ট্রেনের অনলাইন টিকেট তিন মাসে ৭ হাজার ৮১০টি ‘সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট’ আটকে দেওয়ার কথা বলেছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অনলাইনে টিকেট বিক্রির ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত সংখ্যক ‘পাসওয়ার্ড রিসেটের’ অনুরোধ বা বারবার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে সেগুলোকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। “গত তিন মাসে এ ধরনের ৭ হাজার ৮১০টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ৪ হাজার ৩৩৪টি, এপ্রিলে ৪১৩টি এবং মে মাসে ৩ হাজার ৬৩টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়।”
রেলমন্ত্রী বলেন, অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে থাকা ‘সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন’ এর সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের ২৪ মার্চ শেষ হবে।
“গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়ানো সাপেক্ষে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শতভাগ সার্ভার পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো যানবাহন চলছে বলেও সংসদে তুলে ধরেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রংপুর-৩ আসনের সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।
‘দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল প্রায় ৫০ লাখ’
টাঙ্গাইল-৭ আসনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, বিআরটিএ ইনফরমেশন সিস্টেম অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি।
যেসব মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নেই, সেগুলোর মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেবে বলে জানান তিনি।
এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এমআরটি লাইন-২ এর রুট অ্যালাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই রুটের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার।
একই প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম জানান, কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।
তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) কাছে পাঠানোর পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
অর্থায়ন সাপেক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে
মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তোলা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্য সামনে রেখে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রণয়নের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈদেশিক অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
৫ আগস্টের পর বন্ধ হওয়া ৯ সেতুর মধ্যে ২টিতে ফিরেছে টোল আদায়
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে দেশে ৬৭টি সেতুতে টোল আদায় করা হয়।
তিনি বলেন, টোল আদায় সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি উৎস এবং সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সেতুতে টোল আদায় চালু বা বন্ধ করতে পারে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ৯টি সেতুতে টোল আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি সেতুতে টোল আদায় পুনরায় চালু করা হয়েছে। বাকি সাতটি সেতুতে এখনও টোল আদায় বন্ধ রয়েছে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সমীক্ষায় পরামর্শক নিয়োগ শেষ পর্যায়ে
জামালপুর-৩ আসনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
সেতু কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনায় ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তাদের সঙ্গে দর কষাকষির কাজ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি সই হবে।
সমীক্ষার ভিত্তিতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ অথবা গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট-এই দুই সম্ভাব্য অবস্থানের মধ্যে উপযুক্ত স্থানে সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।
রেলওয়ের জমি ও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ এর ওপেক্স মডেল অনুসরণ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য আহ্বান করা হবে বেসরকারি বিনিয়োগ।
প্রথম ধাপে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট রেলস্টেশনের খালি ছাদ এবং ঢাকায় রেলওয়ের অফিস ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্টেশন ও স্থাপনাকেও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
সব রেললাইন একসঙ্গে ডাবল করা বাস্তবসম্মত নয়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যান (২০১৬-২০৪৫) অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রেলপথগুলো পর্যায়ক্রমে ডাবল লাইনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।তবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের সব রেললাইন একযোগে ডাবল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিকের ঘনত্ব এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ধাপে ধাপে ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কুমারখালী স্টেশনে দুই ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে
কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ওই দুটি আন্তঃনগর ট্রেন সেখানে থামে না।
তিনি বলেন, কোনো স্টেশনে নতুন যাত্রাবিরতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী স্টেশনের দূরত্ব, বাণিজ্যিক গুরুত্ব, ট্রেনের বিদ্যমান স্টপেজ সংখ্যা, পরিচালনাগত প্রভাব এবং সময়সূচির পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সস্তা কৃত্রিম তন্তুর চাপে বিশ্ববাজারে ‘হুমকিতে পাটপণ্য’
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী স্বল্পমূল্যের কৃত্রিম তন্তুর সহজলভ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে হুমকির মধ্যে পড়েছে।”
মন্ত্রী জানান, অধিকাংশ পাটকলে পুরোনো প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হচ্ছে। দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব টেস্টের সুবিধা না থাকায় পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে রপ্তানিকারকরা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।
বিজেএমসির ২৫ মিলের মধ্যে চালু ৯টি
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে পাটমন্ত্রী জানান, পাটের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হবে।
