আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড

  • প্রকাশ : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ পিএম

আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও বিচারের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। তবু পাল্টায়নি রূঢ় বাস্তবতা। রাজধানীর কাফরুলের গার্মেন্টস কর্মী বীথির (ছদ্মনাম) মতো নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নারী আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন বিচারের আশায়। 


যেখানে আইন অনুযায়ী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা, সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতেই লাগছে মাসের পর মাস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছরও। আর অভিযোগ গঠনের পর চার থেকে ছয় মাস এমনকি আট মাস অন্তর শুনানির তারিখ পড়ছে। সবমিলিয়ে বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর।


তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষী হাজির না হওয়া এবং শুনানির দীর্ঘ বিরতিতে ঝুলে আছে হাজারো মামলা। অপরাধ দমনে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ না থাকায় প্রায়ই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস।


রাজধানীর কাফরুলের জব্বারের গলিতে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিবেশীর বাসায় ধর্ষণের শিকার হন গার্মেন্টস কর্মী বীথি (ছদ্মনাম)। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় এক বছরের মাথায় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয় কাফরুল থানা পুলিশ। চার্জশিট দাখিলের পর গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এ। 


বিচারে পাঠানোর পাঁচ মাস পর গত বছরের ১৭ জুলাই এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন বিচারক। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য চার মাস পর একই বছরের ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় এ দফায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয় আট মাস পর। আগামী ৯ জুলাই মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। দুই আসামিই রয়েছে জামিনে। অন্যদিকে, বিচারপ্রার্থী মাসের পর মাস ঘুরছেন আদালতের বারান্দায়।


সর্বশেষ আইন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের পর থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার কথা। অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসে এবং হাতেনাতে ধরা না পড়লে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করার কথা বলা আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে। আর অভিযোগ গঠনের পর ৪ থেকে ৬ মাস, এমনকি ৮ মাস অন্তর মামলার শুনানির তারিখ পড়ছে। বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ফলে ধর্ষণের বিচার ও শাস্তি দৃশ্যমান হচ্ছে না। অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর নড়ে চড়ে বসে সবাই। সরকার-প্রশাসন, নারী অধিকার কর্মীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া হয় নানামুখী পদক্ষেপ। বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশ উত্তাল অবস্থা তৈরি হওয়ার পর দুবার আইন সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে এক নারীকে নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, খিলক্ষেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর আইন সংশোধন করে সরকার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ আইনের অধীনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে। পাশাপাশি ধর্ষণ মামলার আসামি শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।


এরপর গত বছরের মার্চে মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের বিচার ও তদন্তের সময়সীমা কমিয়ে আনে। ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের সময় অর্ধেক করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়লে তদন্ত হবে ১৫ কার্যদিবসে; অন্য ক্ষেত্রে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করতে হবে। 


এ ছাড়া অভিযোগ গঠনের পর থেকে বিচার হবে ৯০ কার্যদিবসে। তবে বিচারক মনে করলে সময় বাড়াতে পারবেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বলা হয়, আদালত যদি মনে করেন ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মেডিকেল সনদ দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করা যাবে, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষা লাগবে না।


ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর এ অপরাধ দমন ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধর্ষণের বিচার ও তদন্তে গতি ফেরেনি। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানার বেশকিছু ধর্ষণ মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫-৬ মাস ধরে ঝুলে আছে তদন্ত। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আসামি আটক হলেও অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে প্রতিবেদন দাখিল হচ্ছে না। 


গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদে নিজ বাসায় ধর্ষণের শিকার হন ১৫ বছরের কিশোরী আমেনা খাতুন (ছদ্মনাম)। আসামি মো. রিয়াদ চৌধুরীকে (১৯) ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হওয়া ধর্ষণ মামলায় নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। কিন্তু ৬ মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি দক্ষিণখান থানা পুলিশ। পাঁচবার সময় পিছিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে।


জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক সাদিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি গত মাসে বদলি হয়ে গেছি। এত কম সময়ে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া ও তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয় না। ধর্ষণের সঙ্গে এ মামলায় পর্নোগ্রাফি আইনও আছে।’


আসামি হাতেনাতে ধরা পড়েছে, নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকলেও এ মামলায় কেন হয়নি, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। নতুন অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে আমার জানা নেই।’


গত বছর রাজধানীর উত্তরখানের চাঁনপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে জাহিদুল হক ওরফে সাফান (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ৩১ অক্টোবর জাহিদুলের বিরুদ্ধে মামলার ৫ মাস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি উত্তরখান থানা পুলিশ। আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য রয়েছে।


এদিকে বিচারের পথ সুগম করতে দুই দফা আইন সংশোধনের পরও দেশে ধর্ষণের ঘটনা কমেনি। উল্টো বিগত এক বছরে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয় ২১ হাজার ৯৩৯টি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ৯টি অভিযোগে মামলা করা যায়। সেগুলো হলো ধর্ষণ ও ধর্ষণের কারণে মৃত্যু, বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, যৌনপীড়ন, যৌতুক, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানি এবং দহনকারী পদার্থ দিয়ে সংঘটিত অপরাধ। 


গত বছর হওয়া মামলার মধ্যে ৭ হাজার ৬৮টি ধর্ষণের অভিযোগের। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৫ হাজার ১৭১ জন ও শিশু ১ হাজার ৮৯৭। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৫৭১টি মামলা হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা ছিল ৫ হাজার ৫৬৬টি। তার আগে ২০২৩ সালে ১৮ হাজার ৯৪১টি, ২০২২ সালে ২১ হাজার ৭৬৬টি ও ২০২১ সালে ২২ হাজার ১৩৬টি মামলা হয়েছিল নারী নির্যাতনের অভিযোগে।


উচ্চ আদালতের তথ্যানুসারে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। ট্রাইব্যুনালপ্রতি গড়ে ১৩শর বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। ঢাকার ৯টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১১ হাজার ৫৬৭টি। ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন ৩ হাজার ৯১টি মামলা।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন সংশোধন করে তা যদি বাস্তবে প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সে সংশোধনী তো লোকদেখানো। এমন লোকদেখানো কাজ করে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমানো যাবে না। আইনে কঠোর শাস্তির যে বিধান করা হয়েছে, তার প্রয়োগ করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি দৃশ্যমান হতে হবে। এর জন্য বিচারক সংকটসহ যেসব সংকট রয়েছে, যেসব জায়গায় ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। তাহলেই ধর্ষণের মতো অপরাধের লাগাম টানা যাবে। অন্যথায় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে এ অপরাধ ক্যানসারের মতো ছড়াতেই থাকবে।


বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘দেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনাও বেশি। কিন্তু ঘটনার তুলনায় বিচারক অনেক কম। যে পরিমাণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাতে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে এখনই আরও ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এত বিপুলসংখ্যক বিচারক একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে প্রতি বছর বিচারক নিয়োগ বাড়াতে হবে।’


তিনি মনে করেন, মামলার সংখ্যা অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচশ এবং আপিল বিভাগে একশ বিচারক থাকা উচিত। প্রয়োজনে ভবন ভাড়া করে আদালত বসাতে হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সরকারের যে পরিমাণ রাজস্ব আয় বাড়বে, তা দিয়ে এ ব্যয় সংকুলান করা সম্ভব বলে দাবি করেন সাবেক এ জেলা ও দায়রা জজ। 


তিনি বলেন, ‘শুধু আইন সংশোধন করেই ধর্ষণ কমানো যাবে না। আইনের প্রয়োগ দৃশ্যমান হতে হবে। অপরাধীদের সাজা দৃশ্যমান হতে হবে। তাহলেই সমাজে এ অপরাধের ওপর প্রভাব পড়বে। অন্যথায় এ অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।’


বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সালামা আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারকের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তাদের সমন্বিত চেষ্টাই পারে বিচারে গতি ফেরাতে। পাশাপাশি মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং থাকতে হবে। তাহলেই বিচার দ্রুত সম্ভব। তিন কার্যদিবসেও মামলার বিচার করার নজির আছে, তাহলে মামলা কেন বছরের পর বছর পড়ে থাকবে?’


এ ক্ষেত্রে সংকট তুলে ধরে সালামা আলী বলেন, ‘সারা দেশে একটা অস্থির পরিবেশ। আইন প্রয়োগের কাঠামো নেই। ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগ তদন্তে যোগ্য তদন্ত কর্মকর্তা নেই, যোগ্য আইন কর্মকর্তা নেই। ভালো অবকাঠামো নেই। বিচারকের স্বল্পতাসহ নানা সংকট রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে ব্যাপারে সংসদে আলোচনার দাবি জানাই।’


শুধু বিচার প্রক্রিয়া তদারকি না করে তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকেও নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেন,‘বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করা হচ্ছে কি না, দেখতে হবে। মামলায় পুলিশ ও চিকিৎসকের মতো পেশাদার সাক্ষীরা অনেক সময় আসেন না। অনেকে বদলি হয়ে যান। তাদের আসা-যাওয়ার কোনো খরচও দেওয়া হয় না। এ বিষয়টা সমন্বয় করা দরকার। সাক্ষী সুরক্ষা জরুরি।’ 


নারী নির্যাতনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।




সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

স্বামী তৌফীক নেওয়াজের মৃত্যুর পর এখন আর বাসায় ফেরার তাগিদ অনুভব করছেন না জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার চেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।


ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, আমি দুই বছর ধরে কারাবন্দি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এসব কথা বলেন দীপু মনি।


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। আজ তার জামিনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।


জামিন শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। ট্রাইব্যুনাল তাকে কথা বলার অনুমতি দেন। পরে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় দীপু মনি এসব কথা বলেন।


