অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৩ মে, ২০২৬, সময় : ৫:১৯ এএম

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। 


প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 


জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। 


এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।


একনেক সভায় উপস্থিত থাকা একজন কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, কমবে লবণাক্ততা, প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদীগুলো-একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।


শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার জন্য এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কলকাতা বন্দরের নাব্য উন্নত করার জন্য ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে ভারত। 


ফারাক্কা ব্যারাজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে গেছে।


ফারাক্কা ব্যারাজের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পটি সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। 


পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা। তবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সত্তরের দশকে ভারত পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করার ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন, বনায়ন, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ সামগ্রিক ইকোসিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্দেশ্য


বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বরিশাল জেলার বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য পদ্মা নদী ভূ-উপরিস্থ সুপেয় পানির একমাত্র উৎস হওয়ায় এ অঞ্চলের উন্নয়ন পদ্মার পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। পদ্মা নদীতে প্রবাহিত পানি বর্ষা পরবর্তীসময়ে সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত প্রবাহই এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়। 


এ প্রেক্ষাপটে পদ্মা নদীতে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থানে আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলোচ্য প্রকল্পের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি মোট ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল। 


তবে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি এক ধাপে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সংস্থান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি/সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাছাড়া, প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ পরবর্তী সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেম জলাধার থেকে প্রাপ্ত প্রবাহের সঙ্গে হাইড্রোলোজিক্যাল ও মরফোলজিক্যালভাবে ধীরে ধীরে অভিযোজিত হবে। ফলে খননসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সুযোগ রয়েছে বিধায় প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত হবে।


এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে সুপারিশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এজন্য প্রথম ধাপে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।


পাউবো জানায়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যারাজের মূল অবকাঠামো নির্মাণসহ হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী সিস্টেম ও গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম পুনর্খনন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়নযোগ্য অতিরিক্ত/সহায়ক অবকাঠামো এবং অবশিষ্ট নদী সিস্টেমগুলোর (চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম) পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 


এছাড়া, প্রথম পর্যায়ে মূল ব্যারাজ ও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচারে দুটি হাইড্রো-পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সংস্থান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।


প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের ফলে সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেম খনন এবং প্রবাহ বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রকল্প এলাকার লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাসসহ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং নদী ফলস্বরূপ, এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, নৌচলাচল, গার্হস্থ্য পানির প্রাপ্যতা এবং ইকো-সিস্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 


তাছাড়া স্বাদু পানির প্রবাহ হ্রাসের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর নদী এবং খালগুলোতে লবণাক্ততার উচ্চ ঘনত্বের কারণে এলাকার জনসাধারণের জীবন ও জীবিকা প্রতিনিয়ত গুরুতর হমকির সম্মুখীন হচ্ছে।


নদীর সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা


নদীর সিস্টেম বলতে বোঝায় একটি প্রধান নদীর সঙ্গে যুক্ত তার শাখা নদী, উপনদী, খাল, বিল, জলাধার ও পানিপ্রবাহের পুরো নেটওয়ার্ক। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি পাঁচটি নদীর সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা হবে। 


বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা) লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস; স্বাদু পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ সংরক্ষণ করা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পলি অপসারণ করে যশোরের ভবদহসহ অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতা হ্রাস ও পদ্মানির্ভর এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।


পদ্মানির্ভর এলাকার প্রধান পাঁচ নদী-সিস্টেম পুনরুজ্জীবিতকরণের পাশাপাশি নদী পুনর্খনন ড্রেজিং ও রেগুলেটর দেওয়া হবে।


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মৃতপ্রায় হিসনা নদী পুনরুদ্ধার করে ‘হিসনা অফটেক’ নির্মাণ করা হবে। এটা ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে। রাজবাড়ীর পাংশায় চন্দনা অফটেক হবে। এটা ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দূরে। কুষ্টিয়ায় গড়াই অফটেক নির্মাণ হবে, ভারত সীমান্ত থেকে যেটি প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দূরে।


প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া এবং জি-কে সেচ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পদ্মার মতো বড় নদীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থার পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয় বিধায় প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে।


এ প্রেক্ষাপটে নদীগুলোর হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমীক্ষা হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে কারণে ডিপিপিতে কিছু পরামর্শক সেবার সংস্থান রাখা হয়েছে।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম


রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিস পাস এবং ব্যারাজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


