• প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১০ পিএম

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত বিভাগে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে দুই প্রার্থী—৪৪তম ব্যাচের মো. ইয়াসিন এবং ৪৬তম ব্যাচের নাফিস মাহমুদ অর্নব। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে ইয়াসিন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ইয়াসিন অর্নবের তুলনায় বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষাতেও তার পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।


নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার, অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবু বকর সিদ্দিকী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মাহাবুব উপস্থিত ছিলেন।


বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভাইভা বোর্ডে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে নম্বরায়ণের সময় ইয়াসিনকে তুলনামূলকভাবে কম নম্বর প্রদান করে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় অবস্থানে আনা হয়। এমনকি প্রাথমিকভাবে বেশি নম্বর থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তা পুনর্বিন্যাস করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগের সময় নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ২জন বিভাগীয় শিক্ষকের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। 


এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইভা বোর্ডের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপিত হয় এবং সেখানে অর্নবকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


ভুক্তভোগী মো. ইয়াসিন বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা, ডেমোনস্ট্রেশন এবং মৌখিক পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপেই আমি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের পর ভিসি স্যার আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আমি প্রেজেন্টেশন শুরু করার পরপরই কোনো এক অজানা কারনে তিনি কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার পর ভাইভা শুরু হলে কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় বোর্ডে যোগ দেন। ভাইভা চলাকালে শুরুতে এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশ্নের উত্তর আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে প্রদান করি। আমার উত্তর শুনে একজন এক্সটার্নাল পরীক্ষক সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পুরো সময়জুড়ে আমি জড়তাহীন ও সাবলীলভাবে প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর প্রদান করেছি। পরবর্তীতে অধ্যাপক ইমদাদ স্যার আমাকে একটি প্রশ্নের উত্তর বোর্ডে গিয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে বলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময় উপাচার্য হঠাৎ আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে বাধা দেন এবং উপস্থিত শিক্ষকদের সময়স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কেবল মৌখিক প্রশ্নোত্তর চালিয়ে যেতে বলেন এবং একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখন বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তবে পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর পুরো বিষয়টি আমার কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।"


এই ঘটনায় আইনি সহায়তা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার প্রতি যে অবিচার হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলছেন। আমিও প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে চাই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আমি আমার জীবনের সাতটি মূল্যবান বছর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করেছি।"



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “ইয়াসিন লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর এবং অর্ণব ৪৪ শতাংশ নম্বর পায়। ইয়াসিনের ভাইভায় খুবই ভালো পারফরম্যান্স ছিলো এবং কোনো প্রশ্নে তাঁকে আটকানো যায়নি। কিন্তু অর্ণবের ভাইভা ইয়াসিনের মতো ভালো হয়নি। এখানে উপাচার্য হঠাৎ অর্ণবকে ৯০ শতাংশ নম্বর দেয়ার কথা বলে এবং বাকি সদস্যরা সেটা সায় দেয়। তারপর লিখিত পরীক্ষার নম্বর বের করে সেটাও ম্যানুপুলেট করা হয়। ভাইবার সময়ে অর্নবকে বেশি সুবিধা দেয়া হচ্ছিল। সে ঠিকভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারছিল না এবং প্রশ্নের উত্তরগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে আটকে যাচ্ছিল। অধ্যাপক শিল্পী আক্তার অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিবেচনা করে ইয়াসিনকে সুপারিশ করলেও উপাচার্য তাতে রাজি হননি।”



নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত থাকা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড.শিল্পী আক্তার বলেন, “যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল প্রত্যেকেই মেধাবী ছিল। এদের মধ্য থেকে যার উপস্থাপনা বা অন্যান্য দক্ষতা ভালো ছিল বাকীদের তুলনায় তাকেই বাছাই করা হয়েছে।”


শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাহিরে কে কী বলছে তা জানা নেই। তবে নিয়োগ বোর্ডে যে পাঁচজন ছিলেন তাদের সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কেউ কোন আপত্তি তুলে নেই। যেহেতু সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাই এখানে অনিয়মের প্রশ্ন আসছে না।”



নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক  অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল হক বলেন, “আমি এই অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা ভাইভা বোর্ডে যেটা করেছি, সেটা সবাই মিলে করেছি এবং সবাই সই করেছি। যাদেরকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, বোর্ড তাদেরকেই উপযুক্ত মনে করেছে। ভিসির এখতিয়ার আছে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাস্তবতায় ভিসি যদি মনে করেন কোনো প্রার্থী ভবিষ্যতে বিভাগের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বা অন্য কোনো কারণে উপযুক্ত নয়, তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার তার রয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন কিছু নয়। আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি, বহু নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম। এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে, যেখানে ভিসি নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এসব বিষয়কে অস্বাভাবিক মনে করি না।”



বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন নিয়োগে আনা অভিযোগ নিয়ে বলেন, “এখানে একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগটি এনেছে। যাদের লিখিত ও ভাইভায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তাঁরাই নির্বাচিত হয়েছে। এখানে কারো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভাইভা বোর্ডে পাঁচজন সদস্য ছিলো এবং সেখানে সবার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এখানে দুর্নীতির কোনো বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।”



নিয়োগ পরীক্ষায় উক্ত দুই প্রার্থীর বিষয়ে বলেন, “এখানে যাকে ভুক্তভোগী হিসেবে আনা হচ্ছে তার চেয়েও লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে এমন পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি। যাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে তাঁর লিখিত পরীক্ষায় কিছু নম্বর কম থাকলেও ডেমো ও ভাইভায় পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিলো যার জন্য সে নির্বাচিত হয়েছে।”



নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যাকে ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় কেউ আমাকে কোনো সুপারিশ করেনি এবং আমি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করেছি।”


   বুটেক্সে প্রথমবারের মতো ট্রেজারার নিয়োগ


উল্লেখ্য, মো. ইয়াসিন ২০২৩ সালে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ ছয় মাস প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, বুটেক্সে সাত মাস রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ এবং ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দুই সেমিস্টার পার্ট-টাইম প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা। এছাড়া প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প সময়ের জন্য প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও শিল্পখাতে প্রায় এক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।


অন্যদিকে, নাফিস মাহমুদ অর্নব ২০২৫ সালে ৩.৮১ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাত মাস ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।



সর্বশেষ সব খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ পিএম

বন্ধুত্ব থেকে বিশ্বাস, বিশ্বাস থেকে ভালোবাসা, আর সেই ভালোবাসা গড়াল বিয়েতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন, করিডর আর লাল মাটির সবুজ ক্যাম্পাসকে সাক্ষী রেখে নিজ ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ করে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থী।


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান ও মাকসুদা আক্তার সাথী দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিক সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। বিয়ের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় তাদের গায়ে হলুদের ব্যতিক্রমী আয়োজন।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেন নেমে এসেছিল আনন্দের এক টুকরো রাজ্য। হলুদ শাড়ি আর গয়নায় সেজে বসা কনে সাথীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বান্ধবীরা। অন্যদিকে বর হাসানকে ঘিরে চলে বন্ধুদের উল্লাস। গায়ে হলুদ মেখে দেওয়া, কেক-মিষ্টি-ফল খাইয়ে দেওয়া আর মিষ্টি দুষ্টুমিতে মেতে ওঠে পুরো ব্যাচের বন্ধুরা। 


​কারো কণ্ঠে সুর, কারো পায়ে আনন্দের নাচ, আর ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। সব মিলিয়ে কুবি প্রাঙ্গণে রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে। ক্যাম্পাসের ইট-কাঠ আর চেনা করিডোরগুলো সাক্ষী হয়ে রইল দুই সহপাঠীর এক হওয়ার এই আবেগঘন মুহূর্তের।


সহপাঠীরা জানান, বর-কনে দুজনই তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রিয় ক্যাম্পাসে এই ভিন্নধর্মী গায়ে হলুদের আয়োজন করেছেন তারা।


