প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ এএম

স্মার্টফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ কল কেটে যাওয়া বা নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া অনেকের কাছেই বেশ পরিচিত সমস্যা। জরুরি প্রয়োজনের সময় এ সমস্যার কারণে বিপদেও পড়েন অনেকে। 


বেশির ভাগ ব্যবহারকারী এ সমস্যার জন্য মোবাইল অপারেটরকে দায়ী করলেও প্রযুক্তিবিদদের মতে, কল ড্রপ সমস্যার উৎস সব সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক নয়। অনেক সময় ফোনের সেটিংস, দুর্বল সিগন্যাল বা কিছু সাধারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও কল ড্রপের ঘটনা ঘটতে পারে। আর তাই বেশ কিছু কৌশলে নেটওয়ার্কের মান উন্নত করে কল ড্রপ সমস্যার সমাধান করা যায়।


কেন কল ড্রপ হয়


স্মার্টফোন সাধারণত যে মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেটির সিগন্যাল দুর্বল হয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে অন্য টাওয়ারে সংযোগ পরিবর্তন করে না। প্রযুক্তির ভাষায় এ প্রবণতাকে বলা হয় ‘টাওয়ার ক্লিংগিং’। ফলে কাছাকাছি শক্তিশালী সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও ফোন অনেক সময় দূরের দুর্বল টাওয়ারের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। এর ফলেই কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট বা ‘নো সার্ভিস’ সমস্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।


তবে এ সমস্যা দূর করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ফোনে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করার পর আবার বন্ধ করলে ফোন নতুন করে আশপাশের নেটওয়ার্ক খুঁজে নেয়। এতে অনেক সময় দ্রুত শক্তিশালী সিগন্যালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।


কল ড্রপ সমস্যা সমাধানের কিছু উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—


১. ফোন খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়া


মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ আশপাশের পরিবেশ। কংক্রিটের দেয়াল, ধাতব কাঠামো, লিফট বা ভূগর্ভস্থ স্থানে সিগন্যালের শক্তি কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে জানালার পাশে বা খোলা জায়গায় অবস্থান করুন। অনেক সময় শুধু স্থান পরিবর্তন করলেই সিগন্যালের মান কিছুটা উন্নত হবে।


২. ফোনের কভার খুলে ব্যবহার


খুব মোটা বা ধাতব অংশযুক্ত কিছু কভার ফোনের অ্যানটেনার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। নেটওয়ার্ক সমস্যার সময় সাময়িকভাবে কভার খুলে সিগন্যালের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।


৩. ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত চার্জ


দুর্বল সিগন্যালের এলাকায় ফোনকে উন্নত নেটওয়ার্ক খুঁজে পেতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে ব্যাটারির শক্তি বেশি খরচ হয়। ব্যাটারির চার্জ খুব কম থাকলে নেটওয়ার্ক সংযোগের স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা জরুরি।


৪. এয়ারপ্লেন মোড চালু করে আবার বন্ধ করা


নেটওয়ার্ক সমস্যার দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সব ওয়্যারলেস সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বন্ধের কয়েক সেকেন্ড পর চালু করলে ফোন আবার নতুন করে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।


৫. ফোন আবার চালু


স্মার্টফোন আবার চালু করলে অনেক অস্থায়ী সমস্যা দূর হয় এবং নেটওয়ার্ক সংযোগও স্বাভাবিক হয়ে আসে।


৬. সিম কার্ড খুলে আবার বসানো


দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সিম কার্ডের সংযোগস্থলে ধুলা বা ময়লা জমতে পারে। আবার সিম কার্ডে কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি থাকলেও নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সিম কার্ড খুলে পরিষ্কার করে আবার বসিয়ে নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান করা যায়।


৭. অপারেটর সেটিংস ও সফটওয়্যার হালনাগাদ


মোবাইল অপারেটররা নিয়মিত নেটওয়ার্ক–সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রকাশ করে থাকে। এসব হালনাগাদের মাধ্যমে কল, বার্তা ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উন্নত করা হয়। পুরোনো সফটওয়্যারের কারণেও অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর তাই ফোনে সব সময় সর্বশেষ সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।


