যাহের আলভী ও তাঁর স্ত্রী ইকরা
ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী যাহের আলভীর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে সম্বোধন করে দেওয়া আবেগঘন সেই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সহানুভূতির বদলে সমালোচনার মুখেই পড়েন এই অভিনেতা।
ফেসবুকে যাহের আলভীর দেওয়া পোস্ট এ রকম, ‘ইকলি, তোকে একটা প্রশ্ন করি? কোন একদিন তোর কাছে এসে উত্তরটা শুনে নিব! আচ্ছা, আজকে তোর জায়গায় যদি আমি চলে যেতাম , তখনো কি সমগ্র পৃথিবী তোর বিরুদ্ধে চলে যেত! তোকে টেনে হিচড়ে নীচে নামানোর চেষ্টা করত? তখনো কি সবাই আমাদের রিযিককে নিয়ে মায়া কান্না করত? এতই যদি রিযিকের জন্য ওদের মায়া কাজ করত, তাহলে ওরাও কি পারত এভাবে ওর ভবিষ্যতের কথা না ভেবে তোকে নোংরাভাবে এক্সপোজ করতে? নাকি ভাবত, ছেলেটা বড় হয়ে এসব দেখলে মেন্টালি আনস্ট্যাবল হয়ে যাবে। তখনো কি আমার বান্ধুরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিথ্যে বলে সাধারণ মানুষের মাঝে তোকে খারাপের চেয়ে খারাপ বানাত?’
ফেসবুক পোস্টে যাহের আলভী এ–ও লিখেছেন, ‘খুব শিগগিরই তোর সাথে কোন এক পাহাড়ের চূড়ায় বসে, গল্প করতে করতে শুনে নিব তোর কাছ থেকে। শুনব কেমন লাগছিলো তোর, আমার আগে চলে এসে এই মিথ্যে জগতের লীলা খেলা! তৃপ্তি পেয়েছিলি খুব? রাগ করব, অভিমান করব, আবার তুই সরি বলবি, আমি জড়িয়ে ধরে ইটস ওকে বলব। সন্ধ্যা হয়ে আসবে, আবার দুইজন হারিয়ে যাব।’
ইকরাকে ‘ইকলি’ নামে ডাকতেন আলভী। সেই নাম উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্ট লিখেছেন তিনি। তবে পোস্ট প্রকাশের পরই মন্তব্যের ঘরে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে ‘আবেগের আড়ালে দায় এড়ানোর চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দেন। কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই পোস্ট কতটা গ্রহণযোগ্য। সমালোচনার ঝড় বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘর বন্ধ করে দেন আলভী।
কিন্তু মন্তব্য বন্ধ করেও বিতর্ক থামেনি। পোস্টটি স্ক্রিনশট আকারেও বিভিন্ন পেজ এবং প্রোফাইল থেকে শেয়ার হতে থাকে। সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে লিখেছেন, ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে সামনে এনে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার একটি অংশ বলছেন, শোক প্রকাশের অধিকার সবারই আছে—সেটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোও অনুচিত।
ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে আগে থেকেই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আলভীর এই পোস্ট নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহমর্মিতা ও ক্ষোভ—দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এখনো চাপে রয়েছেন এই অভিনেতা।
ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ইকরার পরিবার দাবি করেছে, আলভীর সঙ্গে সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেন।
সম্প্রতি নাটকের শুটিংয়ের জন্য আলভী ও তিথি নেপাল যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল তিথির জন্মদিন। বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায়—তিথির জন্মদিন উদ্যাপনের উদ্দেশ্যেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলভী। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরা মৃত্যুবরণ করেন। এর পর থেকেই আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়।
অপু বিশ্বাস
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপালে থাকা অপু ও পুরো শুটিং ইউনিট নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বললেন অপু বিশ্বাস।
তিনি বলেন, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা দূরের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। অথচ পরদিন, ২৭ আগস্ট, একই পথ দিয়ে তাদের যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
অপু জানান, একদিনের ব্যবধানেই বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে তাদের দল। যে পথ দিয়ে কাঠমান্ডু ফেরার কথা ছিল, দুর্যোগের কারণে সেটি এখন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপালে শুটিং চালিয়ে যাওয়াকে উপযুক্ত মনে করেননি অপু।
তার ভাষায়, মানুষের এমন দুর্ভোগের মধ্যে গানের দৃশ্য ধারণ করা অমানবিক মনে হতে পারে। তাই পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসেন।
কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন অপু বিশ্বাস ও তার সহশিল্পীরা। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ভক্তরা।
এর আগে কলকাতায় ফিরে খরাজ মুখার্জিও জানান, তারা নিরাপদেই ছিলেন। পরে ঢাকায় ফিরে অপু বিশ্বাসও নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তানজিন তিশা
টিভি নাটকে তানজিন তিশার উপস্থিতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল অনিশ্চয়তা। গত বছর সাকিব ফাহাদের ‘সোলজার’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর নাটকের কাজে নিয়মিত দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে।
প্রায় সাড়ে চার মাস নতুন কোনো নাটকের শুটিংয়ে অংশ না নেওয়ায় তার নাটক ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই গুঞ্জনে ইতি টেনে আবারও নাটকের শুটিংয়ে ফিরেছেন তানজিন তিশা। বিরতির পর এরই মধ্যে দুটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি।
