আধুনিক যুগে এসে আমরা এখন পুরোপুরি মোবাইল ফোন নির্ভর জীবন যাপন করছি। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারেই সম্পন্ন হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ। অফিসের কাজ, খবর পড়া, বিনোদন কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ-সবকিছুতেই ডিজিটাল ডিভাইসের নির্ভরতা বেড়েছে। মোবাইল ফোন যেন এখন মানুষের শরীরের একটি অঙ্গ। একটি ক্ষণও এই যন্ত্র ছাড়া চলা অসম্ভব। ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখা এবং রাতে ঘুমোনোর আগেও শেষ বার ফোনে চোখ রাখা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু অনেকেই এতে এতো বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছেন যে, মুক্তির জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন। ‘ডিজিটাল ডিটক্স’এর মাধ্যমে এ থেকে মুক্তি মিলবে। কীভাবে? চলুন জানা যাক।
এই অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে। ক্রমাগত নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনা ও তথ্যের বন্যা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ, স্ট্রেস ও অবসাদ। এই পরিস্থিতিতেই ধীরে ধীরে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। কখন বুঝবেন আপনার ডিজিটাল ডিটক্স দরকার? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বারবার ফোন চেক করার তাড়না থাকে, নোটিফিকেশন না দেখলে অস্থির লাগে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের পর মন খারাপ বা স্ট্রেস বেড়ে যায়, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় বা কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাহলে তা ডিজিটাল আসক্তির লক্ষণ হতে পারে। এমনকি ভার্চুয়াল যোগাযোগকে বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়াও সতর্ক সংকেত।
ডিজিটাল ডিটক্সের উপকারিতা : ডিজিটাল ডিটক্স মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত রাখে। মনোযোগের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে, কাজের মানও উন্নত হয়। ঘুমের সমস্যা কমে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ে। যা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। পাশাপাশি নিজের শখ, শরীরচর্চা ও আত্মযত্নে সময় দেওয়া সম্ভব হয়। যা জীবনকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে।
ডিজিটাল ডিটক্স মানে কি প্রযুক্তি ছেড়ে দেওয়া? না, তা একেবারেই নয়। ডিজিটাল ডিটক্স মানে প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করা। দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ফোন দেখা, খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমানো বা অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করার মতো ছোট পদক্ষেপ থেকেই শুরু করা যেতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই এর ইতিবাচক প্রভাব টের পাওয়া যায়।
গবেষণা বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিজিটাল ডিটক্স হল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা। যেমন শরীর সুস্থ রাখতে টক্সিনমুক্ত হওয়া জরুরি। তেমনই মানসিক সুস্থতার জন্য ডিজিটাল ওভারলোড থেকে বিরতিও প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটালাইজেশন জীবন সহজ করেছে ঠিকই। তবে এর নেতিবাচক দিকও স্পষ্ট। অতিরিক্ত তথ্যের চাপ বাড়ায় মানসিক উদ্বেগ, মাল্টিটাস্কিং কমায় মনোযোগের ক্ষমতা। সোশ্যাল মিডিয়ার মানসিকতা আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে। পাশাপাশি অনলাইন অ্যাক্টিভিটির কারণে গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষার ঝুঁকিও বেড়েছে।
এই জন্যই ব্যস্ত জীবনে নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হয়ে উঠছে সময়ের প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে তাই ফোনের আসক্তি কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে যাপন প্রশিক্ষকেরাও।
পুরুষদের কিছু শখ ও অভ্যাস নারীদের চোখে তাদের আকর্ষণ বাড়াতে পারে—এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ‘ডেট সাইকোলজি’র একটি সমীক্ষায়। ৭৪ ধরনের শখ ও অভ্যাস নিয়ে করা এই জরিপে নারীদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বই পড়ার অভ্যাস সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, কোনো পুরুষকে বই পড়তে দেখলে সেটি তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। এরপর পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিদেশি ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, রান্না এবং কাঠের কাজ।
নারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় আরও কিছু শখের মধ্যে রয়েছে চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, ফটোগ্রাফি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হাইকিং, ব্ল্যাকস্মিথিং ও তিরন্দাজি। এসব শখের বেশির ভাগই সৃজনশীলতা, নতুন দক্ষতা অর্জন, আত্মোন্নয়ন বা শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে, সমীক্ষায় কিছু অভ্যাসকে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীবিদ্বেষী ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকা, পর্নোগ্রাফি দেখা, জুয়া খেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, কসপ্লে, কমিক বই ও ফাঙ্কো পপ ফিগার সংগ্রহ, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং নিয়মিত নাইটক্লাবকেন্দ্রিক জীবনযাপনও তালিকার নিচের দিকে ছিল।
ডেটিং কোচ কোর্টনি রায়ানের মতে, মদ্যপান বা নাইটক্লাবিংকে জীবনের প্রধান বিনোদন হিসেবে দেখা অনেক নারীর কাছে অপরিণত আচরণ বলে মনে হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অন্যকে আকৃষ্ট করার জন্য কৃত্রিমভাবে কোনো শখ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দ ও আগ্রহের প্রতি সত্যিকারের মনোযোগই ব্যক্তিত্বকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। আর কোনো একটি সমীক্ষার ফলাফলকে সার্বজনীন সত্য হিসেবে দেখার আগে এর নমুনা, পদ্ধতি ও গবেষণার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনা করা জরুরি।
প্রতীকী ছবি
সর্দি-কাশি, জ্বর বা গলা ব্যথা হলে অনেকেই দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন। অনেকের ধারণা, কয়েক দিন ধরে উপসর্গ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে। কিন্তু সব ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অপ্রয়োজনে এই ওষুধ খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে।
ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না
অ্যান্টিবায়োটিক মূলত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। সাধারণ সর্দি-কাশি, ফ্লু ও তীব্র ব্রঙ্কাইটিসের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ থাকে ভাইরাস। তাই এসব অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে সুস্থ হওয়ার সময় কমে না। নাক দিয়ে হলুদ বা সবুজ সর্দি বের হলেও সেটি যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। একইভাবে সর্দি-কাশি সেরে যাওয়ার পর কয়েক দিন কাশি থাকলেও সবসময় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতি
প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ ও অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য ওষুধের সঙ্গেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি কিছু ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। বারবার অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে কিছু ব্যাকটেরিয়া ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক আর আগের মতো কাজ নাও করতে পারে। এতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন
সব অ্যান্টিবায়োটিকই ক্ষতিকর, এমন নয়। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিশ্চিত হলে বা চিকিৎসকের কাছে এর যথেষ্ট প্রমাণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। যেমন কিছু ধরনের নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, স্ট্রেপ গলা ব্যথা ও জটিল ত্বকের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কোন অ্যান্টিবায়োটিক, কত মাত্রায় এবং কত দিন খেতে হবে, সেটি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ঠিক করেন।
নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক নয়
আগের কোনো অসুস্থতার জন্য দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়। অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করাও নিরাপদ নয়। সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপসর্গের চিকিৎসাই সাধারণত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে তাই প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ওষুধটি আদৌ প্রয়োজন কি না। প্রয়োজন অনুযায়ী ও সঠিক নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেই এর কার্যকারিতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি
শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির ফ্যাশন মানেই কখনো মায়াবী, কখনো গ্ল্যামারাস, আবার কখনো একেবারে সাহসী স্টাইল স্টেটমেন্ট। বয়স, সময় কিংবা জীবনের নানা বাঁকও তার ফ্যাশন সেন্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং প্রতিটি নতুন লুকেই নিজের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছেন এই টালিউড অভিনেত্রী। সম্প্রতি জন্মদিনেও ইভিন্টের কয়েকটি ছবিতে তার সাজ-পোশাকও ভক্তদের নজর কেড়েছে।