৮. নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট


উল্লিখিত উপায়ে নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান না হলে ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করতে হবে। এতে ফোনের নেটওয়ার্ক–সংক্রান্ত সব কনফিগারেশন নতুন করে চালু হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড, ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের তথ্য এবং কিছু বিশেষ সেটিংস মুছে যেতে পারে। তাই আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।


৯. সিগন্যাল বুস্টার


সব পদ্ধতি অনুসরণের পরও যদি নেটওয়ার্কের মান সন্তোষজনক না হয়, তাহলে সিগন্যাল বুস্টার ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ধরনের যন্ত্র মোবাইল সিগন্যাল গ্রহণ করে সেটিকে আরও শক্তিশালী করে নির্দিষ্ট কক্ষ বা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে দেয়। তবে সিগন্যাল বুস্টারের দাম তুলনামূলক বেশি। তাই এটি কেনার আগে নিজের এলাকার নেটওয়ার্ক কভারেজ এবং অন্যান্য বিকল্প সমাধান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।


১০. অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা


সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো টাওয়ারে ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম বা নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের কারণে সাময়িকভাবে সেবার মান কমে যেতে পারে। আবার কোনো এলাকায় কভারেজ দুর্বল হলেও নিয়মিত কল ড্রপের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে অপারেটরের কারিগরি সহায়তায় নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান করতে হবে।




১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিনের সিইও টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব তুলে নিচ্ছেন টার্নাস। ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ইভেন্ট। প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও সম্ভাব্য ফোল্ডএবল মডেলকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ নামের ইভেন্টেই উন্মোচিত হতে পারে পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন ১৮ সিরিজ।


বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় (ইস্টার্ন টাইম দুপুর ১টা) অ্যাপলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে আয়োজনটি।


আসন্ন এই শরতের ইভেন্ট ঘিরে সবচেয়ে বড় গুঞ্জন হচ্ছে একটি ‘ফোল্ডএবল’ বা ভাঁজ করা যায় এমন আইফোন মডেল। অ্যাপল তাদের ‘আইওএস ২৭’-এর কোডে বেশ কিছুদিন ধরেই এ ধরনের ডিভাইসের সুবিধা যোগের কাজ কছে।


ধারণা করা হচ্ছে, ডিভাইসটির নাম হবে ‘আইফোন আল্ট্রা’, যা পকেটেও রাখা যাবে আবার ভাঁজ খুললে ‘আইপ্যাড মিনি’র মতো ট্যাবলেটের অভিজ্ঞতা দেবে।


এ বছর ‘আইফোন ১৮’ সিরিজ প্রকাশে কিছু নতুন কৌশল নিতে পারে অ্যাপল। আগামী মাসে ‘আইফোন আল্ট্রা’র পাশাপাশি ‘আইফোন ১৮ প্রো’ মডেলগুলো উন্মোচিত হতে পারে। অন্যদিকে, সাশ্রয়ী ‘আইফোন এয়ার ২’, ‘আইফোন ১৮ই’ ও মূল ‘আইফোন ১৮’ মডেলগুলোর জন্য ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে গ্রাহকদের।


অ্যাপল তাদের নতুন ডিভাইসগুলোর মূল কেন্দ্রে এআইকে রাখছে এবং আসন্ন ইভেন্টে এটাই কোম্পানিটির আলোচনার প্রধান বিষয় হতে যাচ্ছে। জুনে অনুষ্ঠিত ডব্লিউডব্লিউডিসি কি-নোটের প্রচলিত ধারায় অ্যাপলের পরিবর্তনের বিষয়টি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না।


প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য আলাদা ফিচারের দিকে নজর না দিয়ে অ্যাপল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিরি রিভ্যাম্প ‘সিরি এআই’ ও ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’কে ঘিরে সমন্বিত ও ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেছিল।


বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, সিরি এআইকেন্দ্রিক এ ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যোগ একঝাঁক নতুন ডিভাইস আনার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল।


এর মধ্যে রয়েছে নতুন আইপ্যাড, হোমপড মিনি ও অ্যাপল টিভি বক্সের আপগ্রেডেড সংস্করণ ও ঘরের সংযোগ অন্যান্য ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘স্মার্ট ডিসপ্লে’।


অ্যাপলের ইতিহাস বিবেচনা করা হলে এই ইভেন্টের মূল আকর্ষণ বরাবরের মতো নতুন আইফোনগুলোর ওপরই নিবদ্ধ থাকবে। এ আইফোন ইভেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে প্রথম কোনো বড় উন্মোচন ইভেন্ট হতে যাচ্ছে।


আগামী ১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিনের সিইও টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব তুলে নিচ্ছেন টার্নাস।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

শিক্ষার্থীদের এক বছরের জন্য বিনা মূল্যে গুগল এআই প্রো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সুবিধা পেতে শিক্ষার্থী হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে। ‘ব্যাক টু স্কুল’ প্রোগ্রামের আওতায় এ বিশেষ সুবিধা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করেছে গুগল। অফারের অধীনে এক বছরের জন্য শিক্ষার্থীরা গুগলের জেমিনাই ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। জেমিনাইতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যবহারের সীমা এবং ৪০০ জিবি ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজসহ আরও কিছু নতুন সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা।


এ বিশেষ সুবিধা কে কে পাবেন


বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অফারটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাবেন। তবে সে জন্য তাঁদের কাছে থাকতে হবে নিজস্ব জিমেইল অ্যাকাউন্ট, দেশের স্বীকৃত কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণপত্র। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র দরকার হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের ওপরে হতে হবে।


প্রথমে ব্রাউজারে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট লগইন করে ‘Google One Student Page’-এ যান। এরপর ‘Get Student Offer’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। দেশের নাম Bangladesh সিলেক্ট করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও নিজের নাম লিখতে হবে শিক্ষার্থীদের।


এরপর নানা তথ্য চাইবে গুগল। সেগুলো পূরণ করতে হবে।


পড়াশোনায় জেমিনাইয়ের নতুন সুবিধা


শুধু সাবস্ক্রিপশন বিনা মূল্যে দেওয়াই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কাজে জেমিনাইকে আরও কার্যকর করে তুলতে নতুন কিছু সুবিধাও যুক্ত করেছে গুগল। স্টুডেন্ট হাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাসের নোট ও সিলেবাস আপলোড করতে পারবেন। এরপর জেমিনাই এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করতে পারবে ব্যক্তিগত পড়ার নোট, ছোট ছোট শিক্ষামূলক পাঠ ও কুইজ।


এমনকি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এই এআই (কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা) ব্যবস্থা। ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবিধা আনছে জেমিনাই। এটি জটিল বিষয় বোঝাতে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন এবং তথ্যের টেবিল তৈরি করতে পারবে। ফলে বিজ্ঞান, গণিত বা অন্য কোনো জটিল বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আরও সহজে ধারণা নিতে পারবেন। এ ছাড়া জেমিনাই লাইভের সঙ্গে ডিপ রিসার্চ সুবিধাও যুক্ত করা হচ্ছে।


গুগলের এই শিক্ষার্থী অফার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত গ্রহণ করা যাবে। তাই যাঁরা যোগ্য শিক্ষার্থী, তাঁরা সময়সীমার আগেই অফারটি যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ নিতে পারেন।

বিষয় : গুগল এআই


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই অ্যাকাউন্টে পাসকি যোগ করার তাগিদ বা পরামর্শ পেয়ে থাকতে পারেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি থাকলেও পাসকি এনেছে নিরাপত্তা। সব ওয়েবসাইটে এখনও এর ব্যবহার চালু না হলেও পুরানো ব্যবস্থার তুলনায় পাসকি সবদিক থেকেই এগিয়ে। তবে পাসকি ব্যবহারে কিছু বিষয় বুঝে রাখা জরুরি।


