুটি প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে। পাসওয়ার্ড হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু বর্ণ বা সংখ্যার ‘গোপন কোড’, যা ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মালিকানা যাচাই করে।
সুরক্ষার স্বার্থে কোনো ওয়েবসাইটিই সরাসরি লেখা আকারে এ পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে না। এর বদলে বিশেষ গাণিতিক উপায়ে পাসওয়ার্ডটিকে এনক্রিপ্ট করে এলোমেলো কোডে রূপান্তর করা হয়, যাকে বলে ‘হ্যাশ’।
পরবর্তীতে ব্যবহারকারী সঠিক পাসওয়ার্ড দিলে ওয়েবসাইট সেটি তাদের ডেটাবেইসে থাকা হ্যাশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে ব্যবহারকারীকে প্রবেশাধিকার দেয়। সুরক্ষার মাত্রা বাড়াতে এ হ্যাশের সঙ্গে অতিরিক্ত র্যান্ডম ডেটা যোগ করা হয়, যা ‘সল্টিং’ নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, পাসকি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে কোনো কোড বা লেখা মনে রাখতে হয় না। এ প্রযুক্তি দুটি চাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একটি ‘পাবলিক কি’, যা ওয়েবসাইট সংরক্ষণ করে এবং অন্যটি ‘প্রাইভেট কি’, যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে।
ব্যবহারকারী যখন কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে যান তখন ওয়েবসাইটটি ডিভাইসে থাকা পাসকির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে বলে। এ প্রাইভেট কি’টি ব্যবহারকারীর মোবাইল বা কম্পিউটারের নিরাপদ স্টোরেজে সংরক্ষিত থাকে ও ফেইস আইডি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ‘উইন্ডোজ হ্যালো পিন’-এর মতো বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আনলক করতে হয়।
ফলে বায়োমেট্রিক সুবিধা ব্যর্থ হলে ডিভাইসের মূল পিন নম্বরটি ছাড়া ব্যবহারকারীকে বাড়তি কিছু মনে রাখার প্রয়োজন পড়ে না।
প্রাইভেট ও পাবলিক কি’র বিষয়টি একটি তালাবদ্ধ মেইলবক্স বা চিঠির বাক্সের সঙ্গে তুলনা করলে সহজে বোঝা যায়। চিঠির বাক্সের বাইরের অংশটি ‘পাবলিক কি’, যেখানে যে কেউ চিঠি বা আবেদন ফেলতে পারে।
তবে সেই বাক্সটি খুলে চিঠি বের করে স্বাক্ষর বা উত্তর দেওয়ার অনুমতি কেবল আসল মালিকের ‘প্রাইভেট কি’র কাছেই থাকে। বাইর থেকে মেইলবক্স দেখে কি’র রূপ কেমন তা যেমন বোঝার উপায় নেই, পাসকিও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। ডিভাইস নিরাপত্তা ও ‘ফিশিং’ ঠেকানো ব্যবস্থা থাকায় কোনো ভুয়া ওয়েবসাইট বা হ্যাকার তা চুরি করতে পারে না।
এ কারণে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে শক্তপোক্ত স্ক্রিন লক ব্যবহার করা জরুরি। বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন হলেও ডিভাইসের আনলক পিন যদি ‘১২৩৪’-এর মতো সহজ হয় তবে সুরক্ষিত বিভিন্ন লগইন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পাসওয়ার্ডের যেসব দুর্বলতা সমাধান করে ‘পাসকি’
পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বছরের পর বছর ধরে রয়েছে। প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই একই পাসওয়ার্ড বারবার বিভিন্ন সাইটে ব্যবহার করেন।
সাইবার অপরাধীরা চতুরতার সঙ্গে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়া ডেটাবেইসে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড এনক্রিপ্ট করা থাকলেও সাইবার আক্রমণের মুখে ডেটা চুরি হলে হ্যাকাররা তা ডিকোড বা ব্যবহারের পথ খুঁজে নেয়।
বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান করলেও তা পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়। এতে দুর্বল পাসওয়ার্ড জমা রাখা সম্ভব, ভুলবশত ভুয়া ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড পেস্ট হয়ে যেতে পারে বা ব্যবহারকারী নিজেই তাদের মূল ‘মাস্টার পাসওয়ার্ড’ ভুলে যেতে পারেন।
পাসকি এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে। যেমন–
● স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা: পাসকিতে দুর্বল বা সহজে অনুমান করা যায় এমন কোড তৈরির কোনো সুযোগ নেই। কারণ তা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান ধরে রেখে তৈরি হয়।
● ফিশিং ঠেকানো: পাসকি সরাসরি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ডোমেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে ভুলবশত কোনো ভুয়া বা ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে ঢুকলেও সেখান থেকে পাসকি চুরির সুযোগ থাকে না।
● একই কোড বারবার ব্যবহারে বাধা: পাসকি পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়, যা অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় বাড়তি নিশ্চয়তা দেয়।
● বহুমাত্রিক নিরাপত্তা: এ প্রযুক্তি একই সঙ্গে ‘ব্যবহারকারীর বিশ্বস্ত ডিভাইস’ ও ‘ডিভাইসের পিন বা বায়োমেট্রিক তথ্য’ যাচাই করে। ফলে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’-এর ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।
কোনো সাইবার হামলার ক্ষেত্রে পাসকি থেকে তথ্য চুরির কোনো ঝুঁকি থাকে না। কারণ ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত ‘পাবলিক কি’ আগে থেকেই সবার জন্য উন্মুক্ত, যা দিয়ে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কোনো ক্ষতি করা সম্ভব নয়।
সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে আমরা প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করি। কিন্তু আপনার একটি সাধারণ পোস্ট বা মন্তব্যও মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেতে পারে যদি তা মেটার ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘন করে।
বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ ‘রুলবুক’ বা নিয়মাবলী ফাঁস করা হয়েছিল, যেখানে সহিংসতা, যৌনতা এবং ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্যের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মেটার সেন্সরশিপ প্যাটার্ন নিয়ে ম্যাশেবল-এর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা বিষয়বস্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ফেসবুকে কোন ধরনের শব্দ বা বক্তব্য আপনার পোস্টকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো-
১. সহিংসতা এবং অপরাধমূলক উস্কানি
ফেসবুকের নীতি অনুযায়ী, কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্যমতে, ‘কাউকে গুলি করো’ (যেমন- ‘Someone shoot Trump’) এ জাতীয় সুনির্দিষ্ট হুমকি দেওয়া হলে সেই পোস্ট দ্রুত রিমুভ করা হয়। তবে মজার বিষয় হলো, ‘Fuck off and die’-এর মতো গালিগালাজ সবসময় রিমুভ হয় না, কারণ ফেসবুকের অ্যালগরিদম এগুলোকে অনেক সময় ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ হিসেবে গণ্য করে না। এছাড়া ‘লুটতরাজ শুরু হলে গুলিও শুরু হবে’—এ ধরনের উস্কানিমূলক বাক্য ব্যবহারের কারণে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টও মেটা রিভিউয়ের আওতায় এনেছিল।
২. ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্য
কোনো জাতি, ধর্ম বা বর্ণের মানুষকে হেয় করে কথা বললে ফেসবুক তা সেন্সর করে। যেমন- ‘আইরিশরা বোকা’ বা ‘অভিবাসীরা নোংরা’—এ জাতীয় বাক্য সরাসরি ঘৃণা উদ্রেককারী হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর সাথে তুলনা (যেমন- গরু, বানর বা আলু/potato) করেও যদি কাউকে আক্রমণ করা হয়, তবে তা হেইট স্পিচ হিসেবে রিমুভ হতে পারে।
৩. নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম
বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রশংসা করা ফেসবুকে নিষিদ্ধ। যেমন- মার্কিন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী টিমোথি ম্যাকভেই কিংবা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী কেকেকে-এর সমর্থনে কোনো শব্দ বা প্রতীক ব্যবহার করলে আপনার পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হবে এবং অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়বে।
৪. যৌন উত্তেজক ভাষা ও নগ্নতা
যৌনতা এবং নগ্নতা নিয়ে ফেসবুকের ফিল্টার অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্য গার্ডিয়ান-এর ফাঁস করা তথ্যে দেখা যায়, শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গের নাম বা বর্ণনা সরাসরি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এমনকি শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও যদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি যৌন আবেদনময় চিত্র থাকে, তবে তা রিমুভ করা হয়।
অনুবাদের ভুল ও বিভ্রান্তি
ইন্টারনিউজের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেসবুকের অটোমেটেড সিস্টেম অনেক সময় শব্দের সঠিক অনুবাদ বা প্রসঙ্গের গভীরতা বুঝতে ভুল করে। উদাহরণস্বরূপ, আরবিতে ‘সহিংসতার ডাক’ (calls to action)-কে ভুল অনুবাদ করে ‘ফোন কল’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছিল।
বাংলার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, ‘ধর্মীয় কোরবানি’ বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের নাম (যেমন- মসজিদ বনাম উপাসনাস্থল) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুবাদের পার্থক্যের কারণে অনেক সময় পোস্টের রিচ কমে যায় বা ভুলবশত ফ্ল্যাগ করা হয়।
ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা
ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেক সময় রূপক অর্থ বা ব্যঙ্গাত্মক ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়। তাই বিতর্কিত কোনো শব্দ ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নির্বাচনের সময় ফেসবুকের অ্যালগরিদম ‘স্লাল লিস্ট’ বা নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা আরও বাড়িয়ে দেয়।