‘অ্যাপেক্স’ সিনেমার দৃশ্য

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ এএম

এখন সব বড় তারকাকে অবধারিতভাবে নেটফ্লিক্সের ‘কর্তব্য’ পালন করতে হয়। শার্লিজ থেরন সেটা কয়েক বছর ধরেই করেছেন। এসব সিনেমা হয় ঝাঁ–চকচকে, কিন্তু ভেতরে প্রাণ থাকে না। কিছু আশাজাগানিয়া মুহূর্ত থাকলেও ‘অ্যাপেক্স’ তাই মোটাদাগে চলনসই সিনেমা। তবু সারা দুনিয়ার মানুষ দেখছে, গত ২৪ এপ্রিল মুক্তির পর থেকেই এখনো নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে ছিল সারভাইভ্যাল থ্রিলারটি। এখন রয়েছে দুইয়ে। মুক্তির প্রথম ১০ দিনেই হয়েছে ৮ কোটি ভিউ!


আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের সিনেমাটি পুরোনো ঢঙের। শুরুর দৃশ্যটাও দুর্দান্ত, যা মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’কে। নরওয়ের এক সুউচ্চ পাহাড় চূড়া আরোহণে ব্যস্ত সাশা (শালিজ থেরন) ও টমিকে (এরিক বানা)। ভয়ংকর ট্রল ওয়ালের খাড়া পাহাড়ে শীতকালে চড়া সহজ নয়। দিনের শুরুতে তাঁরা তাঁবু থেকে মাথা বের করে চারপাশ দেখেন, আর দর্শক তখন হাঁ করে আবিষ্কার করে—তাঁদের তাঁবু ঝুলছে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া এক পাথুরে পাহাড়ের গায়ে। তাঁদের ছোট্ট আশ্রয়ের নিচে আছে শুধু ভয়ংকর এক অতল খাদ। প্রথম দৃশ্য থেকেই পরিচালক কোরমাকুর ও চিত্রগ্রাহক লরেন্স শের এমন সব মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ড্রোন শট ব্যবহার করেন, যা পুরো ছবিজুড়েই বিপদের অনুভূতিকে তীব্র করে তোলে।


ঝড় ঘনিয়ে এলেও সাশা থামতে চায় না। আঙুল রক্তাক্ত ও ব্যান্ডেজে মোড়া থাকা সত্ত্বেও সে আরও ওপরে উঠতে চায়। কিন্তু বাস্তববাদী টমি দিন শেষ করার পরামর্শ দেয়। সামান্য পা ফসকে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সে সাশাকে রাজি করায়। টমি সাশাকে জানায়, এ ধরনের চরম অ্যাডভেঞ্চারে সে নিজের সীমায় পৌঁছে গেছে এবং আর এগোতে চায় না। ফলে পরদিন নিরাপদে নিচে নামার চেষ্টায় ট্র্যাজেডি ঘটলে তা খুব একটা অপ্রত্যাশিত লাগে না।


পাঁচ মাস পর, গল্প চলে আসে অস্ট্রেলিয়ায়। টমিকে হারিয়ে শোকাহত সাশা এখানে এসেছে একা ক্যাম্পিং করতে, নির্জনতা খুঁজতে। কাল্পনিক ওয়ানডারা ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে সে এক পার্ক রেঞ্জারের (অ্যারন পেডারসন) সঙ্গে দেখা করে। তিনি সাশাকে সতর্ক করেন—এত নির্জন জায়গায় একা যাওয়া নিরাপদ নয়। তাঁর অফিসের দেয়ালে ঝোলানো অসংখ্য ‘নিখোঁজ ব্যক্তি’র পোস্টারই সেই আতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়।


শুরুতেই সম্ভাব্য হুমকির আভাস পাওয়া যায়। স্থানীয় এক ভয়ংকর ক্যাঙারু শিকারি (ম্যাট হোয়েলান) ও তার মাতাল সঙ্গী (রব কালটন) সাশাকে বারবার বিরক্তি করে। এরপরেই দৃশ্যপটে হাজির হয় তুলনামূলক নিরীহ, সদা হাস্য স্থানীয় যুবক বেন (ট্যারন এগারটন)। পেট্রলপাম্পে সে সাশাকে বলে, সরাসরি রাস্তা না নিয়ে একটু ঘুরপথে যেতে, কারণ দৃশ্যগুলো নাকি অসাধারণ সুন্দর। সে মিথ্যা বলে না, প্রকৃতিই সেখানে ছবির অন্যতম আকর্ষণ।


