সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর উপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে তাঁরা। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হামলার শিকার ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
গতকাল বৃস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট সংলগ্ন রাস্তায় চারজন শিক্ষার্থীকে বুটেক্স ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মারধরের অভিযোগ উঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক, ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত, একই ব্যাচের ও বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন সরকার এবং ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্রসহ অন্যান্যরা মারধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহপাঠী তাসনিম আনোয়ার ও এস এম সাদিকুজ্জামান বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে ৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম আনোয়ার বলেন, “বুটেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।গত ৫ আগস্ট হলে মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করায় পরদিন ক্লাস ও ল্যাব শেষে ফেরার সময় পকেট গেটের সামনে মিরাজুলের ওপর হামলা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের পরিচয়ধারী কয়েকজন মিরাজুলকে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারেন। এসময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের সহপাঠী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্বের ওপরও হামলা করা হয় এবং তাঁর চশমা ভেঙে দেওয়া হয়। এতে তাঁর চোখ ও মুখে আঘাত লাগে।”
ঘটনার পর উপাচার্য, প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে তাসনিম বলেন, “তাঁরা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও প্রশাসন তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একদিকে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন, হলে সিট দখল করছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে হামলার মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সম্প্রতি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজন করেছি। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি চায় না। আমরা এই গণস্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেব।”
এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম সাদিকুজ্জামান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলার মূল অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব দ্রুত বাতিল, হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তত দুই বছরের জন্য বহিষ্কার এবং ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে ঘটনাস্থলের সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা ইত্যাদি।
এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা এবং রাজনৈতিক কমিটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, উপাচার্যের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবির বাস্তবায়ন ও হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত বুটেক্সের সব ব্যাচের ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণাও দেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অফিস আদেশ অনুযায়ী, উক্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রক্টর বরাবর জমা দিতে বলা হয়েছে।
সভাপতি নজরুল ও সাধারণ সম্পাদক আরাফাত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন রাজু আরাফাত।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন তাসনোভা হোসেন। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জোবায়ের আহমেদ, সরকার সাখাওয়াত হোসেন ও আরিফুল ইসলাম। অর্থ সম্পাদক পদে রকি আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাসুদ রানা এবং দপ্তর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবরার জাহিন।
এছাড়া সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে আমিরুল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে চপল রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আরমান আলী, আশিকুর রহমান, কাওছার খান, আতিকুজ্জামান আশিক, সাইফুল ইসলাম, এমএম মুজাহিদ উদ্দিন, আবু ছালেহ আতিফ, সৈকত সাহা, ইব্রাহীম খলিল ও মোশফিকুর রহমান ইমন।
সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রাজু বলেন, “সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করায় বিভাগের সকল সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই পদ আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় দায়িত্ব। অ্যালামনাইদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা এবং বিভাগের উন্নয়নে কাজ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এ দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।”
সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে বিভাগের সব সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিভাগের স্বার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাই।”
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্ববৃন্দ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিনের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলমসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করতে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। আর সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন-নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের একজন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। পরে এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, “রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ
বন্ধুত্ব থেকে বিশ্বাস, বিশ্বাস থেকে ভালোবাসা, আর সেই ভালোবাসা গড়াল বিয়েতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন, করিডর আর লাল মাটির সবুজ ক্যাম্পাসকে সাক্ষী রেখে নিজ ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ করে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থী।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান ও মাকসুদা আক্তার সাথী দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিক সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। বিয়ের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় তাদের গায়ে হলুদের ব্যতিক্রমী আয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেন নেমে এসেছিল আনন্দের এক টুকরো রাজ্য। হলুদ শাড়ি আর গয়নায় সেজে বসা কনে সাথীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বান্ধবীরা। অন্যদিকে বর হাসানকে ঘিরে চলে বন্ধুদের উল্লাস। গায়ে হলুদ মেখে দেওয়া, কেক-মিষ্টি-ফল খাইয়ে দেওয়া আর মিষ্টি দুষ্টুমিতে মেতে ওঠে পুরো ব্যাচের বন্ধুরা।
কারো কণ্ঠে সুর, কারো পায়ে আনন্দের নাচ, আর ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। সব মিলিয়ে কুবি প্রাঙ্গণে রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে। ক্যাম্পাসের ইট-কাঠ আর চেনা করিডোরগুলো সাক্ষী হয়ে রইল দুই সহপাঠীর এক হওয়ার এই আবেগঘন মুহূর্তের।
সহপাঠীরা জানান, বর-কনে দুজনই তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রিয় ক্যাম্পাসে এই ভিন্নধর্মী গায়ে হলুদের আয়োজন করেছেন তারা।
