তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদনে ধস নেমেছে। যন্ত্রপাতি চলছে না
দেশে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এর ফলে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পকারখানা- সব খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে ভারী শিল্পে। গ্যাস এবং এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় স্টিল, সিরামিক, কাচের মতো গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর উৎপাদনক্ষমতা শূন্যে নেমেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব শিল্পাঞ্চলের ভারী শিল্পের বেশির ভাগ কলকারখানা বন্ধ ছিল। স্থানীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী বড় কয়েকটি শিল্প গ্রুপের প্রায় সব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের সব কারখানা গত বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল গতকাল বলেন, গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো ন্যূনতম গ্যাস মিলছে না। নতুন করে বিদ্যুৎ সংকটও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে গ্রুপের সব মিল-কারখানা বন্ধ রয়েছে।
মোস্তফা কামাল জানান, উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদিরের কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। বিদ্যুৎমন্ত্রী একটু অপেক্ষা করতে বলেছেন।
খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে মেঘনা গ্রুপ। এ ছাড়া সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, ফিড, কেমিক্যালসহ গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৭টি। ফ্রেশ, নাম্বার ওয়ান, অ্যাক্টিফিট, পিউর ইত্যাদি নামে এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়।
এর বাইরে সেবা খাতে শিপিং, বীমা ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা রয়েছে মেঘনা গ্রুপের। মেঘনা গ্রুপ বলছে, দেশের মোট পরিবারের অর্ধেকের কাছে এসব পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের বাইরে ৫২টি দেশে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে থাকে তারা।
মোস্তফা কামাল আরও বলেন, জ্বালানি সংকটে তারা পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না, কিন্তু সরবরাহকারী ও গ্রাহকরা তাদের কাছে পণ্যের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে।
এক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে গ্রুপের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে- এ প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা কামাল জানান, সঠিক তথ্য এ মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে ক্ষতির পরিমাণটা বেশ বড়। বর্তমানে গ্রুপের কর্মকর্তা ও কর্মীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি।
কাঁচামাল সহজে আনা-নেওয়ায় সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অনেক ভারী শিল্প ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাচ কারখানা গড়ে ওঠে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোও বিপদে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠে ভারী শিল্পেও একই পরিস্থিতি। জানতে চাইলে ফতুল্লা স্টিল রি-রোলিং মিলসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, ভারী শিল্পের অবস্থা ভালো না। তাঁর কারখানায় উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
টি কে গ্রুপের উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল
টি কে গ্রুপের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গজারিয়ায় তাদের এসব কারখানায় দুই দিনের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সার আমদানির সুযোগ আছে। আমদানিও হয়ে আসছে। তাহলে কয়েকটি সার কারখানা চালাতে গিয়ে সরকার কেন শত শত কারখানায় গ্যাস সংকট তৈরি করছে?
