পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি,

  • প্রকাশ : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬, সময় : ১:১৬ পিএম

এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির জয়ের ফলাফলে, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইস্যুটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়লাভের পর বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে।


প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ক্ষমতায় যখন বিজেপি এসেছে, তখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা? বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। নির্বাচনের সময়ের ভোটের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিকে পরিবর্তন করে না বা প্রভাব ফেলে না বলে তারা মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা হলেও সেটি পার্শ্ববর্তী দেশকে প্রভাবিত করে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারকে সচেতন থাকতে হবে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, এটা ঠিক, যারা রাষ্ট্র গঠন করে সাম্প্রদায়িক ইনসিডেন্টের ক্ষেত্রে তাদের একটা প্রচ্ছন্ন সাপোর্ট বা ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, পররাষ্ট্র নীতি অনেকটাই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হয়। আমার মনে হয় না, কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন আসবে।


‌‌কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন না আসার কারণ হিসেবে লাইলুফার ইয়াসমিন জানান, শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে যদি আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকে, তাহলে ফরেন পলিসির ক্ষেত্রে আমূল কোনো পরিবর্তন আসবে না।


সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমদ অবশ্য মনে করছেন, দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে ভারতের সরকারের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দুইপক্ষ থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে সুসম্পর্কের। কিন্তু এটার জন্য দুই দেশের মাঝে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হলে বুঝতে পারবো সেই অঙ্গীকারটা আছে এবং তারপরে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতির চিন্তা তখন করা যাবে।


তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি, যেটি অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে৷ভারতের নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার এই চুক্তিতে রাজী হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর রাজ্য সরকার রাজী ছিল না বলে বরাবরই সেই রাজ্য সরকারের দোহাই দিয়ে আসছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে এখন রাজ্যেও ক্ষমতায় এসেছে দলটি। কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার দুই ক্ষেত্রেই ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসছে৷


ফলে এই ক্ষেত্রে দুই দেশের রাজনীতির একটি ইস্যু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন দুই বিশ্লেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মিজ ইয়াসমিন মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ছাড়া কোনো চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়।


অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, মমতা ব্যানার্জীর ওপর তখন সুযোগ বুঝে দোষা চাপানো হয়। কারণ তিস্তার সাথে শুধু রাজ্য সরকার নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বার্থও কিন্তু এটার সাথে জড়িত। কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কোন চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু এটা বিজেপি নিয়ন্ত্রিত সরকার ছিল না, তাই মমতাকে এটার জন্য দায়ী করা বিজেপির পক্ষে সহজ ছিল। কিন্তু "মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তির ব্যর্থতার জন্য এককভাবে দায়ী নন বরং পুরো স্ট্রাকচার দায়ী" বলে মনে করেন মিজ ইয়াসমিন।


সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ অবশ্য মনে করেন, এখন তিস্তা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখতে পাওয়া যাবে। আগে বিজেপির সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীর ঘাড়ে দোষারোপ চাপিয়েছিল। "এখনতো কেন্দ্র এবং প্রদেশে একই রকমের সরকার। সুতরাং সমস্যাটা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরং আমি মনে করি, ইতিবাচক অগ্রগতি আমরা দেখতেও পারি" বলেন তিনি। তবে এই অগ্রগতি মূলত দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে বলেও মনে করেন তিনি।


সীমান্ত নিরাপত্তা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরে ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।এর প্রভাব পড়েছিল সীমান্তে নিরাপত্তসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে নতুন নির্বাচিত বিএনপি সরকার সীমান্ত নিরাপত্তাসহ সকল ক্ষেত্রেই ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে ইতিবাচক বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।