প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মনে রাখা কোনো শব্দ বা সংখ্যার বদলে নির্দিষ্ট ডিভাইস বা সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল পাসকি। ফলে যেখানে পাসকি সংরক্ষণ করছেন, সেখান থেকে যেন ভুলবশত লকআউট না হয়ে যান সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে।


পাশাপাশি, বন্ধু বা পরিচিত কারও সঙ্গে সাধারণ পাসওয়ার্ডের মতো সহজে পাসকি শেয়ার করাও সম্ভব নয়। এরপরও অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য পাসওয়ার্ডের চেয়ে পাসকি ব্যবহার বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক, বিশেষ করে যারা এখনও পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করছেন না।


পাসকি কীভাবে কাজ করে তা একবার বুঝে নিলে দৈনন্দিন লগইনের ঝামেলা অনেকটাই কমে আসবে। পাসকি কোথায় ও কীভাবে সংরক্ষণ করছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় অপারেটিং সিস্টেম ও পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলো বর্তমানে পাসকি সুবিধা সমর্থন করছে।


পাসওয়ার্ড বনাম পাসকি: সুবিধায় কে এগিয়ে?


পাসওয়ার্ড ও পাসকির মধ্যে মূল পার্থক্য বুঝতে প্রথমে জানতে হবে দুটি প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে। পাসওয়ার্ড হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু বর্ণ বা সংখ্যার ‘গোপন কোড’, যা ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মালিকানা যাচাই করে।


সুরক্ষার স্বার্থে কোনো ওয়েবসাইটিই সরাসরি লেখা আকারে এ পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে না। এর বদলে বিশেষ গাণিতিক উপায়ে পাসওয়ার্ডটিকে এনক্রিপ্ট করে এলোমেলো কোডে রূপান্তর করা হয়, যাকে বলে ‘হ্যাশ’।


পরবর্তীতে ব্যবহারকারী সঠিক পাসওয়ার্ড দিলে ওয়েবসাইট সেটি তাদের ডেটাবেইসে থাকা হ্যাশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে ব্যবহারকারীকে প্রবেশাধিকার দেয়। সুরক্ষার মাত্রা বাড়াতে এ হ্যাশের সঙ্গে অতিরিক্ত র‌্যান্ডম ডেটা যোগ করা হয়, যা ‘সল্টিং’ নামে পরিচিত।


অন্যদিকে, পাসকি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে কোনো কোড বা লেখা মনে রাখতে হয় না। এ প্রযুক্তি দুটি চাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একটি ‘পাবলিক কি’, যা ওয়েবসাইট সংরক্ষণ করে এবং অন্যটি ‘প্রাইভেট কি’, যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে।


ব্যবহারকারী যখন কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে যান তখন ওয়েবসাইটটি ডিভাইসে থাকা পাসকির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে বলে। এ প্রাইভেট কি’টি ব্যবহারকারীর মোবাইল বা কম্পিউটারের নিরাপদ স্টোরেজে সংরক্ষিত থাকে ও ফেইস আইডি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ‘উইন্ডোজ হ্যালো পিন’-এর মতো বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আনলক করতে হয়।


ফলে বায়োমেট্রিক সুবিধা ব্যর্থ হলে ডিভাইসের মূল পিন নম্বরটি ছাড়া ব্যবহারকারীকে বাড়তি কিছু মনে রাখার প্রয়োজন পড়ে না।


প্রাইভেট ও পাবলিক কি’র বিষয়টি একটি তালাবদ্ধ মেইলবক্স বা চিঠির বাক্সের সঙ্গে তুলনা করলে সহজে বোঝা যায়। চিঠির বাক্সের বাইরের অংশটি ‘পাবলিক কি’, যেখানে যে কেউ চিঠি বা আবেদন ফেলতে পারে।


