বিচার বিভাগ চালায় কারা?
শিবির-স্বৈরাচারের মিশেল বাণিজ্যে মুক্তি পাচ্ছে বন্দিরা
- Update Time : ০৬:২১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২৮৪ Time View
আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪ এর দায়িত্বে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিব শিবির পান্ডা আশিকুর রহমান, বিচার শাখা-৫ এর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল হাসান ও ডিএস এডমিন গোলজার রহমান এর নেপথ্য সিন্ডিকেট , জামাত ও আওয়ামী বিচারকদের ঢাকাসহ ভালো জায়গায় পদায়ন এবং ফ্যাসিস্টদের জামিনে তৎপর হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ জজ হিসেবে নিজেকে জাহির করে গোলজার গোটা বিচার ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছেন।
ফেনীর কুখ্যাত সন্ত্রাসী পতিত স্বৈরাচারের দোসর জয়নাল হাজারীর কৃপায় ও আশীর্বাদে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল হাসান।
এই কামরুল হাসান যিনি জয়নাল হাজারীর আপন ভাগ্নে, অপরজন আশিকুর রহমান ফেনিতে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মামলায় জয়নাল হাজারীর লোকজনকে জামিনে সহযোগীতা করে কামিয়েছেন অঢেল টাকা। সেই সুবাদে আশিকুর রহমানের সাথে কামরুলের সাথে গড়ে উঠে সখ্যতা। জয়নাল হাজারীর আপন দুই বোন কামরুলের মাতা কোহিনুর বেগম ও খালা খোদেজা ছিল জয়নাল হাজারীর অবৈধ টাকার ক্যাশিয়ার। উক্ত কারনে কামরুলের মা ও খালা সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল ও দীর্ঘ দিন জেলেও ছিলেন।
জয়নাল হাজারীর পাপের টাকায় জজ কামরুল ধানমন্ডিতেও গড়ে তুলেছেন “একতা টাওয়ার” সহ প্রায় শতাধিক ফ্লাটের অট্টালিকা।
জয়নাল হাজারীর সেই অবৈধ টাকায় ও নিজের কামানো ঘুষের টাকায় জজ কামরুল গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। ফেনীর ট্রাংক রোডে মিজান পাড়ায় ৬/১ হোল্ডিংস্থিত “একতা টাওয়ার” নামে গড়ে তোলেন বিশাল বহুতল ভবন যা নির্মাণে ব্যায় হয়েছে নাকি ৫০ কোটি টাকা একথা তার কলিগদের অনেককেই জানান।
এছাড়া জজ কামরুলের অবৈধ অর্থে ঢাকার ডেমরার রসুলনগরে গড়ে তুলেছেন “এমদাদ ভিলা” নামে বিশাল রাজ প্রাসাদ, সেই সাথে ডেমড়ার ৬৮ নং ওয়ার্ডের সারুলিয়ায় গড়ে তোলা হয় বিশাল একটি বাগান বাড়ি, এই বাড়িটিকে অনেকেই জজ বাংলো হিসেবেই চেনেন। পিতার নামে বাড়িটি হলেও, তার অর্থের যোগানদাতা কামরুল ইসলাম নিজেই অথচ তার পিতা ছিলেন একজন দিনমজুর। কবে কিভাবে তিনি এত টাকার মালিক হলেন, ইনকাম ট্যাক্সের ফাইল ই বা কবে খুললেন এবং টাকার উৎস কি এসব তথ্য আলোচনায় উঠে এসেছে।
ফ্যাসিস্ট এর দোসর জয়নাল হাজারীর এই ভাগ্নে এখন আইন মন্ত্রণালয়ের কলকাঠি নাড়ছেন, নিয়োগ, বদলী, মামলা ও জামিন বাণিজ্যে সারা দেশেই বিচারকদের চাপ দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। গোলজারের ডান হাত হিসেবে পরিচিত এই কামরুল মন্ত্রণালয়ের কাউকে তোয়ক্কা করছেন না। গোলজারের আশকারা পেয়ে আশিকুর রহমানও ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন।
মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে এদের দুজনের আচরণ দেখে মনে হয় এরা সিনিয়র কর্মকর্তাদের বন্ধুবান্ধব। বিষয়টি উপস্থিত দর্শনার্থীদের নিকট দৃষ্টিকটু ও বিব্রতকর মনে হয়।
ঢাকায় কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিচারক নওরোজকে জানায়, আইন সচিব এবং ডিএস প্রশাসন এর নির্দেশ আছে এমন কথা বলে কামরুল ও আশিক জামিন দিতে বলেন, না দিতে পারলে ঢাকা থেকে বদলী করা হবে মর্মে প্রচ্ছন্নভাবে হুমকি দেন।
মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক সিনিয়র বিচারক বলেন, এই ত্রিরত্ন কর্মকর্তা পুরা মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগে ছড়িয়েছেন তারা বিএনপিপন্থী বিচারক ও ছাত্র জীবনে ছাত্রনেতা ছিলেন। এই দুই কর্মকর্তার আশ্রয় দাতা এএফএম গোলজার রহমান যিনি প্রায়শই তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে দেখার নাম করে লন্ডন সফর করেন। ৫ই আগস্ট এর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের লন্ডন পাঠিয়ে দেন, সেখানে সন্তানদের লেখাপড়া,থাকা-খাওয়া,ভরণ পোষণের অর্থ কোথা থেকে আসে, বার বার লন্ডন আসা-যাওয়ার ভাড়া কোথা থেকে পান তা নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে বিচার বিভাগে।