গড়াই অফটেক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ১৫টি স্পিলওয়ে, ফিস পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ, অ্যাপ্রোচ এমব্যাঙ্কমেন্ট ইত্যাদি করা হবে। চন্দনা অফটেক অবকাঠামোতে চারটি স্পিলওয়ে নির্মাণ হবে। হিসনা অফটেক অবকাঠামোতে পাঁচটি স্পিলওয়ে হবে।


পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের ফলে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে। গড়াই অফটেক সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে ৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে। 


গড়াই-মধুমতি নদী ড্রেজিং হবে, ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার খনন হবে। হিসনা নদী সিস্টেমে নিষ্কাশন পুনর্খনন হবে ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার। এফ্ল্যাক্স বাঁধ নির্মাণ হবে ১৮০ কিলোমিটার।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের এলাকা


পদ্মা ব্যারাজের মোট প্রকল্প এলাকা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলায় বিস্তৃত। তবে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দেশের চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে।


খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। চারটি বিভাগের ১৯টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা


প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে এবং প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি-মে) হিসনা-মাথাভাঙ্গায় ২৩৯, গড়াই-মধুমতিতে ২৩০, চন্দনা-বারাশিয়ায় ৮০, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেমে ২২ এবং গোদাগাড়ি পাম্প হাউজে ২৫, জি-কে প্রকল্পে ৬৪ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩ কিউসেক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। 


বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের নিট চাষযোগ্য এলাকা প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংস্থান নিশ্চিত করা। এছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে আনুমানিক ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।


বাঁধের ডেক/করিডোরকে বহুমুখী অবকাঠামোগত সংযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সড়ক সংযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপন ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রকল্প এলাকায় ধান প্রায় ২৩ দশমিক ৯০ লাখ টন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক আনুমানিক প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন অর্জন হবে।


বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বিগত সরকারগুলোর সময় বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা তৈরি হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাড়লে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ও কিছু ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার সম্ভব।


তিনি আরও বলেন, তবে ব্যারাজের উজানে ক্ষয় এবং ভাটিতে পলি জমার মতো মরফোলজিক্যাল ও পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে, যা উন্নত নকশা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।




রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ পিএম

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনে নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেন তিনি।


ঢাকার রুশ দূতাবাস জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের মঙ্গলকামনা, সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের কল্যাণে তার ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টায় সাফল্য কামনা করেন তিনি।


রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।


গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হয়। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬১ জন মারা গেছে, আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।


এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের। একই সময়ে ৭০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনের।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে এক গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ কর্মী মারা যান।


নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।


ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো নেওয়া হচ্ছে।


আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।


এরই মধ্যে দূতাবাস একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

আগামী নভেম্বরে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন। 


গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


বৈঠকে দুদেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান।


দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয়পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। 


তবে নেপালে যে ভয়াবহ মাত্রার ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নদীপথে ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এই ঢলের সর্বোচ্চ প্রবাহ বা তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের চেয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ভারতের বিহারে গণ্ডক নদী নামে পরিচিত এই নদী হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে। 


এরপর গঙ্গার প্রবাহ পূর্বদিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে গঙ্গা বা পদ্মা নামে। তাই নেপালের এই পাহাড়ি ঢলের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় পৌঁছানোর ভৌগোলিক পথ রয়েছে। তবে এই ঢল বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।


নেপালের ত্রিশুলি নদী গণ্ডকী নদী অববাহিকার অংশ। দেবঘাটের কাছে কালী গণ্ডকীর সঙ্গে ত্রিশুলি মিলিত হয়ে নারায়ণী নদী তৈরি করেছে। নারায়ণী নদী ভারতের বিহারের বাল্মীকিনগরের কাছে গণ্ডক নামে প্রবেশ করেছে। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর গণ্ডক অববাহিকায় পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। 


ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন বিহার ও উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গণ্ডক নদীর পানিপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল এবং পরে প্রবাহ কমতে শুরু করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


পাহাড়ি ঢলের পানি গণ্ডক নদী দিয়ে ভাটিতে নেমে হাজিপুর-সোনপুর এলাকায় গঙ্গায় মিশবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্ব দিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা এলাকায় পৌঁছাবে। ফারাক্কার পর গঙ্গার প্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নামে।


অর্থাৎ সম্ভাব্য গতিপথটি হলো নেপাল-ত্রিশুলি-নারায়ণী-গণ্ডক-হাজিপুর-সোনপুর-গঙ্গা-ফারাক্কা-বাংলাদেশ-গঙ্গা পদ্মা। কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশও এই নদীপথের কথা উল্লেখ করেছেন। 