তবে সেই বাক্সটি খুলে চিঠি বের করে স্বাক্ষর বা উত্তর দেওয়ার অনুমতি কেবল আসল মালিকের ‘প্রাইভেট কি’র কাছেই থাকে। বাইর থেকে মেইলবক্স দেখে কি’র রূপ কেমন তা যেমন বোঝার উপায় নেই, পাসকিও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। ডিভাইস নিরাপত্তা ও ‘ফিশিং’ ঠেকানো ব্যবস্থা থাকায় কোনো ভুয়া ওয়েবসাইট বা হ্যাকার তা চুরি করতে পারে না।


এ কারণে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে শক্তপোক্ত স্ক্রিন লক ব্যবহার করা জরুরি। বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন হলেও ডিভাইসের আনলক পিন যদি ‘১২৩৪’-এর মতো সহজ হয় তবে সুরক্ষিত বিভিন্ন লগইন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


পাসওয়ার্ডের যেসব দুর্বলতা সমাধান করে ‘পাসকি’


পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বছরের পর বছর ধরে রয়েছে। প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই একই পাসওয়ার্ড বারবার বিভিন্ন সাইটে ব্যবহার করেন।


সাইবার অপরাধীরা চতুরতার সঙ্গে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়া ডেটাবেইসে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড এনক্রিপ্ট করা থাকলেও সাইবার আক্রমণের মুখে ডেটা চুরি হলে হ্যাকাররা তা ডিকোড বা ব্যবহারের পথ খুঁজে নেয়।


বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান করলেও তা পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়। এতে দুর্বল পাসওয়ার্ড জমা রাখা সম্ভব, ভুলবশত ভুয়া ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড পেস্ট হয়ে যেতে পারে বা ব্যবহারকারী নিজেই তাদের মূল ‘মাস্টার পাসওয়ার্ড’ ভুলে যেতে পারেন।


পাসকি এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে। যেমন–


● স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা: পাসকিতে দুর্বল বা সহজে অনুমান করা যায় এমন কোড তৈরির কোনো সুযোগ নেই। কারণ তা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান ধরে রেখে তৈরি হয়।


● ফিশিং ঠেকানো: পাসকি সরাসরি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ডোমেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে ভুলবশত কোনো ভুয়া বা ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে ঢুকলেও সেখান থেকে পাসকি চুরির সুযোগ থাকে না।


● একই কোড বারবার ব্যবহারে বাধা: পাসকি পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়, যা অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় বাড়তি নিশ্চয়তা দেয়।


● বহুমাত্রিক নিরাপত্তা: এ প্রযুক্তি একই সঙ্গে ‘ব্যবহারকারীর বিশ্বস্ত ডিভাইস’ ও ‘ডিভাইসের পিন বা বায়োমেট্রিক তথ্য’ যাচাই করে। ফলে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’-এর ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।


কোনো সাইবার হামলার ক্ষেত্রে পাসকি থেকে তথ্য চুরির কোনো ঝুঁকি থাকে না। কারণ ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত ‘পাবলিক কি’ আগে থেকেই সবার জন্য উন্মুক্ত, যা দিয়ে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কোনো ক্ষতি করা সম্ভব নয়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে আমরা প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করি। কিন্তু আপনার একটি সাধারণ পোস্ট বা মন্তব্যও মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেতে পারে যদি তা মেটার ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘন করে।


বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ ‘রুলবুক’ বা নিয়মাবলী ফাঁস করা হয়েছিল, যেখানে সহিংসতা, যৌনতা এবং ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্যের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।


এ ছাড়া মেটার সেন্সরশিপ প্যাটার্ন নিয়ে ম্যাশেবল-এর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা বিষয়বস্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।


ফেসবুকে কোন ধরনের শব্দ বা বক্তব্য আপনার পোস্টকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো-