জন্মদিনের পালনের ছবিতে নৌকার ওপর বসে শ্রাবন্তীকে দেখা গেছে হালকা পুদিনা সবুজ বা সি-গ্রিন রঙের শর্ট গাউনে। ওয়ান-শোল্ডার নেকলাইন পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও গ্ল্যামারাস আবেদন।
এক পাশে ফুল-স্লিভ, অন্য পাশে উন্মুক্ত কাঁধের ডিজাইনের এই অসমতা লুকটিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। কোমরের কাছ থেকে নিচের অংশে থাকা স্লিট এবং সূক্ষ্ম স্বচ্ছ জালের ডিটেইলিং পোশাকটিকে দিয়েছে আরও গ্ল্যামারাস মাত্রা।
এই লুকে মেকআপও ছিল পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চোখে হালকা কাজল ও আইলাইনার, গালে মৃদু ব্লাশ এবং মুখে সফট হাইলাইটারের ছোঁয়া তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক রেখে মেকআপে রাখা হয়েছে ন্যাচারাল ফিনিশ। অর্থাৎ গ্ল্যামার থাকলেও কোথাও বাড়াবাড়ি নেই।
চুলে ছিল হালকা ঢেউ। পেছনে বাঁধা চুলের কিছু অংশ ইচ্ছেমতো মুখের পাশে নেমে এসেছে, যা পুরো লুকে দিয়েছে এর ছোঁয়া। গয়নার ক্ষেত্রেও মিনিমালিজম বজায় রেখেছেন তিনি। ছোট ঝোলানো দুল, হাতে ব্রেসলেট ও আংটি- অল্প গয়নাতেই সাজটি সম্পূর্ণ করেছেন অভিনেত্রী।
অন্য এক ছবিতে একেবারেই ভিন্ন মুডে ধরা দিয়েছেন শ্রাবন্তী। পিংক রঙের ছিমছাম অথচ গ্ল্যামারাস টু-পিস কো-অর্ড সেটে। নরম গোলাপি রঙের পোশাকটি তার লুকে এনেছে এক ধরনের কোমল ও নারীত্বপূর্ণ আবহ।
কো-অর্ড সেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর সাদামাটা সিলুয়েটের মধ্যেও থাকা আধুনিকতার ছোঁয়া। শরীরের গড়নকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা এই পোশাকের সঙ্গে খুব বেশি বাড়তি আয়োজনের প্রয়োজনও হয়নি।
লুকে শ্রাবন্তীর স্টাইল হয়ে উঠেছে আরও পরিশীলিত ও বোল্ড। অফ-শোল্ডার ড্র্যাপড র্যাপ টপের সঙ্গে জুড়েছেন হাই-ওয়েস্টেড পেন্সিল মিডি স্কার্ট। শরীরের গড়নকে অনুসরণ করা এই সিলুয়েট তার লুকে এনেছে আধুনিক ফ্যাশনের স্পষ্ট ছাপ।
পায়ে ন্যুড রঙের ওপেন-টো প্ল্যাটফর্ম হিল বেছে নিয়ে লুকটিকে আরও লম্বা ও এলিগ্যান্ট দেখিয়েছেন তিনি। গলায় লেয়ার্ড ডায়মন্ড নেকলেসের সঙ্গে পান্নার পেনডেন্ট ছিল সাজের অন্যতম আকর্ষণ। সঙ্গে মানানসই দুল ও ব্রেসলেট যোগ করেছে সূক্ষ্ম রাজকীয়তা।
শ্রাবন্তীর এই লুকগুলো যেন প্রমাণ করে, ফ্যাশনের আসল সৌন্দর্য বয়সে নয়, বরং নিজের স্টাইলকে কতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বহন করা যায় সেখানেই।
দাম্পত্য জীবনে সুখ ও স্থায়িত্বের জন্য স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। সমবয়সী দম্পতি যেমন সুখী সংসার করতে পারেন, তেমনি এক বা দেড় দশকের বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতিরাও দীর্ঘদিন ভালোভাবে সংসার করছেন। আবার বয়সের ব্যবধান কম হলেও অনেক সম্পর্কে দেখা দিতে পারে নানা জটিলতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সফল দাম্পত্যের মূল ভিত্তি বয়সের ব্যবধান নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, বোঝাপড়া, মানসিক পরিপক্বতা ও খোলামেলা যোগাযোগ। তবে বয়সের ব্যবধানের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্কের কিছু বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
৫ থেকে ৭ বছরের ব্যবধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ৫ থেকে ৭ বছরের বয়সের ব্যবধান থাকলে অনেক ক্ষেত্রে মানসিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে ভালো ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। এতে মতবিরোধ সামাল দেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে এটিকে কোনোভাবেই সুখী দাম্পত্যের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যায় না।
১০ বছরের ব্যবধান
১০ বছরের বয়সের ব্যবধানও একটি সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, যদি দুজনের মূল্যবোধ, জীবনযাপনের ধরন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মিল থাকে। তবে বয়সে বড় সঙ্গীর একক কর্তৃত্ব যেন সম্পর্কে তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২০ বছর বা তার বেশি ব্যবধান
বয়সের ব্যবধান ২০ বছর বা তার বেশি হলে জীবনধারা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা সন্তান নেওয়ার সময় নিয়ে মতপার্থক্যের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বোঝাপড়া থাকলে এমন সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা যায়, যেসব দম্পতির বয়সের ব্যবধান ১ থেকে ৩ বছর এবং পুরুষ সঙ্গী বয়সে বড়, তাদের সম্পর্কের সন্তুষ্টির মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল। একই গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধানের সঙ্গে সন্তুষ্টির পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে আসে।
