হজ নিবন্ধন।
চলতি বছর হজে যেতে ৭৬ হাজার ৫৮০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মোট ৭৬ হাজার ৫৮০ জনের মধ্যে ৭২ হাজার ৩৪৪ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৪ হাজার ২৬০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালে হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক বলেন, সাধারণ হজযাত্রীদের পাশাপাশি মেডিকেল টিম, হজ গাইড, প্রশাসনিক ও কারিগরি দলও সৌদি আরবে যাবেন হজযাত্রীদের সহায়তার জন্য। মন্ত্রণালয় তাদের তালিকা সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।
সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার শেষ সময় ছিল ২০২৫ সালে ১৬ অক্টোবর। আর নিবন্ধন শুরু হয় একই বছর ২৭ জুলাই।
হজ এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। সৌদি সরকার সকল হজযাত্রীর জন্য মেডিকেল ফিটনেস বাধ্যতামূলক করেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্য সচেতন থাকা এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় হজযাত্রীদের প্রস্তুতি থাকতে হবে।
হজযাত্রীরা ই-হজ সিস্টেম, লাব্বাইক মোবাইল অ্যাপ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা অফিস এবং বায়তুল মুকাররম হজ অফিস ও আশকোনা হজ অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। বাংলাদেশি হজযাত্রী বহনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স দায়িত্বে থাকবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এজেন্সিগুলোকে প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী সময়ে ২০ শতাংশ হজযাত্রী পাঠাতে হবে এবং বাকিদের প্রথম ও শেষ পর্যায়ে পাঠাতে হবে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো এজেন্সি প্রি-হজ ফ্লাইটের প্রথম বা শেষ পর্যায়ের হজ ফ্লাইটে ৩০ শতাংশের কম এবং ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করতে পারবে না। সকলকে নির্দেশনার আলোকে টিকিট ইস্যু ও ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ইসলাম মানুষের জীবনকে কৃচ্ছ্রসাধনের অন্ধকারে আবদ্ধ না করে বৈধ স্বাচ্ছন্দ্য গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। তবে সেই অনুমতির সঙ্গে শিখিয়েছে সংযম ও ভারসাম্য। মানুষ খাবে, পরবে, ব্যয় করবে এবং আল্লাহর নেয়ামত উপভোগ করবে, কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই সীমা অতিক্রম কিংবা অপচয় করবে না। মানবজীবনে অপচয়ের সাতটি প্রভাব হলো-
১. আল্লাহর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়া
একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো মহান আল্লাহর ভালোবাসা। সম্পদ, সম্মান, নেতৃত্ব কিংবা ক্ষমতা যত মূল্যবানই হোক, রবের সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না।
আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)
এ সংক্ষিপ্ত নির্দেশনার মধ্যেই অপচয়বিরোধী ইসলামি দর্শনের মূল কথা নিহিত রয়েছে।
২. অপচয়কারী শয়তানের ভাই
শয়তান মানুষের মধ্যে আল্লাহর অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার প্রবণতা সৃষ্টি করতে চায়। অপচয়ও মানুষকে এমন এক মানসিকতার দিকে নিয়ে যায়, যেখানে সে প্রাপ্ত নেয়ামতের যথাযথ মূল্য না দিয়ে অবহেলায় তা নষ্ট করে।
এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই আর শয়তান তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৭)
আয়াতে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। এটি অপচয়ের চরিত্রগত বিপজ্জনক দিকটি তুলে ধরার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ভাষা।
৩. নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা
অপচয়ের একটি গুরুতর প্রভাব হলো অন্তর থেকে নেয়ামতের প্রকৃত মূল্যবোধ হারিয়ে যাওয়া। একটি খাদ্য কণার পেছনে অগণিত মানুষের পরিশ্রম আর আল্লাহর অপরিসীম করুণা জড়িয়ে থাকে। এ বোধ যার অন্তরে জাগ্রত থাকবে, তার বিবেক কোনো কিছু নষ্ট করতে সায় দেবে না। আল্লাহর এসব নেয়ামত তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার দাবি রাখে।
মহান আল্লাহ সতর্ক করে বলেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব আর তোমরা অকৃতজ্ঞ হলে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)
কেবল মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার নাম কৃতজ্ঞতা নয়, প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় নেয়ামতের যথাযথ ব্যবহারে। অর্থসম্পদের অপচয় অকৃতজ্ঞতারই বাহ্যিক রূপ।
৪. নেয়ামত পরিবর্তনের আশঙ্কা
মানুষ যখন কোনো অনুগ্রহের যথাযথ মূল্য না দেয়, তখন তা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ইতিহাসে বহু জাতি প্রাচুর্য ও ক্ষমতা পেয়েও তা সংরক্ষণ করতে পারেনি, অকৃতজ্ঞতার ফলে তাদের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল।