বিশ্লেষকেরা বলেন, একটি রাজ্যসভার নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ওই রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি নির্ভর করে না। "একটা রাষ্ট্রের ফরেন পলিসি একটা গ্র্যান্ড ডিজাইন। সেই কারনে আমরা দেখি যে, তার ফরেন পলিসির জন্য যদি মনে হয় যে, সীমান্ত সেনসেটাইজ করলে তার সুবিধা হয় তাহলে করবে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার তার পক্ষে হলে সেটা সহজ হয়" বলেন অধ্যাপক মিজ ইয়াসমিন।


তবে, ফয়েজ আহমদ মনে করেন, সাময়িকভাবে উত্তেজনা এখন হলেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরে পরবর্তীতে সীমান্তের এপাশে-ওপাশে বড় রকমের আর কোনো ঝামেলা বা উত্তেজনা হবে না।


বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম বর্ডার বা সীমানা ভোগকারী দেশ। অর্থাৎ, একইসাথে সীমানা রয়েছে সবচেয়ে বড় এমন দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম ই দেশ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত একাধিক রাজ্যেই মুসলিমদের ওপর নিপীড়ণ হতে দেখা গেছে। এমনকি বাংলাদেশও বিভিন্ন সময়ে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, "এটার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, দুটি দেশ যেহেতু ওয়ার্ল্ডের ফিফথ লার্জেস্ট বর্ডার শেয়ার করে সেহেতু তাদের ভিতরে ডোমেস্টিক অ্যাফেয়ার্স কী হচ্ছে সেটার প্রভাব আরেকটি দেশে পড়ে।" সম্প্রতি জয়লাভের পর একটি মাংসের দোকান বিজেপির সমর্থকরা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই কারণে মিজ ইয়াসমিন ইতিবাচকভাবে দেখতে চান উল্লেখ করে বলেন, "দ্রুত পদক্ষেপগুলো একটা আশ্বাস দিতে পারে।"


আলোচনায় পুশ-ইন

নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। আর এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে। এরইমধ্যে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুশ-ইন ইস্যুতে সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।


বুধবার ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওই কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজেপির জয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বাড়তে পারে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মি. আহমদ বলেন, "আমরা (সোমবার) গতকালকেই বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে সীমান্তে তারা একটু সতর্ক থাকে। কারণ সেরকম কোনো সম্ভাবনা দেখি না, যদি হয় যাতে তারা এড্রেস করতে পারে। আমার ধারণা সে রকম কিছু ঘটবে না।"


সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে করা কোন মন্তব্য পরবর্তীতে সে দেশের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধীতা করবে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার।


বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। ওই সময়ে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলা ও পতাকা পোড়ানো, ভারতের ভিসা বন্ধ হওয়াসহ নানা ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করে। কিন্তু গত ১২ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার ভারত সরকার. দুপক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের করা বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা ধরনের মন্তব্য এই সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি করে।


পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় নিশ্চিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়টি বাংলাদেশের সরকার কীভাবে দেখছে, সেটি নিয়েও আলোচনা ওঠে। এরই মধ্যে, সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের সম্পর্ক সংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি ওই কথা বলেন বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।


"বিজেপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হোক, আমাদের দিক থেকে আমাদের ওদের সাথে পানির ইস্যু আছে, পুশব্যাকের যে ইস্যুটা বললেন, ওটা আছে। আরও অনেক ইস্যু আছে। সেই ইস্যুগুলোতো আমাদের রয়ে যাচ্ছে। সেগুলো যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে" বলেন শামা ওবায়েদ।


পরদিন মঙ্গলবার ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আরেকটি অনুষ্ঠানের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' এই ফরেন পলিসি অনুযায়ী বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেবে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রথম বা ফার্স্ট নীতিতে আমাদের ফরেন পলিসি, যেই সরকারই আসুক না কেন সেই ইস্যুতে আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আগাবো। 




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে এক গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ কর্মী মারা যান।


নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।


ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো নেওয়া হচ্ছে।


আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।


এরই মধ্যে দূতাবাস একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

আগামী নভেম্বরে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন। 


গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


বৈঠকে দুদেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান।


দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয়পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। 


