তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজয়ী জোটকে অভিনন্দন জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তারেক রহমান ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে অভিনন্দন জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দুই নেতা এ অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সব সংসদ সদস্যদেরও অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁরা।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিবৃতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতাও কামনা করা হয়।
হেফাজতের নেতারা বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা আল্লাহ–তাআলার পক্ষ থেকে দেওয়া এক মহান নেয়ামত। তিনি যাদের ওপর দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাদের ওপরই জনগণের হক আদায়ের গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করেন। রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো সম্মান লাভের উপায় নয়, বরং এটি এক কঠিন আমানত। এই আমানতের জিম্মাদারি সঠিকভাবে পালন করা এবং ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক শাসকের প্রধান কর্তব্য।
হেফাজতের নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যে সরকার গঠিত হবে, তারা সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রসর হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় সাহসী ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক মত ও পথের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করবে। ফ্যাসিবাদী যেকোনো পন্থার শিকড় মূলোৎপাটনে সাহসী ভূমিকা পালন করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে নির্বাচন–পরবর্তী যে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নৈরাজ্য দেখা যাচ্ছে, তা কখনোই জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং এগুলো সরকার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান—সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমনে কঠোর কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে দেশের নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হেফাজতের নেতারা বলেন, যেকোনো উসকানিমূলক স্ট্যাটাস, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং সহিংস কার্যকলাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রতি মমতার দৃষ্টিতে তাকান।
বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব ঘটনারও বিচার করা হবে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
ইশরাক হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে ৩০ আগস্ট সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশেও বিগত বছরগুলোতে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো সরকারি দল হিসেবে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বিএনপি।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার সরকারি দল হিসেবে আমরা এই দিবসটি পালন করতে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দিবসটি পালন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইশরাক বলেন, ‘আমরা বার্তাটি দিতে চাই, বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। আমরা সেই ভয়াবহ, ভয়াবহ একটি কালো অধ্যায় অতিক্রম করেছি। আগামী দিনে একটি ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুম, বলপূর্বক গুম, অন্তর্ধান-যে নামেই আমরা ডাকি না কেন, এ ধরনের ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো বাংলাদেশে সংঘটিত হবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার, আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই বিগত দিনে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিচার আমরা করবো। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে চলেছে।’
আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার প্রসঙ্গে
এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অভিযুক্তদের বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের দাবি, তাদের সর্বোচ্চ বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সেই শাস্তি কার্যকর করা। আমরা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আটক রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশে গুম বা নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটবে না এবং রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। বক্তব্যের জন্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। রাতে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এ সময় তারা হাসনাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বক্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাশেদ খান
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়েই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ছক কষছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের জেরে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, "বিরোধীদলের সাথে সরকার যে আচরণ করছে, তা আওয়ামীলীগও করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আমি আগেই বলেছিলাম, ভবিষ্যতে জামায়াত-এনসিপি আওয়ামীলীগকে সাথে নিয়েই আন্দোলন করবে। এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট হলো।"
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও লেখেন, "সেপ্টেম্বর-নভেম্বর লংমার্চের মাধ্যমে দেশকে অশান্ত করে, ডিসেম্বর থেকে আওয়ামীলীগসহ নামবে জামায়াত!"
চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা রাশেদ খান জামায়াতের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, "তাহের সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ এর অধিক শহীদ, ৩০০০০ আহত যোদ্ধার রক্ত জামায়াতের কাছে কিছুই না! আসলেই তো এর থেকে বেশি রক্ত ৭১ এ ঝরিয়েছে জামায়াত! আর এজন্য জামায়াতের তুলনায় আওয়ামীলীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়! তা নাহলে ২৪ এর গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগও জামায়াতের উপর দমন করে নি, একথা বলে কিভাবে?"
বিগত সরকারের মেয়াদে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও দাবি করেন, "সত্যি বলতে, জামায়াত তো বিগত ১৬ বছর আওয়ামীলীগের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল, তাদের সাথে আওয়ামীলীগ কেন খারাপ আচরণ করবে? প্রতিদান স্বরুপ আওয়ামীলীগের অপরাধকে নরমালাইজ করতে তাহের সাহেবরা মাঠে নতুন বয়ান ছাড়ছে..... আর পাশে দাঁড়িয়ে সেগুলো উপভোগ করছে নাহিদ ইসলাম!"
