৩ কর্মচারী চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে মিটফোর্ড হাসপাতালে মানববন্ধন
বেতন ছাড়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, ৩ কর্মচারী চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে মিটফোর্ড হাসপাতালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বেতন দ্রুত ছাড় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ এবং পরে তিন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত বেতন, প্রশাসনিক হয়রানি এবং চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে কর্মচারীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক কার্যালয়ের সামনে অর্ধশতাধিক কর্মচারী মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে তারা পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা জানান, সম্প্রতি পরিচালক কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে প্যাথলজি বিভাগের কর্মী মো. ফজলুর রহমান, অফিস সহায়ক মো. আলাল হোসেন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. বিল্লাল মজুমদারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের প্রায় ১২০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কখনো দুই থেকে তিন মাস, আবার কখনো পাঁচ-ছয় মাস পর্যন্ত বেতন আটকে রাখা হয়। বেতন দ্রুত ছাড় করিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অতিরিক্ত খরচের কথা বলে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. জাহিদুর রহিম কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
চাকরিচ্যুত কর্মচারী বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল, ডিডি অফিস ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাস করাতে খরচ হয়। সে কারণে কর্মচারীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও আমাদের কাছে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে দ্রুত বেতন পাওয়ার আশায় কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। পরে সেই বিষয়টি মেসেঞ্জার গ্রুপে আলোচনা হলে একটি স্ক্রিনশট প্রশাসনের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর তাদের ডেকে পাঠানো হয়।
বিল্লাল হোসেনের ভাষ্যমতে, “আমাদের বলা হয়েছিল, কোনো সমস্যা হবে না। টাকা দেওয়ার পর আইডি কার্ড দিয়ে কাজে যোগদানের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে আইডি কার্ড না দিয়ে উল্টো আমাদের হাতে চাকরিচ্যুতির চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমরা চাকরি ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগের কর্মচারী মোঃ আলী হোসেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তারা অনিয়মিত বেতনের সমস্যায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, “বেতন চাইতে গেলে আমাদের বলা হতো, কিছু ‘সহযোগিতা’ করলে বেতন দ্রুত দেওয়া হবে। প্রথমে ৫০০ টাকা করে চাওয়া হয়েছিল। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে ২০০ টাকা করে দেওয়া শুরু করি। আমাদের অনেকের কাছেই এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দৈনিক ৮০০ টাকা মজুরিতে কাজ করলেও তাদের দিয়ে মাসে ৩০ দিন কাজ করানো হয়, অথচ বেতন দেওয়া হয় ২৬ দিনের। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেই চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা বলেন, তারা কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। দীর্ঘদিনের বেতন জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় এবং দ্রুত বেতন পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু সেই ঘটনাকেই ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিচালক বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। অধিকাংশ কর্মচারীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে অনিয়মিত বেতনের কারণে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, বেতন দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাউন্টস কর্মকর্তা জাহিদুর রহিমের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক খরচের বিষয় উল্লেখ করেন। পরে কর্মচারীরা সরল বিশ্বাসে এবং দ্রুত বেতন পাওয়ার আশায় নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করেন। তবে তাদের উদ্দেশ্য কোনো অনিয়ম করা বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা ছিল না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কর্মচারীরা মানবিক বিবেচনায় চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনর্বহালের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। এ সময় কর্মচারীরা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। পাশাপাশি বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আনার আহ্বানও জানান।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে এক নারীর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে পালানোর সময় মো. সেলিম (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। আটকের পর তল্লাশি করে দুল না পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেটি গিলে ফেলার কথা জানান তিনি। পরে বমি করিয়ে তার পেট থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণের দুল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক সেলিম রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় থাকেন।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এ সময় নিপা আক্তার নামে এক নারীর চিৎকার শুনে তারা দেখতে পান, এক ব্যক্তি দৌড়ে পালাচ্ছেন। পরে কর্তব্যরত সার্জেন্ট ইমরান মৃধা ওই ব্যক্তিকে ধাওয়া করে আটক করেন।
আটকের পর সেলিমের দেহ তল্লাশি করা হলেও তার কাছে স্বর্ণের কানের দুল পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুলটি গিলে ফেলার কথা জানান। এরপর বমি করানোর মাধ্যমে তার পেট থেকে স্বর্ণের কানের দুলটি উদ্ধার করা হয়।
পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক সেলিম ও ভুক্তভোগী নারীকে যাত্রাবাড়ী থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. রাজু বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে বলেও জানান তিনি।
পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সকল অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, "সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। মাননীয় প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে।"
বাবুবাজার ব্রিজের পার্কিং স্থগিত:
এদিকে, একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের 'এ' থেকে 'ডি' পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সকল কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।"
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠেয় অধিবেশন যাতে নির্বিঘ্নে চলে তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে।
যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা
নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে পড়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি ১৬ (পুরনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উত্তরা জাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
জাহিদুল ইসলাম ও আল মামুন শিপলু
বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর আদাবরে টোকিও স্কয়ার কনভেনশন সেন্টারে এক সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটিতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে সভাপতি এবং বেতাগীর ব্যবসায়ী মো. আল মামুন শিপলুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া জি এম জাফর আহমেদ সহসভাপতি, আজীম রিপন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আসাদুজ্জামান জুয়েল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বরগুনার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জেলার মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ফোরামের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষায় সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগের সময় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান।
সংগঠনের নেতারা জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বরগুনার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফোরামের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পল্লবী থানায় কর্মরত এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং মো. ওয়াসিম (২৪)। সোমবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে প্রথমে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিমকে আটক করা হয় এবং তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে তাদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও এর আশপাশের এলাকায় তারা খুচরা বিক্রি করতেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারের খবর তারা পেয়েছেন।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। এসব সিগন্যালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।
চালকদের মধ্যেও এআই ক্যামেরা নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআইয়ের মাধ্যমে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন চালকরা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।
ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, মানুষকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে বের করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যত্রতত্র পথচারী পারাপার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রযুক্তিটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনায় অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ইউনিটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।