তবে নেপালে যে ভয়াবহ মাত্রার ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নদীপথে ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এই ঢলের সর্বোচ্চ প্রবাহ বা তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের চেয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ভারতের বিহারে গণ্ডক নদী নামে পরিচিত এই নদী হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে। 


এরপর গঙ্গার প্রবাহ পূর্বদিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে গঙ্গা বা পদ্মা নামে। তাই নেপালের এই পাহাড়ি ঢলের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় পৌঁছানোর ভৌগোলিক পথ রয়েছে। তবে এই ঢল বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।


নেপালের ত্রিশুলি নদী গণ্ডকী নদী অববাহিকার অংশ। দেবঘাটের কাছে কালী গণ্ডকীর সঙ্গে ত্রিশুলি মিলিত হয়ে নারায়ণী নদী তৈরি করেছে। নারায়ণী নদী ভারতের বিহারের বাল্মীকিনগরের কাছে গণ্ডক নামে প্রবেশ করেছে। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর গণ্ডক অববাহিকায় পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। 


ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন বিহার ও উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গণ্ডক নদীর পানিপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল এবং পরে প্রবাহ কমতে শুরু করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


পাহাড়ি ঢলের পানি গণ্ডক নদী দিয়ে ভাটিতে নেমে হাজিপুর-সোনপুর এলাকায় গঙ্গায় মিশবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্ব দিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা এলাকায় পৌঁছাবে। ফারাক্কার পর গঙ্গার প্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নামে।


অর্থাৎ সম্ভাব্য গতিপথটি হলো নেপাল-ত্রিশুলি-নারায়ণী-গণ্ডক-হাজিপুর-সোনপুর-গঙ্গা-ফারাক্কা-বাংলাদেশ-গঙ্গা পদ্মা। কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশও এই নদীপথের কথা উল্লেখ করেছেন। 


তিনি বলেছেন, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গায় প্রবেশ করতে পারে এবং পরে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মার প্রবাহে যুক্ত হবে। তবে ঠিক কখন এই পানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যাচ্ছে না।


তিনি বলেন, নেপালের পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে কয়েকশ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করবে। এই দীর্ঘপথে নদীর প্রশস্ততা, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া, নদীর ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে ঢলের তীব্রতা কমে যেতে পারে।


ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণেও ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং নেপালের দিকের পানির স্তর কমছে।


ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও নেপালের ঢলের পুরো শক্তি বাংলাদেশে পৌঁছাবে– এমন পূর্বাভাস এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেপালের ঢল গঙ্গায় পৌঁছানোর সময় নদীটির বর্তমান পানিপ্রবাহ কেমন থাকবে।


বিহারের গঙ্গা অববাহিকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানির উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হলে তার প্রভাব ভাটিতে কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফারাক্কার পর বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা বাড়ে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে শুধু নেপালের এই পাহাড়ি ঢলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বড় বন্যা হবে– এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনও আসেনি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয় হবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, দেশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নির্ধারণে শুধু নেপালের ঢল নয়, ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় থাকা পানির পরিমাণ, একই সময়ে বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টি এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, তার কারণে বাংলাদেশে একই ধরনের পরিস্থিতি হবে এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। আবার নদীগুলোর আন্তঃসীমান্ত সংযোগের কারণে বিষয়টি একেবারে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।


বেড়েছে লোডশেডিং

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

চলমান গ্যাস-সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে হঠাৎ করে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আর সব সময়ই কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, এখনো আছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। 


এ সময় গরমে চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি। দেশে এখন মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। ফলে গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।


এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলছে লোডশেডিং। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে এটি বেড়ে যায়। শুরুতে লোডশেডিংয়ের পুরোটাই ঢাকার বাইরে চাপানো হয়েছে। 


তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকার কোনো একটি এলাকায় একবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।


বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জালোওয়াশান আখতার খান বলেন, প্রতিদিন একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটে আটকে পড়ার ভীতি কাজ করে। বাসায় গ্যাসও থাকে না। তাই বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।


ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডিপিডিসি ও ডেসকো। দুই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 


আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সরবরাহ বুঝে এর ব্যত্যয় করতে হচ্ছে।


পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র বলছে, এর আগে এ মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১০ আগস্ট। ওই দিন ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল। ৯ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহ টানা সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এরপর এটি কমে এলেও দুই দিন ধরে আবার বাড়ছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। আবার চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সব সময় উৎপাদন করা যায় না, মাঝেমধ্যে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। এতে করে বিদ্যুৎ ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে।


বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি ও জ্বালানিসংকট


বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। তার মানে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বসে ছিল। 


গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসের সংকটে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।


জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে। তবু সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি হারে চালাতে বলা হয়েছে। রাতে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে এটি দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে। 


জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পিজিসিবি সূত্র বলছে, গতকাল ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহস্বল্পতা ছিল।


পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি আছে। এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে তারা।


ঢাকার বাইরে সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি। আরইবির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। 


আরইবি সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তাদের একই এলাকায় একাধিকবার করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত বুধবার রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট।


বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এরপর বকেয়া বাড়তে থাকলে উৎপাদন কমানো হয়। লোডশেডিং বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বকেয়াসহ পিডিবির যেসব বিরোধ আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হলে এখনো তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।


বাড়েনি গ্যাসের সরবরাহ


যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচার বাসিন্দা শর্মিলা শর্মি বলেন, বুধবার ছুটির দিনে বিকেলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এরপর রাত ১০টার সময় গিয়ে সাড়ে ১১টায় আসছে বিদ্যুৎ। গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে গিয়ে এক ঘণ্টা পর আসছে। বেশির ভাগ সময় গ্যাসও থাকে না। তাই বিদ্যুৎ-চালিত চুলা ব্যবহার করেন। খরচ বেড়েছে কিন্তু ভোগান্তি কমেনি।


বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে নিয়মিত। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৭৪ কোটি ঘনফুটের কম। এতে করে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল গতকাল ২৩৫ কোটি ঘনফুট। গ্যাস-সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে, শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়েছে।


আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। 


এরপর ১৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ উপযোগী হয় এক্সিলারেটের টার্মিনাল। কিন্তু নির্ধারিত সময় এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।


ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি, চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ-এসবের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কাঠামোগত সংস্কার দরকার। না হলে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।

দেশে এলো সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ

রিয়াদে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয়েছে ৯ প্রবাসীর


মরদেহের কফিন ছুঁয়ে আর্তনাদ করেন স্বজনেরা।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ পিএম

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। 


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। 



এর আগে, গত ৯ অগাস্ট রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে। 


৯ জনের মধ্যে- নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন। 



বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।


মরদেহ গ্রহণের পর কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাকি ৭ জন নিহত কর্মীর ফিংগার প্রিন্ট পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় সিআইডির তত্ত্বাবধানে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” 



তিনি আরও বলেন, ‘‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত নয় কর্মীর প্রতি পরিবারের জন্য লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান বাবদ ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’ 


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা বিদেশ যান, অনেক কষ্টের কাজ করে পরিবারের জন্য টাকা পাঠান। যারা মারা গেছেন, মৃতদেহ এখনো আনতে পারিনি দেশে, তাদের মৃতদেহ দেশে আনতে সৌদি দূতাবাসের সবাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু আগুন লেগেছে, তাদের ডিএনএ টেস্ট হবে, পরিবারের সাথে কথা হয়েছে, দ্রুত দেশে ফেরত আনা হবে।” 


সচিবালয়ে কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।


একইসঙ্গে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


রবিবার (২৩ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।


তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, “সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”


জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আন্দোলনে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং আমরা কী কাজ করছি তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব “


কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারো প্রতি অন্যায় ও অবিচার না হয়।”


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্য রাখেন।


পরিচিতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।


পরিচিত সভা শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।