সিনেমায় রণবীর সিং
বলিউডে বড় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন অভিনেতা রণবীর সিং। হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের উল্লেখযোগ্য সংগঠন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) তাঁর বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’ বা অসহযোগিতা নির্দেশ জারি করেছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্যদের রণবীরের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনার সূচনা হয় ‘ডন ৩’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা বলিউডে ক্ষমতা, চুক্তি, তারকাখ্যাতি এবং শ্রমিকসংগঠনের প্রভাবের জটিল দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বলিউডে একজন সুপারস্টার কতটা স্বাধীন? আবার শিল্পের শ্রমিকসংগঠনগুলো কোথায় তাদের ক্ষমতা শেষ করবে?
বিতর্কের শুরু যেখানে
সবকিছু শুরু হয় ফারহান আখতার পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘ডন ৩’ সিনেমা দিয়ে। শাহরুখ খানের পর নতুন ‘ডন’ হিসেবে রণবীর সিংয়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে প্রচুর আগ্রহ ছিল। কিন্তু হঠাৎই খবর আসে, রণবীর এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্মাতাদের থেকে অনুরূপ তথ্য আসে, তাঁর এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শুটিংয়ের পরিকল্পনা, সেট নির্মাণ, আন্তর্জাতিক সূচি—সবকিছুই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। এরপরই বিষয়টি এফডব্লিউআইসিইয়ের কাছে পৌঁছে যায়। সংগঠনটির সভাপতি অশোক পণ্ডিত দাবি করেন, নির্মাতাদের অভিযোগের পর তাঁরা রণবীরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু রণবীর প্রথমে নীরব ছিলেন। পরে তাঁর পক্ষ থেকে ই-মেইলে জানানো হয়, এটি একটি চুক্তিভিত্তিক বিরোধ, তাই এফডব্লিউআইসিইয়ের এখতিয়ারে পড়ে না। এ জবাবে ক্ষুব্ধ হয় সংগঠনটি।
কতটা শক্তিশালী এফডব্লিউআইসিই
বলিউডের বাইরের দর্শকদের কাছে এটি খুব পরিচিত না হলেও এফডব্লিউআইসিই ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে অত্যন্ত শক্তিশালী। মেকআপ আর্টিস্ট, লাইটম্যান, স্পটবয়, ক্যামেরা ইউনিট, জুনিয়র আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান—চলচ্চিত্রের প্রায় সব ধরনের কর্মীদের ৩৮টি ইউনিয়ন দিয়ে গঠিত এই ফেডারেশন। অর্থাৎ একটি সিনেমা বানাতে যে বিশাল কর্মী বাহিনী লাগে, তাদের বড় অংশই এফডব্লিউআইসিইয়ের আওতায়। ফলে তারা যদি কোনো শিল্পীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার নির্দেশ দেয়, তাহলে সেই শিল্পীর জন্য নতুন সিনেমার কাজ করা কঠিন হয়ে যায়।
‘নিষেধাজ্ঞা’ না ‘চাপ প্রয়োগ’?