বর-কনের সহপাঠী তাসমিয়া মারজান বলেন, “আমাদের অর্থনীতি ১৬ ব্যাচের দুই প্রিয় ব্যাচমেট হাসান এবং সাথীর জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা ক্যাম্পাসেই এই হলুদ আয়োজনের উদ্যোগ নিই। পুরো ব্যাচের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আমাদের কাছে শুধু একটি হলুদ অনুষ্ঠান ছিল না, বরং আমাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বন্ধনের একটি সুন্দর উদযাপন ছিল। কুবি ক্যাম্পাসে এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়ে গেলেও এই দিনটি আমাদের সবার স্মৃতিতে বিশেষ হয়ে থাকবে।”
আরেক সহপাঠী মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “এই অনুষ্ঠানটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটা অসাধারণ স্মৃতি হয়ে থাকবে। দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শেষে কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে বন্ধুবান্ধবসহ বিয়ের মতো অনুষ্ঠানগুলো উপভোগ করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আমার দুই বন্ধু চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ব্যাচমেট হিসেবে এটা আমাদের অনেক আনন্দিত করছে।”
ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান নিয়ে বর মোহাম্মদ হাসান নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন,
"ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকেই আমাদের পরিচয়। শুরুটা হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে। হয়তো ভালোবাসার সেই সফরটাই সবচেয়ে সুন্দর, যেখানে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং বিয়ে সবকিছুই একজনের সাথেই হয়। আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি এমন একজন জীবনসঙ্গিনী পেয়ে।
হাসান আরো বলেন, "আমাদের এই যাত্রায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে। তাই আমি চেয়েছি, আমাদের এই শুভ সূচনাটি আমার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েই উদযাপন করতে। মহান আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের নতুন সংসারকে তাঁর রহমত, বরকত ও শান্তিতে পূর্ণ করেন।"
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষর করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসারে ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে—ততদিন বহাল থাকবে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, ট্রেজারার হিসেবে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মাসিক সম্মানী এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে তাঁকে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
নতুন দায়িত্বে ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি উপাচার্য কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্বও তাঁকে পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ট্রেজারার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী নকীবুল হক এবং ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অন্তু।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নোবিপ্রবি শাখার নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে নবমনোনীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে শাখাটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নকীবুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মেহেদী হাসান অন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে শাখাটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে নবমনোনীত সভাপতি নকীবুল হক বলেন, “দায়িত্ব হলো একটি আমানত। যারা আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে এই আমানত ন্যস্ত করেছেন, আমি তাদের আস্থার যথাযথ প্রতিদান দিতে চাই। নোবিপ্রবি শাখার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণ লেখকদের এই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চাই। তাদের জন্য একটি সুন্দর ও ইতিবাচক লেখালেখির পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি লেখালেখির বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকতে চাই। সর্বোপরি, সভাপতি হিসেবে এককভাবে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাণবন্ত, সৃজনশীল ও কার্যকর শাখা গড়ে তোলাই আমার প্রত্যাশা।”
সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তু বলেন, “বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমার জন্য কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়; বরং একটি দায়িত্ব। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয়, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। আমার অগ্রজ ও অনুজ যারা নিজেদের অক্লান্ত শ্রম দিয়ে এতদিন সংগঠনের পাশে থেকেছেন, আশা করি আগামীতেও তাদের পাশে পাব। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। সবার মতামত, পরামর্শ, সৃজনশীল উদ্যোগ ও সহযোগিতাই আমাদের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
উল্লেখ্য, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। তরুণ লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করা, পরামর্শ প্রদান, জাতীয় গণমাধ্যমে তাদের লেখা প্রকাশে সহযোগিতা এবং লেখালেখিবিষয়ক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণদের মধ্যে লেখালেখির চর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সংগঠনটি ২৩টি শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়-২৪ হল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র্যাগিংকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন র্যাগিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হলের আবাসিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
আবেদনে বলা হয়, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন গত ৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এরপর থেকে তার আচরণ ও ব্যবহারের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা হলে থাকা আমিরের বিভাগের সিনিয়রদের অবহিত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট রাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমিরের বন্ধু ইউসুফ ইকবাল তাকে ৩১৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। পরে রাত ১২টার দিকে আমির হোসেন তার সহপাঠী অপূর্ব দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে ওই কক্ষে যান। সেখানে আগের অভিযোগের বিষয়ে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আমির হোসেন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রুম থেকে বের হওয়ার পর আমির তার সিনিয়র সরোয়ার হাসান রিয়াদকে ফোন করে হুমকি দেন। এর পরদিন অন্তু দাশকে একটি ভার্চুয়াল নম্বর থেকে ফোন করে আমির হোসেনের বড় ভাই পরিচয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অন্তু দাশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে অভিযুক্তরা ও বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়, হল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তাদের দাবি, পুরো ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, ফোনকলসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।
আবেদনে তারা হলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খাঁন বলেন, ‘আমি তাদের আবেদনটি পেয়েছি। যদিও বিষয়টি হলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তবে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে আজ আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। অথচ হলের প্রভোস্ট হিসেবে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই বিষয়টি প্রথমে আমার কাছে জানানোর প্রয়োজন ছিল। আমি শুধু এক পক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে আসার আগেই বিভাগ, প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে গেছে, তাই সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেনকে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন আমির হোসেন।