অভিবাসীদের আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
মালয়েশিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৭৭ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নেগেরি সেম্বিলানে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে রাজ্যের সেরেমবান ও নিলাই এলাকার ১৩টি স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন নেগেরি সেম্বিলানের পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানান, সকাল ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৩৯৫ জন বিদেশিকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ১৯ থেকে ৪৭ বছর বয়সী ৭৭ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ৭১ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী রয়েছেন।
তিনি জানান, আটকদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার তিনজন নারী ও একজন পুরুষ, পাকিস্তানের ১০ জন পুরুষ, বাংলাদেশের ২৬ জন পুরুষ, থাইল্যান্ডের পাঁচজন পুরুষ ও একজন নারী, মিয়ানমারের তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী এবং ভারতের ২৬ জন পুরুষ রয়েছেন। অভিযানের সময় নিলাই এলাকায় অবস্থিত একটি সাবান উৎপাদন কারখানা থেকে সর্বাধিক ৫৫ জন অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সব পথ অবরুদ্ধ থাকায় কেউ পালাতে পারেনি বলে জানান তিনি।
কেনিথ তান বলেন, জনসাধারণের অভিযোগ ও এক সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে বৈধ পাস ও ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে অবস্থান করা এবং অন্যান্য অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধ মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতাভুক্ত।
আটক সবাইকে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য নেগেরি সেম্বিলানের লেংগেং অভিবাসন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসী দমনে সহযোগিতার জন্য জনসাধারণকে তথ্য ও অভিযোগ জানাতে আহ্বান জানানো হয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অভিবাসী নিয়োগ বা আশ্রয় প্রদানকারী যেকোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় সফরে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ভুটানের সংসদ ভবনের সম্মুখে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফর বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পঞ্চগড়ের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর এই অংশগ্রহণ পঞ্চগড়বাসীর জন্যও গর্ব ও সম্মানের বিষয়।
নিউ ইয়র্কের কুইন্সে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত বুধবার জামি চৌধুরী নামের ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিন দেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হতে হবে।
মামলার তথ্যের বরাতে প্রাইভেট ডিটেকটিভ শক্তি গুপ্ত জানান, ১৬ অগাস্ট দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৮৯-১৬ ১৭৫ স্ট্রিটের একটি পার্টি হলে জামি চৌধুরীর ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়।
সেখানে ডিজের সরঞ্জাম ও সেবা দেওয়ার জন্য অনুপ কুমার এষকে ১ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়ার কথা ছিল।
অনুপের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের পর তাকে ৪০০ ডলার দিতে চাইলে তিনি আপত্তি জানান। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে জামি চৌধুরীসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন।
পারিশ্রমিক দাবি করার পর ‘ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক’ গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অনুপ বলছেন, তার হিন্দু পরিচয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তার ভাষ্য, পেশাগত সেবার পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ দিয়ে ঘটনার শুরু হলেও পরে একদল লোক এতে জড়িয়ে পড়ে। জামি চৌধুরীসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।
মামলায় বলা হয়, অনুপকে শারীরিকভাবে আক্রমণ, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করার সময়ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
শক্তি গুপ্ত জানান, ৯১১ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায়। অনুপকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ঘাড়, কান ও পিঠে আঘাত লাগে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আপসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনুপ তাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “অন্যায়ভাবে আমাকে মারধর করা হয়েছে, অথচ সেই বিচারও পাব না? আমি আপসে বিশ্বাসী নই, ন্যায়বিচার চাই। কারণ এটি হচ্ছে আমার রুটি-রুজির অবলম্বন।”
অভিযোগের বিষয়ে জামি চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি রেস্তোরাঁয় গুলিতে ইউসুফ রাজু নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনে এ ঘটনা ঘটে।
রেস্তোরাঁটির কর্মী ৪৪ বছর বয়সি রাজুর মাথায় গুলি লেগেছিল। আর ৩৯ বছর বয়সি রাজুর পায়ে গুলি লেগেছে বলে তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে।
রাজুকে গুরুতর আহত অবস্থায় কাছের ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভেনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টের’ ভেতরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। কী কারণে গুলি চালানো হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি তদন্ত করছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
নিহত রাজু বছর তিনেক আগে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার জন্য দালাল নিয়েছিল ৩০ লাখ টাকা। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। বিবাহিত রাজুর দেশে স্ত্রী, তিন সন্তানসহ ভাই-বোন ও মা-বাবা রয়েছেন।
রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগরে। আহত রাসেলের বাড়িও নোয়াখালীতে। তিনিও দালালকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
ব্রুকলিনে বসবাসরত নোয়াখালী কমিউনিটির নেতা শহিদুল্লাহ কাইসার জানান, ওই রেস্তোরাঁয় এক গ্রাহক খাবারের বিল পরিশোধ না করেই চলে যাচ্ছিলেন। তাকে বিল পরিশোধ করতে বলেন রাজু ও রাসেল। এ নিয়ে বাগবতণ্ডার একপর্যায়ে ওই গ্রাহক পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।
নোয়াখালী সোসাইটির নেতা নাজমুল হক মানিক বলেন, রাজুর স্বজনরা বাংলাদেশ থেকে ফোন করে লাশ পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় পতাকা