এফডব্লিউআইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেক্টিভ’ জারি করার পর মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, রণবীর সিং ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছেন। তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ভারতের আইন অনুযায়ী, এফডব্লিউআইসিই কোনো আদালত নয়। তারা কাউকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করতে পারে না; বরং ট্রেড ইউনিয়নের চাপ প্রয়োগের মতো। সংগঠনটি তাদের সদস্যদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু কোনো অভিনেতাকে অভিনয় থেকে আইনিভাবে আটকাতে পারে না। এ কারণেই রণবীরের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, চুক্তিভঙ্গ বা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আদালত বা সালিসি ব্যবস্থার বিষয়—এফডব্লিউআইসিইয়ের নয়। তবু বাস্তবতা হলো, বলিউডে শ্রমিকসংগঠনগুলোর প্রভাব বিশাল। তাই আইনি ক্ষমতা সীমিত হলেও শিল্পে তাদের সামাজিক ও পেশাগত চাপ কার্যকর হয়ে ওঠে। রণবীরের নীরবতা ও পরে প্রতিক্রিয়া পুরো বিতর্কে দীর্ঘ সময় নীরব ছিলেন রণবীর সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
শেষ পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, ‘রণবীর সিং চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থেকেছেন। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাগত আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মর্যাদা, পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে সামলানো উচিত।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নানা গুঞ্জন ও জল্পনা তৈরি হলেও রণবীর কখনোই প্রকাশ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়াকে প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর মনোযোগ এখন শুধু কাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শেষের বার্তা—‘তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রাখেন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে সংযম ও সৌজন্য বজায় রাখা সব সময়ই তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল।’ এ বক্তব্য অনেকের কাছে ‘সমঝোতার ইঙ্গিত’ হিসেবেও দেখা হয়েছে।
বলিউডে নতুন বিতর্ক: তারকা বনাম সংগঠন
এ ঘটনা নতুন করে একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—বলিউডে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে? একদিকে তারকারা কোটি কোটি রুপির প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু; অন্যদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ পুরোপুরি নির্ভর করে বিশাল কর্মী বাহিনীর ওপর। তাই একজন সুপারস্টারও বাস্তবে একা নন। বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, এফডব্লিউআইসিইয়ের এ পদক্ষেপ শুধু রণবীরকে ঘিরে নয়; বরং এটি পুরো শিল্পের জন্য একটি বার্তা—বড় তারকারাও সংগঠনকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আবার অনেকে বলছেন, এটি তারকাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, যেকোনো চুক্তিগত বিরোধকে যদি শ্রমিকসংগঠন ‘নৈতিক ইস্যু’ হিসেবে তুলে ধরে, তাহলে তা শিল্পের স্বাধীনতার জন্যও প্রশ্ন তৈরি করে।
বড় অনিশ্চয়তায় ‘ডন ৩’
সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন ‘ডন ৩’–কে ঘিরে। নির্মাতা ফারহান আখতার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অভিনেতার নাম ঘোষণা করেননি। তবে বলিউডে গুঞ্জন চলছে, নতুন করে কাস্টিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় বিতর্কের পর ছবিটির শুটিং ও মুক্তির সময়সূচি কতটা প্রভাবিত হবে। কারণ, বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক লোকেশনভিত্তিক সিনেমায় সময় নষ্ট মানেই বিপুল আর্থিক ক্ষতি। এ বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রণবীরের আসন্ন সিনেমায়। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক ঘরানার নতুন সিনেমায় দেখা যাবে অভিনেতাকে। জয় মেহতা পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন হংসল মেহতা। আগামী আগস্টে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু যদি এফডব্লিউআইসিইয়ের নির্দেশ কার্যকর থাকে, তাহলে ইউনিট গঠন, টেকনিশিয়ান নিয়োগ কিংবা শুটিং ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও বলিউডে এর আগেও এমন অসহযোগিতা নির্দেশ দেখা গেছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।
নতুন বিতর্ক
রণবীরকে ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। এক নারী অভিযোগ করেছেন, চণ্ডীগড়ের একটি হোটেলে তাঁকে ডেকে নিয়ে মদে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় সরাসরি রণবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও তাঁর নতুন সিনেমাকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রণবীর
রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ার সব সময়ই উত্থান-পতনে ভরা। ‘ব্যান্ড বাজা ভারত’ দিয়ে অভিষেকের পর তিনি দ্রুত বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন। ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘পদ্মাবৎ’, ‘গলি বয়’–এর মতো সিনেমা রণবীরকে সমকালীন বলিউডের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে রণবীর সিংয়ের কিছু সিনেমা প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে ‘ডন ৩’ ছিল তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ। এ প্রকল্পকে ঘিরেই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক।
শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে
বলিউডের অভিজ্ঞরা বলছেন, এই বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, একদিকে রণবীর সিংয়ের মতো তারকাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা সহজ নয়, অন্যদিকে বড় বাজেটের সিনেমাগুলোও দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সহ্য করতে পারে না। সম্ভাবনা বেশি—দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। হয়তো আইনি সমঝোতা হবে, নয়তো প্রকাশ্যে না এলেও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান বের হবে।