তিনি জানান, ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে এর মধ্যে ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারাভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে; এর মধ্যে ৯টি মিল চালু হয়েছে।
বাকি ছয়টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের আগ্রহপত্র মূল্যায়ন চলছে, একটি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং একটি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নতুন সরকারি পাটকলের পরিকল্পনা নেই
পাটমন্ত্রী জানান, বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
ইজারার বাইরে থাকা পাঁচটি মিলের মধ্যে তিনটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং দুটি মামলাজনিত কারণে লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।”
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে এক গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ কর্মী মারা যান।
নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো নেওয়া হচ্ছে।
আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।
এরই মধ্যে দূতাবাস একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী নভেম্বরে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে দুদেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয়পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
ছবি : সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন।
তবে নেপালে যে ভয়াবহ মাত্রার ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নদীপথে ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এই ঢলের সর্বোচ্চ প্রবাহ বা তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের চেয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ভারতের বিহারে গণ্ডক নদী নামে পরিচিত এই নদী হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে।
এরপর গঙ্গার প্রবাহ পূর্বদিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে গঙ্গা বা পদ্মা নামে। তাই নেপালের এই পাহাড়ি ঢলের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় পৌঁছানোর ভৌগোলিক পথ রয়েছে। তবে এই ঢল বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।
নেপালের ত্রিশুলি নদী গণ্ডকী নদী অববাহিকার অংশ। দেবঘাটের কাছে কালী গণ্ডকীর সঙ্গে ত্রিশুলি মিলিত হয়ে নারায়ণী নদী তৈরি করেছে। নারায়ণী নদী ভারতের বিহারের বাল্মীকিনগরের কাছে গণ্ডক নামে প্রবেশ করেছে। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর গণ্ডক অববাহিকায় পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন বিহার ও উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গণ্ডক নদীর পানিপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল এবং পরে প্রবাহ কমতে শুরু করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের পানি গণ্ডক নদী দিয়ে ভাটিতে নেমে হাজিপুর-সোনপুর এলাকায় গঙ্গায় মিশবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্ব দিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা এলাকায় পৌঁছাবে। ফারাক্কার পর গঙ্গার প্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নামে।
অর্থাৎ সম্ভাব্য গতিপথটি হলো নেপাল-ত্রিশুলি-নারায়ণী-গণ্ডক-হাজিপুর-সোনপুর-গঙ্গা-ফারাক্কা-বাংলাদেশ-গঙ্গা পদ্মা। কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশও এই নদীপথের কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেছেন, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গায় প্রবেশ করতে পারে এবং পরে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মার প্রবাহে যুক্ত হবে। তবে ঠিক কখন এই পানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, নেপালের পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে কয়েকশ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করবে। এই দীর্ঘপথে নদীর প্রশস্ততা, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া, নদীর ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে ঢলের তীব্রতা কমে যেতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণেও ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং নেপালের দিকের পানির স্তর কমছে।
ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও নেপালের ঢলের পুরো শক্তি বাংলাদেশে পৌঁছাবে– এমন পূর্বাভাস এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেপালের ঢল গঙ্গায় পৌঁছানোর সময় নদীটির বর্তমান পানিপ্রবাহ কেমন থাকবে।
বিহারের গঙ্গা অববাহিকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানির উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হলে তার প্রভাব ভাটিতে কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফারাক্কার পর বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা বাড়ে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে শুধু নেপালের এই পাহাড়ি ঢলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বড় বন্যা হবে– এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনও আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয় হবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, দেশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নির্ধারণে শুধু নেপালের ঢল নয়, ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় থাকা পানির পরিমাণ, একই সময়ে বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টি এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, তার কারণে বাংলাদেশে একই ধরনের পরিস্থিতি হবে এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। আবার নদীগুলোর আন্তঃসীমান্ত সংযোগের কারণে বিষয়টি একেবারে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।
বেড়েছে লোডশেডিং
চলমান গ্যাস-সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে হঠাৎ করে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আর সব সময়ই কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, এখনো আছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।
এ সময় গরমে চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি। দেশে এখন মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। ফলে গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।
এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলছে লোডশেডিং। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে এটি বেড়ে যায়। শুরুতে লোডশেডিংয়ের পুরোটাই ঢাকার বাইরে চাপানো হয়েছে।
তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকার কোনো একটি এলাকায় একবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জালোওয়াশান আখতার খান বলেন, প্রতিদিন একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটে আটকে পড়ার ভীতি কাজ করে। বাসায় গ্যাসও থাকে না। তাই বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডিপিডিসি ও ডেসকো। দুই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সরবরাহ বুঝে এর ব্যত্যয় করতে হচ্ছে।
পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র বলছে, এর আগে এ মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১০ আগস্ট। ওই দিন ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল। ৯ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহ টানা সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এরপর এটি কমে এলেও দুই দিন ধরে আবার বাড়ছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। আবার চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সব সময় উৎপাদন করা যায় না, মাঝেমধ্যে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। এতে করে বিদ্যুৎ ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি ও জ্বালানিসংকট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। তার মানে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বসে ছিল।
গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসের সংকটে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে। তবু সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি হারে চালাতে বলা হয়েছে। রাতে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে এটি দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে।
জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পিজিসিবি সূত্র বলছে, গতকাল ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহস্বল্পতা ছিল।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি আছে। এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে তারা।
ঢাকার বাইরে সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি। আরইবির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি।
আরইবি সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তাদের একই এলাকায় একাধিকবার করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত বুধবার রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট।
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এরপর বকেয়া বাড়তে থাকলে উৎপাদন কমানো হয়। লোডশেডিং বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বকেয়াসহ পিডিবির যেসব বিরোধ আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হলে এখনো তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
বাড়েনি গ্যাসের সরবরাহ
যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচার বাসিন্দা শর্মিলা শর্মি বলেন, বুধবার ছুটির দিনে বিকেলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এরপর রাত ১০টার সময় গিয়ে সাড়ে ১১টায় আসছে বিদ্যুৎ। গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে গিয়ে এক ঘণ্টা পর আসছে। বেশির ভাগ সময় গ্যাসও থাকে না। তাই বিদ্যুৎ-চালিত চুলা ব্যবহার করেন। খরচ বেড়েছে কিন্তু ভোগান্তি কমেনি।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে নিয়মিত। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৭৪ কোটি ঘনফুটের কম। এতে করে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল গতকাল ২৩৫ কোটি ঘনফুট। গ্যাস-সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে, শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়েছে।
আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট।
এরপর ১৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ উপযোগী হয় এক্সিলারেটের টার্মিনাল। কিন্তু নির্ধারিত সময় এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি, চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ-এসবের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কাঠামোগত সংস্কার দরকার। না হলে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।
মরদেহের কফিন ছুঁয়ে আর্তনাদ করেন স্বজনেরা।
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
এর আগে, গত ৯ অগাস্ট রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে।
৯ জনের মধ্যে- নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।
বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মরদেহ গ্রহণের পর কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাকি ৭ জন নিহত কর্মীর ফিংগার প্রিন্ট পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় সিআইডির তত্ত্বাবধানে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত নয় কর্মীর প্রতি পরিবারের জন্য লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান বাবদ ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা বিদেশ যান, অনেক কষ্টের কাজ করে পরিবারের জন্য টাকা পাঠান। যারা মারা গেছেন, মৃতদেহ এখনো আনতে পারিনি দেশে, তাদের মৃতদেহ দেশে আনতে সৌদি দূতাবাসের সবাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু আগুন লেগেছে, তাদের ডিএনএ টেস্ট হবে, পরিবারের সাথে কথা হয়েছে, দ্রুত দেশে ফেরত আনা হবে।”
সচিবালয়ে কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবিঃ সংগৃহীত
স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।
একইসঙ্গে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, “সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আন্দোলনে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং আমরা কী কাজ করছি তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব “
কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারো প্রতি অন্যায় ও অবিচার না হয়।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্য রাখেন।
পরিচিতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিচিত সভা শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।