মহিদুল মহিমের ‘ভালোবাসার অভিযান’র পাশাপাশি চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।
চয়নিকা চৌধুরীর নির্মাতা হিসেবে ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রথম দেখার পর’। নাটকটিতে তিশার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ।
শুটিংয়ের ফাঁকে নাটকে ফেরার কারণ জানিয়ে তিশা বলেন, নাটক তার শিকড় এবং এই জায়গা থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখতে চান না।
তার ভাষায়, “প্রায় সাড়ে চার মাস নাটকের শুটিং করিনি। এ কারণে সবাই ধরে নিয়েছিল, সিনেমার জন্য হয়তো নাটক ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, আমার শিকড় আমি কখনো ভুলি না। নাটক আমার শিকড়, একই সঙ্গে এটি আমার ভালোবাসার জায়গা। যখন মনে হলো আবার শুরু করা উচিত, তখন চয়নিকা দিদির ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকের জন্য শিডিউল দিই। এর আগে আরও একটি নাটকের কাজ করেছি।”
‘প্রথম দেখার পর’ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, এটি একটি সুন্দর ভালোবাসার গল্প। দীর্ঘদিন পর চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে তার। নির্মাতার সঙ্গে আগের কাজগুলোর মতো এবারও দর্শকের ভালোবাসা পাবেন বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।
অন্যদিকে তানজিন তিশার সিনেমা ‘সোলজার’র কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছর সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও একটি গান ও কয়েকটি দৃশ্যের কাজ বাকি রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী মাসে বাকি অংশের শুটিং শুরু হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে সিনেমাটি।
সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ এ তানজিন তিশার বিপরীতে অভিনয় করছেন শাকিব খান। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এতে আরও অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, তারিক আনাম খান ও তৌকীর আহমেদসহ আরও অনেকে।
তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনি
তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ করেছেন এক নারী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ে ও সিনেমায় কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন এই নির্মাতা। পরে জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে।
৭ আগস্ট হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা থানায় ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ পবন সাদিনেনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বিচারিক হেফাজতে চাঞ্চলগুডা কারাগারে পাঠান।
অভিযোগকারীর দাবি, এক বছরের বেশি সময় ধরে পবনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। শুরুতে পবন তাঁকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন, হাসপাতালে নিয়ে যেতেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার ও আর্থিক বিষয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতেন। ওই নারী একটি সিনেমা পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছিলেন, সেটি প্রযোজনা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন পবন।
একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তানও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পবন তাঁকে জানান, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকেই বিয়ে করবেন-এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ওই নারীর অভিযোগ, পরে তাঁদের সম্পর্ক মূলত যৌন সম্পর্কে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময়ও পবন তাঁকে বিয়ে, বাড়ি, আর্থিক নিরাপত্তা ও সিনেমায় কাজের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও সেগুলো পূরণ করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও পবন তাঁকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করতেন। এমনকি প্যানিক অ্যাটাকের কথা জানালেও ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তাঁর আশঙ্কা, এসব ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগে ৫ আগস্টের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তাঁর দাবি, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাড়িতে পবন তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। মুখে আঘাত করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মুখ ও চোখের আশপাশে ফোলা, মাথাব্যথা ও পিঠে ব্যথা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে গোলকোন্ডা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ ধারা-প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন-এবং ১১৫(২) ধারা-ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা-এ মামলা করেছে।
২০১৩ সালে ‘প্রেম ইশক কাদাল’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় পবন সাদিনেনির। এরপর ‘সাবিত্রী’ (২০১৪) পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ ২০২৩ সালের ওয়েব সিরিজ ‘দয়া’, যা ‘তাকদির’ সিরিজের রিমেক।
বর্তমানে দুলকার সালমান, পূজা হেগড়ে ও শ্রুতি হাসান অভিনীত সিনেমা ‘আকাশম লো ওকা তারা’ পরিচালনা করছেন পবন।
খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত
নেপালের চীন সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত। খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের আরও সদস্য রয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছেন দুই অভিনেতা। গত ২০ আগস্ট তারা সেখানে পৌঁছান। এরপর থেকেই টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে তারা হোটেলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বিমানও ধরতে পারেননি তারা। ফলে বিকল্প পথে নেপাল থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খরাজ বলেন, বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে এসেছি ২০ অগস্ট। ২৬ তারিখ ফেরার কথা ছিল। বৃষ্টির কারণে আটকে পড়েছি। আর এখন ভয়াবহ বন্যা। ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় যাতায়াত করার অবস্থা নেই। গোরখপুর থেকে ২৮ তারিখের প্লেন ধরে কলকাতা ফিরব।
জানা গেছে, সড়কপথে ভারত সীমান্তের কাছে গোরক্ষপুর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখান থেকে ২৮ আগস্ট সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে ফেরার কথা রয়েছে শুটিং দলের। এদিকে তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।
রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে খরাজ, রজতাভসহ শুটিং দলের সদস্যরা নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রভা
হঠাৎ করেই অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গোপনে তিনি ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ করেছেন এমন দাবিও করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রভা। তার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। গতকাল (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তৃতীয় বিয়ের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী।
প্রভা বলেন, ‘আমি বিয়ে করিনি এবং আমি কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ হননি। যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রভা লেখেন, ‘একজন সাংবাদিকের লেখার শক্তি অনেক বেশি। একই কলম দিয়ে কাউকে ‘ভয়ংকর মানুষ’ হিসেবে, আবার কাউকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবেও তুলে ধরা সম্ভব। তাই এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।’
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবেদনশীল কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান প্রভা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধও করেন তিনি।
নিজের ভক্তদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, কোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে কান দিয়ে যেন তারা বিভ্রান্ত না হন। তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে সঠিক ও সত্য তথ্য তিনি তার ফেসবুকের মাধ্যমেই জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
শেষে ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনকে নিজের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে ভালো ও সুস্থ থাকার আহ্বান জানান সাদিয়া জাহান প্রভা।
২০০৫ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সাদিয়া জাহান প্রভা। পরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। বর্তমানে নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজ করছেন এই অভিনেত্রী।
সর্বশেষ একটি সিনেমার শুটিং করেছেন প্রভা। সিনেমাটির কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। শিগগিরই আবারও শুটিংয়ে দেখা যেতে পারে তাকে।
https://www.facebook.com/share/p/1FBbA7HBYu/?mibextid=wwXIfr
ছবি : সংগৃহীত
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়ই আলোচনায় থাকেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পূজা চেরি। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সুইমিং পুলে এক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবির ক্যাপশনও কৌতূহল বাড়িয়েছে ভক্তদের।
ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সুইমিং পুলে পাশাপাশি রয়েছেন পূজা ও এক ব্যক্তি। দুজনকে বেশ স্বচ্ছন্দ মুহূর্তে দেখা গেলেও ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি অভিনেত্রী।
ছবির সঙ্গে পূজা লিখেছেন, ‘দুই আত্মা, এক নীরব মুহূর্ত।’ এই ক্যাপশন প্রকাশের পরই তার অনুসারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ কেউ জানতে চাইছেন, ছবির ওই ব্যক্তি কে?
আবার অনেকে মন্তব্য করছেন, এই ব্যক্তিই কি তবে পূজার হবু স্বামী? তবে কি ধীরে ধীরে স্বামীকে প্রকাশ্যে আনবেন পূজা? তবে ছবিতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় বা তার সঙ্গে পূজার সম্পর্ক কী এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনাকে আপাতত অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে পূজা চেরির বিয়ে নিয়েও বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে অভিনেত্রী নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। এবার নতুন ছবিটি সেই পুরোনো আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে পূজা চেরি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। যখনই আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, আমি নিজেই তা প্রকাশ্যে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সবাইকে জানাবো। লুকানোর কিছু নেই।’
পূজা চেরি নায়িকা হিসেবে আলোচনায় আসেন ‘পোড়ামন ২’ দিয়ে। এরপর ‘দহন’, ‘নূরজাহান’, ‘শান’, ‘গলুই’, ‘হৃদিতা’, ‘জ্বীন’, ‘লিপস্টিক’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।