ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনা চলছে। এরই মধ্যে কিছু আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে। 


বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে ৫টি আসনে। কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক সামগ্রিক ফল প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে। 


যেসব আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো হলো-


ঝিনাইদহ-১ আসনে এগিয়ে বিএনপির আসাদুজ্জামান


ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলের হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ভোট। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মাহফুজুর রহমান বলেন, সমস্ত কেন্দ্রের ফলাফল না আসলেও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।


ভোলা-৩ আসন জয়ের পথে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ


ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে সপ্তম বারের মতো সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১১৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৯ কেন্দ্রের সবগুলো ফলাফল পাওয়া গেছে। কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টদের পাওয়া তথ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ১১৯ কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। 


লালমোহন উপজেলার মোট ৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রে হাফিজ উদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৯ ভোট।  ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন  ৪১ হাজার ৭৮ ভোট। তজুমদ্দিন উপজেলার ৩৬ কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৫ ভোট। ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৮২ ভোট।  উপজেলা সককারী রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আজীজ জানান, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে রাত ১১টা থেকে ১২টা বাজতে পারে।


হবিগঞ্জ–৪ আসনে এগিয়ে বিএনপির সৈয়দ ফয়সল


হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা সৈয়দ মো. ফয়সল। এ আসনের ১৮৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক ফলাফল অনুসারে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে সৈয়দ ফয়সল। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৫টি কেন্দ্রে সৈয়দ মো. ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ২৮৪ ভোট। সমপরিমাণ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ৯৪৮ ভোট।


ঠাকুরগাঁও -১ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল এগিয়ে


ঠাকুরগাঁও -১ (সদর) আসনের ৯৩টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ধানের শীষ)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ৬৭ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন। 


কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে


কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও আপন বড় ভাই বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানকে ২০ হাজর ৯৯৮ ভোটে পরাজিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ভোট পান ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।


সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে এগিয়ে বিএনপি


সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল বিজয়ী হয়েছেন। তারঁ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান। 


সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী এগিয়ে আছেন। বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রুদ্র মিজান জানিয়েছেন, রাত আটটা পর্যন্ত ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রের ফল পেয়েছেন তাঁরা। ৮৮টি কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৬৭ ভোট। ৮৮ কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ৩১ হাজার ৮২০ ভোটে এগিয়ে আছেন। এরই মধ্যে নাছির চৌধুরীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। 


বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’


সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন। 


সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সামছ উদ্দিন। 


সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন জামায়াতের আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। 


রাজবাড়ীর ২ আসনেই এগিয়ে বিএনপি


রাজবাড়ীর দুটি আসনেই এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থীরা। রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর-গোয়ালন্দ) আসনে ১৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪ কেন্দ্রে বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৭৮ ভোট।


রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে ১৯৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বিএনপির হারুন অর-রশিদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির জামিল হিজাযী (শাপলা কলি) পেয়েছেন ২২ হাজার ১৫১ ভোট।


পাবনার ৫টি আসনের ৩টিতে জামায়াত, ২টিতে বিএনপি 


পাবনার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত তিনটিতে এবং দুটি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড.ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮ ভোট। পাবনা ২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে জামায়াতের মাওলানা আছগার আলী, পাবনা ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা ৫ (সদর) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন।


বগুড়ায় তারেক রহমান বিজয়ী হচ্ছেন


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি ১৫০টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল জানান, ৬৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩২ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৫৬ ভোট।


চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী


১৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট।


ফরিদপুর–২ আসনে এগিয়ে বিএনপি


এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম (১,২১,০৮১) ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আকরাম আলী ৮৭ হাজার ২৫০ ভোট পেয়েছেন। 


মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি জয়ী 


মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ধানের শীষ প্রতীকে ১,৬৯,৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ১,২০,৪১৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীকে ৩৩,৯১১, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ শাপলা কলি প্রতীকে ৪,৮৭৫, বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসান মই প্রতীকে ৯৬৯ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোাহাম্মদ জরিপ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ৯১০ ভোট পেয়েছেন। কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি জয়ী 


১৭৬ কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। 


মাগুরা ২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী


মাগুরা -১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান ১৮৪১৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের অবদুল মতিন পেয়েছেন ৮৩৭৮৩। এ আসনে ৫২টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৫৫৩৬৬। না ভোট পড়েছে ৩১৬২২। মাগুরা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী ১৫০১৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের মুশতারশেদ বিল্লা পেয়েছেন ১১৭৮০৭। এ আসনে ২৭টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১১৬০৫টি। না ভোট ১০০৪২টি।


চুয়াডাঙ্গার ২ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী


চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো রুহুল আমিন ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন। ৪৬ হাজার ৮১২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। এ আসনে ভোট কেন্দ্র ১৭৪টি।


চুয়াডাঙ্গা -১ আসনে ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১১ দলীয় জোট (জামায়াত) প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জান শরীফ পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮  ভোট।  দলীয় অফিস সূত্রে মাসুদ পারভেজ রাসেল ৫৯ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী  হয়েছেন।


কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ জয়ী


এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দীন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়েছেন।


ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপি জয়ী


এ আসনে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪৭টি কেন্দ্রে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮। নিকটতম জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ (শাপলা কলি) ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আশরাফ আলী (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আহছান খান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট, এবি পার্টির কর্নেল হেলাল উদ্দিন (ঈগল) পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট ও জাসদের প্রার্থী আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট।




রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ পিএম

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনে নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেন তিনি।


ঢাকার রুশ দূতাবাস জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের মঙ্গলকামনা, সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের কল্যাণে তার ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টায় সাফল্য কামনা করেন তিনি।


রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।


গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হয়। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬১ জন মারা গেছে, আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।


এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের। একই সময়ে ৭০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনের।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে এক গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ কর্মী মারা যান।


নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।


ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো নেওয়া হচ্ছে।


আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।


এরই মধ্যে দূতাবাস একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

আগামী নভেম্বরে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন। 


গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


বৈঠকে দুদেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান।


দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয়পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। 


তবে নেপালে যে ভয়াবহ মাত্রার ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নদীপথে ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এই ঢলের সর্বোচ্চ প্রবাহ বা তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের চেয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ভারতের বিহারে গণ্ডক নদী নামে পরিচিত এই নদী হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে। 


এরপর গঙ্গার প্রবাহ পূর্বদিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে গঙ্গা বা পদ্মা নামে। তাই নেপালের এই পাহাড়ি ঢলের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় পৌঁছানোর ভৌগোলিক পথ রয়েছে। তবে এই ঢল বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।


নেপালের ত্রিশুলি নদী গণ্ডকী নদী অববাহিকার অংশ। দেবঘাটের কাছে কালী গণ্ডকীর সঙ্গে ত্রিশুলি মিলিত হয়ে নারায়ণী নদী তৈরি করেছে। নারায়ণী নদী ভারতের বিহারের বাল্মীকিনগরের কাছে গণ্ডক নামে প্রবেশ করেছে। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর গণ্ডক অববাহিকায় পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। 


ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন বিহার ও উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গণ্ডক নদীর পানিপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল এবং পরে প্রবাহ কমতে শুরু করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


পাহাড়ি ঢলের পানি গণ্ডক নদী দিয়ে ভাটিতে নেমে হাজিপুর-সোনপুর এলাকায় গঙ্গায় মিশবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্ব দিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা এলাকায় পৌঁছাবে। ফারাক্কার পর গঙ্গার প্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নামে।


অর্থাৎ সম্ভাব্য গতিপথটি হলো নেপাল-ত্রিশুলি-নারায়ণী-গণ্ডক-হাজিপুর-সোনপুর-গঙ্গা-ফারাক্কা-বাংলাদেশ-গঙ্গা পদ্মা। কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশও এই নদীপথের কথা উল্লেখ করেছেন। 


তিনি বলেছেন, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গায় প্রবেশ করতে পারে এবং পরে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মার প্রবাহে যুক্ত হবে। তবে ঠিক কখন এই পানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যাচ্ছে না।


তিনি বলেন, নেপালের পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে কয়েকশ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করবে। এই দীর্ঘপথে নদীর প্রশস্ততা, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া, নদীর ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে ঢলের তীব্রতা কমে যেতে পারে।


ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণেও ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং নেপালের দিকের পানির স্তর কমছে।


ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও নেপালের ঢলের পুরো শক্তি বাংলাদেশে পৌঁছাবে– এমন পূর্বাভাস এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেপালের ঢল গঙ্গায় পৌঁছানোর সময় নদীটির বর্তমান পানিপ্রবাহ কেমন থাকবে।


বিহারের গঙ্গা অববাহিকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানির উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হলে তার প্রভাব ভাটিতে কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফারাক্কার পর বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা বাড়ে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে শুধু নেপালের এই পাহাড়ি ঢলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বড় বন্যা হবে– এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনও আসেনি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয় হবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, দেশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নির্ধারণে শুধু নেপালের ঢল নয়, ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় থাকা পানির পরিমাণ, একই সময়ে বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টি এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, তার কারণে বাংলাদেশে একই ধরনের পরিস্থিতি হবে এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। আবার নদীগুলোর আন্তঃসীমান্ত সংযোগের কারণে বিষয়টি একেবারে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।


বেড়েছে লোডশেডিং

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

চলমান গ্যাস-সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে হঠাৎ করে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আর সব সময়ই কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, এখনো আছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। 


এ সময় গরমে চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি। দেশে এখন মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। ফলে গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।


এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলছে লোডশেডিং। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে এটি বেড়ে যায়। শুরুতে লোডশেডিংয়ের পুরোটাই ঢাকার বাইরে চাপানো হয়েছে। 


তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকার কোনো একটি এলাকায় একবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।


বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জালোওয়াশান আখতার খান বলেন, প্রতিদিন একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটে আটকে পড়ার ভীতি কাজ করে। বাসায় গ্যাসও থাকে না। তাই বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।


ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডিপিডিসি ও ডেসকো। দুই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 


আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সরবরাহ বুঝে এর ব্যত্যয় করতে হচ্ছে।


পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র বলছে, এর আগে এ মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১০ আগস্ট। ওই দিন ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল। ৯ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহ টানা সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এরপর এটি কমে এলেও দুই দিন ধরে আবার বাড়ছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। আবার চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সব সময় উৎপাদন করা যায় না, মাঝেমধ্যে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। এতে করে বিদ্যুৎ ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে।


বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি ও জ্বালানিসংকট


বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। তার মানে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বসে ছিল। 


গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসের সংকটে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।


জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে। তবু সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি হারে চালাতে বলা হয়েছে। রাতে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে এটি দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে। 


জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পিজিসিবি সূত্র বলছে, গতকাল ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহস্বল্পতা ছিল।


পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি আছে। এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে তারা।


ঢাকার বাইরে সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি। আরইবির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। 


আরইবি সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তাদের একই এলাকায় একাধিকবার করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত বুধবার রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট।


বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এরপর বকেয়া বাড়তে থাকলে উৎপাদন কমানো হয়। লোডশেডিং বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বকেয়াসহ পিডিবির যেসব বিরোধ আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হলে এখনো তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।


বাড়েনি গ্যাসের সরবরাহ


যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচার বাসিন্দা শর্মিলা শর্মি বলেন, বুধবার ছুটির দিনে বিকেলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এরপর রাত ১০টার সময় গিয়ে সাড়ে ১১টায় আসছে বিদ্যুৎ। গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে গিয়ে এক ঘণ্টা পর আসছে। বেশির ভাগ সময় গ্যাসও থাকে না। তাই বিদ্যুৎ-চালিত চুলা ব্যবহার করেন। খরচ বেড়েছে কিন্তু ভোগান্তি কমেনি।


বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে নিয়মিত। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৭৪ কোটি ঘনফুটের কম। এতে করে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল গতকাল ২৩৫ কোটি ঘনফুট। গ্যাস-সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে, শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়েছে।


আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। 


এরপর ১৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ উপযোগী হয় এক্সিলারেটের টার্মিনাল। কিন্তু নির্ধারিত সময় এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।


ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি, চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ-এসবের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কাঠামোগত সংস্কার দরকার। না হলে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।