ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
কালীগঞ্জে ঈদ পূর্নমিলনী ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহণ রংপুরে তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার যৌথবাহিনীর হাতে রসিক কাউন্সিলর গ্রেফতার লোহাগাড়া সড়ক দূর্ঘটনা ট্রাজেডি: মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হল আরও ৩জন লোহাগাড়ায় থামছেইনা মহাসড়কের মৃত্যুর মিছিল, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৫ আহত ৯ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রংপুরে ১২০ পরিবারে ঈদ পালন লঞ্চ থেকে আবর্জনা নদীতে ফেললে নেয়া হবে ব্যবস্থা রংপুরে প্রধান ঈদের জামাত সকাল সাড়ে আটটায় বরগুনায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন ভাই নিহত

২৪ কোটি টাকা খরচ হলেও মানিকগঞ্জ পৌরখালের অবস্থা তথৈবচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০২:১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৪৫ Time View

গত ২০ বছরে মানিকগঞ্জ শহররক্ষা খালে ২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করলেও এখনও ময়লার স্তূপই রয়ে গেছে খালটি। এর মধ্যে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে শোভাবর্ধনের কাজ শুরু হয়। গত বছরের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে আরও এক বছর প্রকল্পের মেয়াদ ও বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এখনো বহু কাজ বাকি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মানিকগঞ্জ পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয় ১৯৯৭ সালে। তবে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা। মানিকগঞ্জ শহরের পয়োনিষ্কাশন ও নৌপথে যোগাযোগের জন্য ব্রিটিশ আমলে খনন করা হয়েছিল ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ খাল। কালীগঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত এ খাল দিয়ে সহজেই পণ্য পরিবহন করা যেত। পরবর্তী সময়ে গুরুত্ব হারালে কর্তৃপক্ষও আর এটির দিকে নজর দেয়নি। ফলে ময়লার ভাগাড়, দখল-দূষণে এখন প্রায় মরে গেছে খালটি। যদিও স্থানীয়দের দাবির মুখে খালটির সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনে দু’বারে সোয়া ২৪ কোটি টাকা খরচ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, তাতেও কোনো সুফল আসেনি।

পৌরসভা কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি সংস্কার করা হয়। ব্লক দিয়ে সাজানো হয় খালের দুই পাশ। নির্মাণ করা হয় হাঁটার রাস্তা। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় বছর ঘুরতে না ঘুরতেই খালটির বেহাল দশা হয়। নষ্ট হয়ে যায় ব্লক ও রাস্তা।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০০৮ সালে কালীগঙ্গা নদী থেকে খালের বকজুরি সেতু পর্যন্ত খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা হয় দুই পাড়ের আংশিক অবৈধ দখল। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৭ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি ও পৌর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। ১ হাজার ৪৪০ মিটারে পুনরায় ব্লক স্থাপন করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারের সংস্কারের ছয় মাসের মাথায় খালটি আবার ভাগাড়ে রূপ নেয়।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের শেষের দিকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির সঙ্গে সভা করে খালটি পরিবেশবান্ধব করার জন্য পরিষ্কার করে মাছ চাষের উদ্যোগ নেয়। তাতেও মেলেনি কোনো সুফল। নতুন করে আবার খনন, শোভাবর্ধন ও দুইটি সেতু নির্মাণে ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দে যৌথভাবে এ প্রকল্পের কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স অ্যাপেক্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদারস।

মানিকগঞ্জ শহরের খালপাড়ের ব্যবসায়ী রাব্বি মিয়া বলেন, মানিকগঞ্জ শহরের একমাত্র খালটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মানিকগঞ্জ পৌরসভা থেকে খালটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চললেও তেমন দৃশ্যমান কাজ এখনো চোখে পড়ে না। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ ঝিমিয়ে পড়েছে। এতে আমরা পৌরসভার বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছি।

পৌরসভার গঙ্গাধরপট্টি এলাকার রনি মোল্লা বলেন, শহরের অধিকাংশ মানুষ সব ময়লা আবর্জনা এই খালে নিয়ে ফেলেন। এতে খালটি এখন প্রায় মৃত। পৌরসভা থেকে উন্নয়ন কাজ করছে প্রায় তিন বছর ধরে। কিন্তু এখনও কাজ শেষ করতে পারছে না। এটা এখনো ময়লার ভাগাড়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী লাভলু মিয়া বলেন, এ পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। বিল পেয়েছি প্রায় ১৮ কোটি টাকা। কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সানজিদা জিয়াসমিন বলেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে। রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। আবার নতুন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে সামনে মার্চ মাস পর্যন্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