বাংলাদেশে ভ্রমণ নিয়ে দেশের নাগরিকদের সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও জনঅস্থিরতার আশঙ্কায় দেশটি বাংলাদেশে ভ্রমণকারীদের উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। সোমবার সর্বশেষ এই সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়। কানাডা সরকার এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বাংলাদেশ নিয়ে দুই দফা ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছিল। এবারের সতর্কতায়ও বাংলাদেশকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পর্যায়েই রাখা হয়েছে।
কানাডা সরকারের ভ্রমণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সময় বিক্ষোভ ও সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশে ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলে সতর্কতা আরও কঠোর
চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও কঠোর করেছে কানাডা। দেশটির নাগরিকদের ওই এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ ও সংঘর্ষের ঝুঁকির কথাও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে অবস্থানরত বা ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং ভ্রমণের আগে কানাডা সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, সেখানকার বাকি এক কর্মী বেঁচে গেছেন ঘটনার সময় বাইরে থাকায়। স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি হলেন হাবিবুর রহমান।
তার বরাতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে চুল কাটানোর জন্য তিনি সেলুনে যান। ফিরে এসে দেখেন, কারখানায় আগুন জ্বলেছে।
রিয়াদ মহানগরীর শিফা থানারে মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার ওই কারখানায় দুপুর ২টার দিকে আগুন লাগে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হাবিবুরের কাছ থেকে দূতাবাস জেনেছে, বাংলাদেশি কর্মীদের পরিচালিত কারখানাটিতে মোট ১৭ জন কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন মারা যান।
স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের বরাতে দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন পুড়ে মারা গেছেন। বাকি আটজন ‘কালো ধোঁয়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে’ মারা যান।
দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। মৃতব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে দূতাবাস।
মৃতদেহ সৌদি আরবে দাফন কিংবা বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য মৃতের পরিবারের লিখিত মতামত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে রিয়াদ দূতাবাস। নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। দুজনের বাড়ি পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গায়। অপরজনের বাড়ি আত্রাই লাগোয়া রাজশাহীর বাগমারায়।
আত্রাইয়ের নিহতরা হলেন- উজনপই গ্রামের ফরিদ ,ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গন্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের বজলুর প্রামানিকের ছেলে কলিমউদ্দিন, গুফফার প্রামানিকের ছেলে মোহন ও সুমন; একই থানার মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন; খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল, একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল, সাদনগর গ্রামের সাগর।
নলডাঙ্গার দুজন হলেন- দিঘীরপাড় গ্রামের শামিম এবং খাজুরা গ্রামের সাকিব। আর রাজশাহীর বাগমারার যিনি মারা গেছেন, সেই শ্যামলের বাড়ি মরুগ্রামে।
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। এখন থেকে কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা (কফিল) আকামা নবায়ন না করলে, সংশ্লিষ্ট কর্মী দ্রুত অন্য কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে সৌদি সরকার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ ঘোষণা দেন সৌদি আরবের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা। বৈঠকে সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরিও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতের শুরুতেই আল-ঈসা বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুখবর দেন। তিনি বলেন, এখন থেকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে বাংলাদেশী কর্মীদের কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করলে, দ্রুততম সময়ে অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উভয় দেশের শ্রম সহযোগিতা জোরদারকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহবান জানানো হয়।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা
পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান এবং গমনপূর্ব ওরিয়েন্টেশন প্রদানের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।
তাছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দক্ষ, উচ্চ-দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের নিয়োগ সহজতর করার লক্ষ্যে কারিগরি, ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট (ওয়ার্ক ভিসা) ও আকামা ইস্যু ও নবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয় এবং ওয়ার্ক পারমিটের বর্ধিত ফি-র দোহাই দিয়ে কিছু নিয়োগকর্তা যে বিলম্ব ঘটাচ্ছে, তা সমাধানে সৌদি সরকারের সহযোগিতার আবেদন করা হয়।
সৌদি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশী কর্মীরা সৌদি আরবের সার্বিক উন্নয়নে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এসময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় বেশ পারদর্শী; তাই তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি বিশেষভাবে আহবান জানান।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্ধিত কর্মী চাহিদায় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ শ্রমিক গ্রহণের আহবান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে গমনকারী নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবের সফর জেলে আটক থাকা বাংলাদেশী কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার আহবান জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবনার জবাবে আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম এবং ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সফর জেলে আটক বাংলাদেশী কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হলে তাদের ক্ষমার বিষয়টি নিয়ে সৌদি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।