পরদিন সকালে সাশা নদীতে কায়াকিং করতে নামে। দৃশ্যগুলো ‘দ্য রিভার ওয়াইল্ড’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। পাথর, জলপ্রপাত আর ভয়ংকর স্রোতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। আসল বিপদ শুরু হয় তখনই, যখন সাশার ব্যাগ চুরি হওয়ার পর বেন হাজির হয়ে তাকে নতুন সরঞ্জাম ও সকালের নাশতার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু খুব দ্রুতই বোঝা যায়, তার উদ্দেশ্য ভয়ংকর। কিছুটা সময় পর বোঝা যায়, হাতের ক্রসবো দিয়ে বেন আসলে সাশাকে শিকার করতে চায়! এরপর শুরু হয় শিকারি বেন আর সাশার ইঁদুর-বেড়াল দৌড়।


‘অ্যাপেক্স’-এর গল্প এগোয় চেনা টেমপ্লেট মেনেই। ‘উলফ ক্রিক’, ‘কিলিং গ্রাউন্ড’, ‘ফ্রি সোলো’ থেকে শুরু করে ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’—অনেক সিনেমার সঙ্গেই এটির মিল আছে। কোরমাকুর অস্ট্রেলিয়ার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সাশার প্রাণপণ দৌড়ের দৃশ্যগুলো প্রবল রোমাঞ্চ তৈরি করে।


এগারটন বেন চরিত্রটিকে যথেষ্ট শীতল ও ভয়ংকর করে তুলেছেন। কখনো অদ্ভুত হাস্যরস, কখনো শিশুসুলভ আচরণ—সব মিলিয়ে তার মধ্যে মানসিক বিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। যখন সে সাশাকে ধরে নিজের ভয়ংকর আস্তানায় নিয়ে যায়, তখন সাশা ভয়াবহতা বুঝতে শুরু করে। এগারটন দারুণভাবে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন উচ্চারণও রপ্ত করেছেন।


তবে এসব মুহূর্তের চেয়ে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হলো—কখন কার হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে, সেই টানাপোড়েন। এগারটনের উন্মাদ চিৎকার আর ভয়ংকর ক্রোধ ভরা চোখের বিপরীতে থেরনের সংযত দৃঢ়তা ও সহনশীলতা তৈরি করেছে দুর্দান্ত এক দ্বন্দ্ব। সাশা চরিত্রে শালিজ থেরন কোনো অজেয় সুপারহিরো নন বরং সত্যিকারের আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত এক নারী। তাই যখনই সে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়, সেটি দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সরু গিরিখাতে আটকে পড়ার পর তার পাহাড়ে ওঠার দক্ষতা আবার কাজে লাগে। পর্দায় যারা শার্লিজকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন—সবচেয়ে কঠিন অ্যাকশন চরিত্রও সামলানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর আছে। এবার তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম প্রকৃতির মধ্যে, যেখানে একদিকে প্রকৃতির ভয়ংকর শক্তি, অন্যদিকে এক উন্মাদ সিরিয়াল কিলার—দুইয়ের সঙ্গেই লড়তে হয়। তবে এটিকে তাঁর জন্য খুব কঠিন অভিনয় বলেও মনে হয় না। একেবারে দায়সারা নয়, কিন্তু নিজেকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জও করেননি। বরং মনে হয়, তাঁর বাকি অ্যাকশন ক্যারিয়ারে তিনি হয়তো সব সময়ই ‘ফিউরিওসা’র ছায়া বয়ে বেড়াবেন।