বিরোধ মেটাতে মাঠে সালমান খান
এদিকে ‘ডন ৩’ বিতর্কে এবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছেন সালমান খান। পরিচালক ফারহান আখতার ও অভিনেতা রণবীর সিংয়ের মধ্যে চলমান বিরোধ মেটাতে দুজনকে একসঙ্গে বসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সালমান আলাদাভাবে ফারহান আখতার ও রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে নিজের উপস্থিতিতে দুজনের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। উভয় পক্ষই এতে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে রণবীর সিংয়ের সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। শুটিং শুরুর প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে রণবীরের সরে যাওয়ায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফারহান আখতারের জন্য ভবিষ্যতে আরেকটি সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন রণবীর। সেই প্রস্তাব ফারহান আখতার ও তার প্রযোজনা অংশীদার রিতেশ সিধওয়ানি গ্রহণ করেননি।
এ অবস্থায় সালমান খান নাকি ফারহানকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘ডন ৩’-এর পরিবর্তে অন্য কোনো সিনেমায় রণবীরকে নিয়ে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে। বলিউডে ফারহান আখতার ও তার পরিবারের সঙ্গে সালমানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রণবীর সিংয়ের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক আছে। সে কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের ফল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তানজিন তিশা
টিভি নাটকে তানজিন তিশার উপস্থিতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল অনিশ্চয়তা। গত বছর সাকিব ফাহাদের ‘সোলজার’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর নাটকের কাজে নিয়মিত দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে।
প্রায় সাড়ে চার মাস নতুন কোনো নাটকের শুটিংয়ে অংশ না নেওয়ায় তার নাটক ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই গুঞ্জনে ইতি টেনে আবারও নাটকের শুটিংয়ে ফিরেছেন তানজিন তিশা। বিরতির পর এরই মধ্যে দুটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি।
মহিদুল মহিমের ‘ভালোবাসার অভিযান’র পাশাপাশি চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।
চয়নিকা চৌধুরীর নির্মাতা হিসেবে ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রথম দেখার পর’। নাটকটিতে তিশার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ।
শুটিংয়ের ফাঁকে নাটকে ফেরার কারণ জানিয়ে তিশা বলেন, নাটক তার শিকড় এবং এই জায়গা থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখতে চান না।
তার ভাষায়, “প্রায় সাড়ে চার মাস নাটকের শুটিং করিনি। এ কারণে সবাই ধরে নিয়েছিল, সিনেমার জন্য হয়তো নাটক ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, আমার শিকড় আমি কখনো ভুলি না। নাটক আমার শিকড়, একই সঙ্গে এটি আমার ভালোবাসার জায়গা। যখন মনে হলো আবার শুরু করা উচিত, তখন চয়নিকা দিদির ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকের জন্য শিডিউল দিই। এর আগে আরও একটি নাটকের কাজ করেছি।”
‘প্রথম দেখার পর’ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, এটি একটি সুন্দর ভালোবাসার গল্প। দীর্ঘদিন পর চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে তার। নির্মাতার সঙ্গে আগের কাজগুলোর মতো এবারও দর্শকের ভালোবাসা পাবেন বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।
অন্যদিকে তানজিন তিশার সিনেমা ‘সোলজার’র কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছর সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও একটি গান ও কয়েকটি দৃশ্যের কাজ বাকি রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী মাসে বাকি অংশের শুটিং শুরু হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে সিনেমাটি।
সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ এ তানজিন তিশার বিপরীতে অভিনয় করছেন শাকিব খান। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এতে আরও অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, তারিক আনাম খান ও তৌকীর আহমেদসহ আরও অনেকে।
তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনি
তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ করেছেন এক নারী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ে ও সিনেমায় কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন এই নির্মাতা। পরে জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে।
৭ আগস্ট হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা থানায় ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ পবন সাদিনেনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বিচারিক হেফাজতে চাঞ্চলগুডা কারাগারে পাঠান।
অভিযোগকারীর দাবি, এক বছরের বেশি সময় ধরে পবনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। শুরুতে পবন তাঁকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন, হাসপাতালে নিয়ে যেতেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার ও আর্থিক বিষয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতেন। ওই নারী একটি সিনেমা পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছিলেন, সেটি প্রযোজনা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন পবন।
একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তানও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পবন তাঁকে জানান, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকেই বিয়ে করবেন-এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ওই নারীর অভিযোগ, পরে তাঁদের সম্পর্ক মূলত যৌন সম্পর্কে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময়ও পবন তাঁকে বিয়ে, বাড়ি, আর্থিক নিরাপত্তা ও সিনেমায় কাজের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও সেগুলো পূরণ করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও পবন তাঁকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করতেন। এমনকি প্যানিক অ্যাটাকের কথা জানালেও ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তাঁর আশঙ্কা, এসব ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগে ৫ আগস্টের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তাঁর দাবি, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাড়িতে পবন তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। মুখে আঘাত করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মুখ ও চোখের আশপাশে ফোলা, মাথাব্যথা ও পিঠে ব্যথা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে গোলকোন্ডা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ ধারা-প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন-এবং ১১৫(২) ধারা-ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা-এ মামলা করেছে।
২০১৩ সালে ‘প্রেম ইশক কাদাল’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় পবন সাদিনেনির। এরপর ‘সাবিত্রী’ (২০১৪) পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ ২০২৩ সালের ওয়েব সিরিজ ‘দয়া’, যা ‘তাকদির’ সিরিজের রিমেক।
বর্তমানে দুলকার সালমান, পূজা হেগড়ে ও শ্রুতি হাসান অভিনীত সিনেমা ‘আকাশম লো ওকা তারা’ পরিচালনা করছেন পবন।
খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত
নেপালের চীন সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত। খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের আরও সদস্য রয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছেন দুই অভিনেতা। গত ২০ আগস্ট তারা সেখানে পৌঁছান। এরপর থেকেই টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে তারা হোটেলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বিমানও ধরতে পারেননি তারা। ফলে বিকল্প পথে নেপাল থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খরাজ বলেন, বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে এসেছি ২০ অগস্ট। ২৬ তারিখ ফেরার কথা ছিল। বৃষ্টির কারণে আটকে পড়েছি। আর এখন ভয়াবহ বন্যা। ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় যাতায়াত করার অবস্থা নেই। গোরখপুর থেকে ২৮ তারিখের প্লেন ধরে কলকাতা ফিরব।
জানা গেছে, সড়কপথে ভারত সীমান্তের কাছে গোরক্ষপুর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখান থেকে ২৮ আগস্ট সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে ফেরার কথা রয়েছে শুটিং দলের। এদিকে তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।
রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে খরাজ, রজতাভসহ শুটিং দলের সদস্যরা নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রভা
হঠাৎ করেই অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গোপনে তিনি ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ করেছেন এমন দাবিও করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রভা। তার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। গতকাল (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তৃতীয় বিয়ের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী।
প্রভা বলেন, ‘আমি বিয়ে করিনি এবং আমি কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ হননি। যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রভা লেখেন, ‘একজন সাংবাদিকের লেখার শক্তি অনেক বেশি। একই কলম দিয়ে কাউকে ‘ভয়ংকর মানুষ’ হিসেবে, আবার কাউকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবেও তুলে ধরা সম্ভব। তাই এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।’
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবেদনশীল কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান প্রভা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধও করেন তিনি।
নিজের ভক্তদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, কোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে কান দিয়ে যেন তারা বিভ্রান্ত না হন। তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে সঠিক ও সত্য তথ্য তিনি তার ফেসবুকের মাধ্যমেই জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
শেষে ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনকে নিজের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে ভালো ও সুস্থ থাকার আহ্বান জানান সাদিয়া জাহান প্রভা।
২০০৫ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সাদিয়া জাহান প্রভা। পরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। বর্তমানে নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজ করছেন এই অভিনেত্রী।
সর্বশেষ একটি সিনেমার শুটিং করেছেন প্রভা। সিনেমাটির কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। শিগগিরই আবারও শুটিংয়ে দেখা যেতে পারে তাকে।
https://www.facebook.com/share/p/1FBbA7HBYu/?mibextid=wwXIfr
ছবি : সংগৃহীত
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়ই আলোচনায় থাকেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পূজা চেরি। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সুইমিং পুলে এক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবির ক্যাপশনও কৌতূহল বাড়িয়েছে ভক্তদের।
ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সুইমিং পুলে পাশাপাশি রয়েছেন পূজা ও এক ব্যক্তি। দুজনকে বেশ স্বচ্ছন্দ মুহূর্তে দেখা গেলেও ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি অভিনেত্রী।
ছবির সঙ্গে পূজা লিখেছেন, ‘দুই আত্মা, এক নীরব মুহূর্ত।’ এই ক্যাপশন প্রকাশের পরই তার অনুসারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ কেউ জানতে চাইছেন, ছবির ওই ব্যক্তি কে?