বর-কনের সহপাঠী তাসমিয়া মারজান বলেন, “আমাদের অর্থনীতি ১৬ ব্যাচের দুই প্রিয় ব্যাচমেট হাসান এবং সাথীর জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা ক্যাম্পাসেই এই হলুদ আয়োজনের উদ্যোগ নিই। পুরো ব্যাচের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আমাদের কাছে শুধু একটি হলুদ অনুষ্ঠান ছিল না, বরং আমাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বন্ধনের একটি সুন্দর উদযাপন ছিল। কুবি ক্যাম্পাসে এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়ে গেলেও এই দিনটি আমাদের সবার স্মৃতিতে বিশেষ হয়ে থাকবে।”


আরেক সহপাঠী মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “এই অনুষ্ঠানটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটা অসাধারণ স্মৃতি হয়ে থাকবে। দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শেষে কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে বন্ধুবান্ধবসহ বিয়ের মতো অনুষ্ঠানগুলো উপভোগ করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আমার দুই বন্ধু চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ব্যাচমেট হিসেবে এটা আমাদের অনেক আনন্দিত করছে।”


ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান নিয়ে বর মোহাম্মদ হাসান নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, 

"ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকেই আমাদের পরিচয়। শুরুটা হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে। হয়তো ভালোবাসার সেই সফরটাই সবচেয়ে সুন্দর, যেখানে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং বিয়ে সবকিছুই একজনের সাথেই হয়। আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি এমন একজন জীবনসঙ্গিনী পেয়ে।


হাসান আরো বলেন, "আমাদের এই যাত্রায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে। তাই আমি চেয়েছি, আমাদের এই শুভ সূচনাটি আমার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েই উদযাপন করতে। মহান আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের নতুন সংসারকে তাঁর রহমত, বরকত ও শান্তিতে পূর্ণ করেন।"




সর্বশেষ সব খবর

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৫ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসারে ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে—ততদিন বহাল থাকবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, ট্রেজারার হিসেবে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মাসিক সম্মানী এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে তাঁকে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

নতুন দায়িত্বে ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি উপাচার্য কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্বও তাঁকে পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ট্রেজারার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ এএম

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী নকীবুল হক এবং ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অন্তু।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নোবিপ্রবি শাখার নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে নবমনোনীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে শাখাটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নকীবুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মেহেদী হাসান অন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে শাখাটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে নবমনোনীত সভাপতি নকীবুল হক বলেন, “দায়িত্ব হলো একটি আমানত। যারা আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে এই আমানত ন্যস্ত করেছেন, আমি তাদের আস্থার যথাযথ প্রতিদান দিতে চাই। নোবিপ্রবি শাখার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণ লেখকদের এই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চাই। তাদের জন্য একটি সুন্দর ও ইতিবাচক লেখালেখির পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি লেখালেখির বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকতে চাই। সর্বোপরি, সভাপতি হিসেবে এককভাবে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাণবন্ত, সৃজনশীল ও কার্যকর শাখা গড়ে তোলাই আমার প্রত্যাশা।”


সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তু বলেন, “বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমার জন্য কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়; বরং একটি দায়িত্ব। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয়, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। আমার অগ্রজ ও অনুজ যারা নিজেদের অক্লান্ত শ্রম দিয়ে এতদিন সংগঠনের পাশে থেকেছেন, আশা করি আগামীতেও তাদের পাশে পাব। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। সবার মতামত, পরামর্শ, সৃজনশীল উদ্যোগ ও সহযোগিতাই আমাদের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”


উল্লেখ্য, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। তরুণ লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করা, পরামর্শ প্রদান, জাতীয় গণমাধ্যমে তাদের লেখা প্রকাশে সহযোগিতা এবং লেখালেখিবিষয়ক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।


দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণদের মধ্যে লেখালেখির চর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সংগঠনটি ২৩টি শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়-২৪ হল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র‍্যাগিংকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হলের আবাসিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।


আবেদনে বলা হয়, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন গত ৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এরপর থেকে তার আচরণ ও ব্যবহারের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা হলে থাকা আমিরের বিভাগের সিনিয়রদের অবহিত করেন।


এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট রাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমিরের বন্ধু ইউসুফ ইকবাল তাকে ৩১৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। পরে রাত ১২টার দিকে আমির হোসেন তার সহপাঠী অপূর্ব দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে ওই কক্ষে যান। সেখানে আগের অভিযোগের বিষয়ে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আমির হোসেন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।


আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রুম থেকে বের হওয়ার পর আমির তার সিনিয়র সরোয়ার হাসান রিয়াদকে ফোন করে হুমকি দেন। এর পরদিন অন্তু দাশকে একটি ভার্চুয়াল নম্বর থেকে ফোন করে আমির হোসেনের বড় ভাই পরিচয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অন্তু দাশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে অভিযুক্তরা ও বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়, হল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।


তাদের দাবি, পুরো ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, ফোনকলসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।


আবেদনে তারা হলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।


বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খাঁন বলেন, ‘আমি তাদের আবেদনটি পেয়েছি। যদিও বিষয়টি হলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তবে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে আজ আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। অথচ হলের প্রভোস্ট হিসেবে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই বিষয়টি প্রথমে আমার কাছে জানানোর প্রয়োজন ছিল। আমি শুধু এক পক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে আসার আগেই বিভাগ, প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে গেছে, তাই সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’


প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেনকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন আমির হোসেন।

সর্বশেষ সব খবর

ঢাকার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রদর্শন করা হবে বড় আকারের স্টিমার, বাকরখানি, জিলাপি, ঘুড়ি ও নাটাইয়ের প্রতিকৃতি।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২০ পিএম

রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকা দিবস ২০২৬-হৃদয়ে ঢাকা’ উদ্‌যাপনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীনের নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।


আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য এ শোভাযাত্রায় জবির অংশগ্রহণকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির রঙে সাজানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রদর্শন করা হবে বড় আকারের স্টিমার, বাকরখানি, জিলাপি, ঘুড়ি ও নাটাইয়ের প্রতিকৃতি।


শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকরা অংশ নেবেন। এছাড়া বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সদস্যসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে।


এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও নাট্যকলা বিভাগের শিল্পী এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও আয়োজন করা হয়েছে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি বাহাদুর শাহ পার্ক, কোর্ট চত্বর, রায়সাহেব বাজার, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও শিক্ষা ভবনের পাশ দিয়ে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হবে।


ঢাকা দিবসের এ আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকে আকর্ষণীয়, ঐতিহ্যনির্ভর ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন বক্তারা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে এবং বারসিক (BARCIK)-এর সহযোগিতায় ‘খাদ্য ব্যবস্থা, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজির পথ: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভ্যাবষ্যতের সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


বুধবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের হলরুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামীমা নাসরিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এর ডিন ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন. এম. রবিউল আওয়াল চৌধুরী, প্রভাষক তহমিনা খাতুন ও অমিত দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের বিভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থীরা 


সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল এবং ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এগ্রোইকোলজিভিত্তিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। 


অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিকের এগ্রোইকোলজি অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি ইউনিটের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান কৃষিব্যবস্থায় কৃষক ও পরিবেশ নানা সংকটের মুখোমুখি। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও ঋণের ওপর অতিনির্ভরশীলতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির ক্ষয়, পানির সংকট ও জীববৈচিত্র্যের হ্রাস খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।”


তিনি আরও বলেন, “এগ্রোইকোলজি কেবল রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর ধারণা নয়; এটি কৃষক ও স্থানীয় মানুষের জ্ঞানকে ভিত্তি করে টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি কার্যকর পথ। দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, বহুমুখী ফসল চাষ, মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং কৃষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিতে নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।”


সর্বশেষ সব খবর