২০২৪ সালে রোমান্টিক ড্রামা ‘টাচ’-এর পর কোরমাকুর আবার ফিরেছেন তাঁর চেনা সারভাইভ্যাল থ্রিলারের জগতে। এখানে তিনি তুলে ধরেছেন এমন এক রোমাঞ্চপিপাসু নারীর গল্প, যার কাছে নিজের সীমা পরীক্ষা করাই যেন জীবনের উদ্দেশ্য, বিশেষ করে যখন সব প্রতিকূলতা তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কোরমাকুর তাঁর লোকেশন ব্যবহারে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। গল্পের প্রতিটি মোড়, গুহা, নদীর স্রোত আর জলপ্রপাতকে তিনি এমনভাবে কাহিনির সঙ্গে মিশিয়েছেন যে প্রতিটির সম্ভাবনাই পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়েছে।


তবে সিনেমাটি কেবল এই সময়ের গল্প বলে, একবারে সহজবোধ্য ভাষায়; চরিত্রের গভীরে যেতে চায় না। ফলে সাশা আর বেনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অংশগুলো কখনো কখনো কিছুটা পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে। সাশার মতো শক্ত মনের একজন চরিত্র সহজে ভয় পাবে না, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বুদ্ধিমান একজন মানুষ কেন একেবারে অচেনা কারও পরামর্শে জনবিরল পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

গল্প খুব ছকবাঁধা হলেও মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের ‘অ্যাপেক্স’ একবার দেখা যেতেই পারে।




তানজিন তিশা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

টিভি নাটকে তানজিন তিশার উপস্থিতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল অনিশ্চয়তা। গত বছর সাকিব ফাহাদের ‘সোলজার’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর নাটকের কাজে নিয়মিত দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে। 


প্রায় সাড়ে চার মাস নতুন কোনো নাটকের শুটিংয়ে অংশ না নেওয়ায় তার নাটক ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই গুঞ্জনে ইতি টেনে আবারও নাটকের শুটিংয়ে ফিরেছেন তানজিন তিশা। বিরতির পর এরই মধ্যে দুটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি। 


মহিদুল মহিমের ‘ভালোবাসার অভিযান’র পাশাপাশি চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।


চয়নিকা চৌধুরীর নির্মাতা হিসেবে ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রথম দেখার পর’। নাটকটিতে তিশার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ। 


শুটিংয়ের ফাঁকে নাটকে ফেরার কারণ জানিয়ে তিশা বলেন, নাটক তার শিকড় এবং এই জায়গা থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখতে চান না।


তার ভাষায়, “প্রায় সাড়ে চার মাস নাটকের শুটিং করিনি। এ কারণে সবাই ধরে নিয়েছিল, সিনেমার জন্য হয়তো নাটক ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, আমার শিকড় আমি কখনো ভুলি না। নাটক আমার শিকড়, একই সঙ্গে এটি আমার ভালোবাসার জায়গা। যখন মনে হলো আবার শুরু করা উচিত, তখন চয়নিকা দিদির ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকের জন্য শিডিউল দিই। এর আগে আরও একটি নাটকের কাজ করেছি।”


‘প্রথম দেখার পর’ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, এটি একটি সুন্দর ভালোবাসার গল্প। দীর্ঘদিন পর চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে তার। নির্মাতার সঙ্গে আগের কাজগুলোর মতো এবারও দর্শকের ভালোবাসা পাবেন বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।


অন্যদিকে তানজিন তিশার সিনেমা ‘সোলজার’র কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছর সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও একটি গান ও কয়েকটি দৃশ্যের কাজ বাকি রয়েছে। 


জানা গেছে, আগামী মাসে বাকি অংশের শুটিং শুরু হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে সিনেমাটি।


সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ এ তানজিন তিশার বিপরীতে অভিনয় করছেন শাকিব খান। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এতে আরও অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, তারিক আনাম খান ও তৌকীর আহমেদসহ আরও অনেকে।


তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৩ পিএম

তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ করেছেন এক নারী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ে ও সিনেমায় কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন এই নির্মাতা। পরে জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে।


৭ আগস্ট হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা থানায় ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ পবন সাদিনেনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বিচারিক হেফাজতে চাঞ্চলগুডা কারাগারে পাঠান।


অভিযোগকারীর দাবি, এক বছরের বেশি সময় ধরে পবনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। শুরুতে পবন তাঁকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন, হাসপাতালে নিয়ে যেতেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার ও আর্থিক বিষয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতেন। ওই নারী একটি সিনেমা পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছিলেন, সেটি প্রযোজনা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন পবন।


একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তানও রয়েছে। 


অভিযোগ অনুযায়ী, পবন তাঁকে জানান, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকেই বিয়ে করবেন-এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।


ওই নারীর অভিযোগ, পরে তাঁদের সম্পর্ক মূলত যৌন সম্পর্কে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময়ও পবন তাঁকে বিয়ে, বাড়ি, আর্থিক নিরাপত্তা ও সিনেমায় কাজের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও সেগুলো পূরণ করেননি।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও পবন তাঁকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করতেন। এমনকি প্যানিক অ্যাটাকের কথা জানালেও ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তাঁর আশঙ্কা, এসব ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।


অভিযোগে ৫ আগস্টের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। 


তাঁর দাবি, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাড়িতে পবন তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। মুখে আঘাত করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মুখ ও চোখের আশপাশে ফোলা, মাথাব্যথা ও পিঠে ব্যথা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


অভিযোগের ভিত্তিতে গোলকোন্ডা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ ধারা-প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন-এবং ১১৫(২) ধারা-ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা-এ মামলা করেছে।


২০১৩ সালে ‘প্রেম ইশক কাদাল’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় পবন সাদিনেনির। এরপর ‘সাবিত্রী’ (২০১৪) পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ ২০২৩ সালের ওয়েব সিরিজ ‘দয়া’, যা ‘তাকদির’ সিরিজের রিমেক।


বর্তমানে দুলকার সালমান, পূজা হেগড়ে ও শ্রুতি হাসান অভিনীত সিনেমা ‘আকাশম লো ওকা তারা’ পরিচালনা করছেন পবন।


খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০০ পিএম

নেপালের চীন সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত। খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের আরও সদস্য রয়েছেন।


হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছেন দুই অভিনেতা। গত ২০ আগস্ট তারা সেখানে পৌঁছান। এরপর থেকেই টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে তারা হোটেলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বিমানও ধরতে পারেননি তারা। ফলে বিকল্প পথে নেপাল থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 


অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খরাজ বলেন, বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে এসেছি ২০ অগস্ট। ২৬ তারিখ ফেরার কথা ছিল। বৃষ্টির কারণে আটকে পড়েছি। আর এখন ভয়াবহ বন্যা। ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় যাতায়াত করার অবস্থা নেই। গোরখপুর থেকে ২৮ তারিখের প্লেন ধরে কলকাতা ফিরব। 


জানা গেছে, সড়কপথে ভারত সীমান্তের কাছে গোরক্ষপুর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখান থেকে ২৮ আগস্ট সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে ফেরার কথা রয়েছে শুটিং দলের। এদিকে তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।


রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে খরাজ, রজতাভসহ শুটিং দলের সদস্যরা নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।  


প্রভা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম

হঠাৎ করেই অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গোপনে তিনি ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ করেছেন এমন দাবিও করা হয়।


বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রভা। তার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। গতকাল (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তৃতীয় বিয়ের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। 


প্রভা বলেন, ‘আমি বিয়ে করিনি এবং আমি কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ হননি। যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ 


সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রভা লেখেন, ‘একজন সাংবাদিকের লেখার শক্তি অনেক বেশি। একই কলম দিয়ে কাউকে ‘ভয়ংকর মানুষ’ হিসেবে, আবার কাউকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবেও তুলে ধরা সম্ভব। তাই এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।’


ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবেদনশীল কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান প্রভা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধও করেন তিনি।


নিজের ভক্তদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, কোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে কান দিয়ে যেন তারা বিভ্রান্ত না হন। তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে সঠিক ও সত্য তথ্য তিনি তার ফেসবুকের মাধ্যমেই জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।


শেষে ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনকে নিজের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে ভালো ও সুস্থ থাকার আহ্বান জানান সাদিয়া জাহান প্রভা।


২০০৫ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সাদিয়া জাহান প্রভা। পরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। বর্তমানে নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। 