২৪ কোটি টাকা খরচ হলেও মানিকগঞ্জ পৌরখালের অবস্থা তথৈবচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Update Time : ০২:১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫

গত ২০ বছরে মানিকগঞ্জ শহররক্ষা খালে ২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করলেও এখনও ময়লার স্তূপই রয়ে গেছে খালটি। এর মধ্যে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে শোভাবর্ধনের কাজ শুরু হয়। গত বছরের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে আরও এক বছর প্রকল্পের মেয়াদ ও বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এখনো বহু কাজ বাকি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মানিকগঞ্জ পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয় ১৯৯৭ সালে। তবে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা। মানিকগঞ্জ শহরের পয়োনিষ্কাশন ও নৌপথে যোগাযোগের জন্য ব্রিটিশ আমলে খনন করা হয়েছিল ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ খাল। কালীগঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত এ খাল দিয়ে সহজেই পণ্য পরিবহন করা যেত। পরবর্তী সময়ে গুরুত্ব হারালে কর্তৃপক্ষও আর এটির দিকে নজর দেয়নি। ফলে ময়লার ভাগাড়, দখল-দূষণে এখন প্রায় মরে গেছে খালটি। যদিও স্থানীয়দের দাবির মুখে খালটির সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনে দু’বারে সোয়া ২৪ কোটি টাকা খরচ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, তাতেও কোনো সুফল আসেনি।

পৌরসভা কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি সংস্কার করা হয়। ব্লক দিয়ে সাজানো হয় খালের দুই পাশ। নির্মাণ করা হয় হাঁটার রাস্তা। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় বছর ঘুরতে না ঘুরতেই খালটির বেহাল দশা হয়। নষ্ট হয়ে যায় ব্লক ও রাস্তা।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০০৮ সালে কালীগঙ্গা নদী থেকে খালের বকজুরি সেতু পর্যন্ত খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা হয় দুই পাড়ের আংশিক অবৈধ দখল। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৭ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি ও পৌর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। ১ হাজার ৪৪০ মিটারে পুনরায় ব্লক স্থাপন করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারের সংস্কারের ছয় মাসের মাথায় খালটি আবার ভাগাড়ে রূপ নেয়।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের শেষের দিকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির সঙ্গে সভা করে খালটি পরিবেশবান্ধব করার জন্য পরিষ্কার করে মাছ চাষের উদ্যোগ নেয়। তাতেও মেলেনি কোনো সুফল। নতুন করে আবার খনন, শোভাবর্ধন ও দুইটি সেতু নির্মাণে ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দে যৌথভাবে এ প্রকল্পের কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স অ্যাপেক্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদারস।

মানিকগঞ্জ শহরের খালপাড়ের ব্যবসায়ী রাব্বি মিয়া বলেন, মানিকগঞ্জ শহরের একমাত্র খালটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মানিকগঞ্জ পৌরসভা থেকে খালটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চললেও তেমন দৃশ্যমান কাজ এখনো চোখে পড়ে না। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ ঝিমিয়ে পড়েছে। এতে আমরা পৌরসভার বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছি।

পৌরসভার গঙ্গাধরপট্টি এলাকার রনি মোল্লা বলেন, শহরের অধিকাংশ মানুষ সব ময়লা আবর্জনা এই খালে নিয়ে ফেলেন। এতে খালটি এখন প্রায় মৃত। পৌরসভা থেকে উন্নয়ন কাজ করছে প্রায় তিন বছর ধরে। কিন্তু এখনও কাজ শেষ করতে পারছে না। এটা এখনো ময়লার ভাগাড়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী লাভলু মিয়া বলেন, এ পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। বিল পেয়েছি প্রায় ১৮ কোটি টাকা। কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সানজিদা জিয়াসমিন বলেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে। রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। আবার নতুন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে সামনে মার্চ মাস পর্যন্ত।