কোরআনে এসেছে, ‘এটি এ কারণে যে আল্লাহ কোনো জাতিকে যে নেয়ামত দান করেছেন, তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন না করা পর্যন্ত তিনি তা পরিবর্তন করেন না।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ৫৩)
অপচয় কোনো সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করলে তার ক্ষতি কেবল দু-একটি পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না। খাদ্য নষ্ট হলে খাদ্যের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়, পানির অপব্যবহার করলে পানিসংকট তৈরি হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অসংযত ব্যবহারে জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট হয় এবং এর প্রভাব একসময় জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ব্যক্তিপর্যায়ের অসচেতনতা তখন সামষ্টিক বোঝায় পরিণত হয়।
৫. প্রাচুর্যের মোহে আখিরাতবিমুখ হয়ে পড়া
অপচয়ের অভ্যাস কখনো কখনো এমন এক জীবনদর্শনে পরিণত হয়, যেখানে প্রয়োজনের চেয়ে আকাঙ্ক্ষাই মানুষের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চাহিদা জন্ম নিতে থাকে। একটি প্রাপ্তি আরেকটি প্রাপ্তির ক্ষুধা বাড়ায়। মৃত্যু ছাড়া এ প্রতিযোগিতার কোনো শেষ গন্তব্য নেই।
আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের গাফিল করে রেখেছে, এমনকি তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে গেছ।’ (সুরা তাকাসুর, আয়াত: ১-২)
জীবনের সব অর্জন যদি ভোগবিলাস ও প্রতিযোগিতার পেছনে ব্যয় হয়, তাহলে আখিরাতের প্রস্তুতি ক্রমেই গুরুত্ব হারাতে থাকে। অপচয় কখনো কখনো মানুষের অন্তর থেকেও জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যকে বিস্মৃত করে দেয়।
৬. পরকালীন জবাবদিহি
মানুষের হাতে যে সম্পদ রয়েছে, তা নিয়ে সে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। উপার্জনের উৎস যেমন প্রশ্নের বিষয়, তেমনি ব্যয়ের খাতও জবাবদিহির অন্তর্ভুক্ত।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, (তার মধ্যে একটি হলো) তার সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)
এ হাদিস মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে পরকালীন দায়বদ্ধতাকেও যুক্ত করে দিয়েছে। অপচয়ের ক্ষেত্রে এ জবাবদিহির অনুভূতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খাতে ব্যয় করা বৈধ হলেই তা সব সময় প্রশংসনীয় হয় না। তাই ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সীমা লঙ্ঘন করার বিষয়েও মুমিনকে ভাবতে হবে।
৭. অর্থনৈতিক সংকট
অসংযত ব্যয়ের সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিণতি হলো অর্থনৈতিক সংকট। অপ্রয়োজনীয় খরচ যদি কারও নিয়মে পরিণত হয়, তাহলে সে একসময় অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে।
কোরআনে এসেছে, ‘তোমার হাত গলায় বেঁধে রেখো না এবং একেবারে পুরোপুরি প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৯)
এখানে দুটি চরম অবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একদিকে কৃপণতা, অন্যদিকে লাগামহীন ব্যয়। ইসলামের শিক্ষা মাঝামাঝি পথ। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উদারতা আর অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংযম।
অপচয় এমন একটি ব্যাধি, যার ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না। একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের শিক্ষা, অসুস্থ সময়ের প্রস্তুতি কিংবা হঠাৎ নেমে আসা সংকট-এসব বিবেচনায় রেখে ব্যয় করা দূরদর্শী মানুষের গুণ। সুতরাং মিতব্যয়িতা দারিদ্র্যের প্রতীক নয়, এটি ভবিষ্যৎ-সচেতনতার পরিচয়।
ছবি : সংগৃহীত
ইমানদার আল্লাহ–তাআলার প্রিয় বান্দা। ইমানের আলোয় আলোকিত মানুষই দুনিয়ার পথচলায় সঠিক দিশা পায় এবং আখেরাতের অনন্ত জীবনে সফলতার অধিকারী হয়। পবিত্র কোরআন মুমিনদের এই সৌভাগ্যের কথা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথপ্রাপ্ত, আর তারাই প্রকৃত সফলকাম।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৫)
তবে ইমান শুধু মুখের স্বীকৃতির নাম নয়, এর রয়েছে কিছু দৃশ্যমান আলামত, নৈতিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনঘনিষ্ঠ দাবি। মানুষের অন্তরে ইমানের যে আলো জ্বলে, তার বিচ্ছুরণ আচরণ, চিন্তা, আমল ও জীবনদর্শনে প্রকাশ পায়।
তাই প্রকৃত মুমিনকে চেনার জন্য তার কথার পাশাপাশি কর্ম ও চরিত্রের দিকেও তাকাতে হয়।
ইমানের বাস্তবতা কেমন
এক হাদিসে মুমিনের এমন ২০টি বৈশিষ্ট্যের কথা উঠে এসেছে, যার মধ্যে ইমানের মৌলিক বিশ্বাস, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং উন্নত নৈতিক গুণাবলি সবই অন্তর্ভুক্ত।
সাহাবি সুওয়াইদ ইবনে হারেস (রা.) বলেন, একবার তিনি তাঁর গোত্রের সাতজন লোককে সঙ্গে নিয়ে রাসুলের দরবারে উপস্থিত হন। তাঁদের চেহারা ও পোশাক দেখে সন্তুষ্ট হয়ে নবীজি জানতে চাইলেন, ‘তোমরা কারা?’
তাঁরা উত্তর দিলেন, ‘আমরা মুমিন।’
তাঁদের এ পরিচয় শুনে নবীজি মুচকি হাসলেন। এরপর বললেন, ‘প্রত্যেক জিনিসের একটা বাস্তবতা রয়েছে। তোমাদের কথার এবং তোমাদের ইমানের বাস্তবতা কী?’
তাঁরা বললেন, ‘পনেরোটি গুণ রয়েছে আমাদের মধ্যে। এর পাঁচটি বিষয়ে আপনার প্রেরিত দূতেরা আমাদের ইমান আনতে বলেছেন, পাঁচটি বিষয়ে আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আরও পাঁচটি গুণ আমরা ইসলামপূর্ব যুগে অর্জন করেছি, এখনো সেগুলোর ওপর অটল আছি। আপনি যদি এগুলোর কোনোটি অপছন্দ করেন, তাহলে আমরা তা পরিত্যাগ করব।’
রাসুল (সা.) প্রথমে জানতে চাইলেন, ‘আমার প্রেরিত দূতেরা তোমাদের কোন কোন বিষয়ে ইমান আনতে বলেছেন?’ তাঁরা বললেন,
১. আল্লাহর ওপর ইমান আনা।
মুমিনের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এক আল্লাহ। তাঁর সত্তা, ক্ষমতা, জ্ঞান ও কর্তৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ইমানের প্রথম ভিত্তি।
২. ফেরেশতাদের ওপর ইমান আনা।
আল্লাহর নুরানি সৃষ্টি ফেরেশতারা তাঁর নির্দেশ পালন করেন। তাঁদের অস্তিত্ব ও তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্বে বিশ্বাস করা ইমানের অপরিহার্য অংশ।
৩. আল্লাহর কিতাবসমূহের ওপর ইমান আনা।
মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর নবীদের ওপর কিতাব ও ওহি নাজিল করেছেন। সেই আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস রাখা আকিদার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৪. রাসুলদের ওপর ইমান আনা।
মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনার জন্য আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদের সত্যতা স্বীকার করা এবং তাঁদের আনীত হিদায়াতকে সত্য বলে গ্রহণ করা ইমানের অপরিহার্য দাবি।
৫. পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস রাখা।
মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। এরপর একদিন সবাইকে পুনরায় জীবিত করে আল্লাহর সামনে দাঁড় করানো হবে এবং দুনিয়ার প্রতিটি কাজের হিসাব নেওয়া হবে।
এরপর রাসুল (সা.) জানতে চাইলেন, ‘আমার প্রেরিত দূতেরা তোমাদের কী কী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন?’ তাঁরা উত্তর দিলেন,
৬. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা।
এই তাওহিদের ঘোষণা ইমানের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ইমানদার ব্যক্তি সব মিথ্যা উপাস্য ও পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে এক আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সমর্পণ করে।
৭. নামাজ কায়েম করা।
নামাজ আল্লাহর সঙ্গে মুমিনের সম্পর্ককে জীবন্ত রাখে। ইবাদতের পাশাপাশি এটি অন্তরকে পরিশুদ্ধ ও জীবনকে শৃঙ্খলিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
৮. জাকাত প্রদান করা।
সম্পদ আল্লাহর দেওয়া আমানত। তার নির্ধারিত অংশ হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মুমিন নিজের সম্পদকে পবিত্র করে এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করে।
৯. রমজানের রোজা রাখা।
রোজা মানুষকে প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ শেখায়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মধ্য দিয়ে আত্মসংযম, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির যে শিক্ষা অর্জিত হয়, তা মুমিনের চরিত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
১০. সামর্থ্য থাকলে হজ করা।
আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা অর্জিত হলে আল্লাহর ঘরের হজ করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এতে মুমিন আল্লাহর আনুগত্য, ত্যাগ, ঐক্য ও আত্মসমর্পণের অনন্য শিক্ষা লাভ করে।
এরপর রাসুল (সা.) জানতে চাইলেন, ‘ইসলামপূর্ব যুগে তোমরা কোন কোন গুণ অর্জন করেছিলে?’ তাঁরা বললেন,
১১. স্বাচ্ছন্দ্যে আল্লাহর শোকর আদায় করা।
সুখ-সমৃদ্ধি মানুষের জন্য যেমন পরীক্ষা, তেমনি বিপদও পরীক্ষা। প্রকৃত মুমিন প্রাচুর্যে আত্মভোলা হয় না। নিজের প্রাপ্তিকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে দেখে কৃতজ্ঞতায় মাথা নত করে।
১২. বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা।
জীবনের পথ সব সময় মসৃণ থাকে না। দুঃখ, ক্ষতি ও সংকটের মুহূর্তে নিজেকে সামলে রাখা এবং আল্লাহর ওপর আস্থা অটুট রাখা মুমিনের অন্যতম সৌন্দর্য।
১৩. সম্মুখযুদ্ধে অঙ্গীকার রক্ষা করা।
ভয় কিংবা বিপদের মুখেও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না যাওয়া চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয়। মুমিনের কাছে অঙ্গীকার তার নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ।
১৪. আল্লাহর সব ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা।
আল্লাহ যা নির্ধারণ করেন, তার পেছনে তাঁর প্রজ্ঞা রয়েছে। এই বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে। নিজের ইচ্ছা পূরণ না হলেও সে আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করে না।
১৫. বিপদের সময় শত্রুর বিদ্রূপ সহ্য করা।
প্রতিকূলতার সময় মানুষ যখন বিদ্রূপ ও কটূক্তির শিকার হয়, তখন উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো সহজ। কিন্তু অপমানের জবাবে নিজেকে সংযত রাখা এবং ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া উন্নত চরিত্রের লক্ষণ।
এই গুণগুলোর কথা শুনে নবীজি তাঁদের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন, ‘তোমরা জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান। তোমাদের বোধবুদ্ধি প্রায় নবীদের কাছাকাছি।’
এরপর নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমরা যদি ইমানের দাবিতে সত্যবাদী হও, তাহলে আমি তোমাদের জন্য আরও পাঁচটি গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছি।’
এভাবে ইমানের বৈশিষ্ট্য পূর্ণ হলো ২০টিতে। সেই পাঁচটি গুণ হলো,
১৬. এমন সম্পদ সঞ্চয় না করা, যা নিজে ভোগ করা হবে না।
সম্পদ কেবল প্রয়োজন মেটানোর উপায়, জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে শুধু জমিয়ে রাখার নেশা মানুষকে দুনিয়ার মোহে বন্দী করে ফেলে। তাই মুমিন সম্পদের মালিক হলেও তার দাস হয় না।
১৭. এমন ঘর নির্মাণ না করা, যেখানে বসবাস করার সুযোগ হবে না।
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, অথচ অনেক সময় সে এমন ভবিষ্যতের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যার সাক্ষাৎ তার ভাগ্যে নাও জুটতে পারে। মুমিন তাই দুনিয়ার সৌন্দর্য উপভোগ করলেও জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্যকে ভুলে যায় না।
১৮. এমন বিষয় নিয়ে বিবাদে না জড়ানো, যা আগামীকাল ছেড়ে যেতে হবে।
দুনিয়ার অসংখ্য বিষয় নিয়ে মানুষ রাগ, বিরোধ ও শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ে। অথচ যার জন্য আজ এত উত্তেজনা, মৃত্যুর মুহূর্তে তার কিছুই সঙ্গে যাবে না। বিচক্ষণ মুমিন তাই ক্ষণস্থায়ী বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজের শান্তি ও সম্পর্ক নষ্ট করে না।
১৯. সেই আল্লাহকে ভয় করা, যাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।
তাকওয়া মুমিনের অন্তরের প্রহরী। মানুষ যখন একাকী থাকে, যখন তাকে দেখার মতো কেউ থাকে না, তখনো ‘আল্লাহ দেখছেন’ এই অনুভূতিই তাকে গোপন ও প্রকাশ্য উভয় পাপ থেকে দূরে রাখে।
২০. সেই চিরস্থায়ী জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষী হওয়া, যেখানে অনন্তকাল অবস্থান করতে হবে।
দুনিয়া মুমিনের চূড়ান্ত ঠিকানা নয়। তার আসল আকাঙ্ক্ষা এমন জীবন, যেখানে মৃত্যু, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ এবং কোনো ধরনের অপূর্ণতা নেই। (আবু নুআইম ইস্পাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবকাতিল আসফিয়া, ৯/২৭৯, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৪১৬ হিজরি)
প্রতীকী ছবি
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ বুধবার। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম এবং ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে, আরবি বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে তাঁর জন্ম হয়। ৬৩ বছরের জীবনে ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পথ দেখিয়ে একই তারিখে তিনি পৃথিবী ছেড়ে যান।
আরব দুনিয়া যখন আইয়ামে জাহেলিয়াত বা পাপাচারের অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন আলোকবর্তিকা হয়ে জন্ম হয় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর। মক্কার কুরাইশ গোত্রের সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি সত্যবাদিতা ও সততার প্রতীক হয়ে ওঠেন; শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত হন। ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা ও সহিষ্ণুতায় তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর ইসলামের বার্তা প্রচার করেন। শুধু আধ্যাত্মিক শিক্ষা নয়; মদিনায় কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
সারাবিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বীর মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও যথাযোগ্য মর্যাদায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুর দিনকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। অনেকে নফল নামাজ আদায় করেন। কেউ কেউ রোজা রাখেন। রাসুল (সা.)-এর সম্মানে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো সাজানো হয়েছে কালেমাখচিত পতাকা ও জাতীয় পতাকায়।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশ ও মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। বন্ধ থাকবে সংবাদপত্রও। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী আয়োজন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। সিরাতুন্নবী (সা.) নামে জামায়াত এবং দলটির বিভিন্ন সংগঠন মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। আজ বাদ আসর বাংলামটরে দলীয় কার্যালয়ে মেহফিলে ইশক রাসুল (সা.) এবং নাত-সন্ধ্যার আয়োজন করেছে এনসিপি।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও আশেকানে মাইজভান্ডারি জশনে জুলুসের আয়োজন করছে। আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
সাহস, আত্মত্যাগ, দৃঢ়তা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সাহাবি জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফাতো ভাই, ঘনিষ্ঠ সাহাবি এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন। বদর, উহুদ, খন্দক, ইয়ারমুকসহ গুরুত্বপূর্ণ সব যুদ্ধে তিনি বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নিজের হাওয়ারি বা একান্ত সহচর ও সাহায্যকারী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)-এর বংশ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশের সঙ্গে মিলিত হয়েছে কুসাইয়ের মাধ্যমে। সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব ছিলেন তার মা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অংশ নেওয়া কোনো যুদ্ধেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। ইসলাম গ্রহণের পর তাকে নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়।
বর্ণিত আছে, তার চাচা তাকে চাটাইয়ে পেঁচিয়ে আগুনের ধোঁয়া দিতেন এবং বলতেন, কুফরিতে ফিরে যাও। জবাবে জুবায়ের (রা.) বলতেন, আমি কখনো কুফরি করব না।
নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা
সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর পথে সর্বপ্রথম তরবারি বের করেন জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)।
একদিন জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিহত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে খোলা তরবারি হাতে নিয়ে ছুটতে লাগলেন। পথিমধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে তার দেখা হলো।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে, জুবায়ের? তিনি বললেন, শুনেছি আপনি নিহত হয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাহলে তুমি কী করতে? জুবায়ের (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম, আমি মক্কার সবাইকে আক্রমণ করতে বেরিয়ে পড়তাম। তখন নবীজি (সা.) তার জন্য কল্যাণের দোয়া করেন।
সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব (রহ.) বলেন, আমি আশা করি, আল্লাহর কাছে জুবায়ের (রা.)-এর জন্য নবীজি (সা.)-এর সেই দোয়া কখনো বিফলে যায়নি।
হাবশা ও মদিনায় হিজরত
সাহাবিদের ওপর কুরাইশের নির্যাতন যখন চরমে পৌঁছাল, তখন সাহাবিদের হাবশায় হিজরতের পরামর্শ দেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। সেখানে ন্যায়পরায়ণ শাসক নাজাশির আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে সাহাবিরা সেখানে নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে থাকেন।
এভাবে তারা নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবনযাপন করছিলেন। একপর্যায়ে হাবশার এক ব্যক্তি নাজাশির সঙ্গে রাজক্ষমতা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এতে মুসলমানরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় সাহাবিরা নীল নদের অপর পারে নাজাশি ও ওই ব্যক্তির মধ্যে চলমান সংঘর্ষের খবর জানতে চাইলেন।
উম্মে সালামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা বললেন, কে এমন ব্যক্তি আছেন, যিনি গিয়ে তাদের যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করে আমাদের কাছে খবর নিয়ে আসবেন? জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) বললেন, আমি যাব। তারা বললেন, তাহলে তুমিই যাও। তখন তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে কম বয়সীদের একজন।
তার জন্য একটি মশক ফুলিয়ে দেওয়া হলো। তিনি সেটি বুকে বেঁধে সাঁতার কেটে নীল নদের সেই অংশে পৌঁছালেন, যেখানে দুই পক্ষের লোকজন একত্র হয়েছিল। এরপর তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন।
উম্মে সালামা (রা.) বলেন, তখন কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে উব্দেগ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম আমরা। এমন সময় জুবায়ের (রা.) ফিরে এলেন। তিনি নিজের কাপড় নাড়িয়ে বলতে লাগলেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। নাজাশি বিজয়ী হয়েছেন। আল্লাহ তার শত্রুকে ধ্বংস করেছেন এবং তার দেশে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
হাবশা থেকে মক্কায় ফিরে আসার পর জুবায়ের (রা.) প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সান্নিধ্যে থেকে ইসলামের শিক্ষা, আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন জুবায়ের (রা.)-ও মদিনায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বদর যুদ্ধে জুবায়ের (রা.)
জুবায়ের (রা.) ছিলেন দুর্ধর্ষ অশ্বারোহী ও সাহসী যোদ্ধা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো যুদ্ধেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। প্রতিটি যুদ্ধ ও সংঘাতে তাকে সাহস, বিরল বীরত্ব, পূর্ণ নিষ্ঠা এবং সত্যের বিজয়ের জন্য আত্মনিবেদনের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যায়।
আল্লাহর পথে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেছেন।
বদর যুদ্ধে তার মাথায় হলুদ পাগড়ি ছিল। উরওয়া (রহ.) থেকে বর্ণিত, বদরের দিন জুবায়ের (রা.)-এর মাথায় হলুদ পাগড়ি ছিল। জিবরাইল (আ.) তার আকৃতিতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এটি ছিল এমন এক মর্যাদা, যার তুলনায় পুরো দুনিয়ার সম্পদও তুচ্ছ।
খন্দক যুদ্ধে নবীজির সহচর জুবায়ের
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে দাওয়াতের পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)। অল্প বয়স থেকেই ইসলামের দায়িত্ব বহনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। আহজাবের যুদ্ধে জুবায়ের (রা.)-এর ভূমিকা তার সাহস, সাহায্যের মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বের অনন্য পরিচয় বহন করে।
খন্দকের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, বনু কুরাইজা সম্পর্কে কে আমাকে খবর এনে দেবে? জুবায়ের (রা.) বললেন, আমি যাব। তিনি ঘোড়ায় চড়ে রওনা হলেন এবং তাদের সম্পর্কে খবর নিয়ে ফিরে এলেন। এরপর নবীজি (সা.) দ্বিতীয়বার একই কথা বললেন। জুবায়ের (রা.) আবার বললেন, আমি যাব। তিনি আবার গেলেন।
তৃতীয়বারও রাসুলুল্লাহ (সা.) একই কথা বললে তিনি বললেন, আমি যাব। তখন নবীজি (সা.) বললেন, প্রত্যেক নবীর একজন হাওয়ারি থাকে, আর আমার হাওয়ারি হলো জুবায়ের।
হাওয়ারি বলতে বোঝায়, আমার ঘনিষ্ঠ সহচর, সাহায্যকারী ও একান্ত অনুগত সাহাবি। ঈসা (আ.)-এর সাহাবিদেরও হাওয়ারি বলা হয়। অর্থাৎ হাওয়ারি হলো এমন এক নিষ্ঠাবান সাহায্যকারী, যে সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়।
ইয়ারমুকের যুদ্ধে জুবায়ের (রা.)
উরওয়া থেকে বর্ণিত, ইয়ারমুকের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা জুবায়ের (রা.)-কে বললেন, আপনি কি একবার শত্রুদের ওপর আক্রমণ করবেন না? আমরা আপনার সঙ্গে আক্রমণ করব। তিনি বললেন, আমি যদি আক্রমণ করি, তাহলে তোমরা কি সত্যিই আমার সঙ্গে থাকবে? তারা বললেন, অবশ্যই থাকব।
জুবায়ের (রা.) শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তিনি তাদের সারি ভেদ করে এত দূর চলে গেলেন যে তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না। এরপর তিনি ফিরে এলেন। সাহাবিরা তার ঘোড়ার লাগাম ধরে তাকে থামালেন। তার কাঁধে দুটি আঘাতের দাগ ছিল। এর একটি বদরের দিনকার আঘাত।
উরওয়া বলেন, আমি ছোটবেলায় সেই আঘাতের দাগে আঙুল ঢুকিয়ে খেলতাম। সেদিন তার সঙ্গে তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরও ছিলেন। তখন তাঁ বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। জুবায়ের (রা.) তাকে ঘোড়ায় বসিয়ে একজন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে দেন।
মিসর বিজয়ে জুবায়ের (রা.)