সাবেক এ মন্ত্রী ট্রাইব্যুনালে বলেন, এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই। আমার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তার বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন তিনি। আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্বপালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি। এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।


গত ১৮ আগস্ট রাতে দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। গত ২৬ এপ্রিল দীপু মনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।


শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার মাস আগে তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও উল্লেখ করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাবো? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।


তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমরা খুবই ব্যথিত। আপনার আবেদনের যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। এরপর দীপু মনির জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০৭ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০৭ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


মো. হাবিবুল গনিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০৭ পিএম

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 


আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বিচারক মো. হাবিবুল গনিকে তার শপথ গ্রহণের তারিখ হতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগদান করেছেন।’


শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন। তার যোগদানের পর আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াবে পাঁচজনে।


বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সুপ্রিম কোর্টের ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৬২ সালের ৩১ মে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। 


১৯৮৯ সালের ৩ এপ্রিল জেলা আদালতে এবং ১৯৯২ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।


দীর্ঘ আইন পেশার পর ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে তিনি দেওয়ানি ও ফৌজদারি-দুই ধরনের মামলার শুনানিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন সময়ের কার্যতালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিচারপতি হাবিবুল গনি বিভিন্ন বিচারপতির সঙ্গে বেঞ্চে বসে ফৌজদারি আপিল, জামিন, রিভিশন, মৃত্যুদণ্ডের রেফারেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনেছেন।


সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি হাবিবুল গনি আইন ও বিচারবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। তিনি কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, হংকং, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেপাল, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব সফর করেছেন।


মির্জা আব্বাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।


আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন।


মামলাগুলো ২০০৭ সালে দায়ের করা হয়। এতে বিনা দরপত্রে সরকারি ১৮টি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছিল।


দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত মির্জা আব্বাসকে এসব মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেন।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।


ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ১০ জন হলেন- সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।


প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ দিন ধার্য রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হামলা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।


শুরুতে এ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।


এরই মধ্যে দীপু মনি ও আব্দুর রাজ্জাককে শাপলা চত্বরে গণহত্যার মামলায়ও আসামি করা হয়েছে।


হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর কারাগারে যাওয়ার সময় আসামি সাহিদা ও কবির। ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ এএম

রাজধানীর সবুজবাগে ছুরাইয়া আক্তার ফালানী নামে এক তরুণীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলায় তার বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদাসহ ২ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


তদন্তে উঠে এসেছে, আসামি সাহিদার স্বামী রাব্বির সঙ্গে তার বান্ধবী ফালানী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি সাহিদা জেনে যান। ঘটনার দিন রাব্বির সঙ্গে ফালানিকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলেন সাহিদা। সঙ্গে সঙ্গে সাহিদা ছুরি দিয়ে হত্যা করেন ফালনীকে।


বুধবার (২৬ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তাদের মধ্যে ফেলানীর বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদা ও তার ‘পাতানো ভাই’ কবির হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করা হয়। বাকিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়।


এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই আদালত থেকে অপর চার আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে।


কারাগারে যাওয়া বাকি চার আসামি হলেন- ফারুক ওরফে জামাই ফারুক, সুজন, মামুন, রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি ও রকি। এ তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম।


পুলিশ বলছে, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফালানি হত্যার কারণ উঠে এসেছে।


ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে এ হত্যার ঘটনা। সাহিদার স্বামী রাব্বির সঙ্গে তার বান্ধবী ফালানী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি সাহিদা জেনে যান। ঘটনার দিন রাব্বির সঙ্গে ফালানিকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলেন সাহিদা। সঙ্গে সঙ্গে সাহিদা ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন ফালনীকে।’


‘পরে লাশ গুমের জন্য সাহিদার সঙ্গী শাওন নামে আরেকজন নিহতের মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। শাওন ও সাহিদার স্বামী রাব্বি বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া কবির সাহিদার পাতানো ভাই।’


গত ৬ আগস্ট সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ির গরুর খামার লাগোয়া সেতুর নিচ থেকে একটি খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ছবি দেখে দেহাংশটি ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীর বলে শনাক্ত করেন তার মা-বাবা। ১৯ বছর বয়সী ফালানী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে। এ ঘটনায় ওইদিনই অজ্ঞাতদের আসামি করে সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।


ঘটনাটি তদন্তে নেমে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গত ২১ আগস্ট ফালানীর বান্ধবী সাহিদা, ফারুক, সুজন, মামুন, বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম প্রত্যেক আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


অন্যদিকে, গত ৫ আগস্ট খিলগাঁও থানা পুলিশ রকিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে রকি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। এরমধ্যেই ফালানী হত্যার সঙ্গে রকির সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে রোববার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।


আসামির উপস্থিতিতে গত সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আরেক আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। স্বীকারোক্তি দেওয়া কবিরকে গত মঙ্গলবার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  


আজ সোমবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।


২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলাটির রায় দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।


নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।


ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।