১. সহিংসতা এবং অপরাধমূলক উস্কানি


ফেসবুকের নীতি অনুযায়ী, কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্যমতে, ‘কাউকে গুলি করো’ (যেমন- ‘Someone shoot Trump’) এ জাতীয় সুনির্দিষ্ট হুমকি দেওয়া হলে সেই পোস্ট দ্রুত রিমুভ করা হয়। তবে মজার বিষয় হলো, ‘Fuck off and die’-এর মতো গালিগালাজ সবসময় রিমুভ হয় না, কারণ ফেসবুকের অ্যালগরিদম এগুলোকে অনেক সময় ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ হিসেবে গণ্য করে না। এছাড়া ‘লুটতরাজ শুরু হলে গুলিও শুরু হবে’—এ ধরনের উস্কানিমূলক বাক্য ব্যবহারের কারণে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টও মেটা রিভিউয়ের আওতায় এনেছিল।


২. ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্য


কোনো জাতি, ধর্ম বা বর্ণের মানুষকে হেয় করে কথা বললে ফেসবুক তা সেন্সর করে। যেমন- ‘আইরিশরা বোকা’ বা ‘অভিবাসীরা নোংরা’—এ জাতীয় বাক্য সরাসরি ঘৃণা উদ্রেককারী হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর সাথে তুলনা (যেমন- গরু, বানর বা আলু/potato) করেও যদি কাউকে আক্রমণ করা হয়, তবে তা হেইট স্পিচ হিসেবে রিমুভ হতে পারে।


৩. নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম 


বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রশংসা করা ফেসবুকে নিষিদ্ধ। যেমন- মার্কিন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী টিমোথি ম্যাকভেই কিংবা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী কেকেকে-এর সমর্থনে কোনো শব্দ বা প্রতীক ব্যবহার করলে আপনার পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হবে এবং অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়বে।


৪. যৌন উত্তেজক ভাষা ও নগ্নতা


যৌনতা এবং নগ্নতা নিয়ে ফেসবুকের ফিল্টার অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্য গার্ডিয়ান-এর ফাঁস করা তথ্যে দেখা যায়, শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গের নাম বা বর্ণনা সরাসরি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এমনকি শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও যদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি যৌন আবেদনময় চিত্র থাকে, তবে তা রিমুভ করা হয়।


অনুবাদের ভুল ও বিভ্রান্তি


ইন্টারনিউজের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেসবুকের অটোমেটেড সিস্টেম অনেক সময় শব্দের সঠিক অনুবাদ বা প্রসঙ্গের গভীরতা বুঝতে ভুল করে। উদাহরণস্বরূপ, আরবিতে ‘সহিংসতার ডাক’ (calls to action)-কে ভুল অনুবাদ করে ‘ফোন কল’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছিল।


বাংলার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, ‘ধর্মীয় কোরবানি’ বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের নাম (যেমন- মসজিদ বনাম উপাসনাস্থল) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুবাদের পার্থক্যের কারণে অনেক সময় পোস্টের রিচ কমে যায় বা ভুলবশত ফ্ল্যাগ করা হয়।


ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা


ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেক সময় রূপক অর্থ বা ব্যঙ্গাত্মক ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়। তাই বিতর্কিত কোনো শব্দ ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নির্বাচনের সময় ফেসবুকের অ্যালগরিদম ‘স্লাল লিস্ট’ বা নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিষয় : ফেসবুক

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২২ পিএম

কম্পিউটারে থাকা ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করতে এতদিন গুগল ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করতেন অনেকেই। তবে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে গুগল। এখন ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে কম্পিউটারের নির্দিষ্ট ফোল্ডার থেকে নতুন ছবি ও ভিডিও সরাসরি গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা যাবে না।


ফলে কম্পিউটারে ছবি বা ভিডিও রাখার পর সেগুলো গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করতে চাইলে ব্যবহারকারীদের নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।


আগে রাখা ছবি-ভিডিও কি মুছে যাবে?


নতুন নিয়মে পুরোনো ছবি বা ভিডিও নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। আগে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা ছবি ও ভিডিও আগের মতোই থাকবে। ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের মাধ্যমে আগে যেসব ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোজে রাখা হয়েছে, সেগুলোও মুছে যাবে না।


অর্থাৎ পরিবর্তনটি শুধু নতুন করে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের পদ্ধতিতে।


যেভাবে কম্পিউটার থেকে ছবি রাখবেন


ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের পুরোনো সুবিধা বন্ধ হলেও কম্পিউটার থেকে গুগল ফটোজে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করা যাবে।


এ জন্য প্রথমে কম্পিউটারের ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে গুগল ফটোজে প্রবেশ করে নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে ঢুকতে হবে। এরপর ছবি যোগ করার বিকল্প থেকে ‘ফোল্ডার সংরক্ষণ’ নির্বাচন করতে হবে।


এরপর কম্পিউটারে যে ফোল্ডারে ছবি বা ভিডিও রয়েছে, সেটি নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার পর ওই ফোল্ডারে থাকা ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোজে সংরক্ষণ শুরু হবে।


অর্থাৎ, এতদিন যে কাজটি ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের মাধ্যমে করা যেত, এখন সেটিই সরাসরি গুগল ফটোজের ওয়েবসাইট থেকে করতে হবে।


বেশি সমস্যায় পড়বেন কারা?


নতুন পরিবর্তনটি বিশেষ করে তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা নিয়মিত কম্পিউটারে ছবি ও ভিডিও রেখে সেগুলো গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করতেন।


ক্যামেরা বা মুঠোফোনের ছবি কম্পিউটারে এনে সেখান থেকে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা, পুরোনো ছবি-ভিডিওর বড় সংগ্রহ অনলাইনে রাখা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ফোল্ডারের ছবি নিয়মিত সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে পুরোনো পদ্ধতি আর কাজ করবে না।


গুগল ড্রাইভে থাকা ছবি কি হারাবে?


না। গুগল ড্রাইভে আগে থেকে থাকা ছবি বা ভিডিও মুছে যাবে না। একইভাবে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা পুরোনো ছবি ও ভিডিওও আগের মতোই থাকবে।


শুধু ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে কম্পিউটার থেকে গুগল ফটোজে নতুন ছবি ও ভিডিও পাঠানোর সুবিধাটি বন্ধ হয়েছে।


সংরক্ষণের আগে দেখে নিন জায়গা


ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করার আগে গুগল অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ গুগল ফটোজে ছবি ও ভিডিও রাখলে তা গুগল অ্যাকাউন্টের নির্ধারিত সংরক্ষণ জায়গা ব্যবহার করে।


এই একই সংরক্ষণ জায়গা জিমেইল ও গুগল ড্রাইভের জন্যও ব্যবহৃত হয়। ফলে অনেক ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণের আগে অ্যাকাউন্টে কতটা জায়গা খালি রয়েছে, তা দেখে নেওয়া ভালো।


নতুন নিয়মে পুরোনো ছবি-ভিডিও হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কম্পিউটার থেকে নিয়মিত গুগল ফটোজে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করা ব্যবহারকারীদের এখন থেকে পুরোনো পদ্ধতির বদলে গুগল ফটোজের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।


বিষয় : গুগল ফটোজ


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নামে ‘সার্কেল’ হিসেবে ব্র্যান্ডটির পরবর্তী যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এয়ারটেলকে একীভূতকারী মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা।


নতুন ব্র্যান্ডিং কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের পরিচিত‘এয়ারটেল’নামেরপরিবর্তে গ্রাহকদের কাছে‘সার্কেল’নামে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এয়ারটেলের দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে।


২০১৬ইং সালে Airtel Bangladesh Limited,Robi Axiata Limited-এর সঙ্গে একীভূত হয়।এরপর এয়ারটেল ব্র্যান্ডটি রবির অধীনে একটি স্বতন্ত্র পণ্য ব্র্যান্ড হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।


এয়ারটেলের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ বাজারে এটি হবে উল্লেখযোগ্য একটি ব্র্যান্ড পরিবর্তন।


বিশেষ করে দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের কাছে’এয়ারটেল’নামটির জায়গায় ‘সার্কেল’নামটি নতুন পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে রবিকে বড় ধরনের ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।তবে নতুন নাম চালুর সময়,ব্র্যান্ড পরিবর্তনের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান গ্রাহকদের সেবা ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এসব বিষয়ে রবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।