আবার অনেকে মন্তব্য করছেন, এই ব্যক্তিই কি তবে পূজার হবু স্বামী? তবে কি ধীরে ধীরে স্বামীকে প্রকাশ্যে আনবেন পূজা? তবে ছবিতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় বা তার সঙ্গে পূজার সম্পর্ক কী এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনাকে আপাতত অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে পূজা চেরির বিয়ে নিয়েও বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে অভিনেত্রী নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। এবার নতুন ছবিটি সেই পুরোনো আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে পূজা চেরি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। যখনই আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, আমি নিজেই তা প্রকাশ্যে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সবাইকে জানাবো। লুকানোর কিছু নেই।’
পূজা চেরি নায়িকা হিসেবে আলোচনায় আসেন ‘পোড়ামন ২’ দিয়ে। এরপর ‘দহন’, ‘নূরজাহান’, ‘শান’, ‘গলুই’, ‘হৃদিতা’, ‘জ্বীন’, ‘লিপস্টিক’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
কাজিয়াহ লিজ মেজো
‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর মুকুট জিতেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। রোববার রাতে জয়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে ৫২ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট অর্জন করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী। গত বছরের বিজয়ী মানিকা বিশ্বকর্মার কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন কাজিয়াহ। এই জয়ের ফলে আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
সেরার মুকুট জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাজিয়াহ বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। এই মুহূর্তটির জন্য আমি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছি। আমি ভীষণ খুশি যে এই মুকুটটি আমার কেরালায় নিয়ে যেতে পারছি এবং আমার শহরকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি।’
কেরালার মাভেলিক্কারায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাজিয়াহ বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। ছোটবেলা থেকেই শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই তরুণী।
গত বছর ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন কাজিয়াহ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কিশোরীদের আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে ভারতের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জাতীয় মুকুট জয় করেছেন তিনি।
১৯ বছর বয়সে এমন সাফল্যকে তাই বেশ বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন আয়োজক ও প্রতিযোগিতা বিশ্লেষকেরা।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য প্রশংসা পেলেও একসময় নিজের চেহারা নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তায় ভুগতেন কাজিয়াহ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সময়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।
কাজিয়াহ জানিয়েছেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবে একসময় বছরের পর বছর নিজের একটি ফিল্টারহীন ছবিও সংরক্ষণ করতেন না। নিজের চেহারা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে তার মধ্যে কাজ করত এক ধরনের আত্মসচেতনতা। তবে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেন তিনি। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিজেকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যেতে শুরু করেন।
‘ফেক ইট টিল ইউ মেক ইট’ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন তিনি—অর্থাৎ আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাসী আচরণ করার চেষ্টা করতেন। একসময় সেই অভিনয় করা আত্মবিশ্বাসই তার কাছে বাস্তব হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন কাজিয়াহ।
জাতীয় পর্যায়ে মুকুট জয়ের পর কাজিয়াহর সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। আগামী নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্যও তার ওপর প্রত্যাশা বাড়াবে। বিশেষ করে ২০২১ সালে হরনাজ সান্ধু ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব জেতার পর ভারতের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। সূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস