ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
নেসকোতে প্রকৌশলী রোকনের গ্রেপ্তারের দাবিতে লংমার্চ ঘোষণা মদ বিক্রি না করায় টঙ্গীর জাবান হোটেলে ভাংচুরের অভিযোগ ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি স্বজনদের গুলিস্তানে চোরাই মোবাইল চক্রের দশ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ১০৩টি ফোন মুনিয়া হত্যাকাণ্ডে আফ্রিদির সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখবে সিআইডি : রাষ্ট্রপক্ষ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১২ কোটি টাকা নিজের জুস পান করে নিজেই বেহুঁশ অজ্ঞান পার্টির সদস্য ! জামাতের গায়ে ছুঁচোর গন্ধ বনাম নির্বাচন বানচালের নতুন তত্ত্ব “পি আর”  ফরিদপুরের গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী চুন্নু লাগামহীন দুর্নীতির পরও বহাল তবিয়তে হাত বেঁধে-মুখ ঢেকে নৌকায় চাপিয়ে জোর করে সাগরে ফেলা হয়

যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের ২ বাড়ি জব্দের উদ্যোগ দুদকের

জাতীয় ডেস্ক
  • Update Time : ১০:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • / ১৪৪ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নজরকাড়া দুটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশি মুদ্রায় বাড়ি দুটির দাম ৫৩ কোটি টাকার বেশি। ২০২৪ সালের ৬ জুলাই এবং ২০১৪ সালের ৫ মে বাড়ি দুটি কিনেন তিনি। তবে তার বাংলাদেশের আয়কর নথিতে এই সম্পদের কোনো তথ্য নেই। এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়ি দুটি জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও তার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে থাকা ৩৫৪ শতাংশ জমি জব্দ করতে বৃহস্পতিবার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাড়ি দুটির তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তা জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান দল ঠিকানাসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য কমিশনে দাখিল করেছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন তা জব্দের প্রক্রিয়া চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। ওই বাড়ি জব্দের জন্য আদালতের আদেশ চাওয়া হবে। আদালত আদেশ দিলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পৌঁছানো হবে, যার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাড়ি দুটি জব্দ করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, সজীব ওয়াজেদ জয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা ছিলেন।

জানা যায়, ২২০৬৬-ভার্জিনিয়ার গ্রেট ফলস রোডের পার্কার হাউজ ড্রাইভের ১০৪১১ নম্বর বাড়িটি ২০২৪ সালের ৬ জুলাই ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ ডলারে কেনেন জয়। তখনকার হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় দাম ছিল ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬৬১ টাকা। বাড়িটি জয়ের একক মালিকানায় রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ মে ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ মার্কিন ডলার বা ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪০৬ টাকা মূল্যে যৌথ মালিকানায় আরেকটি বাড়ি কিনেন তিনি। সেখানে তার সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের মালিকানাও রয়েছে। এই দুটি বাড়ির একটিও বাংলাদেশের আয়কর নথিতে দেখাননি জয়। দুটি বাড়ির দালিলিক মূল্য ৫৩ কোটি ২১ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে ১৩টি বাড়ি ও শপিংমলের মালিকানা থাকার প্রাথমিক তথ্য আছে, অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই বাড়ি দুটির অবস্থানসহ সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে ৩০ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল আদালতের আদেশে শেখ হাসিনা পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়। ক্রোক আদেশ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের গুলশানের বারিধারার ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বাড়ি। খুলনার দিঘলিয়ায় শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে থাকা ৬১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি। একই জায়গায় রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকার ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি রয়েছে। একই আদেশে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ রেহানার নামে থাকা ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৯ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ১০ মার্চ পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ৮টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করে দুদক। ওই মামলা আদালতে বিচারাধীন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন-শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ৩০০ মিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

শেখ রেহানার স্বামী ও ছেলের জমি জব্দের আদেশ : বৃহস্পতিবার শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও তাদের সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে থাকা ৩৫৪ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদের বাজারমূল্য ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

এদিন দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানকালে জানা যায়, তাদের মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তিগুলো অন্যত্র স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে অনুসন্ধানে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাতে তাদের এসব সম্পদ বা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন বা স্থানান্তর বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করতে না পারেন, এ মর্মে জব্দের আদেশ প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের ২ বাড়ি জব্দের উদ্যোগ দুদকের

জাতীয় ডেস্ক
Update Time : ১০:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নজরকাড়া দুটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশি মুদ্রায় বাড়ি দুটির দাম ৫৩ কোটি টাকার বেশি। ২০২৪ সালের ৬ জুলাই এবং ২০১৪ সালের ৫ মে বাড়ি দুটি কিনেন তিনি। তবে তার বাংলাদেশের আয়কর নথিতে এই সম্পদের কোনো তথ্য নেই। এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়ি দুটি জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও তার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে থাকা ৩৫৪ শতাংশ জমি জব্দ করতে বৃহস্পতিবার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাড়ি দুটির তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তা জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান দল ঠিকানাসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য কমিশনে দাখিল করেছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন তা জব্দের প্রক্রিয়া চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। ওই বাড়ি জব্দের জন্য আদালতের আদেশ চাওয়া হবে। আদালত আদেশ দিলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পৌঁছানো হবে, যার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাড়ি দুটি জব্দ করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, সজীব ওয়াজেদ জয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা ছিলেন।

জানা যায়, ২২০৬৬-ভার্জিনিয়ার গ্রেট ফলস রোডের পার্কার হাউজ ড্রাইভের ১০৪১১ নম্বর বাড়িটি ২০২৪ সালের ৬ জুলাই ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ ডলারে কেনেন জয়। তখনকার হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় দাম ছিল ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬৬১ টাকা। বাড়িটি জয়ের একক মালিকানায় রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ মে ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ মার্কিন ডলার বা ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪০৬ টাকা মূল্যে যৌথ মালিকানায় আরেকটি বাড়ি কিনেন তিনি। সেখানে তার সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের মালিকানাও রয়েছে। এই দুটি বাড়ির একটিও বাংলাদেশের আয়কর নথিতে দেখাননি জয়। দুটি বাড়ির দালিলিক মূল্য ৫৩ কোটি ২১ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে ১৩টি বাড়ি ও শপিংমলের মালিকানা থাকার প্রাথমিক তথ্য আছে, অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই বাড়ি দুটির অবস্থানসহ সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে ৩০ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল আদালতের আদেশে শেখ হাসিনা পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়। ক্রোক আদেশ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের গুলশানের বারিধারার ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বাড়ি। খুলনার দিঘলিয়ায় শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে থাকা ৬১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি। একই জায়গায় রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকার ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি রয়েছে। একই আদেশে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ রেহানার নামে থাকা ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৯ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ১০ মার্চ পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ৮টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করে দুদক। ওই মামলা আদালতে বিচারাধীন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন-শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ৩০০ মিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

শেখ রেহানার স্বামী ও ছেলের জমি জব্দের আদেশ : বৃহস্পতিবার শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও তাদের সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে থাকা ৩৫৪ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদের বাজারমূল্য ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

এদিন দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানকালে জানা যায়, তাদের মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তিগুলো অন্যত্র স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে অনুসন্ধানে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাতে তাদের এসব সম্পদ বা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন বা স্থানান্তর বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করতে না পারেন, এ মর্মে জব্দের আদেশ প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।