বগুড়ার কাহালুকে বলা হয় জামাত-শিবিরের ঘাটি, যেখানে গোলজার এর বাড়ি, এই জামাতপন্থী জজ গোলজার নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিলেও তিনি আসলে বিএনপি ঘরোনার কেউ নন, বগুড়ায় বাড়ি হলেও তিনি গুপ্তঘাতক জামাতের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই গোলজারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের রুমমেট সাবেক জেলা আমির ও বর্তমান জামাতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন। এই গোলজারই আইন মন্ত্রণালয়ে জামাতপন্থী বিচারদের পৃষ্টপোষকতা করে যাচ্ছেন। ঘুষের টাকায় লন্ডনে গড়ে তুলেছেন বিশাল সাম্রাজ্য।
এই গোলজার টিম জামাতের মুখোশের অন্তরালে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে মাঝে মাঝে সালাউদ্দিন এর বাসায় যান ও প্রকৃত বিএনপিপন্থী বিচারকদের বিরুদ্ধে বিরূপ ধারণা দিয়ে আসেন। গোলজারের বাড়ি বগুড়া হওয়ার সুবাদে নিজেকে বিএনপির লোক হিসেরে জাহির করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন প্রকৃতপক্ষে তিনি জামাতের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন।
গোপনসূত্রে জানা যায় এই গোলজারের ছত্রছায়ায় দুইজন এসিএমএমসহ অনেক বিচারক ঢাকায় পদায়ন পেয়েছেন। জননেতা তারেক রহমান কি এই দোসর গোলজারকে চিনতে পেরেছেন যিনি আসলে বিএনপি নয়, অন্তরালে জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব প্রশাসন পদ ধারণ করে। গোলজার কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও কিভাবে লন্ডনে বিশাল সাম্রাজ্য গড়লেন?
লন্ডন থেকে ফিরে এসেই তিনি বলে বেড়ান তারেক জিয়ার সাথে দেখা করে আসলাম। আসলেই কি তিনি দেখা করে এসেছেন নাকি বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিএনপির সর্বনাশ করে যাচ্ছেন?
সম্প্রতি কামরুল হাসান এক অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে আইন উপদেষ্টার একান্ত সচিব শামসুদ্দিন মাসুম এর কক্ষে কামরুলকে ডেকে নিয়ে ব্যাপকভাবে ধমকাতে দেখা গেছে। কৃতকর্মের জন্য পিএস মাসুম এর কাছে বার বার হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়া এই কামরুল হাসান পরবর্তীতে তার সহকর্মী আশেকুর রহমান এর রুমে গিয়ে বলে “শালা আমাকে ধমকায় জানে না আমি কে, আমি জয়নাল হাজারীর ভাগ্নে সময়মতো বুঝিয়ে দিবো”।
অপরদিকে বিচার শাখা-০৪ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শিবির কর্মী আশেকুর রহমান এর পিতা মাহমুদুর রহমান জামাতের সাবেক থানা আমির ও মাদ্রাসার শিক্ষক। আশেকুর রহমানের বড় ভাই মাহবুবুল আলম যিনি চট্টগ্রামের দারুল উলম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এবং জামাতের ইউনিয়ন আমির ছিলেন। মেঝো ভাই যিনি ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা এবং শিবিরের সাবেক নেতা।
আশেকুরের সেজো ভাই কাজল চট্রগ্রামের বাঁশখালীর সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের ডান হাত যিনি বর্তমানে রড সিমেন্টের বড় ব্যবসায়ী। কাজল তার পুরো পরিবারকে স্বৈরশাসক এর কাছ থেকে সকল সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এই ফ্যাসিস্ট দালাল আওয়ালীগ এমপি মোস্তাফিজুর এর কল্যানেই বিচার বিভাগেই চাকরী পেয়ে ভাল ভাল পোস্টিং বাগিয়ে নেন আলোচ্য বিচারক আশেকুর রহমান। মাত্র ৮ বছরের কর্ম জীবনের বিচারিক কাজের তেমন কোন কাজ না করলেও বিচার প্রশাসন ও হাইকোর্টে অধিকাংশ সময় পার করেছেন।
আশেকুর রহমান ফেনীতে ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে জয়নাল হাজারীর লোকজনের জামিন বাণিজ্যের সুবাদে পরিচয় হয় জয়নাল হাজারীর আপন ভাগিনা কামরুলের সাথে। সেই থেকেই দুজনের সখ্যতা এবং এক সাথেই দুইজন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে বসে, বিচার বিভাগে জামিন বাণিজ্যসহ ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। পলাতক সাবেক সচিব গোলাম সরোয়ারের হাত ধরেই মন্ত্রণালয়ে ঢুকে পড়েন এই দুই ফ্যাসিস্ট দোসর কামরুল হাসান ও আশেকুর রহমান। এই দুই ফ্যাসিস্ট এর সাথে আছে ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ঘনিষ্ঠ সখ্যতা। এই সখ্যতার কারনেই গোলাম রাব্বানীর সহোযোগীতায় সারা দেশে গ্রেপ্তারকৃত স্বৈরাচারের দোসররা জামিন পাচ্ছে।
এর নেপথ্যে যারা আছেন তাদের নিয়ে আগামী পর্বে থাকছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর সহকারী সচিব ও উপসচিবের মাস্তানী
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়


































































































































































