• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ পিএম

সম্প্রতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটাতে রাজি হলে ২২০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাবে সরকার। একইসঙ্গে এ প্রস্তাব আমলে নিলে তা তামাক করনীতির ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে। যা তামাক কোম্পানিকে লাভবান করবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব আয় উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে। 


আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) বিকালে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএটিবি তাদের ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ব্র্যান্ডের দাম ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক) এবং সাধারণ আদেশ নং ০২/ভ্যাট/২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রস্তুতকারকরা মূল্য নির্ধারণের ‘স্বাধীনতা’ পায়। তামাক কোম্পানিকে এই ধরণের স্বাধীনতা প্রদান করা হলে তা একটি আত্বঘাতি সিদ্ধান্ত হবে যা রাজস্ব আয় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


বিএটিবির প্রস্তাবে রাজি হলে নিম্ন স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে সরকার রাজস্ব হারাবে প্রায় ৭ টাকা ৪৭ পয়সা এবং মধ্যম স্তরের প্রতি প্যাকেটে রাজস্ব হারাবে ১৩ টাকা ২৮ পয়সা। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ব্রান্ড-ভিত্তিক বিক্রির তথ্য অনুসারে বিএটিবি’র ডারবি, পাইলট ও হলিউড সিগারেরেট সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি শলাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ১৮০ কোটি শলাকা। নিম্নস্তরে ১০ শলাকার দাম ৯ টাকা কমিয়ে ৭২ থেকে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইকের দাম ১৬ টাকা কমিয়ে ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকা করার সুযোগ দিলে সরকার ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি (নিম্ন স্তরে ১৯৭২ কোটি ও মধ্যম স্তরে ২৩৯ কোটি টাকা) রাজস্ব হারাবে।


বিএটিবির আবেদনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুন ২০২৬ জারি করা এসআরও নং ১২৯-আইন/২০২৬/৩৩৪-এর ৩ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বাজারে ইতোমধ্যে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমানো যাবে না। প্রতিষ্ঠিত এই নীতিগত সুরক্ষা একটিমাত্র বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসায়িক পূর্বাভাস ও মুনাফার স্বার্থে শিথিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো একক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কৌশলের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় করনীতি পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্প-প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করার সুযোগ পাবে, যা সামগ্রিক কর কাঠামোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে এনবিআর নিম্ন স্তরের সিগারেটের এমআরপি ৬০ টাকা থেকে ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করলেও বিএটিবি গত দুই বছর ধরে এই স্তরের সিগারেটের মূল্য ৭২ টাকা নির্ধারণ করে বাজারজাত করে আসছে। অনুমান নির্ভর রাজস্ব বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে তারা দাম কমানোর যে আব্দার করেছে তা অযৌক্তিক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নীতি ও অবস্থানের সথে সাংঘর্ষিক। এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষার প্রস্তাব। একদিকে তারা সিগারেরটর মূল্য নির্ধারণে বাজেট প্রস্তাবে সরকারের ব্যবহৃত ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দের সুযোগ নিয়ে সিগারেটের উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে আসছে; অন্যদিকে তারা দাম কমিয়ে বাজার দখলের কৌশল হিসেবে সরকারের নীতির পরিবর্তন চাইছে। কেবল মাত্র নিজেদের বানিজ্যেক স্বার্থেই তারা এই স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।


বিএটিবি চিঠিতে অনুমান করেছে, দাম কমালে বিক্রি বেড়ে রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে কোনো নিশ্চয়তা নেই যে বাড়তি বিক্রির পুরোটাই অবৈধ বাজার থেকে বৈধ বাজারে স্থানান্তরিত হবে। বাস্তবে অধিক সম্ভাবনা হলো বৈধ বাজারের মধ্যেই ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ডের দিকে সরে যাবে, যার ফলে মোট বিক্রি বাড়লেও সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আরও কমে যাবে। একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য প্রণোদিত বাজার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা শিথিল করা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব নীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং একইসঙ্গে আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনটিটিপি চলতি অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর প্রস্তাব দিয়েছিল। যা মূল্যস্তর সরলীকরণের পাশাপাশি রাজস্ব ও জনস্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলত। কিন্তু এনবিআর সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করে, যা মাত্র ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। অথচ দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৮.৬৬ শতাংশ। ফলে প্রকৃত অর্থে সিগারেটের ক্রয়ক্ষমতা কমেনি, বরং তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় সস্তা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দাম আরও কমানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব নীতির লক্ষ্যের পরিপন্থী।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ এএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে এক নারীর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে পালানোর সময় মো. সেলিম (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। আটকের পর তল্লাশি করে দুল না পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেটি গিলে ফেলার কথা জানান তিনি। পরে বমি করিয়ে তার পেট থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণের দুল উদ্ধার করা হয়।


বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক সেলিম রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় থাকেন।


ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এ সময় নিপা আক্তার নামে এক নারীর চিৎকার শুনে তারা দেখতে পান, এক ব্যক্তি দৌড়ে পালাচ্ছেন। পরে কর্তব্যরত সার্জেন্ট ইমরান মৃধা ওই ব্যক্তিকে ধাওয়া করে আটক করেন।


আটকের পর সেলিমের দেহ তল্লাশি করা হলেও তার কাছে স্বর্ণের কানের দুল পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুলটি গিলে ফেলার কথা জানান। এরপর বমি করানোর মাধ্যমে তার পেট থেকে স্বর্ণের কানের দুলটি উদ্ধার করা হয়।


পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক সেলিম ও ভুক্তভোগী নারীকে যাত্রাবাড়ী থানায় পাঠানো হয়েছে।


এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. রাজু বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে বলেও জানান তিনি।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম

বাদামতলীর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ডিএসসিসি প্রশাসকের নির্দেশ

বাবুবাজার ব্রিজের নিচের পার্কিং কার্যক্রম স্থগিত


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সকল অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।


​আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।


​ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, "সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। মাননীয় প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে।"


​বাবুবাজার ব্রিজের পার্কিং স্থগিত:


এদিকে, একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের 'এ' থেকে 'ডি' পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সকল কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।


​এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।"


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠেয় অধিবেশন যাতে নির্বিঘ্নে চলে তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে।


যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা 

নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে পড়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি ১৬ (পুরনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উত্তরা জাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।


জাহিদুল ইসলাম ও আল মামুন শিপলু

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর আদাবরে টোকিও স্কয়ার কনভেনশন সেন্টারে এক সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  


কমিটিতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে সভাপতি এবং বেতাগীর ব্যবসায়ী মো. আল মামুন শিপলুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া জি এম জাফর আহমেদ সহসভাপতি, আজীম রিপন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আসাদুজ্জামান জুয়েল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।


মতবিনিময় সভায় বরগুনার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জেলার মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ফোরামের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষায় সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগের সময় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান।


সংগঠনের নেতারা জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বরগুনার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফোরামের মূল লক্ষ্য।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ এএম

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পল্লবী থানায় কর্মরত এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং মো. ওয়াসিম (২৪)। সোমবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে প্রথমে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিমকে আটক করা হয় এবং তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।


পরবর্তীতে তাদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।


দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও এর আশপাশের এলাকায় তারা খুচরা বিক্রি করতেন।


এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারের খবর তারা পেয়েছেন।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ইতোমধ্যে ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। এসব সিগন্যালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।


চালকদের মধ্যেও এআই ক্যামেরা নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআইয়ের মাধ্যমে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন চালকরা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।


ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, মানুষকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে বের করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।


তবে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যত্রতত্র পথচারী পারাপার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রযুক্তিটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।


নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনায় অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ইউনিটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।