তিনি বলেছেন, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গায় প্রবেশ করতে পারে এবং পরে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মার প্রবাহে যুক্ত হবে। তবে ঠিক কখন এই পানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যাচ্ছে না।


তিনি বলেন, নেপালের পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে কয়েকশ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করবে। এই দীর্ঘপথে নদীর প্রশস্ততা, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া, নদীর ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে ঢলের তীব্রতা কমে যেতে পারে।


ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণেও ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং নেপালের দিকের পানির স্তর কমছে।


ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও নেপালের ঢলের পুরো শক্তি বাংলাদেশে পৌঁছাবে– এমন পূর্বাভাস এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেপালের ঢল গঙ্গায় পৌঁছানোর সময় নদীটির বর্তমান পানিপ্রবাহ কেমন থাকবে।


বিহারের গঙ্গা অববাহিকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানির উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হলে তার প্রভাব ভাটিতে কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফারাক্কার পর বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা বাড়ে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে শুধু নেপালের এই পাহাড়ি ঢলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বড় বন্যা হবে– এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনও আসেনি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয় হবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, দেশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নির্ধারণে শুধু নেপালের ঢল নয়, ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় থাকা পানির পরিমাণ, একই সময়ে বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টি এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, তার কারণে বাংলাদেশে একই ধরনের পরিস্থিতি হবে এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। আবার নদীগুলোর আন্তঃসীমান্ত সংযোগের কারণে বিষয়টি একেবারে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।


বেড়েছে লোডশেডিং

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

চলমান গ্যাস-সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে হঠাৎ করে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আর সব সময়ই কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, এখনো আছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। 


এ সময় গরমে চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি। দেশে এখন মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। ফলে গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।


এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলছে লোডশেডিং। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে এটি বেড়ে যায়। শুরুতে লোডশেডিংয়ের পুরোটাই ঢাকার বাইরে চাপানো হয়েছে। 


তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকার কোনো একটি এলাকায় একবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।


বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জালোওয়াশান আখতার খান বলেন, প্রতিদিন একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটে আটকে পড়ার ভীতি কাজ করে। বাসায় গ্যাসও থাকে না। তাই বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।


ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডিপিডিসি ও ডেসকো। দুই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 


আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সরবরাহ বুঝে এর ব্যত্যয় করতে হচ্ছে।


পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র বলছে, এর আগে এ মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১০ আগস্ট। ওই দিন ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল। ৯ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহ টানা সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এরপর এটি কমে এলেও দুই দিন ধরে আবার বাড়ছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। আবার চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সব সময় উৎপাদন করা যায় না, মাঝেমধ্যে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। এতে করে বিদ্যুৎ ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে।


বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি ও জ্বালানিসংকট


বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। তার মানে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বসে ছিল। 


গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসের সংকটে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।


জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে। তবু সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি হারে চালাতে বলা হয়েছে। রাতে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে এটি দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে। 


জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পিজিসিবি সূত্র বলছে, গতকাল ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহস্বল্পতা ছিল।


পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি আছে। এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে তারা।


ঢাকার বাইরে সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি। আরইবির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। 


আরইবি সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তাদের একই এলাকায় একাধিকবার করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত বুধবার রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট।


বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এরপর বকেয়া বাড়তে থাকলে উৎপাদন কমানো হয়। লোডশেডিং বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বকেয়াসহ পিডিবির যেসব বিরোধ আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হলে এখনো তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।


বাড়েনি গ্যাসের সরবরাহ


যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচার বাসিন্দা শর্মিলা শর্মি বলেন, বুধবার ছুটির দিনে বিকেলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এরপর রাত ১০টার সময় গিয়ে সাড়ে ১১টায় আসছে বিদ্যুৎ। গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে গিয়ে এক ঘণ্টা পর আসছে। বেশির ভাগ সময় গ্যাসও থাকে না। তাই বিদ্যুৎ-চালিত চুলা ব্যবহার করেন। খরচ বেড়েছে কিন্তু ভোগান্তি কমেনি।


বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে নিয়মিত। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৭৪ কোটি ঘনফুটের কম। এতে করে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল গতকাল ২৩৫ কোটি ঘনফুট। গ্যাস-সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে, শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়েছে।


আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। 


এরপর ১৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ উপযোগী হয় এক্সিলারেটের টার্মিনাল। কিন্তু নির্ধারিত সময় এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।


ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি, চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ-এসবের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কাঠামোগত সংস্কার দরকার। না হলে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।