তবে গবেষণার কোনো ফলাফলকেই সবার জন্য প্রযোজ্য চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে দেখা যায় না। কারণ একটি দাম্পত্য সম্পর্কের সাফল্যের পেছনে ব্যক্তিত্ব, আর্থিক স্থিতিশীলতা, পারিবারিক পরিবেশ, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স গুরুত্বপূর্ণ
দাম্পত্যের বয়সের ব্যবধানের চেয়ে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় স্বামী-স্ত্রীর বয়স বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রজননক্ষমতা কমে যায়। পুরুষের ক্ষেত্রেও বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুর মান ও প্রজনন সক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে।
তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু বয়সের ব্যবধান নয়, উভয়ের বয়স, স্বাস্থ্য, প্রজননক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধানের কোনো ‘আদর্শ সংখ্যা’ নেই। ২ বছর, ৫ বছর কিংবা ১৫ বছরের ব্যবধান—কোনোটিই একা একটি দাম্পত্যকে সুখী বা অসুখী করে না। বরং পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, মানসিক সামঞ্জস্য এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার মানসিকতাই সম্পর্কের স্থায়িত্বে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে
ব্যস্ত জীবনে খাবার গরম করতে অনেকেই মাইক্রোওয়েভের উপর নির্ভর করেন। এতে খাবার গরম করতে ২-৩ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা ঠিক নয়। কারণ এমন কিছু খাবার আছে, যা মাইক্রোওয়েভে গরম করার পরে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। আবার কিছু খাবারের স্বাদ, গঠন ও টেক্সচার বদলে যায়। কোন খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা ঠিক নয় তা জেনে নিন-
খোসাসহ ডিম
মাইক্রোওয়েভে ডিম সিদ্ধ করা ঠিক নয়। ডিমের ভিতরের জলীয় বাংশ বাষ্পীভূত হয়ে ভিতরেই তীব্র চাপ তৈরি করে। সিদ্ধের পরে ডিমের খোসা ছাড়ানো পরে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে মাইক্রোওয়েভেই ডিম সিদ্ধ করতে চাইলে উপরের দিকে একটু অংশ ভেঙে খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপরে সিঙ্গল এগ হোল্ডারে বসেই গরম করে নিন।
কাঁচা মরিচ
মাইক্রোওয়েভে কাঁচা মরিচ গরম করা একদমই উচিত নয়। গরম করার পরে যখন মাইক্রোওয়েভের দরজা খুলবেন, চোখে-মুখে মরিচের ঝাঁজ এসে লাগবে। তবে তরকারিতে কাঁচা মরিচ মিশিয়ে গরম করলে সমস্যা নেই।
ফ্রায়েড ফুড
অনেকেই ভাজাভুজি খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলে আবার মাইক্রোওয়েভে গরম করেন। এটা ঠিক নয়। এতে খাবারের মুচমুচে ভাব নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রায়েড ফুড আবার গরম করতে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
সি ফুড
সামুদ্রিক মাছ বা খাবার মাইক্রোওয়েভে আবার গরম করলে তা রাবারের মতো হয়ে যায়। পাশাপাশি তীব্র গন্ধ বেরোতে পারে। যদি মাইক্রোওয়েভে সি ফুড গরম করতে হয় তাহলে এতে অল্প পানি বা সস মিশিয়ে ঢেকে গরম করুন।
প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ বা হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস মাইক্রোওয়েভে সঠিক ভাবে গরম হয় না। এই ধরনের খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্যাট ও লবণ থাকে। এগুলো মাইক্রোওয়েভে গরম করা ঠিক নয়। এগুলো ছাঁকা তেলে বা গরম পানিতে ফুটিয়েই রান্না করা উচিত। খাবার থেকে গরম ধোঁয়া না বেরোনো পর্যন্ত রান্না করুন।
ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ও ট্রাস্ট ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ট্রাস্ট ব্যাংকের গ্রাহকরা ঢাকা রিজেন্সির গ্র্যান্ডিওজ রেস্টুরেন্টে প্রতি বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার বছরব্যাপী বুফে ডিনারে 'বাই ওয়ান গেট থ্রি' অফার উপভোগ করতে পারবেন।
সোমবার বিকেলে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় ঢাকা রিজেন্সির ম্যানেজিং ডিরেক্টর (কারেন্ট চার্জ) মো. মিজানুর রহমান সিদ্দিকী এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোস্তফা মোশাররফ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রযোজ্য শর্ত ও নিয়ম সাপেক্ষে ট্রাস্ট ব্যাংকের গ্রাহকরা প্রতি বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার গ্র্যান্ডিওজ রেস্টুরেন্টে বুফে ডিনারে বিশেষ 'বাই ওয়ান গেট থ্রি' সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের জন্য উন্নত সেবা, বিশেষ সুবিধা এবং স্মরণীয় ডাইনিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।