আমর ইবনে আস (রা.) যখন মিসর বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তার সঙ্গে থাকা বাহিনী মিসর বিজয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর কাছে আরও সৈন্য পাঠানোর অনুরোধ করেন।
ওমর (রা.) আমরের বাহিনীর সংখ্যা কম হওয়ায় উদ্বিগ্ন হলেন। তিনি জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)-এর নেতৃত্বে আরও ১২ হাজার সৈন্য পাঠান। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ওমর (রা.) চার হাজার সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এই বাহিনীতে বিশিষ্ট্য সাহাবিদের ছিলেন জুবায়ের, মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ, উবাদা ইবনে সামিত ও মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ।
ওমর (রা.) চিঠিতে লিখেছিলেন, আমি তোমাকে চার হাজার সৈন্য দিয়ে সাহায্য করছি। তাদের প্রত্যেক হাজারের সঙ্গে এমন একজন রয়েছেন, যিনি এক হাজার সৈন্যের সমান।
জুবায়ের (রা.) আমরের কাছে পৌঁছে দেখলেন, তিনি বাবিলিয়নের দুর্গ অবরোধ করেছেন। জুবায়ের (রা.) ঘোড়ায় চড়ে দুর্গের চারপাশের পরিখা ঘুরে দেখলেন এবং পরিখার চারদিকে সৈন্যদের অবস্থান করালেন।
অবরোধ দীর্ঘ হতে হতে সাত মাসে পৌঁছাল। তখন জুবায়ের (রা.)-কে বলা হলো, দুর্গের ভেতরে প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বললেন, আমরা তো আঘাত ও মহামারির মুখোমুখি হতে এসেছি।
আমর ইবনে আসের জন্য বিজয় বিলম্বিত হচ্ছিল। তখন জুবায়ের (রা.) বললেন, আমি নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আশা করি, এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদের বিজয় দান করবেন।
তিনি একটি মই এনে দুর্গের পাশের হাম্মাম মার্কেটের দিকের দেয়ালে সেটি ঠেকিয়ে দিলেন। এরপর তিনি মই বেয়ে ওপরে উঠলেন এবং সৈন্যদের বললেন, তোমরা যখন আমার তাকবির শুনবে, তখন সবাই একসঙ্গে তাকবির দেবে।
হঠাৎ তারা দেখল, জুবায়ের (রা.) দুর্গের চূড়ায় উঠে গেছেন। তার হাতে তরবারি এবং তিনি তাকবির দিচ্ছেন। তাকে অনুসরণ করে সৈন্যরা মইয়ের ওপর উঠতে শুরু করল। তখন আমর ইবনে আস (রা.) তাদের থামালেন, কারণ তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বেশি লোক উঠলে মইটি ভেঙে যেতে পারে।
রোমানরা যখন দেখল, আরবরা দুর্গ দখল করে ফেলেছে, তখন তারা সেখান থেকে সরে গেল। এভাবেই বাবিলিয়নের দুর্গ মুসলমানদের জন্য খুলে গেল। এই দুর্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে মিসর বিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। জুবায়ের (রা.)-এর অসাধারণ সাহসই মুকাওকিসের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের সরাসরি কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলামি উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ছেলে সন্তান না থেকে শুধু মেয়ে সন্তান থাকলে সম্পদের বণ্টনের অনুপাত এবং অংশীদার বদলে যায়। প্রখ্যাত ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সম্প্রতি তাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন বর্তমানে যাদের ছেলে নাই কিন্তু মেয়ে আছে, তার বাবা মৃত্যুর আগে সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দিয়ে যায় যাতে ভাতিজারা যেন না পায়। তা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?
প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো মানুষ জীবদ্দশায় একটা মেয়ে আছে, সব সম্পদ তাকে লিখে দিয়েছে, অথবা দুইটা মেয়ে আছে, সব সম্পদ তাদেরকে দিয়ে গেছেন। ভাতিজারা যেন না পায় বা হকদাররা যেন না পায়। এই কাজ করা অনুচিত। যদি দিয়ে যায়, মেয়েদের জন্য সেটা হালাল হবে।
তিনি বলেন, এটি করা অনুচিত, কারণ কোনো ওয়ারিসকে বা আপনার সম্পদ কেউ পেতে পারে তাকে আপনি বঞ্চিত করার ইচ্ছা করলেন, এটা হলো তার প্রতি এক রকমের অবিচার ও জুলুম, এটা জায়েজ না। কিন্তু যদি এভাবে দিয়ে দেয় মেয়েদেরকে হেবা হিসেবে বা দান হিসেবে—ঠিক আছে আমি তোমাদেরকে দান করে দিলাম বা বাপ মেয়েদেরকে দান করতেই পারে সমান হারে দিল—তাহলে সেক্ষেত্রে সেটা দেওয়াটা জায়েজ হবে, কিন্তু অন্যকে যে ঠকানোর উদ্দেশ্য হয়েছে ওটার কারণে তার গুনাহ হবে।
তিনি আরও বলেন, অতএব এরকমটি না করা উচিত। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের ওয়ারিসদের মধ্যে কে বেশি উপকারে তোমরা জানো না। এজন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন সে অনুযায়ী দেওয়া উচিত এবং ওইটাকে মানার ভেতরেই কল্যাণ আছে। আহমাদুল্লাহ বলেন, তবে হ্যাঁ, মেয়েদেরকে কিছু সম্পদ আপনি গিফট হিসেবে সমান হারে ভাগ করে দেন জীবদ্দশায়, সেটা ভিন্ন বিষয়। আর কিছু সম্পদ রাখেন যে মৃত্যুর পরে সমান হারে যার যা প্রাপ্য তা পাবে। সবগুলো আপনি দিয়ে দিবেন না। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে ঘুম মানুষের শরীরকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলে। এটি মহান আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ নেয়ামতগুলোর মধ্যে একটি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে আবরণ ও নিদ্রাকে আরামপ্রদ করেছেন এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৪৭)
