ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুভ জন্মদিন

রেডিও বিজ্ঞানের জনক জগদীশ বসু ছিলেন গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১ Time View

শুভ জন্মদিন জগদীশ চন্দ্র বসু

জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহ শহরে জন্ম নেন। তার বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে। তার বাবা ভগবান চন্দ্র বসু তখন ফরিদপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এর আগে তিনি ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৮সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংরেজ সরকারের অধীনে কর্মরত থাকলেও তিনি আর সবার মতো নিজের ছেলেকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করাননি।

জগদীশ চন্দ্রের প্রথম স্কুল ছিল ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। বাংলা স্কুলে পড়ার ব্যাপারটি জগদীশ চন্দ্রের জীবনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতেও সাহায্য করেছে। এর প্রমাণ বাংলা ভাষায় রচিত জগদীশের বিজ্ঞান প্রবন্ধগুলো।

জগদীশ কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে পড়াশোনা করে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে বিএ পাশ করেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে। আইসিএস পরীক্ষায় পাশ করে দেশে এসে জজ-ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। এই জন্যই ইংল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে বাবার কিছুটা অমত ছিল এই বিষয়ে। বাবার ইচ্ছা ও তার আগ্রহের মধ্যে টানাপোড়েনের শেষ পর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়বেন। এই উদ্দেশ্যেই ১৮৮০ সালে লন্ডনে পাড়ি জমান। অসুস্থতা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান ছেড়ে তিনি কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে ট্রাইপস পাশ এবং প্রায় একই সাথে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পড়া শেষ করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। যোগদেন প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অস্থায়ী অধ্যাপক পদে। তার গবেষণার সূত্রপাতও এখানে। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্রের জন্মও ধরা হয় এখান থেকেই।

১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি করেন। যা কোনো তার ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করা যেত। জগদীশচন্দ্র তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সর্বপ্রথম প্রায় পাঁচ মিলিমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ তৈরি করেন। এ ধরণের তরঙ্গকেই বলা হয়ে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাউক্রোওয়েভ। আধুনিক রাডার, টেলিভিশন এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মূলত এর মাধ্যমেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান প্রদান ঘটে থাকে।

জগদীশ চন্দ্রের বিজ্ঞান গবেষণায় প্রভূত সাফল্য অর্জনের জন্য তার সুখ্যাতি তখনই ছড়িয়ে পড়েছিল। জগদীশ চন্দ্র যে গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানী ১৯২৭ সালে তার স্বীকৃতি দিয়েছিল লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকা। আর আইনস্টাইন তার সম্পর্কে নিজেই বলেছেন, ‘জগদীশ চন্দ্র যেসব অমূল্য তথ্য পৃথিবীকে উপহার দিয়েছেন তার যে কোনোটির জন্য বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করা উচিত।”

ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে। এই মহান ব্যক্তি অবিভক্ত ভারতে বসবাস করতেন। তার জাতীয়তা ছিল ব্রিটিশ ভারতীয়। তিনি ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর চলে যান না ফেরার দেশে। ৩০ নভেম্বর তার ১৫৮ তম জন্মদিন।

Please Share This Post in Your Social Media

শুভ জন্মদিন

রেডিও বিজ্ঞানের জনক জগদীশ বসু ছিলেন গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
Update Time : ০৪:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহ শহরে জন্ম নেন। তার বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে। তার বাবা ভগবান চন্দ্র বসু তখন ফরিদপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এর আগে তিনি ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৮সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংরেজ সরকারের অধীনে কর্মরত থাকলেও তিনি আর সবার মতো নিজের ছেলেকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করাননি।

জগদীশ চন্দ্রের প্রথম স্কুল ছিল ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। বাংলা স্কুলে পড়ার ব্যাপারটি জগদীশ চন্দ্রের জীবনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতেও সাহায্য করেছে। এর প্রমাণ বাংলা ভাষায় রচিত জগদীশের বিজ্ঞান প্রবন্ধগুলো।

জগদীশ কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে পড়াশোনা করে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে বিএ পাশ করেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে। আইসিএস পরীক্ষায় পাশ করে দেশে এসে জজ-ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। এই জন্যই ইংল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে বাবার কিছুটা অমত ছিল এই বিষয়ে। বাবার ইচ্ছা ও তার আগ্রহের মধ্যে টানাপোড়েনের শেষ পর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়বেন। এই উদ্দেশ্যেই ১৮৮০ সালে লন্ডনে পাড়ি জমান। অসুস্থতা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান ছেড়ে তিনি কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে ট্রাইপস পাশ এবং প্রায় একই সাথে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পড়া শেষ করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। যোগদেন প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অস্থায়ী অধ্যাপক পদে। তার গবেষণার সূত্রপাতও এখানে। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্রের জন্মও ধরা হয় এখান থেকেই।

১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি করেন। যা কোনো তার ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করা যেত। জগদীশচন্দ্র তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সর্বপ্রথম প্রায় পাঁচ মিলিমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ তৈরি করেন। এ ধরণের তরঙ্গকেই বলা হয়ে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাউক্রোওয়েভ। আধুনিক রাডার, টেলিভিশন এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মূলত এর মাধ্যমেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান প্রদান ঘটে থাকে।

জগদীশ চন্দ্রের বিজ্ঞান গবেষণায় প্রভূত সাফল্য অর্জনের জন্য তার সুখ্যাতি তখনই ছড়িয়ে পড়েছিল। জগদীশ চন্দ্র যে গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানী ১৯২৭ সালে তার স্বীকৃতি দিয়েছিল লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকা। আর আইনস্টাইন তার সম্পর্কে নিজেই বলেছেন, ‘জগদীশ চন্দ্র যেসব অমূল্য তথ্য পৃথিবীকে উপহার দিয়েছেন তার যে কোনোটির জন্য বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করা উচিত।”

ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে। এই মহান ব্যক্তি অবিভক্ত ভারতে বসবাস করতেন। তার জাতীয়তা ছিল ব্রিটিশ ভারতীয়। তিনি ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর চলে যান না ফেরার দেশে। ৩০ নভেম্বর তার ১৫৮ তম জন্মদিন।