সর্বশেষ একটি সিনেমার শুটিং করেছেন প্রভা। সিনেমাটির কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। শিগগিরই আবারও শুটিংয়ে দেখা যেতে পারে তাকে।

https://www.facebook.com/share/p/1FBbA7HBYu/?mibextid=wwXIfr


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ পিএম

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়ই আলোচনায় থাকেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পূজা চেরি। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। 


সুইমিং পুলে এক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবির ক্যাপশনও কৌতূহল বাড়িয়েছে ভক্তদের।


ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সুইমিং পুলে পাশাপাশি রয়েছেন পূজা ও এক ব্যক্তি। দুজনকে বেশ স্বচ্ছন্দ মুহূর্তে দেখা গেলেও ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি অভিনেত্রী।


ছবির সঙ্গে পূজা লিখেছেন, ‘দুই আত্মা, এক নীরব মুহূর্ত।’ এই ক্যাপশন প্রকাশের পরই তার অনুসারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ কেউ জানতে চাইছেন, ছবির ওই ব্যক্তি কে?


আবার অনেকে মন্তব্য করছেন, এই ব্যক্তিই কি তবে পূজার হবু স্বামী? তবে কি ধীরে ধীরে স্বামীকে প্রকাশ্যে আনবেন পূজা? তবে ছবিতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় বা তার সঙ্গে পূজার সম্পর্ক কী এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনাকে আপাতত অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


এর আগে পূজা চেরির বিয়ে নিয়েও বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে অভিনেত্রী নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। এবার নতুন ছবিটি সেই পুরোনো আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।


এদিকে পূজা চেরি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। যখনই আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, আমি নিজেই তা প্রকাশ্যে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সবাইকে জানাবো। লুকানোর কিছু নেই।’


পূজা চেরি নায়িকা হিসেবে আলোচনায় আসেন ‘পোড়ামন ২’ দিয়ে। এরপর ‘দহন’, ‘নূরজাহান’, ‘শান’, ‘গলুই’, ‘হৃদিতা’, ‘জ্বীন’, ‘লিপস্টিক’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ পিএম


কাজিয়াহ লিজ মেজো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম

‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর মুকুট জিতেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। রোববার রাতে জয়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে ৫২ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট অর্জন করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী। গত বছরের বিজয়ী মানিকা বিশ্বকর্মার কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন কাজিয়াহ। এই জয়ের ফলে আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।


সেরার মুকুট জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাজিয়াহ বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। এই মুহূর্তটির জন্য আমি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছি। আমি ভীষণ খুশি যে এই মুকুটটি আমার কেরালায় নিয়ে যেতে পারছি এবং আমার শহরকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি।’


কেরালার মাভেলিক্কারায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাজিয়াহ বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। ছোটবেলা থেকেই শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই তরুণী।


গত বছর ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন কাজিয়াহ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কিশোরীদের আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে ভারতের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জাতীয় মুকুট জয় করেছেন তিনি।


১৯ বছর বয়সে এমন সাফল্যকে তাই বেশ বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন আয়োজক ও প্রতিযোগিতা বিশ্লেষকেরা।


সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য প্রশংসা পেলেও একসময় নিজের চেহারা নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তায় ভুগতেন কাজিয়াহ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সময়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।


কাজিয়াহ জানিয়েছেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবে একসময় বছরের পর বছর নিজের একটি ফিল্টারহীন ছবিও সংরক্ষণ করতেন না। নিজের চেহারা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে তার মধ্যে কাজ করত এক ধরনের আত্মসচেতনতা। তবে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেন তিনি। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিজেকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যেতে শুরু করেন।


‘ফেক ইট টিল ইউ মেক ইট’ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন তিনি—অর্থাৎ আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাসী আচরণ করার চেষ্টা করতেন। একসময় সেই অভিনয় করা আত্মবিশ্বাসই তার কাছে বাস্তব হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন কাজিয়াহ।


জাতীয় পর্যায়ে মুকুট জয়ের পর কাজিয়াহর সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। আগামী নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।


আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্যও তার ওপর প্রত্যাশা বাড়াবে। বিশেষ করে ২০২১ সালে হরনাজ সান্ধু ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব জেতার পর ভারতের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। সূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস