ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মচারী ফজলুর রহমান কর্তৃক সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন 'জিয়া পরিষদ'-'ইউট্যাব' এবং জামাতপন্থী শিক্ষক সংগঠন 'গ্রীণ ফোরাম'।


আজ রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধনে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া মানববন্ধনে একাত্মা জানিয়ে শাখা ছাত্রদল, শাখা ছাত্রশিবির ও শাখা ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 


গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ে রুনা হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনিরাপদ স্থানে অবস্থিত। এজন্য সকল ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে ইউনিক আইডেনটিটির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যত থোক বা ডে লেবার হিসেবে কাজ করে প্রত্যেকের ডাটা সংগ্রহ করতে হবে যেন পরবর্তীতে তাদেরকে আমরা আয়ত্তে রাখতে পারি।


জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, ৯৫’র নভেম্বরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছি। শিক্ষকদের উপর বিভিন্ন ধরনের হামলা দেখেছি, এ ধরনের হামলায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি, দুঃখজনক বিষয় হলো একটি হামলার এখন পর্যন্ত বিন্দুমাত্র বিচার হয়নি। বিচার না হওয়ার সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে এই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড। এই হত্যাকাণ্ড হতো না যদি ঐ বিচার গুলো হতো। কিছুদিন আগে একজন শিক্ষার্থীর নিহত হয়েছে তার ব্যাপারে পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যূনতম একটি বিবৃতি আমরা পাই নাই। 


মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটাই অনুরোধ করব আপনি এই দুই খুনের বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে যতটুকু আগানো সম্ভব আপনি আগান প্রয়োজন বোধে আমরা যাব। যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিচার না পান, রেসপন্স না পান, আমরা রাস্তায় নামবো। কিন্তু আপনি উদ্যোগ নেন, বসে থাকবেন না। ছাত্র হত্যার ব্যাপারে যতটুকু রেসপন্স দেখেছি আমরা সন্তুষ্ট নয়, এটা পরিষ্কার কথা। আমার মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের ভেতর থেকে এরকমই রেসপন্স পেয়েছি তারাও সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও যদি একই ঘটনা ঘটে যে পুলিশের কাছে গেছে পুলিশ ঘুরছে,আর ঘুরছে তাহলে সেটা খুবই বেদনাদায়ক হবে।


শিক্ষিকা রুনা হত্যার ঘটনায় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির আহবায়ক হিসেবে আমি দল, মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে  তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন, যদি আপনারা সহযোগিতা না করেন তাহলে কিন্তু আমাদের দোষারোপ করে লাভ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ আমরা আমাদের সহকর্মীকে হারিয়েছি। তাকে তার পরিবার হারিয়েছে, স্বামী তার স্ত্রীকে হারিয়েছে, নাবালিকা সন্তান তার মাকে হারিয়েছে, বৃদ্ধ পিতা তার সন্তানকে হারিয়েছে, সে কষ্ট  ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আল্লাহ তায়ালা অপরাধীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারি সেই তৌফিক আমাদের দান করুন। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো কাজের অগ্রগতি না দেখাতে পারেন তাহলে ভর্তি পরীক্ষার পরে আমরা এই শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে পরবর্তীতে কর্মসূচি ঘোষণা করব। 


উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকান্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণভাবে একটি তদন্ত কমিটি করেছি এবং এই বিভাগ যাতে সচল থাকে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। রুনার অকাল মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে রুনা আমাদের হৃদয়ে সারাজীবন জাগরক থাকবে। যত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী চিহ্নিত করণ, অপরাধীকে গ্রেফতার এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশাসন যত ধরনের সহযোগিতা চাবে আমরা তত ধরনের সহযোগিতা দিব। 


এই ব্যাপারে কোন ধরনের কার্পণ্য করা হবে না এবং সেটা ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতে প্রদান করা হবে। অপরাধী সহ যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদেরকে সুষ্ঠ এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে হত্যার বিষয়ে সবাইকে চিহ্নিত করা হোক। আমরা প্রশাসনের কাছে, বিচার প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই ধরনের ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়ায়ে দিব। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঠেলে সাজানোর জন্যে ছাত্র শিক্ষক সবার পরামর্শ মতে আমরা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।



সর্বশেষ সব খবর

সভাপতি নজরুল ও সাধারণ সম্পাদক আরাফাত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন রাজু আরাফাত।


শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।


নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন তাসনোভা হোসেন। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জোবায়ের আহমেদ, সরকার সাখাওয়াত হোসেন ও আরিফুল ইসলাম। অর্থ সম্পাদক পদে রকি আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাসুদ রানা এবং দপ্তর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবরার জাহিন।


এছাড়া সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে আমিরুল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে চপল রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।


কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আরমান আলী, আশিকুর রহমান, কাওছার খান, আতিকুজ্জামান আশিক, সাইফুল ইসলাম, এমএম মুজাহিদ উদ্দিন, আবু ছালেহ আতিফ, সৈকত সাহা, ইব্রাহীম খলিল ও মোশফিকুর রহমান ইমন।


সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রাজু বলেন, “সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করায় বিভাগের সকল সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই পদ আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় দায়িত্ব। অ্যালামনাইদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা এবং বিভাগের উন্নয়নে কাজ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এ দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।”


সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে বিভাগের সব সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিভাগের স্বার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাই।”


নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্ববৃন্দ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিনের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলমসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করতে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।


অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। আর সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।


কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন-নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের একজন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি।


প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। পরে এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, “রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বশেষ সব খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ পিএম

বন্ধুত্ব থেকে বিশ্বাস, বিশ্বাস থেকে ভালোবাসা, আর সেই ভালোবাসা গড়াল বিয়েতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন, করিডর আর লাল মাটির সবুজ ক্যাম্পাসকে সাক্ষী রেখে নিজ ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ করে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থী।


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান ও মাকসুদা আক্তার সাথী দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিক সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। বিয়ের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় তাদের গায়ে হলুদের ব্যতিক্রমী আয়োজন।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেন নেমে এসেছিল আনন্দের এক টুকরো রাজ্য। হলুদ শাড়ি আর গয়নায় সেজে বসা কনে সাথীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বান্ধবীরা। অন্যদিকে বর হাসানকে ঘিরে চলে বন্ধুদের উল্লাস। গায়ে হলুদ মেখে দেওয়া, কেক-মিষ্টি-ফল খাইয়ে দেওয়া আর মিষ্টি দুষ্টুমিতে মেতে ওঠে পুরো ব্যাচের বন্ধুরা। 


​কারো কণ্ঠে সুর, কারো পায়ে আনন্দের নাচ, আর ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। সব মিলিয়ে কুবি প্রাঙ্গণে রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে। ক্যাম্পাসের ইট-কাঠ আর চেনা করিডোরগুলো সাক্ষী হয়ে রইল দুই সহপাঠীর এক হওয়ার এই আবেগঘন মুহূর্তের।


সহপাঠীরা জানান, বর-কনে দুজনই তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রিয় ক্যাম্পাসে এই ভিন্নধর্মী গায়ে হলুদের আয়োজন করেছেন তারা।


বর-কনের সহপাঠী তাসমিয়া মারজান বলেন, “আমাদের অর্থনীতি ১৬ ব্যাচের দুই প্রিয় ব্যাচমেট হাসান এবং সাথীর জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা ক্যাম্পাসেই এই হলুদ আয়োজনের উদ্যোগ নিই। পুরো ব্যাচের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আমাদের কাছে শুধু একটি হলুদ অনুষ্ঠান ছিল না, বরং আমাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বন্ধনের একটি সুন্দর উদযাপন ছিল। কুবি ক্যাম্পাসে এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়ে গেলেও এই দিনটি আমাদের সবার স্মৃতিতে বিশেষ হয়ে থাকবে।”


আরেক সহপাঠী মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “এই অনুষ্ঠানটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটা অসাধারণ স্মৃতি হয়ে থাকবে। দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শেষে কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে বন্ধুবান্ধবসহ বিয়ের মতো অনুষ্ঠানগুলো উপভোগ করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আমার দুই বন্ধু চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ব্যাচমেট হিসেবে এটা আমাদের অনেক আনন্দিত করছে।”


ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান নিয়ে বর মোহাম্মদ হাসান নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, 

"ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকেই আমাদের পরিচয়। শুরুটা হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে। হয়তো ভালোবাসার সেই সফরটাই সবচেয়ে সুন্দর, যেখানে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং বিয়ে সবকিছুই একজনের সাথেই হয়। আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি এমন একজন জীবনসঙ্গিনী পেয়ে।


হাসান আরো বলেন, "আমাদের এই যাত্রায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে। তাই আমি চেয়েছি, আমাদের এই শুভ সূচনাটি আমার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েই উদযাপন করতে। মহান আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের নতুন সংসারকে তাঁর রহমত, বরকত ও শান্তিতে পূর্ণ করেন।"




সর্বশেষ সব খবর

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৫ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসারে ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে—ততদিন বহাল থাকবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, ট্রেজারার হিসেবে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মাসিক সম্মানী এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে তাঁকে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

নতুন দায়িত্বে ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি উপাচার্য কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্বও তাঁকে পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ট্রেজারার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ এএম

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী নকীবুল হক এবং ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অন্তু।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নোবিপ্রবি শাখার নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে নবমনোনীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে শাখাটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নকীবুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মেহেদী হাসান অন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে শাখাটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে নবমনোনীত সভাপতি নকীবুল হক বলেন, “দায়িত্ব হলো একটি আমানত। যারা আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে এই আমানত ন্যস্ত করেছেন, আমি তাদের আস্থার যথাযথ প্রতিদান দিতে চাই। নোবিপ্রবি শাখার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণ লেখকদের এই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চাই। তাদের জন্য একটি সুন্দর ও ইতিবাচক লেখালেখির পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি লেখালেখির বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকতে চাই। সর্বোপরি, সভাপতি হিসেবে এককভাবে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাণবন্ত, সৃজনশীল ও কার্যকর শাখা গড়ে তোলাই আমার প্রত্যাশা।”


সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তু বলেন, “বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমার জন্য কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়; বরং একটি দায়িত্ব। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয়, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। আমার অগ্রজ ও অনুজ যারা নিজেদের অক্লান্ত শ্রম দিয়ে এতদিন সংগঠনের পাশে থেকেছেন, আশা করি আগামীতেও তাদের পাশে পাব। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। সবার মতামত, পরামর্শ, সৃজনশীল উদ্যোগ ও সহযোগিতাই আমাদের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”


উল্লেখ্য, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। তরুণ লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করা, পরামর্শ প্রদান, জাতীয় গণমাধ্যমে তাদের লেখা প্রকাশে সহযোগিতা এবং লেখালেখিবিষয়ক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।


দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণদের মধ্যে লেখালেখির চর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সংগঠনটি ২৩টি শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়-২৪ হল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র‍্যাগিংকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হলের আবাসিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।


আবেদনে বলা হয়, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন গত ৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এরপর থেকে তার আচরণ ও ব্যবহারের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা হলে থাকা আমিরের বিভাগের সিনিয়রদের অবহিত করেন।


এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট রাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমিরের বন্ধু ইউসুফ ইকবাল তাকে ৩১৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। পরে রাত ১২টার দিকে আমির হোসেন তার সহপাঠী অপূর্ব দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে ওই কক্ষে যান। সেখানে আগের অভিযোগের বিষয়ে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আমির হোসেন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।


আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রুম থেকে বের হওয়ার পর আমির তার সিনিয়র সরোয়ার হাসান রিয়াদকে ফোন করে হুমকি দেন। এর পরদিন অন্তু দাশকে একটি ভার্চুয়াল নম্বর থেকে ফোন করে আমির হোসেনের বড় ভাই পরিচয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অন্তু দাশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে অভিযুক্তরা ও বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়, হল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।


তাদের দাবি, পুরো ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, ফোনকলসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।


আবেদনে তারা হলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।


বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খাঁন বলেন, ‘আমি তাদের আবেদনটি পেয়েছি। যদিও বিষয়টি হলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তবে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে আজ আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। অথচ হলের প্রভোস্ট হিসেবে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই বিষয়টি প্রথমে আমার কাছে জানানোর প্রয়োজন ছিল। আমি শুধু এক পক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে আসার আগেই বিভাগ, প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে গেছে, তাই সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’


প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেনকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন আমির হোসেন।

সর্বশেষ সব খবর