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন আরও ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১০)। তবে ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ অবচেতনভাবে নানা কাল্পনিক ঘটনা অনুভব করে থাকে, যাকে আমরা স্বপ্ন বলে অবহিত করে থাকি। এ ক্ষেত্রে স্বপ্নকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। একটি হলো الرُّؤْيَا (আর-রুউয়া) বা ভালো স্বপ্ন এবং অপরটি الْحُلْمُ (আল-হুলমু) বা দুঃস্বপ্ন কিংবা খারাপ স্বপ্ন।
হাদিসে এসেছে, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫১৫, ৬৫৩৩)। এজন্য রাসুল (সা.) দুঃস্বপ্ন বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে উম্মতদের মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন। আবার কোনো কোনো হাদিসে খারাপ স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার পাশাপাশি বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলার কথাও এসেছে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫৩)
আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ভালো স্বপ্ন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর দুঃস্বপ্ন হলো শয়তানের পক্ষ থেকে। কাজেই কেউ যদি স্বপ্নে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, আর এর অনিষ্ট থেকে যেন আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। ফলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২২৮০)
এ ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে অনেক সময় মানুষ স্বপ্নে মৃত বাবা-মা কিংবা পরিচিত কাউকে ডাকতে দেখেন। কেউ কেউ আবার নিজের কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের কারও মৃত্যুও দেখে থাকেন। যার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন শোনা যায় যে, স্বপ্নে মৃত কাউকে ডাকতে দেখা কিংবা নিজের মৃত্যু দেখার অর্থ কাছের কেউ বা পরিচিত কেউ মারা যাবে। এমন স্বপ্ন আসলেই কি এই ইঙ্গিত দেয়?
আলেমদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শয়তান মানুষকে নাজেহাল করতে খারাপ স্বপ্ন দেখায়। অযথাই মানুষকে ভয়ংকর কিছু দেখায় পেরেশানি বা দুশ্চিন্তায় রাখতে। তবে কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলে সেটি আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি বা আলেম কিংবা স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানেন- এমন কাউকে ছাড়া অন্যদের বলার ক্ষেত্রে নিষেধ রয়েছে।
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, স্বপ্নে কাউকে ডাকতে দেখা কিংবা নিজের মৃত্যু দেখলেই যে কেউ মারা যাবে, বিষয়টি এমন নয়। হতে পারে স্বপ্নে কেউ নিজের মৃত্যু দেখলো, অথচ বাস্তবে তার হায়াত (আয়ু) বাড়বে। এ কারণে যারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা ভালো বুঝেন, এমন কারও কাছেই একমাত্র স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত।
জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, যে স্বপ্ন দেখার পর নিজের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে, এমন মনে হয় যে স্বপ্নে খারাপ কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছেন- এমন স্বপ্ন কাউকে বলা উচিত নয়। এমন হলে বেশি বেশি ইস্তিগফারের পাশাপাশি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে পানাহ চাওয়া উচিত। সেই সঙ্গে সম্ভব হলে তৎক্ষণাৎ বাম পাশে তিনবার থুথু ফেলার পাশাপাশি দুই রাকাত সালাত আদায় করা যেতে পারে বলেও মত শায়খ আহমাদুল্লাহর।
মনে রাখতে হবে, আবু রাযীন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের স্বপ্ন হয় নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ। যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয় কারও সঙ্গে আলোচনা না করে, ততক্ষণ তা পাখির পায়ের ঝুলন্ত জিনিসের মতো। কিন্তু কারও সঙ্গে আলোচনা করে ফেললে (প্রদত্ত তা’বীর অনুসারেই বা স্বপ্নের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুসারে) তা ঘটে যায়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২২৮২)
এ ছাড়াও ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে হাদিসে একই কথা হাদিসে এসেছে। আবু সালামা (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি আবু কাতাদা (রা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি এমন স্বপ্ন দেখতেন যা তাকে রোগাক্রান্ত করে ফেলত। অবশেষে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেন- ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। তাই যখন কেউ পছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে তখন এমন ব্যক্তির কাছেই বলবে, যাকে সে পছন্দ করে। আর যখন অপছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে, তখন যেন সে এর ক্ষতি ও শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায় এবং তিনবার থু থু ফেলে আর সে যেন তা কারও কাছে বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৬৮)