পোস্টের শেষে তিনি "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগান দিয়ে নিজের বক্তব্যের ইতি টানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
রংপুরে যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই- যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ অপরাধিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একটি ঘটনাও নাই, এটাই বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিএনপির দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে অনেক অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। এতো অল্প সময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা উচিত হবে না।’
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করি না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে যারা জনপ্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে। পুলিশ বাহিনীকে শৃঙ্খলিত বাহিনীতে রুপান্তর করা হবে।’
হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ
কওমি ধারার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলগুলো এরই মধ্যে ঐক্যের রূপরেখা নিয়ে হেফাজতের কাছে আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবে অন্য দল বা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমঝোতার প্রশ্ন এসেছে।
সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সাত দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সরাসরি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের নাম উল্লেখ না করলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না করার শর্ত দিয়েছে।
আরও দুটি দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদাকে ঐক্যের ভিত্তি করার কথা বলেছে। অন্যদিকে তিনটি দল জামায়াত বা অন্য জোট নিয়ে শুরুতেই শর্তারোপের পক্ষে নয়।
সাত দলের প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি
সাত দলের ঐক্যের রূপরেখা নির্ধারণে দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে ১৫ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় বৈঠক হয়। এতে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব সাজিদুর রহমান এবং হেফাজত গঠিত সাবকমিটির নেতারা অংশ নেন। তবে এখনো ঐক্যের রূপরেখা তৈরি হয়নি।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ১৭ আগস্ট বলেন, সাবকমিটি সাত দলের প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। পরে আবার বৈঠক করে ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা হয়। এতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেয়।
সভা থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে ঐক্যের রূপরেখার প্রস্তাব দিতে বলা হয়। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি সাবকমিটিও গঠন করা হয়। দলগুলোর প্রস্তাব জমা পড়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা শুরু করে সাবকমিটি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠনে হেফাজতে ইসলামের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, হেফাজত নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে।
জামায়াত থেকে দূরত্ব চায় জমিয়ত ও ইসলামী আন্দোলন
ঐক্যের রূপরেখা নির্ধারণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আটটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথম প্রস্তাবেই জামায়াতের সঙ্গে সাত দলের ঐক্যের কোনো সম্পর্ক না থাকা ‘শতভাগ নিশ্চিত করার’ কথা বলেছে দলটি।
একই সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতে প্রস্তাবিত ঐক্যের কেউ এবং সাত দলের কোনো কর্মসূচিতে জামায়াতের কেউ অংশ নিতে পারবেন না- এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে সাত দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের না রাখা এবং হেফাজতের সভা-সমাবেশে সাত দলের নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জমিয়ত।
যদিও লিখিত প্রস্তাবের প্রথমেই জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার কথা বলা হয়েছে, জমিয়তের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত মূল ইস্যু নয়। বিগত সময়ে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়া কিছু কারণে শক্তিশালী হতে পারেনি। সেটি বিবেচনায় নিয়ে ঐক্য শক্তিশালী করার জন্য জমিয়ত প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রস্তাবে সরাসরি জামায়াতের নাম উল্লেখ করেনি। তবে দলটি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক বা সমঝোতা না রাখার পক্ষে।
ইসলামী আন্দোলন হেফাজতের কাছে ১২টি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদা পোষণকারী নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দল প্রাথমিকভাবে এই ঐক্যে থাকবে; অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা বা ঐক্য করা যাবে না; হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃস্থানীয় কেউ এই ঐক্যের বাইরের কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সমর্থন দিতে পারবেন না।
ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবে ‘রাজনৈতিক পক্ষ’ বলতে জামায়াতকে বোঝানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৭ আগস্ট তিনি বলেন, দেওবন্দ ঘরানার আলেমরা জামায়াতকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদাভুক্ত মনে করেন না। ইসলামী আন্দোলনও চায়, এই ঐক্যে জামায়াত না থাকুক এবং জামায়াতের জোটের সঙ্গে সাত দলের কারও সমঝোতা না হোক।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সাত দলের কেউ যদি অন্য বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে নতুন জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকে না। সবার আন্তরিকতা থাকলে ঐক্য হবে। তবে কারও অন্য মতলব থাকলে সেটি সম্ভব হবে না।
আকিদার শর্ত খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোটের
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ঐক্যের আদর্শিক ভিত্তি হবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদা। যাদের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা যাবে না। সরকার বা অন্য জোটের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে পথচলার কথাও বলেছে দলটি।
দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, এই জোটে থাকতে হলে অন্য কোনো জোটে থাকা বা যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। জোটে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো দল বা জোটের সঙ্গে আলোচনা করলে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অন্য কোনো দল যুক্ত হলেও সাত দলকেই নেতৃত্বে রাখতে হবে।
ইসলামী ঐক্যজোটের প্রস্তাবেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদায় বিশ্বাসী হওয়ার বিষয়টি এসেছে। দলটির মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি বলেন, যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদায় বিশ্বাসী, শুধু তাদের নিয়েই ঐক্য হতে হবে-এমন প্রস্তাব তাঁরা দিয়েছেন।
জামায়াতকে বাদ দেওয়ার পূর্বশর্তে আপত্তি খেলাফত মজলিসের
খেলাফত মজলিস বিগত সময়ের সমমনা ইসলামি দলগুলোর মতো সাত দলের একসঙ্গে পথচলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। দলটির নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা দূর হওয়া দরকার।
তবে হেফাজত যেহেতু অরাজনৈতিক সংগঠন, সে কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে সংগঠনটির অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না।
খেলাফত মজলিসের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বলেন, বিগত সময়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়ায় জামায়াতও ছিল। এখন জামায়াতকে বাইরে রেখেই ঐক্য করতে হবে-এমন চিন্তা সঠিক নয়।
অন্য জোটে থাকা নিয়ে শর্ত চায় না নেজামে ইসলাম
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, প্রাথমিকভাবে কওমি ঘরানার দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হতে পারে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সব দলের মতামতের ভিত্তিতে তা সম্প্রসারণ করা যাবে।
নীতি-আদর্শ, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের বিষয়ে একমত অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও যুক্ত করার সুযোগ রাখতে হবে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে শর্তারোপ করা যাবে না।
দলটির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার বলেন, আপাতত তাঁরা এই ঐক্যকে নির্বাচনী জোট হিসেবে দেখছেন না। ঐক্য সুদৃঢ় হলে পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় একে জোটের রূপ দেওয়া যায় কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলীয় সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ২০১৩ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগপর্যন্ত ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’-এর ব্যানারে কওমি ঘরানার দলগুলোসহ কয়েকটি ইসলামি দল একসঙ্গে কার্যক্রম চালিয়েছে। সেই কাঠামোই নতুন ঐক্যে বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
প্রস্তাবিত ঐক্যে যুক্ত হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলগুলোর স্বাধীনতা রাখার কথা বলেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ভিন্ন রাজনৈতিক জোটে থাকা দলগুলোও ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’-এর ব্যানারে একসঙ্গে কাজ করেছে-এই অভিজ্ঞতাকে বর্তমান ঐক্যের ভিত্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ঐক্যপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পূর্বশর্ত আরোপ করা যাবে না। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য আছে, সেগুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা এবং ভিন্নমতের বিষয়গুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা দরকার।
কেন কেন্দ্রে জামায়াত
হেফাজতের নেতা ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের পুরোনো আদর্শিক বিরোধ রয়েছে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদীর ইসলামবিষয়ক কিছু ব্যাখ্যাকে দেওবন্দ ধারার আলেমরা বিতর্কিত মনে করেন। সে কারণে হেফাজতের বর্তমান আমির বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের সমালোচনা করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন।
হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোরও নেতা। জাতীয় নির্বাচনের আগে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটারদের সমর্থন পেতে বড় দলগুলোর সঙ্গে এসব দলের যোগাযোগ বেড়েছিল।
শেষ পর্যন্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির জোটে থেকে নির্বাচন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও আসন সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন করে। ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের আগে ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে দুটি আসনে প্রার্থী দেয়।
নির্বাচনের পর কিছু বিষয়ে অসন্তোষ থেকে খেলাফত আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকেই কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে আলাদা রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে অবস্থান নেওয়ায় কওমি ধারার ভোট বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে যায়। এ পটভূমিতেই হেফাজতের উদ্যোগে সাত দলকে নিয়ে নতুন ঐক্যের চেষ্টা চলছে।
তবে প্রস্তাবিত ঐক্য জামায়াত ও তার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে পুরোপুরি দূরে থাকবে, নাকি দলগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা পাবে-সেই প্রশ্নেই এখন প্রধান মতভেদ।
দেশের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো ‘দূরত্ব’ রয়েছে বলে মনে করে না জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। আজ সোমবার রাজধানীতে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, নিউ নেশনের আকরাম হোসেন, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের একজন জানান, সভায় আরো কয়েকজন সম্পাদক ছিলেন, তারা হলেন, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল।
সাংবাদিকদের সামনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমাদের আমন্ত্রণে আজকে গণমাধ্যমের অনেক সম্পাদকেরা এসেছিলেন। অনেক সিনিয়র সাংবাদিকরা এসেছেন।”
এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা মনে করি না জামায়াতের সাথে গণমাধ্যমের দূরত্ব আছে।”
এ সময় পরওয়ারের ডান দিকে দাঁড়ানো দলের সহকারী সেত্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “দূরত্ব আছে বলে মনে হয় না।”
পরওয়ারের বাঁ দিকে থাকা আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "কখনোই (দূরত্ব) ছিল না।
এরপর মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি, আজকের সভাটিও এর অংশ।"
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিরোধী দলীয় নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হতে পারে, সেজন্য সম্পাদকদের পরামর্শ চান।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারকে দোষারোপ করেন শফিকুর রহমান। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি দ্রব্যমূল্যের উধ্বর্গতি, সারের সংকট, প্রশাসনে ‘দলীয়করণ’ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। সম্পাদকদের কেউ কেউ জামায়াতের ‘পাশে’ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে দলটির একজন নেতা জানান।
সম্পাদকদের মধ্যে শফিক রেহমান, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান চৌধুরী, সাজ্জাদ শরিফ বক্তব্য দেন। বেলা সোয়া ১২টায় মতিবিনময় শুরু হয়ে শেষ হয় ২টায়। উপস্থিত অনেকেই নিজেদের অবস্থান, প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন সভায়।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।