আরএফএল গ্রুপের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে
আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, তাদের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে, যেখানে তাদের মোট উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়, সেখানে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব নন-ফুড আইটেম যেমন- প্লাস্টিক, পিভিসি পাইপ, ফুটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন হবিগঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্রান্সকম গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সায়হাম গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৭১টি কারখানা রয়েছে এখানে।
গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক অলস সময় পার করছেন।
গাজীপুরে ৫২৫টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ
৫ আগস্টের এক দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন পর গাজীপুরের শিল্পকারখানায় ফেরেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরেও কাজে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম।
ফলে অলস সময় পার করছেন কোনো কোনো কারখানার শ্রমিকরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তৈরি হচ্ছে বায়ার হারানোর আশঙ্কাও।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিল্পকারখানা আছে। এর মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে ১২-১৫ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সে হিসাবে গাজীপুরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ৫২৫টি কারখানায়। বড় কারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেসব কারখানাতেও উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
শিল্প এলাকার কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও মেশিন বন্ধ, কোথাও সীমিত পরিসরে চলছে উৎপাদন। কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও অনেক শ্রমিককে কাজ না থাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
শফিপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত গোমতী টেক্সটাইল কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
একই এলাকার এস এ স্পিনিং মিলস লিমিটেডেও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারখানাটির ডিজিএম আজিজুল হক বলেন, বুধবার বিকেল ৫টার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
বিপর্যয়ের মুখে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প
শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমলেও কারখানায় শুরু হয়েছে গ্যাসের সংকট। শিল্পোৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভয়াবহ গ্যাস সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের পর বিদ্যুতের অভাবে শিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান জানান, এফএসআরইউ বয়লার সিস্টেমে অগ্নিদুর্ঘটনার পর যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল তা কিছুটা কমে এসেছিল। গত দুই দিন ধরে আবার একই সমস্যা শুরু হয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। অনেক কারখানাই গতকাল উৎপাদন করতে পারনি।
তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম আহসান বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে গতকালই বিদ্যুতের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো বেশির ভাগই বন্ধ ছিল। তাঁর নিজের ফতুল্লা গ্রুপের কারখানাটিও বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তিনি জানান, ফেব্রিক্সের অভাবে বিদ্যুৎ থাকলেও কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, ২০২৩ সালে একবার এ রকম সমস্যা হয়েছিল। তবে এত লম্বা সময় ধরে সংকট এর আগে কখনও হয়নি।
তৈরি পোশাকের ফেব্রিক্সের বড় অংশের জোগান দেয় দেশের বস্ত্রকলগুলো। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সদস্য বেশির ভাগ বস্ত্রকলই গতকাল বন্ধ ছিল। যে কয়েকটি কারখানা খোলা ছিল সেগুলোতেও ৩০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।
তীব্র গ্যাস সংকট এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে দেশের বড় বড় টেক্সটাইল কারখানাগুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গত কয়েক দিন ধরে হা-মীম গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, স্কয়ার ফ্যাশনস এবং বাদশা স্পিনিংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ডেনিম ও ডাইং খাতের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ।
কারণ ডাইং, ফিনিশিং, স্ট্যান্টিং ও সাইজিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো গ্যাস ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। স্পিনিং মিলগুলো কোনোমতে বিদ্যুৎ দিয়ে চালানোর চেষ্টা করা হলেও, গ্যাস সংকটে চিলার বন্ধ থাকায় কারখানার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদিত সুতার গুণগত মান কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অনেক কারখানা মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় কোনোমতে টিকে আছে।
পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ একটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সংকটময় মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করে কারখানা চালানোর চেষ্টা করা হলেও তা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়। একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল লাগছে, যার দৈনিক খরচ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে মুনাফা করা তো দূরে থাক, কারখানা টিকিয়ে রাখাই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে সেই গ্যাস শিল্প খাতে দেওয়া উচিত। সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই লোকসান টানা সম্ভব হবে না, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি আয়ে। সরকারকে এখনই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমতে পারে
গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুতে ৬৮ কোটি ঘনফুট থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৮৫ ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে দেওয়া হতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনরোষ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব মিলে গড়ে শিল্পে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এখন। এই সরবরাহ আরও কমতে পারে।
জামালপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক অবরোধ
জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গাড়ির চালকরা। গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জামালপুরের ম্যানেজার দুর্জয় বকসী বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বুধবার রাত ৮টা থেকে জামালপুরে পাইপলাইনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় এই অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন তারা।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী নভেম্বরে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে দুদেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয়পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
ছবি : সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন।
তবে নেপালে যে ভয়াবহ মাত্রার ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নদীপথে ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এই ঢলের সর্বোচ্চ প্রবাহ বা তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের চেয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ভারতের বিহারে গণ্ডক নদী নামে পরিচিত এই নদী হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে।
এরপর গঙ্গার প্রবাহ পূর্বদিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে গঙ্গা বা পদ্মা নামে। তাই নেপালের এই পাহাড়ি ঢলের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় পৌঁছানোর ভৌগোলিক পথ রয়েছে। তবে এই ঢল বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।
নেপালের ত্রিশুলি নদী গণ্ডকী নদী অববাহিকার অংশ। দেবঘাটের কাছে কালী গণ্ডকীর সঙ্গে ত্রিশুলি মিলিত হয়ে নারায়ণী নদী তৈরি করেছে। নারায়ণী নদী ভারতের বিহারের বাল্মীকিনগরের কাছে গণ্ডক নামে প্রবেশ করেছে। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর গণ্ডক অববাহিকায় পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন বিহার ও উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গণ্ডক নদীর পানিপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল এবং পরে প্রবাহ কমতে শুরু করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের পানি গণ্ডক নদী দিয়ে ভাটিতে নেমে হাজিপুর-সোনপুর এলাকায় গঙ্গায় মিশবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্ব দিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা এলাকায় পৌঁছাবে। ফারাক্কার পর গঙ্গার প্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নামে।
অর্থাৎ সম্ভাব্য গতিপথটি হলো নেপাল-ত্রিশুলি-নারায়ণী-গণ্ডক-হাজিপুর-সোনপুর-গঙ্গা-ফারাক্কা-বাংলাদেশ-গঙ্গা পদ্মা। কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশও এই নদীপথের কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেছেন, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গায় প্রবেশ করতে পারে এবং পরে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মার প্রবাহে যুক্ত হবে। তবে ঠিক কখন এই পানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, নেপালের পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে কয়েকশ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করবে। এই দীর্ঘপথে নদীর প্রশস্ততা, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া, নদীর ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে ঢলের তীব্রতা কমে যেতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণেও ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং নেপালের দিকের পানির স্তর কমছে।
ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও নেপালের ঢলের পুরো শক্তি বাংলাদেশে পৌঁছাবে– এমন পূর্বাভাস এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেপালের ঢল গঙ্গায় পৌঁছানোর সময় নদীটির বর্তমান পানিপ্রবাহ কেমন থাকবে।
বিহারের গঙ্গা অববাহিকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানির উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হলে তার প্রভাব ভাটিতে কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফারাক্কার পর বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা বাড়ে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে শুধু নেপালের এই পাহাড়ি ঢলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বড় বন্যা হবে– এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনও আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয় হবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, দেশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নির্ধারণে শুধু নেপালের ঢল নয়, ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় থাকা পানির পরিমাণ, একই সময়ে বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টি এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, তার কারণে বাংলাদেশে একই ধরনের পরিস্থিতি হবে এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। আবার নদীগুলোর আন্তঃসীমান্ত সংযোগের কারণে বিষয়টি একেবারে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।
বেড়েছে লোডশেডিং
চলমান গ্যাস-সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে হঠাৎ করে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আর সব সময়ই কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, এখনো আছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।
এ সময় গরমে চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি। দেশে এখন মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। ফলে গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।
এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলছে লোডশেডিং। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে এটি বেড়ে যায়। শুরুতে লোডশেডিংয়ের পুরোটাই ঢাকার বাইরে চাপানো হয়েছে।
তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকার কোনো একটি এলাকায় একবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জালোওয়াশান আখতার খান বলেন, প্রতিদিন একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটে আটকে পড়ার ভীতি কাজ করে। বাসায় গ্যাসও থাকে না। তাই বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডিপিডিসি ও ডেসকো। দুই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সরবরাহ বুঝে এর ব্যত্যয় করতে হচ্ছে।
পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র বলছে, এর আগে এ মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১০ আগস্ট। ওই দিন ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল। ৯ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহ টানা সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এরপর এটি কমে এলেও দুই দিন ধরে আবার বাড়ছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। আবার চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সব সময় উৎপাদন করা যায় না, মাঝেমধ্যে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। এতে করে বিদ্যুৎ ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি ও জ্বালানিসংকট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। তার মানে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বসে ছিল।
গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসের সংকটে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে। তবু সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি হারে চালাতে বলা হয়েছে। রাতে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে এটি দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে।
জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পিজিসিবি সূত্র বলছে, গতকাল ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহস্বল্পতা ছিল।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি আছে। এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে তারা।
ঢাকার বাইরে সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি। আরইবির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি।
আরইবি সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তাদের একই এলাকায় একাধিকবার করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত বুধবার রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট।
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এরপর বকেয়া বাড়তে থাকলে উৎপাদন কমানো হয়। লোডশেডিং বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বকেয়াসহ পিডিবির যেসব বিরোধ আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হলে এখনো তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
বাড়েনি গ্যাসের সরবরাহ
যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচার বাসিন্দা শর্মিলা শর্মি বলেন, বুধবার ছুটির দিনে বিকেলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এরপর রাত ১০টার সময় গিয়ে সাড়ে ১১টায় আসছে বিদ্যুৎ। গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে গিয়ে এক ঘণ্টা পর আসছে। বেশির ভাগ সময় গ্যাসও থাকে না। তাই বিদ্যুৎ-চালিত চুলা ব্যবহার করেন। খরচ বেড়েছে কিন্তু ভোগান্তি কমেনি।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে নিয়মিত। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৭৪ কোটি ঘনফুটের কম। এতে করে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল গতকাল ২৩৫ কোটি ঘনফুট। গ্যাস-সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে, শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়েছে।
আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট।
এরপর ১৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ উপযোগী হয় এক্সিলারেটের টার্মিনাল। কিন্তু নির্ধারিত সময় এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি, চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ-এসবের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কাঠামোগত সংস্কার দরকার। না হলে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।
মরদেহের কফিন ছুঁয়ে আর্তনাদ করেন স্বজনেরা।
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
এর আগে, গত ৯ অগাস্ট রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে।
৯ জনের মধ্যে- নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।
বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মরদেহ গ্রহণের পর কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাকি ৭ জন নিহত কর্মীর ফিংগার প্রিন্ট পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় সিআইডির তত্ত্বাবধানে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত নয় কর্মীর প্রতি পরিবারের জন্য লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান বাবদ ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা বিদেশ যান, অনেক কষ্টের কাজ করে পরিবারের জন্য টাকা পাঠান। যারা মারা গেছেন, মৃতদেহ এখনো আনতে পারিনি দেশে, তাদের মৃতদেহ দেশে আনতে সৌদি দূতাবাসের সবাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু আগুন লেগেছে, তাদের ডিএনএ টেস্ট হবে, পরিবারের সাথে কথা হয়েছে, দ্রুত দেশে ফেরত আনা হবে।”
সচিবালয়ে কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবিঃ সংগৃহীত
স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।
একইসঙ্গে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, “সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আন্দোলনে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং আমরা কী কাজ করছি তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব “
কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারো প্রতি অন্যায় ও অবিচার না হয়।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্য রাখেন।
পরিচিতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিচিত সভা শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
সংসদ
পরিপূর্ণ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে আংশিক সংস্কারের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের ঠিক আগ মুহূর্তে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে বিরোধী দলীয় সদস্য ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি নিয়ে কথা বলেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতা। পরে তিনি আজ উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন হলে তাতে অংশ নেবেন না বলে ওয়াকআউট করেন।
রাত ৮টা ৬ মিনিটে সংসদ থেকে বেরিয়ে যায় বিরোধী দল। পরে তারা গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল।
নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। আর সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা বলেছিল সরকার। এর একটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।
অন্যদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলনে এই সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল পাস করা হয়েছিল। তখন অধিকতর যাচাই–বাছাই করে মানবাধিকার কমিশন আইন আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছিল সরকার।
এর মধ্যে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয় ১০ আগস্ট। এই দুটি আইনের খসড়া অনুমোদন করার পর থেকে মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খসড়ার কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।